ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, অসুস্থ ফায়ার সার্ভিসের ২ সদস্য হাসপাতালে


চকবাজারে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি, অসুস্থ ফায়ার সার্ভিসের ২ সদস্য হাসপাতালে

পুরান ঢাকার চকবাজারে মনজুর খান প্লাজা মার্কেটের গোডাউনে লাগা আগুন এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে গণমাধ্যমের কাছে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। ১০টি ইউনিটও কাজ করে যাচ্ছে।’

আনোয়ারুল ইসলাম দোলন আরও জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুই সদস্য অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিসের সূত্র থেকে জানা যায়, সোমবার বিকেল ৫টা ২ মিনিটে আগুন লাগার খবর আসে। এরপর ৫টা ৪ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে রওনা দেয়। বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট কাজ করলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ার কারণে ইউনিটের সংখ্যা বাড়ানো হয়।

আরও পড়ুন: মহাখালী বাস টার্মিনালে যাত্রীর পকেট কেটে ৫০ হাজার টাকা চুরি, আটক ট্রাফিক পুলিশ

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মনজুর খান প্লাজার দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত দোকান এবং পঞ্চম থেকে সপ্তম তলা পর্যন্ত গোডাউন রয়েছে। এসব গোডাউনে ভ্যানিটি ব্যাগ, প্রসাধনসামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য মজুদ করা হয়। অধিকাংশ গোডাউনই মালামালে পূর্ণ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, আজ বিকেলে ভবনটির ষষ্ঠ তলার এক পাশে প্রথমে আগুন লাগে। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর দোকান ও গোডাউনের মালিক-কর্মচারীরা সেগুলো বন্ধ করে বেরিয়ে যান। অধিকাংশ গোডাউন তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের বেগ পেতে হচ্ছে। গোডাউনগুলোতে বিপুল পরিমাণ মালামাল থাকায় আগুনের তীব্রতাও বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুতিদের হামলার পর সৌদি যুবরাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, বাংকারে আশ্রয়ের গুঞ্জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ এম


হুতিদের হামলার পর সৌদি যুবরাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, বাংকারে আশ্রয়ের গুঞ্জন

ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে নিরাপত্তা পরিস্থিতি মারাত্মকভাবে অবনতি ঘটেছে। এই অবস্থায় সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪১ বছর বয়সী যুবরাজ বাংকার-সুবিধাসম্পন্ন ও কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে যাতায়াত করছেন। হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে তুলনামূলকভাবে কম দেখা যাচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সৌদি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ছয় দিন ধরে যুবরাজকে বিশেষভাবে নির্বাচিত নিরাপত্তাকর্মীদের পাহারায় একাধিক সুরক্ষিত প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে। তবে, তার নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রকাশিত তথ্যগুলো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

গত শনিবার সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালে হামলার ঘটনায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটি দেশটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পরদিন রবিবারও বিমানবন্দরটিতে হামলা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় হামলায় এক পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হন এবং আহত হন আরও ১১ জন।

একের পর এক হামলার ফলে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুক্তরাষ্ট্রের জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না যুবরাজকে

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল মোহাম্মদ বিন সালমানকে। সেদিন তিনি জাতীয় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রক্ত দেন। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

রিয়াদে হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় শহরটির বিভিন্ন স্কুল বন্ধ করে দূরশিক্ষণ চালু করা হয়েছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

গত মাসেই ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। ইয়েমেনে হুতিদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেছিলেন, পরিস্থিতি শেষ পর্যন্ত ভালোভাবেই সামাল দেওয়া যাবে। তবে সৌদি আরবে সাম্প্রতিক হামলার পর তার বক্তব্যে উদ্বেগের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সোমবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে যা ঘটছে, তা ‘গ্রহণযোগ্য নয়’। সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি তিনি বিবেচনা করবেন। এর আগে সৌদি আরব পাল্টা জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করার পরও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

হুতিদের হামলার নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং হামলাকে ‘ঘৃণ্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, বেসামরিক স্থাপনায় হামলা সংঘাতকে বিপজ্জনকভাবে আরও বাড়িয়ে তুলছে।

স্কাই নিউজকে স্ট্রিটিং বলেন, সৌদি আরবের বেসামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হুতিদের হামলার প্রবণতা বাড়ছে। এ কারণে সৌদি আরবকে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও আকাশে জ্বালানি সরবরাহের সহায়তা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে তিনি সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানান।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও হামলাকে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীগুলোর এসব হামলা অঞ্চলকে সহিংসতার চক্রে ঠেলে দিচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক পরিবহন ও জ্বালানি অবকাঠামো অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান তিনি এবং সৌদি আরবের প্রতি ইইউর সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

রবিবার রাতের হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে চারটি ‘বিশেষ অভিযান’ চালিয়েছে। কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনাও তাদের লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছে তারা।

হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, সৌদি বিমানবন্দরগুলো তাদের বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু। তিনি সতর্কবার্তাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেন।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ হামলাকে ‘জঘন্য’ বলে নিন্দা জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহত পাকিস্তানি নাগরিকের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে তারা।

শনিবারের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক ছিলেন। তাদের একজন দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থার একজন ক্যাপ্টেন। এছাড়া নিহতদের মধ্যে বাংলাদেশের দুই নাগরিক, যুক্তরাষ্ট্রের একজন, মিসরের একজন, জর্ডানের একজন, সিরিয়ার একজন, ফিলিস্তিনের একজন, সুদানের একজন এবং ভারতের একজন নাগরিক ছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও শনিবারের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জানান, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। বেসামরিক মানুষের জীবনকে উপেক্ষা করে চালানো এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়ে সৌদি আরবের পাশে থাকার ঘোষণা দেন তিনি।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি বিমানবন্দরে হামলাকে বেসামরিক স্থাপনায় ‘কাপুরুষোচিত সন্ত্রাসী হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন।

সংঘাতে জড়াতে পারে যুক্তরাষ্ট্র

ইয়েমেনে চার বছর ধরে চলা জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার পর গত জুলাইয়ে গৃহযুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়। বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের মধ্যে এই লড়াই জোরদার হওয়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু সাম্প্রতিক হামলার কারণে দেশটি প্রতিবেশী ইয়েমেনের সংঘাতে আরো গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে পারে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের মোকাবিলায় সামরিক সহায়তা চেয়ে সৌদি আরব আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অনুরোধ জানালেও ওয়াশিংটন তা নাকচ করেছে। তবে ট্রাম্প এবার সরাসরি হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিলে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ, হুতিদের ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ফলে রিয়াদে ধারাবাহিক হামলা শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ডেইলি মেইল, দ্য সান, দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১১ বছরেও হুতিদের দমন সম্ভব হয়নি, এবার সৌদি আরবের কৌশল কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:০৯ এম


১১ বছরেও হুতিদের দমন সম্ভব হয়নি, এবার সৌদি আরবের কৌশল কী?

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে সৌদি আরব নতুন করে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে, যা সৌদি ভূখণ্ডে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার পর সৃষ্টি হয়েছে। রিয়াদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা। তবে হুতিদের বিরুদ্ধে স্থলযুদ্ধে জড়ানো, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক সহায়তা চাওয়া অথবা আন্তর্জাতিক মিত্রদের সহযোগিতায় পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া—প্রতিটি পথেই রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি। এখন প্রশ্ন, এই সংকট মোকাবেলায় সৌদি আরব কোন কৌশল বেছে নেবে?

গত সপ্তাহে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করতে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্রোহীরা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। উল্টো সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হামলা আরও জোরদার করেছে তারা। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সেই উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে ইরানের অনুসৃত কৌশল থেকে শিক্ষা নিয়ে হুতিরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য শুধু সৌদি আরবকে সামরিকভাবে চাপে ফেলা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও এর প্রভাব ছড়িয়ে দেওয়া।

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভ রয়েছে। গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে রিয়াদের এক দশকব্যাপী যুদ্ধ ইয়েমেনে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে। তবে সাম্প্রতিক হামলাকে অনেকেই এখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাতের সম্প্রসারিত অংশ হিসেবে দেখছেন।

স্থলযুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকি

গত ১১ বছর ধরে সামরিক অভিযান ও আলোচনার মাধ্যমে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকানোর চেষ্টা করেছে সৌদি আরব। কিন্তু তাতে বিদ্রোহীদের শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি। বরং তারা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করেছে এবং ঘনবসতিপূর্ণ তাইজের মতো এলাকাও দখলের চেষ্টা করছে।

সৌদি রাজনীতিবিষয়ক লেখক ও বিশ্লেষক আলী শিহাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, “এই হুমকির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।” তার মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে। সৌদি আরব আকাশপথে তাদের ব্যাপক সহায়তা দিচ্ছে।

এখন পর্যন্ত সৌদি আরব মূলত হুতিবিরোধী ইয়েমেনি জোটকে বিমান সহায়তা দিয়ে আসছে। দেশটি নিজস্ব বিপুলসংখ্যক সেনা সরাসরি স্থলযুদ্ধে পাঠানো থেকে বিরত রয়েছে। তবে রিয়াদে সর্বশেষ হামলার পর এই সংযম বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ইয়েমেনে বড় আকারে সৌদি সেনা মোতায়েন করলে দুর্গম ভূখণ্ডে দীর্ঘস্থায়ী ও ব্যয়বহুল স্থলযুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে দেশটি। একই সঙ্গে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের গড়ে তোলা স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্রের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়েছে হুতিরা

প্রায় দুই দশক আগেও হুতিরা ছিল ছোট একটি ধর্মীয় পুনর্জাগরণবাদী আন্দোলন। ইরানের সমর্থনে সময়ের সঙ্গে তারা শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। এখন তাদের হাতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যেগুলো দিয়ে তেল আবিবের মতো দূরবর্তী লক্ষ্যেও হামলা চালানো সম্ভব।

বছরের পর বছর হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই করা ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেন, বিদ্রোহীরা তাদের যুদ্ধকৌশল উন্নত করেছে। তাদের হামলা আরও অত্যাধুনিক ও ধারাবাহিক হয়েছে, পাশাপাশি গোয়েন্দা সক্ষমতাও বেড়েছে।

ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নাজিলির অভিযোগ, হুতিরা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করে ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা বাড়িয়েছে। তার দাবি, নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আরও দ্রুতগতির এবং তাপ শনাক্তকারী ব্যবস্থার সাহায্যে তাপের উৎস অনুসরণ করে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়।

হুতিদের অস্ত্র উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক জানিয়েছে, উত্তর ইয়েমেনে অবস্থিত একটি গোষ্ঠী তাদের ক্লড এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রের দিকনির্দেশনা সফটওয়্যার তৈরিতে সহায়তা নিয়েছে। এসব সফটওয়্যার উড্ডয়নের সময় অস্ত্রের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ ও স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত হয়। প্রতিবেদনটিতে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে এলাকাটি হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় তাদের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগসূত্রের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইছে রিয়াদ

হুতিদের মোকাবেলায় সৌদি আরব বিভিন্ন দেশের সমর্থন চেয়েছে। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তুরস্কের মতো অন্য মিত্ররাও সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সিরিয়ার সহায়তাও চেয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো প্রায় এক দশকের গৃহযুদ্ধের পর দেশটি থেকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে হটিয়ে দিতে সক্ষম হয়।

তবে সৌদি আরবের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হুতিদের বিরুদ্ধে বিমান হামলায় অংশ নেয়নি। এর পরিবর্তে নতুন গঠিত যৌথ কমান্ডের অধীনে গোয়েন্দা সহায়তা দিতে ১০০ জনের বেশি সামরিক উপদেষ্টা পাঠিয়েছে ওয়াশিংটন।

গত বছর ইরান-সমর্থিত হুতিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি মার্কিন জাহাজ চলাচলের জন্য আবার খুলে দেওয়া হয়। গত মাসে সৌদি যুবরাজ দু’বার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে সে সময় সিএনএনকে জানিয়েছিল কয়েকটি সূত্র। তবে ট্রাম্প তাতে সম্মত হননি।

আলী শিহাবির মতে, মার্কিন বিমানবাহিনী সরাসরি অংশ নিলে সৌদি আরবের সুবিধা হতো। কারণ, মার্কিন বিমান দ্রুত স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে পারে। সৌদি বিমানবাহিনীকে সেই প্রক্রিয়ায় একটি অতিরিক্ত ধাপ অতিক্রম করতে হয়।

মার্কিন নাগরিক নিহত, ট্রাম্পের ইঙ্গিত

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা কিনলেও সৌদি আরব এখনো ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশাল মরুভূমিজুড়ে বিস্তৃত দেশটির জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তুলনামূলক কম খরচে তৈরি হুতিদের একমুখী ড্রোনের সহজ লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে।

সৌদি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ রবিবার জানিয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মার্কিন নাগরিকও রয়েছেন। এই ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনকে সংঘাতে আরও সরাসরি যুক্ত হওয়ার চাপের মুখে ফেলতে পারে।

হামলার পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “সৌদিরা ভালো যোদ্ধা। তবে আমার মনে হয়, হামলাটি ছিল ভয়াবহ।”

যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের বিরুদ্ধে হামলায় যোগ দেবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমরা যোগ দিতে পারি।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যে মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সৌদি আরবের সামনে এখনও বড় প্রশ্ন- দীর্ঘস্থায়ী স্থলযুদ্ধের ঝুঁকি নেবে, নাকি আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে হুতিদের মোকাবেলা করবে। সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

১০ এতিমের দায়িত্ব নিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ এম


১০ এতিমের দায়িত্ব নিলেন মালয়েশিয়া প্রবাসী

মালয়েশিয়া প্রবাসী রাজিব সরকার জামালপুর সদরের নান্দিনায় ১০ জন এতিম শিশুর আজীবনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এতিম ও অসহায়দের মধ্যে ইসলামিক কিতাব বিতরণ করা হয়েছে। রোববার রাতে নান্দিনার বাঁশহাটা এলাকায় রাজিব সরকারের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া প্রবাসী রাজিব সরকার উল্লেখ করেন, "মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে পেরে আমি আনন্দিত।" তিনি ১০ জন এতিমের আজীবন দায়িত্ব গ্রহণের কথা জানান। রাজিব সরকার তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। এ সময় তিনি সবার দোয়া কামনা করেন।

পরে এতিম ও অসহায়দের হাতে ইসলামিক কিতাব তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের শেষপর্বে দোয়া পরিচালনা করেন নান্দিনা বড় জামে মসজিদের খতিব হজরত মাওলানা মো. আবু ইউসুফ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামালপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজ রায়হান সাদা, সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, জামালপুর সদর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি ও নওয়াব হোসেন জুয়েলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সাংবাদিকরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউইয়র্কে তোপের মুখে ড. ইউনূস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৮:২০ এম


নিউইয়র্কে তোপের মুখে ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তোপের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

সোমবার (১২ অক্টোবর) কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। তিনি যখন আট নম্বর টার্মিনালে পৌঁছান, তখন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসী তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য করতে থাকেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় উপস্থিত প্রবাসীরা তাকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’, ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’, ‘ইউ কিল্ড থাউজেন্ডস অব পুলিশ’ সহ আরও নানা মন্তব্য করেন। এরপর নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে সেখান থেকে নিয়ে যান।

এ সময় ড. ইউনূস এবং তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদ দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান বলে জানিয়েছেন উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি।

তবে এই ঘটনার প্রবাসীদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%