ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গ্রিনল্যান্ডে অনুমতি ছাড়াই কূপ খননের প্রস্তুতি ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ তেল কোম্পানির


গ্রিনল্যান্ডে অনুমতি ছাড়াই কূপ খননের প্রস্তুতি ট্রাম্প ঘনিষ্ঠ তেল কোম্পানির

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি জোরালো করছেন, ঠিক সেই সময় ট্রাম্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি মার্কিন তেল কোম্পানি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধানের জন্য কূপ খননের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 

সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে দুর্গম এলাকায় তেল অনুসন্ধানের কাজে ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নামানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রিনল্যান্ড সরকার ‘কড়া সতর্কবার্তা’ দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, সরঞ্জাম নামানোর কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের এমডি দিলীপ আগারওয়ালা বনানী থেকে গ্রেফতার

গ্রিনল্যান্ড সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের সব ধরনের লজিস্টিক কার্যক্রম পরিচালনার আগে সংশ্লিষ্ট খনিজ সম্পদ কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং তাদের অনুমোদন নিতে হবে।

এর দুই দিন পরই ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে গ্রিনল্যান্ডের একটি গ্রামের ওপর নিজের ছবি বসিয়ে একটি হুমকিসূচক পোস্ট দেন।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের যুক্ত করা হয়েছে প্রকল্পে।

গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠান **গ্রিনল্যান্ড এনার্জি** তাদের কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের জন্য ডানপন্থি সাবেক টকশো উপস্থাপক ফিল ম্যাকগ্রাকে নিয়োগ দিয়েছে। তিনি ‘ড. ফিল’ নামেই বেশি পরিচিত এবং ট্রাম্পের ধর্মীয় স্বাধীনতা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

আরও পড়ুন: উটের প্রস্রাবেই সারবে ক্যানসার? সৌদি ভাইরাল দাবির সত্যতা জানাল

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছেন, তথ্যচিত্রের মাধ্যমে ‘আধুনিক সময়ের এই ওয়াইল্ডক্যাটারদের মিশন’ তুলে ধরা হবে। ওয়াইল্ডক্যাটার বলতে সাধারণত বড় কোম্পানির বাইরে স্বাধীনভাবে তেল অনুসন্ধানে নামা ব্যক্তিদের বোঝানো হয়।

গ্রিনল্যান্ড এনার্জি আরও একজন মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক সদস্যকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। ওই ব্যক্তি বর্তমানে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচি ‘গোল্ডেন ডোম’-এর সঙ্গে কাজ করছেন। গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে ট্রাম্প এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

তেল প্রকল্পের সঙ্গে দখল পরিকল্পনার সম্পর্ক নেই: কোম্পানি

গ্রিনল্যান্ড এনার্জির চেয়ারম্যান ও বড় শেয়ারহোল্ডার ল্যারি সোয়েটসের ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে যোগাযোগ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, গ্রিনল্যান্ডে তেল অনুসন্ধান প্রকল্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দখলের কোনো সম্পর্ক নেই।

আরও পড়ুন: অপরাধীরা যত ক্ষমতাবানই হোক, ছাড় পাবে না: আইজিপি

জুনে জেমসন ল্যান্ড এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের এক বৈঠকে কোম্পানির এক প্রতিনিধি ভুলভাবে দাবি করেছিলেন যে, তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম তীরে নামানোর অনুমতি তাদের রয়েছে। পরে সোয়েটস বলেন, প্রকল্পটির প্রতি তাদের অতিরিক্ত আগ্রহের কারণে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছিল, যাতে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

কিন্তু পরের মাসেই ওই বিরল জনবসতিপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দেখতে পান, একটি টাগবোট একটি বার্জকে তীরের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং সেখান থেকে প্রায় এক ডজন কনটেইনার নামানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি, ন্যাটোভুক্ত কিছু দেশকে ‘শাস্তি’ দেয়ার চিন্তায় ট্রাম্প!

গ্রিনল্যান্ড সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেমসন ল্যান্ডের নুনাপ কেক্কা এলাকায় পরিকল্পিত তেল অনুসন্ধান কূপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম তীরে নামানোই ছিল ওই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য।

আরও পড়ুন: রিজভী: দীর্ঘ আন্দোলনে অবদান রাখা নারীরাই ঢাকা-২৩ আসনে মনোনয়ন পাবেন

ডেনমার্কভিত্তিক অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম ড্যানওয়াচ ওই জাহাজ পরিবহনকারী公司的 প্রধানের বরাত দিয়ে জানিয়েছেন, সরঞ্জামগুলো গ্রিনল্যান্ড এনার্জির জন্যই পাঠানো হয়েছিল।

অনুমোদনের অপেক্ষায় কোম্পানি

গ্রিনল্যান্ড এনার্জি এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার শেয়ারহোল্ডারদের পাঠানো এক চিঠিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রকল্পের নেতৃত্বস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রক ও তদারকি কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকগুলো ইতিবাচক হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, কূপ খননের জন্য প্রয়োজনীয় বাকি অনুমোদনগুলো পাওয়ার পথে অগ্রগতি হচ্ছে এবং এ নিয়ে কোম্পানি আশাবাদী। প্রাথমিকভাবে একটি কূপ খননের মাধ্যমে প্রকল্প শুরু করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: দেশবাসী তাকিয়ে আছে কবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন: নাহিদ ইসলাম

গ্রিনল্যান্ড এনার্জির একজন প্রতিনিধি জানিয়েছেন, তাদের প্রায় ৩০০ কনটেইনারে থাকা তেল অনুসন্ধান সরঞ্জাম নিয়ে একটি জাহাজ আগামী ১২ সেপ্টেম্বর কানাডা থেকে গ্রিনল্যান্ডের উদ্দেশে যাত্রা করবে। অক্টোবরেই কূপ খননের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ডবিষয়ক দূত ও কট্টর ডানপন্থি হিসেবে পরিচিত লুইজিয়ানার গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি এরই মধ্যে বলেছেন, আগামী বছরই গ্রিনল্যান্ডে তেল উত্তোলন শুরু হতে পারে।

সংরক্ষিত এলাকায় তেল অনুসন্ধান নিয়ে উদ্বেগ

ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে নির্বাচিত কর্তৃপক্ষের হাতে। ফলে এখন তারা একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫৩ সেনা নিহত

একদিকে তারা তেল অনুসন্ধানের অনুমতি দিতে পারে। অন্যদিকে পরিকল্পিত কূপগুলো জলাভূমি সংরক্ষণে আন্তর্জাতিক রামসার কনভেনশনের আওতাধীন একটি সংরক্ষিত এলাকার মধ্যে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

আরও নিউজ: অনুমতি না দিলে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন কোনো অজুহাত তৈরি হতে পারে বলেও স্থানীয় পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ড সরকার অবশ্য জানিয়েছে, সরঞ্জামগুলো তীরে নামানোর পর সেগুলো আবার সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া ‘অনুপাতসম্মত হবে না’। একই সঙ্গে তেল অনুসন্ধানের অনুমতির আবেদন এখনো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা।

ফলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়ার আগেই তেল অনুসন্ধানের সরঞ্জাম গ্রিনল্যান্ডে পৌঁছে যাওয়ার ঘটনা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, দ্বীপটির প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারের কর্তৃত্ব কতটা কার্যকর এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলো সেখানে কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও চুরি করে ফের সংযোগ দেয়: রাজউক চেয়ারম্যান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৪ পি.এম


বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নের পরও চুরি করে ফের সংযোগ দেয়: রাজউক চেয়ারম্যান

রাজধানীতে ভবন নির্মাণে অনিয়ম দমন করতে রাজউকের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেছেন, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার পরও অনেকেই অবৈধভাবে পুনরায় সংযোগ গ্রহণ করেন। এরপর আদালতেরও সহায়তা নেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিটি বাড়ির পেছনে একজন করে পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব নয়। ভবন নির্মাণে নিয়ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সচেতন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা হওয়া আবশ্যক। শনিবার (৮ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ঢাকা ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) কর্তৃক আয়োজনকৃত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। ভবন নির্মাণে নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটা বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ কাটা হলে তারা আবার চুরি করে লাগায় এবং আদালতে যান। তাহলে একটা বাড়ির পেছনে কি আমাকে একজন করে ইন্সপেক্টর নিয়োগ করতে হবে? এত লক্ষ ইন্সপেক্টর আমি কোথা থেকে পাব? এই চ্যালেঞ্জগুলো আমাদের প্রতিনিয়ত মোকাবিলা করতে হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘প্ল্যান বা ডিজাইন তো আপনারা প্রদান করেন, রাজউক শুধুমাত্র অনুমোদন দেয়। দুনিয়ার কোনো দেশে কি পুলিশিং করে বাড়ি তৈরি করা যায়? একটা ভবনের মিটার নিয়ে রাজউক কি করব? এটা সচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়। আমরা একটি গাইডলাইন দিতে পারি। কিন্তু নির্মাতারা অবৈধভাবে পাশের বাড়ি থেকে মিটার নিয়ে আসে, অথবা মিটার হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করে নতুন মিটার নিয়ে আসে। এই পরিস্থিতি তো পাবলিক ব্যবস্থাপনার অবস্থা।’ এছাড়া তিনি বলেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে صرف নিয়ন্ত্রক সংস্থার ওপর নির্ভর না হয়ে ভবন মালিক, স্থপতি, প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। নিয়ম না মানলে রাজউকের পক্ষে প্রতিটি ভবনে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, রাজউক পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিয়ে কাজ করছে। দীর্ঘদিনের বিভিন্ন অনিয়মের ধারাবাহিকতায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। রেগুলেটরি ইস্যুতে রাজউকের দুর্বল উপস্থিতি রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ‘এই দুর্বল অবস্থান দিয়ে যে কাজ শুরু করতে পেরেছি, এটিই আমার কাছে একটি বড় অর্জন।’ ভবন নির্মাণের পুরোনো পদ্ধতির কথাও উল্লেখ করে তিনি বলেন, একসময় শুধু আর্কিটেকচারাল প্ল্যান দিয়েই ভবন নির্মাণ হতো। ফায়ার সেফটি, ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল বা স্ট্রাকচারাল ড্রয়িং প্রয়োজন হতো না। এখন এসব ত্রুটি সংশোধন বা ভবন রেট্রোফিটিংয়ের দায়িত্বও রাজউকের ওপর এসেছে। ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে রাজধানীর ভবনগুলোর ত্রুটি চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান। তাঁর মতে, ভূমিকম্পে ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি শুধু ভবনের উচ্চতার ওপর নির্ভর করে না; ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মাটির অবস্থা ও নির্মাণে অনিয়মও এর জন্য দায়ী। তাই অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী নির্মাণ, মাটি পরীক্ষা ও প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করা জরুরি। রাজউক চেয়ারম্যান জানান, রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক ভবন থাকায় একসঙ্গে সব ভবনের ঝুঁকি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। এজন্য ধাপে ধাপে র‌্যাপিড ভিজ্যুয়াল অ্যাসেসমেন্ট, প্রিলিমিনারি ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট ও ডিটেইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাসেসমেন্ট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্প মোকাবিলায় রাজউকের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি জানান, এর মাধ্যমে ভূমিকম্পের পূর্বে ঝুঁকি নিরূপণ, সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় গবেষণা করা হবে। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে শুধু রাজউককে দায়ী করলে চলবে না। সিটি করপোরেশন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কার্যকর সিটি গভর্নমেন্ট ব্যবস্থা থাকলে নগর ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজ আরও সহজ ও সমন্বিতভাবে করা সম্ভব। ভবন নির্মাণে অনিয়ম প্রসঙ্গে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অনুমোদিত ছয়তলা ভবনকে নিয়মের বিরুদ্ধে ১০ তলা করা বা নকশা পরিবর্তন করে নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হবে না। এ ধরনের ভবনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আইনি যাচাই সংগৃহীত করা ছাড়া অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই। নকশা প্রণয়নকারী স্থপতি ও প্রকৌশলীদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু নকশায় স্বাক্ষর করেই তাঁরা দায়িত্ব শেষ করেননি, বরং নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতে তাঁদের দায়িত্ব নিতে হবে। অনিয়ম হলে তাঁদেরও আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আপনারা নিয়মের মধ্যে আসুন। অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী ভবন নির্মাণ করুন এবং অকুপেন্সি সার্টিফিকেট নিন।’ গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনিয়মের তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান। রাজউকের দুর্বল উপস্থিতিকে শক্তিশালী অবস্থানে রূপান্তরিত করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর, রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ‘এই কাজ একদিনে সম্ভব নয়। আমি শুরু করেছি, কতটুকু সম্ভব হবে জানি না; তবে আমরা চেষ্টা করছি।’ অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী হাসান আনসারী। রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভবন নির্মাণের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে গণমাধ্যমে নিয়মিত ভূমিকা রাখতে হবে। প্রকৌশলী ও তদারকি সংস্থাগুলোকে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি শুধু ভবনের নকশা বা নির্মাণমানের ওপর নির্ভর করে না। ভবনটি কোথায় এবং কী ধরনের মাটির উপরে নির্মাণ করা হচ্ছে, সেটাও জরুরি। অপরিকল্পিত আবাসন প্রকল্প ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, ভূমিকম্প মোকাবিলায় কোনো একটি একক সংস্থার পক্ষে কাজ করা সম্ভব নয়। সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত মহড়া ও প্রশিক্ষণের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি আরও জানান, ভূমিকম্পের পর উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত পরিচালনায় ঢাকার আশপাশের ৪১টি ফায়ার স্টেশনকে এয়ারমার্ক করা হয়েছে এবং বিশেষ রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে এসব প্রস্তুতি যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে সরকারি-বেসরকারি সব সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, ঢাকায় অনুমোদিত ভবনের অতিরিক্ত তলা নির্মাণ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব ভবন চিহ্নিত করে দ্রুত পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। ডুরার সভাপতি শাহজাহান মোল্লা বলেন, ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গণমাধ্যমকে আরও প্রবল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন ডুরার সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম। এ সময় সিনিয়র সাংবাদিক রিপন তালুকদারসহ সংগঠনের সদস্য ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ চারজন আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৫ পি.এম


র‍্যাবের অভিযানে ইয়াবাসহ চারজন আটক

র‍্যাব-৬ খুলনা নগরীর মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কারবারিকে আটক করেছে ইয়াবাসহ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে সদর থানাধীন মিয়াপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে, যেখানে তাদের কাছে প্রায় ৪ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) র‍্যাব-৬ এর মিডিয়া সেল থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুঁটিখালী গ্রামের নাসির উদ্দীন সেন্টু (৩৭) ও তার স্ত্রী সাফিয়া বেগম (৩২), কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকার মারিয়াম (২০) এবং আয়শা রয়েছেন।

র‍্যাব জানিয়েছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মিয়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের হেফাজতে থাকা প্রায় ৪ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হবে এবং ইয়াবাসহ তাদের থানায় হস্তান্তরের কথা উল্লেখ করেছে র‍্যাব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ, আমরা সেটা স্বীকার করি: রাশেদ খাঁন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:১৬ পি.এম


এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ, আমরা সেটা স্বীকার করি: রাশেদ খাঁন

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ডাক বা এক দফার ঘোষণা দিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম। আমরা সেটা স্বীকার করি। কিন্তু এই এক দফা ঘোষণার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল জনগণ।’

শনিবার সকালে ঝিনাইদহ সদরের মুরারীদহ এলাকায় ঐতিহ্যবাহী মিয়ার দালান পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, ডা. তাসনিম জারাসহ গণতন্ত্র ও প্রগতিশীল চেতনার বহু নেতা-নেত্রী এনসিপি ছেড়েছেন। এর কারণ, এনসিপি যখন জামায়াতের সঙ্গে মিশে গিয়েছে, তখন এসব তরুণ নেতারা এনসিপি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। দেশে এই সময়ে এসে মূলত এনসিপি বলতে কিছু নেই, যা আছে তা জামায়াতের শিশু সংগঠন।’

তিনি যোগ করেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ক্রেডিটবাজি শুরু করেছে এনসিপি। নাহিদ ইসলাম ও মাহফুজ আলম দেশের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজেদেরকে গণঅভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। মাহফুজ আলম মূলত নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টা।’

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, ‘জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান যে মুখোশধারী ছিলেন, তা অভ্যুত্থানের পরে আমরা দেখলাম। তিনি সর্বপ্রথম আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছেন। গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে তিনিই সর্বপ্রথম বেঈমানি করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম বলেছিল জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী, জামায়াত দেশের সার্বভৌমত্ব চায় না। এসব কথাবার্তা বলার পর তারাই আবার জামায়াতের পকেটবন্দি হয়েছে। এনসিপির যে সব প্রার্থী নির্বাচন করেছে, তাদের সব খরচ দিয়েছে জামায়াত।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালুকা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আরও দুই চিকিৎসক নিয়োগের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২১ পি.এম


ভালুকা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আরও দুই চিকিৎসক নিয়োগের দাবি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার শিল্প-ইন্ডাস্ট্রিঘন এলাকা হওয়ায় প্রতিদিনই বিভিন্ন ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা,
শিল্পকারখানার শ্রমিকদের অসুস্থতা ও নানা রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার জন্য ভালুকা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আসেন।তবে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের সংখ্যা সীমিত থাকায় রোগীদের চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,জরুরি বিভাগে একজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করায় একই সময়ে একাধিক রোগী এলে একজন চিকিৎসককেই সব রোগী সামলাতে হয়।এতে অনেক সময় রোগীদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী ও শিল্পকারখানার শ্রমিকদের জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন হলেও রোগীর চাপ বেশি থাকায় কাঙ্ক্ষিত সময়ে

সেবা পাওয়া নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি,ভালুকা শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসেন।তাই জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা আরও কার্যকর ও দ্রুততর করতে অন্তত আরও দুইজন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।
এতে জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের ওপর চাপ কমবে,একই সঙ্গে রোগীদের দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।পাশাপাশি জরুরি বিভাগের সেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু এমপি মহোদয় এবং উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের প্রত্যাশা,ভালুকা সরকারি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত আরও দুইজন চিকিৎসক নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%