০৫:১৪ পি.এম
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামি যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যার ঘটনার মামলায় আটজন আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলায় তিনজন নারী আসামির প্রত্যেককে তিন দিনের রিমান্ডও দেওয়া হয়েছে।
রবিবার, এই রিমান্ড শুনানি নিয়ে আদালতের প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আসামিদের ওপর হামলাকারীরাও চেষ্টা চালায়।
আইনজীবীরা জানান, রিমান্ড শুনানি উপলক্ষে এদিন সকাল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগরের ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা আদালতে ভিড় জমাতে থাকেন। তারা বিচারের দাবি জানিয়ে আদালতের প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপিও প্রদান করেন। পরে তারা আদালতের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেয়ার শুরু করেন। এতে অন্য একটি মামলার শুনানি ব্যাহত হলে বিচারক সাময়িকভাবে আদালত ত্যাগ করেন। তবে পরিস্থিতি শান্ত হলে তিনি পুনরায় আদালতে ফেরেন।
আরও পড়ুন: দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে নাব্যতা সংকটে ফেরি চলাচল ব্যাহত
পরে, বুলবুল আহমেদের হত্যা মামলার আসামিদের রিমান্ড শুনানির জন্য যখন আদালতে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন নেতাকর্মীরা আসামিদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করেন। কিছু লোক পুলিশ ব্যারিকেড ভেঙে আসামিদের ওপর হামলা করতে উদ্যত হন। পরে পুলিশের প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সহ-সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, 'আসামিদের আদালতে হাজির হওয়ার খবর শোনার পর আমরা আদালতে অবস্থান করি। মূলত বুলবুল আহমেদকে হারিয়ে আমাদের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন। তারা এই হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারছেন না। সেইসাথে আসামিদের আচরণ দেখেও তারা আরও বেশি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।'
এদিকে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সঙ্গে জড়িত শেখ সিফাত, জুমান অথবা হোয়াইট জুমান, মাহবুব হোসেন অথবা মাহাফুজ, রিয়াদ, মো. সিয়াম, ইফরান, ইয়াসমিন ও সিজান অথবা জিসানকে আদালত ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে। একইসাথে মোসা. মিনারা, নাসিমা ও রুমার জন্য তিন দিনের রিমান্ডও দেওয়া হয়েছে।
কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, 'আসামিদের আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের ওপর হামলা করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আমাদের সদস্যদের প্রচেষ্টায় আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছি। আদালত আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড দিয়েছেন।'
আরও পড়ুন: গাজীপুরে ফের আগুন, সময়ের সঙ্গে বাড়ছে ভয়াবহতা
এর আগের ঘটনা অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের সালেহনগর এলাকায় জাহিদ হাসান বুলবুল (৪৫) হত্যা করার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, মামলা তুলে না নেওয়ার কারণে 'সিফাত বাহিনী'র প্রধান সিফাতের নেতৃত্বে বুলবুলকে কুপানো হয়েছে। নিহত বুলবুল সালেহনগর শাহী মসজিদের এলাকা রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ এর সভাপতি ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন