আহমেদ আক্তার রানা কুলাউড়া উপজেলা প্রতিনিধি
১০:১৪ পি.এম
কুলাউড়ায় যেন চোরদের জন্য রাত এখন নিরাপদ, আর সাধারণ মানুষের জন্য আতঙ্কের। এক মাসেরও কম সময়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১৫টি গরু, ২টি সিএনজি অটোরিকশা এবং একাধিক বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অধিকাংশ ঘটনায় এখনো নেই দৃশ্যমান উদ্ধার অভিযান কিংবা অপরাধীদের গ্রেপ্তারের খবর। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা বাহিনী কি সত্যিই পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আছে?
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় গত জুন থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় জনমনে চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘটিত এসব ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘবদ্ধ চোরচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে ৮ই জুন উপজেলার সদর ইউনিয়ন এর লস্করপুর এলাকায় রিয়াজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে গভীর রাতে ২টি গাভি ও ২টি ষাঁড় চুরি হয়।
৯ই জুন রাউৎগাঁও ইউনিয়নের রাউৎগাঁও গ্রামের মাহবুব মিয়ার বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার-থ ১২-৫২২০ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি হয়। একই রাতে উছলাপাড়া গ্রামের কানাডা কুলাউড়া সমিতির সভাপতি মুহিবুর রহমান খান মুয়ুবের বাসায় চোরেরা ঢুকে স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায়।
হাজিপুর ইউনিয়নের বারইগ্রামে জহুর আলীর গোয়ালঘরের তালা কেটে ৪টি গরু চুরি করা হয়। এর মধ্যে ছিল একটি শাহিওয়াল জাতের বাছুর, একটি লাল গাভি, একটি হালকা লাল রঙের গাভিন গাভি এবং একটি কালো গাভি।
১৫ জুন কর্মধা ইউনিয়নের পুরশাই বেরী গ্রামে মো. রফিক মিয়ার গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ৪টি গরু চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
১৯ জুন কুলাউড়া সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে রাত প্রায় ১১টার দিকে মৌলভীবাজার-থ ১৩-০৫৩৯ নম্বরের একটি সিএনজি অটোরিকশা চুরি হয়। সিএনজিটির মালিক হিংগাজিয়া চা-বাগান এলাকার মো. সাহেল আহমদ।
২৩ জুন রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে মাসুক মিয়ার গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ২টি গরু চুরি করা হয়। একই দিনে ভূকশিমইল ইউনিয়নের জলালপুর গ্রামে মো. মশাহিদ আহমদের গোয়ালঘর থেকে ২টি গাভি ও ১টি বাছুরসহ মোট ৩টি গরু চুরি হয়।
এছাড়া ৫ জুলাই কুলাউড়া শহরের হেলাল মঞ্জিলে এক ভাড়াটিয়ার বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ৬ জুলাই টিবিএফ চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম শামীমের বাসায় চোরেরা প্রবেশ করে একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।
একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "এভাবে একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলেও যদি চোরদের শনাক্ত করা না যায় বা চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার না হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে নিরাপত্তা চাইবে? রাত হলেই এখন মানুষ আতঙ্কে থাকে। গরুর খামার, সিএনজি, এমনকি ঘরবাড়িও নিরাপদ নয়। পুলিশের নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, "এগুলোর তথ্য আমার কাছে নেই।"
অন্যদিকে মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্প্রতি জেলায় যোগদান করেছেন এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি তার নজরে আসেনি। তিনি কুলাউড়ার ঘটনাগুলো গুরুত্বসহকারে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান।
বাংলাদেশ পুলিশের দায়িত্ব সম্পর্কে পুলিশ আইন, ১৮৬১ এবং Code of Criminal Procedure (CrPC) অনুযায়ী, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ, সংঘটিত অপরাধের কার্যকর তদন্ত এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা পুলিশের মৌলিক দায়িত্ব। একইভাবে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ অনুযায়ী চুরি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধারাবাহিকভাবে একই ধরনের অপরাধ ঘটতে থাকলে তা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল বৃদ্ধি এবং দ্রুত তদন্তের কার্যকারিতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়।
কুলাউড়ায় একের পর এক চুরির ঘটনায় সাধারণ মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করেছে। কেবল আশ্বাস নয়, এখন প্রয়োজন দৃশ্যমান অভিযান, চোরচক্র শনাক্ত, চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা। অন্যথায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের পক্ষ থেকে কথার চেয়ে কাজে কত দ্রুত পরিবর্তন আসে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে 'কার্যকর কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ' শীর্ষক একটি জাতীয় সেমিনারে কঠিন বর্জ্যের কার্যকর ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সেমিনারটি সোমবার পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-সুইসকনটাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার আগারগাঁওয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন, ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ।
সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের ডিরেক্টর, প্রোগ্রামস অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি, পার্থ হেফাজ সেখ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাইফ মনজুর-আল-ইসলাম, যিনি টিম লিডার, গোফরইমপ্যাক্ট, ওয়াটারএইড বাংলাদেশ-সুইসকনটাক্ট বাংলাদেশ কনসোর্টিয়ামে।
পরিবেশ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সৈয়দ আহমদ কবীর 'কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আইনি কাঠামো, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও অংশীজনদের অংশগ্রহণ' শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
সেমিনারের বিষয়ভিত্তিক প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আইটিএন-বুয়েটের পরিচালক অধ্যাপক ড. রওশন মমতাজ; ইউএন অফিস ফর প্রজেক্ট সার্ভিসেস (ইউএনওপিএস)-এর লিড ইনভাইরনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ার ড. তারিক বিন ইউসুফ; দি সিটি ব্যাংক পিএলসি-এর অপারেশনাল হেড, সাস্টেইনেবল ফাইন্যান্স মোল্লা করিমুল ইসলাম; পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক (পরিবেশগত ছাড়পত্র) মাসুদ ইকবাল মো: শামীম, স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ শামসুল হক; এবং আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক আলোচনার সারসংক্ষেপ উপস্থাপন ও ভবিষ্যৎ করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করেন সুইসকনটাক্ট বাংলাদেশের ইন্সপায়ার প্রকল্পের টিম লিডার বিলকিস তাহমিন খান।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রামস অ্যান্ড পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ সেখ।
বিডি প্রতিদিন/কেএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় সাগরে ট্রলার ডুবে পাঁচ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। ইতিমধ্যে সোমবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সাত জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কুতুবদিয়া মৎস্য ফেডারেশন সভাপতি আবুল কালাম জানান, বড়ঘোপ দক্ষিণ অমজাখালীর নুরুল আবছারের মালিকানাধীন এফবি ফকিরা মসজিদ নামের ট্রলারটি ১২ জন মাঝি ও মাল্লা নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে যায়। সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ট্রলারটি ডুবে যায়। নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে রয়েছেন মো. সাগর (১৮), মো. করিম (২২), আইয়ুব মনির (২০), কামাল (৪৫) এবং পেকুয়া উপজেলার মগনামার একজন।
শ্রীমঙ্গল থানার ওসি (তদন্ত) ফারুক আহমেদ জানান, সাগরে ট্রলার ডুবে যাওয়ার ঘটনায় জেলে নিখোঁজের বিষয়ে থানায় জিডির প্রক্রিয়া চলছে। বিডি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাত কমে আসার সাথে সাথে বন্যার পানিও কমতে শুরু করেছে। গত দুইদিনের পাহাড়ি ঢল এবং সাঙ্গু ও ডলু নদীর পানি স্তর কমার ফলে দক্ষিণ চট্টগ্রনের বাঁশখালী এবং সাতকানিয়ার ক্ষেত্রে পানি কমে অন্তত ৩-৪ ফুট পর্যন্ত নেমে গেছে। যদিও অনেক জায়গায় এখনো বাড়িঘর এবং আঞ্চলিক সড়কগুলো ২-৮ ফুট পানির নিচে ডুবে রয়েছে। এ কারণে যারা আশ্রয়কেন্দ্র বা স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, তারা ফিরে যেতে পারছেন না। এখনো পানিবন্দী রয়েছেন ৫ লাখ মানুষ। ফলে তাদের ওপর দুর্ভোগ যেন ছেড়ে যাচ্ছে না।
বন্যায় বিপুল পরিমাণে বসতবাড়ি, আসবাবপত্রের ক্ষতি ছাড়াও, রাস্তাঘাট, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিজmি ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে। তদারকির দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলি প্রাথমিকভাবে কিছু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব দিলেও সার্বিক চিত্র জানাতে তাদের জন্য আরও ২-৩ দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীলরা। এ ছাড়া, বন্যার ফলে বিভিন্ন এলাকায় ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েডসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এখনো বিশুদ্ধ পানি ও রান্না করা খাবারের সংকট কাটেনি।
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহেদ এমরান সোমবার বিকালে জানিয়েছেন, ‘ইউনিয়নের কাছ থেকে ৪২ হাজার মানুষের বাস। বৃহত্তর ইলশা, রত্নপুর, চাপাছড়ি সহ অধিকাংশ গ্রামের মানুষ মাটির ঘরে বসবাস করেন। প্রায় সকলেরই ঘর ভেঙে গেছে এবং অবশিষ্ট মাটির ঘরগুলোও পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণে ভাঙ্গতে চলছে। গ্রামে যতগুলো পাকাবাড়ি রয়েছে, কিছু মানুষ সেখানে আশ্রয়ে আছেন। তাই জরুরি প্রয়োজন হলে নৌকা বা সাঁতরে যোগাযোগ করতে হচ্ছে।’
ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ির ব্যাপারে জানতে চাইলে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, ‘উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাটির ঘর বেশি। এখানকার বেশিরভাগ ঘরই ভেঙে গেছে অথবা থাকার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে এখনো সড়কের ওপর পানি রয়েছে, তাই পুরো ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা যাচ্ছে না। আপাতত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রাখা হচ্ছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের তালিকা তৈরি করা হবে। একইসাথে কৃষি, মৎস্য ও সড়ক বিভাগও ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করছে।’
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে জেলা প্রশাসন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলার পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। তবে বোয়ালখালী, ফটিকছড়ি, সন্দ্বীপসহ অন্যান্য উপজেলাগুলোর সার্বিক চিত্রে কিছুটা উন্নতি হয়েছে। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্র ও স্বজনদের বাড়িতে অবস্থান করছেন। কিছু এলাকার মানুষ বাড়িতে ফিরে গেলেও ঘরের ভেতরে কাদামাটি পরিষ্কার করা এবং ঘর মেরামতের চেষ্টা করতে হচ্ছে। টানা পানির নিচে থাকার কারণে মাটির চুলা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে গেছে। এর ফলে খাদ্য সংকটসহ বিভিন্ন ধরনের দুর্ভোগ এখনও কাটছে না।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানাচ্ছেন, পানি কিছুটা কমার ফলে কেউ কেউ বাড়িতে ফিরছেন। তবে বন্যা পরবর্তী দুর্ভোগে অধীনস্থ রয়েছেন বন্যার্তরা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, রান্না করা খাবারসহ চিকিৎসা সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।
এদিকে, চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম জানান, পূর্ণাঙ্গ তালিকার জন্য আরও সময় দরকার। তবে প্রাথমিকভাবে মৎস্য বিভাগের ১০৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ২৫১টি পুকুর-দিঘি ও ৩২০টি ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। সর্বাধিক ক্ষতি হয়েছে বাঁশখালীতে, যেখানে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ কোটি টাকার বেশি। সাতকানিয়া, বাঁশখালী, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী এবং আনোয়ারা উপজেলায়ও মৎস্যসম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা জানিয়েছেন, বন্যায় চট্টগ্রামের ১৬ উপজেলার ১৪ হাজার তিনশ হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সবজি ও পান বরজের ক্ষতি হয়েছে ২৫৯৪ দশমিক ১৭ হেক্টরের।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আলমগীর জানাতেও যে, প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৮ কোটি ৫৪ লাখ টাকার মতো ক্ষতি হয়েছে। ৩১টি গরু, ৮৭টি ছাগল, ৪০টি ভেড়া এবং ৮৭ হাজার ৩৯৫টি মুরগি এবং এক হাজার হাঁস মারা গেছে। পানি নেমে এলে চূড়ান্ত ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানা যাবে।
সড়ক বিভাগের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায়, এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার আঞ্চলিক সড়কগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন ২০টি সড়কের ৫০ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন জেলায় ৫১৪টি সড়কের ২৪৭ দশমিক ৬৫ কিলোমিটার অংশ, সাথে ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে, সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বন্যা শেষে পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে বিশেষ নজর দেওয়া উচিত। বিশেষ করে স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলা, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন, ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণে সহযোগিতা, কৃষক ও মৎস্য চাষিদের ক্ষতিপূরণ প্রদান, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো মেরামত কার্যকর পরিকল্পনা দ্রুত গ্রহণ করার প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে কক্সবাজারে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দিনব্যাপী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সদর, রামু এবং উখিয়া উপজেলার বন্যার্ত ১ হাজার ৫০০ পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রীর প্যাকেট বিতরণ করেন।
এসময় ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘এলাকার সাধারণ মানুষ এবং আমাদের স্থানীয় নেতারা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন। তাঁদের মতে, খাল খনন কর্মসূচি যদি সত্যিকার অর্থে পরিকল্পিতভাবে আরও কয়েক বছর ধরে অব্যাহত রাখা যায় এবং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচিতে পরিণত হয়, তাহলে বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে যে ভোগান্তি সৃষ্টি হয়, তা থেকে সাধারণ মানুষ অনেকটাই মুক্তি পাবে। ইতোমধ্যে টেকনাফ ও রামুর মানুষ আমাকে জানিয়েছেন, খুব বেশি খাল খনন না হলেও যতটুকু কাজ হয়েছে, তার সুফল তারা ইতোমধ্যেই পেতে শুরু করেছেন।’
তিনি বলেন, গত প্রায় ২০ বছরে দেশের নদী, খাল, বিল, নালা, জলাশয় ও নর্দমাগুলো যেভাবে অবৈধভাবে দখল ও ভরাট করা হয়েছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জোরপূর্বক দখল, অবৈধ বসতি স্থাপন এবং অপরিকল্পিত ভরাটের ফলে অনেক জলাশয় তার স্বাভাবিক অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এত দীর্ঘ সময় ধরে সৃষ্ট এই সংকট কয়েক মাসের উদ্যোগে পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। এজন্য অবশ্যই সময়, পরিকল্পনা এবং ধারাবাহিক উদ্যোগের প্রয়োজন।
উপহার সামগ্রী বিতরণকালে কক্সবাজার জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফাহিমুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আনোয়ার উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ