বৃহস্পতিবার, ৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৩৫ পি.এম
ভিয়েতনামের আদালত একটি বড় মাদক পাচার মামলায় ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া তদন্তের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়, যখন চারজন বিমানবালার কাছ থেকে টুথপেস্টের টিউবের ভেতর লুকানো মাদক উদ্ধার করা হয়।
ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেসের তথ্য অনুযায়ী, হো চি মিন সিটি পিপলস কোর্ট মাদক পাচারের অভিযোগে ১১ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল ২২৭ জন।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে প্যারিস থেকে ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটির তান সন নাত বিমানবন্দরে পৌঁছান ভিয়েতনাম এয়ারলাইনসের চার বিমানবালা। তাদের বহন করা ১৫৭টি টুথপেস্টের টিউব থেকে ১০ কেজির বেশি মাদক উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর জানা যায়, ওই চার বিমানবালা মাদকের বিষয়ে অবগত না হয়েই সেগুলো বহন করেছিলেন।
তদন্তকারীরা একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের সন্ধান পান। অভিযোগ রয়েছে, চক্রটি ফ্রান্স থেকে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের মধ্যে মাদক লুকিয়ে ভিয়েতনামে পাচার করত।
প্রসিকিউটরদের মতে, চক্রের সদস্যরা মাদক বিতরণের জন্য এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ, অন্য ব্যক্তির নামে খোলা ব্যাংক হিসাব এবং বিভিন্ন ডেলিভারিসেবা ব্যবহার করত। পরে তারা দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকায় মাদক সরবরাহ করত।
ভিয়েতনামে বড় মাদক পাচার মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ১১ আসামির আইনজীবীদের সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ভিয়েতনামের সংবাদমাধ্যম ভিএনএক্সপ্রেস জানিয়েছে, একই মামলায় অন্তত ২০ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ভিয়েতনাম বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডের বিধান কিছুটা পরিবর্তন করার কথা বিবেচনা করছে। গত মাসে দেশটির সরকার ফৌজদারি আইন সংশোধনের অংশ হিসেবে ছয়টি অপরাধের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে মাদক পাচারও রয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এসব পরিবর্তন এখনো কার্যকর হয়নি। ফলে বর্তমান আইনের অধীনেই মাদক পাচারের এই মামলায় ১১ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঝালকাঠি, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলায় মশাবাহিত রোগ, বিশেষ করে ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আয়োজন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় ঝালকাঠি পৌরসভা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের সামনের সড়ক থেকে এই কর্মসূচির সূচনা করে।
কর্মসূচির নেতৃত্ব প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
এ সময় পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক জুলিয়া সুকায়না, সদর হাসপাতালের পরিচালক (তত্ত্বাবধায়ক) ডা. মাসুম ইফতেখারসহ পৌরসভা ও স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এই কর্মসূচির আওতায় হাসপাতালের সামনের সড়ক এবং আশপাশের এলাকা থেকে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, ড্রেন ও নালা পরিষ্কার করা এবং জনসাধারণকে পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন করা হয়।
জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বাসসকে জানিয়েছেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধুমাত্র প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হলে নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না।" তিনি আরও বলেন, "সমন্বিতভাবে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হলে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের বিস্তার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।"
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এক বৃদ্ধ বাবার অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের বেডে থাকা অবস্থায় জমিসংক্রান্ত একটি নথিতে সই নেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে তার মেয়ের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে বসে আছেন এক বৃদ্ধ। এ সময় তার কাছ থেকে জমিসংক্রান্ত একটি কাগজে স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করছেন এক নারী, যাকে বৃদ্ধের মেয়ে হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ভিডিওতে বৃদ্ধকে দুর্বল অবস্থায় দেখা যায়।
ভিডিও ধারণকারী নারী ওই বৃদ্ধের মেয়েকে জমির দলিল নিয়ে আসার ব্যাপারে বারবার প্রশ্ন করেন। এক পর্যায়ে, ভিডিওতে শোনা যায় যে ওই নারী তাকে সেখান থেকে বের হয়ে যেতে বলছেন।
ভিডিওটি বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই ঘটনাটিকে অনৈতিক ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে, একজন অসুস্থ ও শয্যাশায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে সম্পত্তিসংক্রান্ত নথিতে স্বাক্ষর নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ও প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বৃদ্ধের অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে তার কাছ থেকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার তিতাসে বাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. ইউসুফ ভূঁইয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় তার ভাইসহ আরও একজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ তিন নারী ও এক পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার কড়িকান্দি ইউনিয়নের একলারামপুর গ্রামে ঘটে। নিহত ইউসুফ ভূঁইয়া ওই গ্রামের মৃত আলী আজগর ভূঁইয়ার ছেলে।নিহতের ছেলে মো. রাকিব হোসেন জানিয়েছেন, বাড়ির সীমানা নিয়ে তাদের এবং পাশের বাড়ির মৃত আশাদ মিয়ার ছেলেদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে আশাদ মিয়ার ছেলেদের নেতৃত্বে তার অন্য ভাই ও আত্মীয়স্বজনেরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার বাবা ইউসুফ ভূঁইয়া ও চাচা মো. স্বাধীন ভূঁইয়া (৫৫) আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।কালুখালীতে নছিমন-ইজিবাইকের সংঘর্ষে যুবক নিহতরাকিব হোসেন অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষের হামলার পর তার বাবার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মাজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘ইউসুফ ভূঁইয়াকে হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা করে মৃত পাওয়া যায়। তবে তার শরীরের কোথাও কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চারজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দুর্নীতির মামলায় পাবনা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্সের মালিকানাধীন ১৩ দশমিক ৯৯ একর জমি ও দুটি গাড়ি জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, তার নামে থাকা ১৪টি ব্যাংক হিসাবও অবরুদ্ধ করার আদেশ জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ প্রদান করেন।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম এ বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান, এসব জমির মূল্য এক কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ব্যাংক হিসাবগুলিতে ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৪৯৫ টাকা রয়েছে। তবে আবেদনে গাড়ির মূল্য উল্লেখ করা হয়নি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক পাপন কুমার সাহা জমি ও গাড়ি জব্দ এবং ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার জন্য আবেদন করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স একজন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে ও অসৎ উদ্দেশ্যে ৯ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩৪ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। তিনি নিজ নামে ৩৬টি ব্যাংক হিসাবে ২১২ কোটি ৬৭ লাখ ৭২ হাজার ১০০ টাকা জমা এবং ২১২ কোটি ৬৬ লাখ ৭৩ হাজার ৮৯৭ টাকা উত্তোলন করেছেন, যার ফলে মোট ৪২৫ কোটি ৩৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯৯৭ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে। এই লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের সাথে জড়িত অপরাধ ‘দুর্নীতি ও ঘুষ’ গ্রহণের উদ্দেশ্যে অর্থ বা সম্পত্তির অবৈধ উৎস গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
এ অভিযোগে দুদক মামলা দায়ের করে।
তদন্তকালে রেকর্ডপত্র পর্যালোচনার সময় দেখা যায়, আসামির নামীয় ও তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রচেষ্টা চলছে। মামলা নিষ্পত্তির পূর্বে যদি এসব সম্পত্তি হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে যায়, তবে ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে তার স্থাবর সম্পদ জব্দ করা এবং অস্থাবর সম্পদ অবরুদ্ধ করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ