১০:২৫ পি.এম
শেরপুরের নকলা উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের মোজারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আরও সুনামধন্য প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান স্যারের অবসর জনিত কারণে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আয়োজিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বিকেলে বিদ্যালয়টির অফিস কক্ষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে সংক্ষিপ্ত পরিসরে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।
এ উপলক্ষে বক্তারা বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান স্যারের শিক্ষকতা জীবনের সময়কালে প্রশাসনিক এবং একাডেমিক কর্মকান্ডের উপর নিজেদের স্মৃতিচারণ করেছেন। বক্তারা জানান, বিদায়ী স্যারের অসাধারণ কর্মদক্ষতা, কাজের প্রতি শ্রদ্ধা, একাগ্রতা এবং নিয়মিত আচরণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নৈতিক উন্নয়নসহ শিক্ষার সার্বিক মান উন্নয়নে বাস্তবায়িত তাঁর কর্মকান্ড বর্তমান ও ভবিষ্যতের শিক্ষকদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। বক্তারা বলেছেন, তিনি যেভাবে সৎ, আদর্শ ও দায়িত্বশীল শিক্ষকের ভূমিকা পালন করেছেন, তার শূণ্যেরতা পূরণ করা সহজ হবে না। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, আবু রায়হান স্যার সবার প্রিয় ও অনুসরণীয় শিক্ষক হিসেবেই সকলের হৃদয়ে অমিত ঘটবেন। বক্তারা আল্লাহর কাছে দোয়া করেন যে, তিনি যেন অবসর জীবনে নিরাপদ ও সুখী হতে পারেন।
বিদায়ী আবু রায়হান স্যার তাঁর বক্তব্যের মাঝে আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠেন। তিনি বলেন, অবসরের পরের দিনগুলো যেন সুস্থতার সাথে কাটাতে পারেন, সেজন্য তিনি সবার কাছে দোয়া চাইলেন। এছাড়া তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সকলের সুস্থতা এবং সার্বিক উন্নতি কামনা করেন।
আরও পড়ুন: বরিশালে বালু ব্যবসায়ীকে ৪ লাখ জরিমানা, মা ইলিশ অভিযানে ৮ জন দণ্ডিত
বিদায়ী স্যারের চাকরি কালীন সময়ে স্মরণীয় কর্মকান্ডের উপর আলোচনার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁর হাতে স্মৃতিস্বরূপ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেন। এই সময়ে বিদ্যালয়টির সহকারী শিক্ষক খোরশেদ আলী, লাভলী বেগম, আছমাউল হোছনা এবং জেসমিনসহ আবেগপ্রবণ শিশু শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভার পর আছমাউল হোছনা-এর কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর এবং অফিসিয়াল কাজ কর্ম ও সকল নথিপত্র বিদায়ী প্রধান শিক্ষক আবু রায়হান স্যার বুঝিয়ে দেন।
উল্লেখ্য, আবু রায়হান ১৯৯২ সালের ১১ নভেম্বর উপজেলার “মোজাকন্দা শাহ মুহাম্মদ আজিজুল হক প্রাথমিক বিদ্যালয়”-এ শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সরকারের বদলি আদেশ মোতাবেক বড়ইতার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। উভয় কর্মস্থলে তিনি অগণিত শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং শিশুদের শিক্ষার হাতেখড়ি গড়ে তুলেছেন। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখায় সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের মনজয় করেছেন এবং সুনাম অর্জন করেছেন। সবশেষে, তিনি উপজেলার বানেশ্বরদী ইউনিয়নের “মুজারকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়” থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন: ইঞ্জিন বিকল হয়ে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ দুই জেলে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন