১২:১০ এম
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো দলের মহাসচিবের দায়িত্বে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার পরও তিনি দলীয় মহাসচিব কিংবা স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেননি বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শুক্রবার রাজধানীতে একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
আরও পড়ুন: ফুটপাত পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রীকে অনুসরণ, ছাত্রলীগ নেতা তানভীর গ্রেফতার
ডা. জাহিদ বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি পদে যিনি প্রার্থী হবেন, তাঁকে প্রথমে প্রার্থিতা জমা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই করে বৈধ ঘোষণা করার পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে একজন নির্বাচিত হওয়ার পরে যখন শপথ নেওয়ার সময় আসবে, তখন পদত্যাগের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি বলেন, ‘আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এখনো মহাসচিব। তিনি এখনো মন্ত্রী, এখনো স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন।’
মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত খবর ও গুঞ্জনের বিষয়ে সাংবাদিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আপনারা যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বা অন্য কোথাও গুঞ্জন লিখেছেন, আমি আপনাদের বলব অহেতুক গুঞ্জন না ছড়িয়ে একটু ধৈর্য ধরুন। যেমন আপনারা ধৈর্য ধরেছিলেন কে বিএনপির প্রার্থী হবেন। আলহামদুলিল্লাহ, গতকাল প্রধানমন্ত্রী আমাদের সবাইকে নিয়ে ঘোষণা করেছেন—আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপি এবং আমাদের সংসদীয় গ্রুপ থেকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনীত করা হয়েছে। তিনি মনোনয়ন জমা দিয়েছেন।’
আরও পড়ুন: ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে সাত, হাসপাতালে ভর্তি ১,৩৭৩ জন
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা ২০ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ভোট হোক, শপথের আগে পদত্যাগ আসবে। শপথের আগে পদত্যাগ করার কোনো সাংবিধানিক এবং নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতা নেই।’
এ সময় মন্ত্রিসভা বা দলের দায়িত্বে সম্ভাব্য পরিবর্তন প্রসঙ্গে ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, এটি সংসদীয় গণতন্ত্রে স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে দায়িত্বে পরিবর্তন আনতে পারেন।
তিনি বলেন, ‘এটি সাংবিধানিক সংসদীয় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। প্রধানমন্ত্রী মনে করলে যাকে দিয়ে ভালো কাজ করানো সম্ভব সে অনুযায়ী পরিবর্তন আনতে পারেন। সবাই কাজ করছেন। তবে টিমের মধ্যে আরও ভালোভাবে জনগণের জন্য কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে সে পরিবর্তন আনতে পারেন। সংবিধান ও সংসদ তাকে সেই ক্ষমতা ও দায়িত্ব দিয়েছে।’
তবে মির্জা ফখরুলের পদত্যাগ নিয়ে বিএনপির ভেতর থেকে এর আগে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। গত বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন পাওয়ার পর মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
আরও পড়ুন: গর্ভের সন্তান বিক্রি করতে চাওয়া আঁখির পাশে প্রধানমন্ত্রী
এর একদিন পরই বিএনপির স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন মির্জা ফখরুলের পদত্যাগের খবরকে ‘গুঞ্জন’ বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট ও শপথের আগে তার পদত্যাগের কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন