শাহানুর আলম,বিশ্বম্ভরপুর,প্রতিনিধি
১০:০৫ এম
সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মানবাধিকার ও ওয়েলফেয়ার সংগঠন বাংলাদেশ সিটিজেন লিগ্যাল সাপোর্ট ওয়েলফেয়ার সোসাইটি- এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন সাংবাদিক ও মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ।
সংগঠনটির সরকারি লাইসেন্স নম্বর এস-১৫৩৯৯/২৬। মানবাধিকার সুরক্ষা, নাগরিকদের অধিকার সংরক্ষণ, ঘুষ দূর্নীতি প্রতিরোধ, আইনগত সহায়তা প্রদান, অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। স্থানীয় বিভিন্ন জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তিনি তাঁর নিজ এলাকায় সামাজিক ও বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। নেতৃবৃন্দরা জানান - নতুন দায়িত্বে আব্দুল আউয়াল মিছবাহ মানবাধিকার রক্ষা, সমাজের অন্যায় অবিচার ঘুষ দূর্নীতি প্রতিরোধ ও নাগরিকদের আইনগত সহায়তা নিশ্চিত করতে এবং অসহায় বঞ্চিতদের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে তারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে আব্দুল আউয়াল মিছবাহ বলেন, সমাজের অন্যায় অত্যাচার জুলুম নির্যাতন প্রতিরোধের চেষ্টা করার পাশাপাশি মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার চেষ্টা করব। অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার ও অধিকার সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চারটি ম্যাচে ১টি জয়। কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপের জার্মানি অধ্যায়ের শুরুটা তেমন উজ্জ্বল নয়। তবে, লিভারপুলের প্রাক্তন এই কোচের মতে, বিশ্বকাপ থেকে হতাশাজনক বিদায়ের পর তার দলের উন্নতি ঘটেছে।
ক্লপ দায়িত্ব গ্রহণের পর জার্মানি সমর্থকরা আশা করেছিলেন, এই কোচের নেতৃত্বে জার্মান দল যাদুর মতো পরিবর্তিত হবে। কিন্তু বাস্তবে, গত সপ্তাহে সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ২-০ গোলের জয় ছাড়া অন্য তিনটি ম্যাচে ক্লপের শিষ্যরা বিশেষ কিছু করতে পারেনি।
জার্মানির হয়ে ১৯৯০ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক লুথার ম্যাথিউস এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভালভাবে দেখলে মনে হচ্ছে, তাদের খেলা এখনও সব দিক থেকে জমে ওঠেনি। তবে এটা পরিস্কার, তরুণরা এই নতুন অভিজ্ঞতা বেশ উপভোগ করছে। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা আশা অনুযায়ী পয়েন্ট পাইনি। আর এই পয়েন্টে আমরা সন্তুষ্ট নই।’
বর্তমানে নেশনস লিগে নিজেদের গ্রুপে ৫ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সেখানে সমান ৮ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস।
তবে, পয়েন্ট এবং ম্যাচের এই ফলাফল দিয়ে জার্মানির বর্তমান খেলার অবস্থা বোঝানো সম্ভব নয়। ক্লপের ট্রেডমার্ক দ্রুত আক্রমণের লক্ষণ ইতোমধ্যে জার্মানরা দেখাতে শুরু করেছে। এই ধরনের আক্রমণ নির্ভর খেলা বহু বছর ধরে জার্মানির কাছ থেকে ভক্তরা দেখেননি।
গ্রিসের সঙ্গে ড্রয়ের পর ক্লপ বলেন, ‘আমরা যে যায়গা থেকে এখানে এসেছি তা নিয়ে আমি খুশি। খেলোয়াড়রা প্রথমার্ধে যে মানের খেলা দেখিয়েছে তা অবিশ্বাস্য। তারা সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, একই সঙ্গে তাদের ক্ষিপ্রতা ও পজেশন ধরে রাখা ছিল দুর্দান্ত।’
৫৯ বছর বয়সী এই কোচ নেশনস লিগের চার ম্যাচের জন্য ৪৪ জনের নাম ঘোষণা করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনই এর আগে কখনও জাতীয় দলে খেলেননি। এই তরুণদের খেলা নিয়েও ক্লপ আশাবাদী। তিনি জানান, ‘আমি দল এবং আমাদের খেলার ধরণে খুবই মুগ্ধ। গত দুই সপ্তাহে প্রত্যেকেই নিজেদের সেরাটা দিয়েছে এবং তাদেরকে দলে নেওয়ার প্রশ্নে যথার্থ প্রমাণ দিয়েছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একটি শিশুর প্রথম হাসি, প্রথম বসা, প্রথম হাঁটা—প্রতিটি মুহূর্তই পরিবারের জন্য আনন্দের। তবে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এই আনন্দের সঙ্গে শুরু হয় দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পথ। বয়স বাড়লেও অনেক শিশু বসতে, দাঁড়াতে বা হাঁটতে পারে না। কারও কথা বলতে সমস্যা হয়, আবার কারও হাত-পায়ের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণে থাকে না। অনেকের ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তি, শ্রবণ, বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা কিংবা খিঁচুনির মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
তবে সেরিব্রাল পালসি মানেই জীবন থেমে যাওয়া নয়। যথাসময়ে শনাক্তকরণ, চিকিৎসা, নিয়মিত থেরাপি এবং পরিবার ও সমাজের সহযোগিতা পেলে আক্রান্ত শিশুরাও নিজেদের সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।
আজ ৬ অক্টোবর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সেরিব্রাল পালসি দিবস। এ বছরের আন্তর্জাতিক প্রচারের মূল বার্তা হলো—সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত ৫ কোটি মানুষের কণ্ঠকে একত্র করে পরিবর্তনের দাবি জোরালো করা। দিবসটির লক্ষ্য হলো আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের জন্য আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।
বাংলাদেশে দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হচ্ছে।
কেন হয় সেরিব্রাল পালসি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেরিব্রাল পালসি মূলত শিশুর বিকাশমান মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক বিকাশ বা মস্তিষ্কে ক্ষতির কারণে ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে জন্মের আগে, জন্মের সময় অথবা জন্মের পরপরই মস্তিষ্কে ক্ষতির সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকে।
অপরিণত বা কম ওজন নিয়ে জন্ম, জন্মের সময় অক্সিজেনের ঘাটতি, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, নবজাতকের কিছু সংক্রমণসহ বিভিন্ন জটিলতা এর ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে অনেক শিশুর ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট কারণ শনাক্ত করা সম্ভব হয় না।
জাতীয় স্নায়ুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক ও অধ্যাপক ডা. মো. বরুল আলম গণমাধ্যমকে বলেন, সেরিব্রাল পালসির সবচেয়ে পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো নড়াচড়া ও অঙ্গভঙ্গি নিয়ন্ত্রণে সমস্যা। কারও পেশি শক্ত হয়ে থাকে, কারও অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া হয়, আবার কারও শরীরের ভারসাম্য ও সমন্বয় করতে সমস্যা হয়।
তিনি আরও বলেন, সেরিব্রাল পালসি শুধু চলাফেরার সমস্যা নয়। আক্রান্ত শিশুর কথা বলা, গিলতে পারা, খাওয়া, দেখা, শোনা কিংবা শেখার ক্ষেত্রেও সমস্যা থাকতে পারে।
দ্রুত শনাক্তকরণ জরুরি
শিশুর স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ সম্পর্কে পরিবারের সচেতনতার অভাবে অনেক সময় সেরিব্রাল পালসি শনাক্ত হতে দেরি হয়। যে শিশু নির্দিষ্ট বয়সে মাথা ধরে রাখতে পারছে না, বসতে পারছে না, হামাগুড়ি বা দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে না, এক পাশের হাত-পা বেশি ব্যবহার করছে কিংবা শরীর অস্বাভাবিক শক্ত বা ঢিলে—এসব লক্ষণকে অনেক সময় পরিবার স্বাভাবিক বিকাশের অংশ বলে মনে করে।
কেউ কেউ আবার ভাবেন, বয়স বাড়লে শিশু ঠিক হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অপেক্ষায় মূল্যবান সময় নষ্ট হতে পারে। কারণ শিশুর জীবনের প্রথম কয়েক বছর মস্তিষ্কের বিকাশ ও শেখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যত দ্রুত সমস্যা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় থেরাপি ও সহায়তা শুরু করা যায়, শিশুর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তত বেশি।
দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন প্রয়োজন।
সেরিব্রাল পালসির জন্য এমন কোনো একক চিকিৎসা নেই, যা সব শিশুকে পুরোপুরি সুস্থ করে তুলবে। চিকিৎসার মূল লক্ষ্য হলো শিশুর সক্ষমতা বাড়ানো, ব্যথা ও জটিলতা কমানো এবং তাকে যতটা সম্ভব স্বাধীনভাবে জীবনযাপনে সক্ষম করা।
এ জন্য প্রয়োজন হতে পারে ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়ানোর থেরাপি, কথা বলা ও ভাষা শেখার থেরাপি, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধ, সহায়ক যন্ত্র, হুইলচেয়ার, দৃষ্টি ও শ্রবণ পরীক্ষা এবং খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা। কিছু ক্ষেত্রে হাড় ও অস্থিসন্ধির অস্ত্রোপচারও প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসা পেতে ভোগান্তি
তবে বাংলাদেশে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবা পেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষায়িত পুনর্বাসন ও শিশু স্নায়ুরোগের বড় অংশের সেবা রাজধানী ও কয়েকটি বড় শহরকেন্দ্রিক। ফলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের পরিবারগুলোকে অনেক সময় চিকিৎসা ও থেরাপির জন্য ঢাকায় আসতে হয়।
নিয়মিত থেরাপির খরচের পাশাপাশি যাতায়াত, থাকা, অভিভাবকের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়া এবং অন্যান্য ব্যয়ও পরিবারের ওপর চাপ তৈরি করে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় বহন করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে শুরুতে নিয়মিত থেরাপি করালেও কয়েক মাস বা কয়েক বছর পর অনেক পরিবার তা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ এস এম মাহমুদুজ্জামান শোয়েব গণমাধ্যমকে বলেন, সেরিব্রাল পালসি মূলত দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনার বিষয়। কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস থেরাপি করালেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি আরও বলেন, শিশুর বয়স ও শারীরিক অবস্থার সঙ্গে থেরাপির ধরন ও লক্ষ্যও পরিবর্তিত হতে পারে। নিয়মিত চিকিৎসকের পরামর্শ না থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া, অস্থিসন্ধির নড়াচড়ার সীমাবদ্ধতা, অস্বাভাবিক অঙ্গভঙ্গি, ব্যথা এবং দৈনন্দিন কাজের সক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তার মতে, শুধু হাসপাতাল বা থেরাপি কেন্দ্র বাড়ালেই হবে না। পরিবারকে প্রশিক্ষণ দিয়ে ঘরেও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে শিশু স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞের সংখ্যা কম, শিশু পুনর্বাসনের সুযোগও সীমিত। একই সঙ্গে ফিজিওথেরাপি, দৈনন্দিন কাজের দক্ষতা বাড়ানোর থেরাপি ও কথা বলার থেরাপির সমন্বিত সেবাও পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে একই জায়গায় সব ধরনের সেবা পাওয়ার সুযোগ কম।
পরিবারের ওপরও বাড়ে চাপ
সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশু রক্তিমের মা ইশরাত জাহান (ছদ্মনাম) গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত একটি শিশুর যত্নের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব অনেক ক্ষেত্রে মায়ের ওপরই পড়ে। শিশুর দৈনন্দিন কাজ, খাওয়ানো, গোসল, পোশাক পরানো, থেরাপিতে নিয়ে যাওয়া—সবকিছু সামলাতে গিয়ে অনেক মাকে চাকরি বা আয়মূলক কাজ থেকে সরে দাঁড়াতে হয়। আমার নিজেকেও চাকরি ছাড়তে হয়েছে বাচ্চাকে সামলাতে গিয়ে।’
শুধু চিকিৎসা নয়, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিও সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক সময় তাদের নিয়ে করুণা করা হয়, দূরে সরিয়ে রাখা হয় কিংবা তাদের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়। এমনকি কিছু পরিবারও মনে করে, সন্তানটি কিছুই করতে পারবে না।
এর ফলে শিশুর শিক্ষা, খেলাধুলা, সামাজিক যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সম্ভাবনা শুরুতেই সীমিত হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেরিব্রাল পালসি আক্রান্ত শিশুদের জন্য চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত সহযোগিতা। সঠিক সময়ে শনাক্তকরণ, সহজলভ্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা গেলে শরীরের সীমাবদ্ধতা কোনো শিশুর স্বপ্ন পূরণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নোবেল পুরস্কারের সোয়া শ' বছরের দীর্ঘ ইতিহাসে একই পরিবারের একাধিক সদস্যের এই সর্বোচ্চ সম্মাননা অর্জনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল এবং বিস্ময়কর। বিশ্বমঞ্চে পারিবারিক মেধার এই অনন্য উত্তরাধিকার প্রধানত পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে দেখা গেছে। নোবেল ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে এ পর্যন্ত মোট ৭ বার পিতা-পুত্রের নোবেল জয়ের অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে।
নিচে নোবেলজয়ী সেই সফল পিতা-পুত্রদের বিবরণ তুলে ধরা হলো:
হেনরি ও লরেন্স ব্র্যাগ
এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি বিশ্লেষণের মাধ্যমে স্ফটিকের গঠন আবিষ্কারের জন্য পিতা উইলিয়াম হেনরি ব্র্যাগ ও পুত্র উইলিয়াম লরেন্স ব্র্যাগ ২৯১৫ সালে যৌথভাবে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। এটি একই বছর যৌথভাবে পিতা-পুত্রের নোবেল জয় একমাত্র রেকর্ড।
লরেন্স ব্র্যাগ মাত্র ২৫ বছর বয়সে বাবার সাথে যৌথভাবে এই পুরস্কার পেয়ে বিজ্ঞানের ইতিহাসে আজও সর্বকনিষ্ঠ পদার্থবিজ্ঞানী হিসেবে বিশ্ব রেকর্ড ধরে রেখেছেন।
জে জে থমসন ও জর্জ পেজেট
স্যার জোসেফ জন থমসন (জে জে থমসন) ১৯০৬ সালে ইলেকট্রন আবিষ্কার ও গ্যাসে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নিয়ে গবেষণার জন্য পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। এর ৩১ বছর পর, ১৯৩৭ সালে তাঁর পুত্র জর্জ পেজেট থমসন ইলেকট্রনের তরঙ্গধর্মী বৈশিষ্ট্য প্রমাণের জন্য একই বিভাগে নোবেল লাভ করেন।
নিলস বোর ও অগে বোর
কোয়ান্টাম তত্ত্ব ও পরমাণুর গঠন ব্যাখ্যার জন্য বিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী নিলস বোর ১৯২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। তাঁরই যোগ্য উত্তরসূরি অগে বোর ১৯৭৫ সালে পরমাণুর নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরে উপ-পারমাণবিক কণার গতিপ্রকৃতি আবিষ্কারের জন্য একই বিভাগে নোবেল জয়ের গৌরব অর্জন করেন।
ম্যান ও কাই সিগবান
এক্স-রে স্পেকট্রোস্কোপি আবিষ্কারের জন্য ১৯২৪ সালে সুইডিশ বিজ্ঞানী কার্ল ম্যান সিগবান পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান। ১৯৮১ সালে তাঁর পুত্র কাই সিগবান উচ্চ-রেজোলিউশন ইলেকট্রন স্পেকট্রোস্কোপি উন্নত করার স্বীকৃতিস্বরূপ একই বিভাগে নোবেল লাভ করেন।
হ্যান্স ও উলফ ভন ইউলার
বাবা হ্যান্স ভন ইউলার-চেলপিন ১৯২৯ সালে এনজাইমের গাঁজন প্রক্রিয়ার ওপর গবেষণার জন্য রসায়নে নোবেল পান। অন্যদিকে তাঁর পুত্র উলফ ভন ইউলার স্নায়ুতন্ত্রের নিউরোট্রান্সমিটার (নোরপাইনফ্রিন) সংক্রান্ত যুগান্তকারী আবিষ্কারের জন্য ১৯৭০ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন।
আর্থার ও রজার কর্নবার্গ
মার্কিন বিজ্ঞানী আর্থার কর্নবার্গ ১৯৫৯ সালে (উঘঅ) কৃত্রিমভাবে ডিএনএ সংশ্লেষণের পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পান। এর দীর্ঘ ৪৭ বছর পর, ২০০৬ সালে তাঁর পুত্র রজার কর্নবার্গ ইউক্যারিওটিক কোষের জিনগত তথ্য প্রতিলিপিকরণ প্রক্রিয়া আবিষ্কারের জন্য রসায়নে নোবেল লাভ করেন।
নিলস জার্নি ও সোভান্তে পাবো
ইমিউন সিস্টেমের নিয়ন্ত্রণ তত্ত্বের জন্য ১৯৮৪ সালে নিলস জার্নি চিকিৎসায় নোবেল পান। আর ২০২২ সালে বিলুপ্ত হোমিনিন ও মানব বিবর্তনের জিনোম আবিষ্কারের জন্য তাঁর পুত্র সুইডিশ বিজ্ঞানী সোভান্তে পাবো চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল লাভ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে কোটি রুপির চেক বাউন্স মামলায় তীব্র ভর্ৎসনা করেছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওনাদারদের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিচারপতিরা তার প্রতি কঠোর মনোভাব প্রদর্শন করেন। এক পর্যায়ে তাকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়, "জেলই আপনার যোগ্য জায়গা।"
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে রাজপালকে ৫ অক্টোবরের মধ্যে বকেয়া ৫ কোটি রুপি জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হলেও পুরো অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। শুনানির সময় তার আইনজীবী আদালতে ৫০ লাখ রুপির একটি ডিমান্ড ড্রাফট জমা দেন এবং জানান, সেটি ব্যাংকে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তবে আদালত এতে সন্তুষ্ট হয়নি। বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনার বেঞ্চ আগের দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী পুরো অর্থ জমা না পড়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী মন্তব্য করেন, পাওনাদাররা হয়তো অভিনেতার চেয়ে আর্থিকভাবে বেশি সচ্ছল হতে পারেন, কিন্তু চুক্তি ভঙ্গের কারণে তারাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
মামলাটির শুরু ২০১০ সালে। রাজপাল যাদব দিল্লির একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ‘আতা পাতা লাপাতা’ সিনেমা নির্মাণের জন্য ৫ কোটি রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। সিনেমাটি ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হওয়ার পর সেই অর্থ পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে পাওনাদার প্রতিষ্ঠান আদালতের দ্বারস্থ হয়।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আদালত রাজপালের বিরুদ্ধে দেওয়া নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। এবার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় বিষয়টি আরও কঠোর অবস্থানে পৌঁছেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ