মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৩ পি.এম
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার মন্ত্রীকে ফুলের শুভেচ্ছা জানান। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি সাক্ষাৎকালে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ভারত ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, সহযোগিতা ও জনগণের কল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও ফলপ্রসূভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণ যাতে পারস্পরিক সহযোগিতার সুফল পায়, সেই লক্ষ্যে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে বাংলাদেশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার ভিত্তিতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে যাবে।
বৈঠকে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে সবসময় ইতিবাচক ও গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ভারত অত্যন্ত আগ্রহী এবং আন্তরিক। তিনি দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণ এবং উভয় দেশের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
হাইকমিশনার সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ঐতিহাসিক যোগাযোগ এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরেন। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও জোরদারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি হাইকমিশনার পবন ভাদেসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনের রেলগেট এলাকায় ঢাকাগামী ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ আন্ত নগর ট্রেনের মালবাহী বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৫ সদস্যবিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করে।
কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) আসিফ আহমেদ এবং আরও দুজন কর্মকর্তা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করা কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস আন্ত নগর ট্রেনটি সান্তাহার জংশন স্টেশনের রেলগেট এলাকায় পৌঁছানোর সময় ট্রেনের পেছনের মালবাহী বগিটি লাইনচ্যুত হয়ে যায়।
দুর্ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে ওই রুটে ঢাকা, উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুলনা ও রাজশাহীর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
ঈশ্বরদী থেকে উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করা হয়। এর ফলে সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তদন্ত কমিটি লাইনচ্যুতির কারণ, দায়-দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধের জন্য করণীয় বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে বলে জানা গেছে।
সান্তাহার স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানিয়েছেন, বগিটি কেন লাইনচ্যুত হয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত শেষে কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমতলীতে চাওড়া নদী বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কচুরীপানা পরিষ্কার করার কাজ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদার বশির উদ্দিন নদী থেকে কচুরীপানা পরিষ্কার করার যে পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন, তা কার্যকর নয়। তারা মনে করেন, এভাবে কাজ করলে নতুন করে কচুরীপানা বংশ বিস্তারের সুযোগ তৈরি হবে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, আমতলী উপজেলার ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ চাওড়া নদী ও তার শাখা নদীতে গত ২৫ বছর ধরে কচুরীপানা জমে রয়েছে। কচুরীপানার কারণে খালের পানি পঁচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এই দূষণের কারণে আমতলী উপজেলার হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, আমতলী সদর ইউনিয়ন ও আমতলী পৌরসভার লক্ষাধিক মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করছে। নদীর কচুরীপানা পরিষ্কার করার জন্য গত এক দশক ধরে সচেতন নাগরিক ও পরিবেশ কর্মীরা আন্দোলন করে আসছেন। ২০২৩ সালে বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সুবন্দী প্রকল্পের আওতায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৫ কিলোমিটার নদীর কচুরীপানা পরিষ্কারের কাজ পায় পটুয়াখালী বশির নামের একজন ঠিকাদার। ঠিকাদার গত বুধবার কচুরীপানা উত্তোলনের কাজ শুরু করেন। তবে শুরুতেই তারা অভিযোগের সম্মুখীন হয়েছেন।
দরপত্রে উল্লেখ রয়েছে, শ্রমিকদের মাধ্যমে নদীর কচুরীপানার মূল গোড়া তুলে পরিষ্কার করতে হবে, যাতে নতুন করে কচুরীপানা বংশ বিস্তার করতে না পারে। কিন্তু ঠিকাদার বশির উদ্দিন মেশিন দিয়ে কচুরীপানার উপরের অংশ কেটে পরিষ্কার করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এভাবে কচুরীপানা কাটার বিষয়ে নিষেধ করা হলেও ঠিকাদার তা মানছেন না। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজিজুর রহমান অভিযোগ পাওয়ার পর ঠিকাদার বশির উদ্দিনকে নোটিশ দিয়েছেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, দরপত্র অনুযায়ী নদীর কচুরীপানা পরিষ্কার না করলে এর দায়ভার ঠিকাদারের উপর বর্তাবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ দায়ভার গ্রহণ করবে না। একই সঙ্গে কাজের বিল ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, একটি মেশিন দিয়ে কচুরীপানার উপরের অংশ কেটে ফেলা হচ্ছে, কিন্তু গোড়ার অংশ রয়ে যাচ্ছে। কেটে ফেলা কচুরীপানা নদীতে পড়ে আছে। নদীর পাড়ে বসবাসকারী মোঃ শিবলী শরীফ ও নজরুল ইসলাম বলেছেন, ঠিকাদার মেশিন দিয়ে কচুরীপানা অপসারণ করছেন না, বরং নতুন করে কচুরীপানা বংশ বিস্তারের ব্যবস্থা করছেন। তারা আরও বলেন, ঠিকাদারের লোকজন মেশিন দিয়ে কচুরীপানার উপরের অংশ কেটে যাচ্ছেন, কিন্তু গোড়ার অংশ রয়ে যাচ্ছে। তারা জানান, কচুরীপানার কারণে পানি পঁচে পরিবেশ দূষিত হয়ে আছে, এবং এভাবে কাটা কচুরীপানা পঁচে পরিবেশকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
সুফিয়া বেগম বলেন, কচুরী উডাইতে দেখে মনে মনে বলেছি, আল্লাহ আমাদের রক্ষা করবেন, কিন্তু যে রকম কাজ হচ্ছে, তাতে বিপদ আরও বাড়বে।
ঠিকাদার বশির উদ্দিনের ম্যানেজার মোঃ জাহিদ হোসেন জানান, পানি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং শ্রমিকরা নদীতে নামতে চাচ্ছেন না। তাই মেশিন দিয়ে কেটে কচুরীপানা কিনারে তোলা হচ্ছে। বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ আজিজুর রহমান বলেন, শ্রমিকদের মাধ্যমে নদী থেকে কচুরীপানার গোড়া মাটি থেকে তুলে আনতে হবে, যাতে নতুন করে কচুরীপানা বংশ বিস্তার করতে না পারে। তিনি জানান, ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে কচুরীপানা পরিষ্কার করতে অনিয়মের বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। দরপত্র অনুযায়ী নদী থেকে কচুরীপানা পরিষ্কার না করলে ঠিকাদারকে দায়ভার নিতে হবে।
বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান বলেন, ঠিকাদারকে ঘণ কচুরীপানা পরিষ্কার করার জন্য দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে কচুরীপানা পরিষ্কার করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফরিদপুরের সদরপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধের কারণে দিনের বেলায় প্রায় দুই বিঘা জমির ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ফলে ভুক্তভোগী কৃষক দাবি করেছেন যে, তার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আলমনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী আলতাফ হোসেন অভিযোগ করেছেন যে, ৮ শতাংশ জমি নিয়ে মুস্তাফিজুর মৃধা ও শফিউদ্দিন মৃধার সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এরই প্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে অভিযুক্তরা অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে তার জমিতে প্রবেশ করে প্রায় ৩৫০টি কলাগাছ কেটে ফেলেন।
তিনি জানান, কলাগাছগুলো কেটে ফেলার ফলে তার প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় লোকজনের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
ঘটনার পর সোমবার রাত ৮টার দিকে আলতাফ হোসেন সদরপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে মুস্তাফিজুর মৃধা ও শফিউদ্দিন মৃধার নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার দুপুরে মুস্তাফিজুর মৃধা ও শফিউদ্দিন মৃধাসহ কয়েকজনকে ওই জমিতে কলাগাছ কাটতে দেখা গেছে। স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও তারা জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত মুস্তাফিজুর মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ্ বলেছেন, "লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান হলে মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও গোয়েন্দা স্থাপনার সংখ্যা কমানোর বিষয়ে নীরব আলোচনা শুরু করেছেন। প্রায় দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখার পর নতুন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে তুলনামূলক ছোট পরিসরের উপস্থিতির দিকে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সম্প্রতি অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে, যা ছয়টি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এসব আলোচনা এখনও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরাসরি নির্দেশের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। বরং কর্মকর্তারা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ও সামরিক অবস্থান কী হতে পারে, তা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সংঘাতের অবসান ঘটাতে সফল হলে এ ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়িত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ৯/১১-এর পর ব্যাপকভাবে বেড়েছিল মার্কিন উপস্থিতি। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার পর মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা অবকাঠামো ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়।
আল-কায়েদার বিরুদ্ধে যুদ্ধ, ইরাক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, ইয়েমেন ও লিবিয়ায় সামরিক অভিযান এবং সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে স্থায়ী ঘাঁটি, গোয়েন্দা স্থাপনা ও অন্যান্য সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলে। তবে ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাত এসব স্থাপনার দুর্বলতা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক মার্কিন ঘাঁটি ও স্থাপনা আক্রান্ত হয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতে ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ফলে যুদ্ধ শেষে এত বড় সামরিক অবকাঠামো একইভাবে ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকি—দুটিই নতুন করে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। পাশাপাশি রয়েছে বিপুল সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধজাহাজ। এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিমানবাহী রণতরি এবং এক ডজনেরও বেশি গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার রয়েছে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাত চলমান থাকায় এসব সামরিক সক্ষমতা এখনই সরিয়ে নেওয়ার কোনও পরিকল্পনা নেই। তবে যুদ্ধ শেষ হলে কীভাবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি পুনর্বিন্যাস করা যায়, তা নিয়ে সম্ভাব্য বিভিন্ন পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে। এদিকে সংঘাতের সবচেয়ে তীব্র পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফিরিয়ে নেওয়া কিছু সিআইএ কর্মকর্তাকে আবার মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হচ্ছে বলেও একটি সূত্র জানিয়েছে।
ঘাঁটি মাটির নিচে নেওয়ার পরিকল্পনা
মধ্যপ্রাচ্যে যে মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলো ভবিষ্যতেও থাকবে, সেগুলোর নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা চলছে। দুটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। ইরানের দীর্ঘমেয়াদি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এসব স্থাপনার ঝুঁকি কতটা বাড়িয়েছে, তা সাম্প্রতিক সংঘাতে স্পষ্ট হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের কিছু ঘাঁটি ভূগর্ভস্থ বা অধিক সুরক্ষিত স্থাপনায় রূপান্তরের বিষয়টি বিবেচনা করে আসছিল। তবে যুদ্ধ শুরুর পর এই পরিকল্পনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, এসব স্থাপনার দুর্বলতা আগে থেকেই জানা ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় তৎপরতা দেখায়নি।
ইরানের হামলায় যেসব মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে, সেগুলোর সবগুলো পুনর্নির্মাণ করা হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং আলোচনার সঙ্গে পরিচিত আরও দুটি সূত্রের মতে, ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কিছু স্থাপনা হয়তো আর পুনর্নির্মাণই করা হবে না। এ বিষয়ে পেন্টাগন এখনও স্পষ্ট কোনও সিদ্ধান্ত জানায়নি।
এপ্রিল মাসে পেন্টাগনের কম্পট্রোলার জুলস ‘জে’ হার্স্ট তৃতীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ঘাঁটি ও স্থাপনা মেরামতে কত ব্যয় হবে, তা তখনও পরিষ্কার ছিল না। তিনি বলেছিলেন, শুধু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবস্থান ভবিষ্যতে কেমন হবে, সেটিও মূল্যায়ন করতে হবে। পরে হার্স্ট বলেন, বিদেশে মার্কিন স্থাপনাগুলোর মোট ক্ষয়ক্ষতির কোনও চূড়ান্ত হিসাব তখনও পাওয়া যায়নি। এসব স্থাপনা কীভাবে পুনর্নির্মাণ করা হবে—অথবা আদৌ করা হবে কি না—তার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে।
পেন্টাগন তিনটি সূত্রের মতে, শীর্ষ কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে মার্কিন সেনার উপস্থিতি কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবে ওই অঞ্চলের নিরাপত্তার দায়িত্ব আরও বেশি করে আঞ্চলিক মিত্রদের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যে পুরোপুরি সামরিকভাবে সরে যাবে না; বরং তুলনামূলক কম সেনা রেখে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে।
তবে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ‘ফোর্স পোস্টার রিভিউ’ বা সামরিক অবস্থান পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং সামরিক বাহিনী ও সিআইএর বিভিন্ন অংশের কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্রুত পরিবর্তনশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতির জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন। একজন মার্কিন কর্মকর্তা আলোচনার ধরন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন—এটি কি ভবিষ্যৎ কোনও নির্দেশের প্রস্তুতি, নাকি সংঘাতের সম্ভাবনা মাথায় রেখে সামনের সারিতে সেনা ও সরঞ্জাম রাখা হচ্ছে?
মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরে আসার পুরোনো প্রতিশ্রুতি নতুন নয়। ৯/১১-এর পর প্রায় ২৫ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার অঞ্চলটি থেকে সামরিকভাবে সরে আসার পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু প্রতিবারই নতুন কোনও সংকট, যুদ্ধ বা নিরাপত্তা হুমকি ওয়াশিংটনকে আবারও মধ্যপ্রাচ্যে ফিরিয়ে এনেছে। ১৯৯৮ সাল থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৭ হাজার সক্রিয় সেনা মোতায়েন ছিল। ৯/১১-এর পর আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধ শুরু হলে সেই সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা আনুমানিক ২ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে এই সংখ্যা ওঠানামা করলেও কখনওই প্রায় ১ লাখের নিচে নামেনি।
ওবামার প্রত্যাহার, পরে আবার ফেরা
২০১১ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা আফগানিস্তান যুদ্ধের বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘যুদ্ধের জোয়ার কমে আসছে’। তিনি সেখানে মোতায়েন করা অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। তবে আফগানিস্তান থেকে পুরোপুরি মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করতে আরও এক দশক লেগে যায়। একই বছর ওবামা ইরাক থেকেও যুদ্ধরত মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করেন। কিন্তু পরে ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আবার ফিরিয়ে আনতে হয়। কারণ মার্কিন বাহিনীর শূন্যতার সুযোগে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থান ঘটে। ২০১১ সালের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনার সংখ্যা কমলেও তা সাধারণত ৩০ হাজার থেকে ৬০ হাজারের মধ্যে ছিল। একই সময়ে ইরান এবং ইরান-সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হুমকি মার্কিন নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে ছিল। ইরাকে এসব গোষ্ঠীর হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনাও নিহত হন।
ইরানের হামলায় বেড়েছে উদ্বেগ
বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা সেনা কমানোর বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনা করলেও ইরানের সঙ্গে সংঘাত অবসানের জন্য কোনও সমঝোতা এখনও হয়নি। ইরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে। সম্প্রতি জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মার্কিন স্থাপনায় হামলা হয়েছে বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সিআইএ’র একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইরানের হামলায় কার্যত ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছেন একজন মার্কিন কর্মকর্তা ও সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। এছাড়া বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।
স্থায়ী ঘাঁটির বদলে ‘মিশনভিত্তিক’ উপস্থিতি? সিআইএ এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী কমান্ডের কিছু কর্মকর্তা এখন প্রশ্ন তুলছেন—মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী ঘাঁটি রেখেই কি সব ধরনের সংবেদনশীল অভিযান পরিচালনা করতে হবে? বিকল্প হিসেবে এমন একটি ব্যবস্থার কথাও বিবেচনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় কর্মী ও সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রেই রাখা হবে। এরপর নির্দিষ্ট কোনও অভিযান বা মিশনের প্রয়োজন হলে সেগুলো মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে এবং কাজ শেষ হলে আবার দেশে ফিরিয়ে নেওয়া হবে। এতে স্থায়ী ঘাঁটির সংখ্যা ও সেখানে থাকা জনবল কমানোর পাশাপাশি ইরানি হামলার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা
তবে এসব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন অনেকটাই নির্ভর করছে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত কীভাবে শেষ হয় এবং ট্রাম্প প্রশাসন পরবর্তী মধ্যপ্রাচ্য নীতি কীভাবে নির্ধারণ করে তার ওপর। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বাড়িয়ে তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনের সম্ভাবনা সীমিত। এর পরিবর্তে ট্রাম্প অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন, যাতে ইরানের সরকারকে চাপে ফেলা যায়। কিন্তু এই কৌশল কতদিনে ফল দেবে, তার কোনও স্পষ্ট সময়সীমা নেই। অনেক বিশ্লেষকের ধারণা, ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব কয়েক মাসের অর্থনৈতিক চাপ সহ্য করতে প্রস্তুত এবং খুব শিগগির আত্মসমর্পণ বা বড় ধরনের ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা কম।
কিছু বড় ঘাঁটি থাকবে, তবে খরচ কে দেবে? পেন্টাগনের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বড় ও স্থায়ী সামরিক ঘাঁটি ভবিষ্যতেও রাখা হবে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত এসব ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলো কতটা অর্থ দিতে প্রস্তুত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একটি সূত্রের মতে, বেশির ভাগ বড় মার্কিন সামরিক স্থাপনা যে দেশগুলোতে রয়েছে, সেসব দেশই মূল নির্মাণ ব্যয়ের বড় অংশ বহন করেছিল। ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণেও আয়োজক দেশগুলোর আর্থিক অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
বাহরাইনে ফিরছে না মার্কিন নৌবাহিনী
স্বল্পমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সেনা ও ঘাঁটিগুলোর ওপর ইরানের হামলার ঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে। মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা গত সপ্তাহে জানিয়েছেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যদের ‘শিগগিরই’ ফেরানো হচ্ছে না। বাহরাইন ঐতিহ্যগতভাবে মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। মার্কিন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ড্যারিল কাউডল পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট করে বলেন, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর সদস্যরা ‘অদূর ভবিষ্যতে’ ফিরছেন না।
সব মিলিয়ে, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত শুধু মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্নই তুলছে না; বরং ৯/১১-এর পর গড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য কৌশলও নতুন করে পর্যালোচনার মুখে পড়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে ওয়াশিংটন কি সত্যিই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমাবে, নাকি নতুন কোনও সংকট আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে এই অঞ্চলে আরও গভীরভাবে টেনে নেবে—এখন সেটিই বড় প্রশ্ন। সূত্র:
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ