ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং বন্ধ, পর্যটকের মৃত্যুর পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত


কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং বন্ধ, পর্যটকের মৃত্যুর পর প্রশাসনের সিদ্ধান্ত

কক্সবাজার সৈকতে প্যারাসেইলিংয়ের সময় এক পর্যটকের মৃত্যুর কারণে সব ধরনের প্যারাসেইলিং কার্যক্রম বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সৈকতের সব পয়েন্টে প্যারাসেইলিং কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

দুর্ঘটনার পর প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গতকাল রোববার দুপুরে দরিয়ানগর প্যারাসেইলিং পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সন্ধ্যায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পরিচালিত ফ্রাই এয়ার সি স্পোর্টসের স্থাপনা ধ্বংস করা হয়। অভিযানে প্যারাসেইলিং সরঞ্জামও জব্দ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম জানান, অভিযানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয়টি স্পিডবোটের ইঞ্জিন, অ্যাসেম্বল ও ডিসঅ্যাসেম্বল করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও ছয় থেকে সাতটি জেরিক্যান ভর্তি জ্বালানি এবং বিভিন্ন স্পেয়ার পার্টসও জব্দ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

গত শনিবার বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে প্যারাসেইলিং করার সময় শৌভিক রয় নামে এক পর্যটক ছিটকে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর নিরাপত্তাহীন এ বিনোদন কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এদিকে, শৌভিক রয় নিহতের ঘটনায় রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় নিহতের বোন একটি মামলা দায়ের করেন।

পর্যটকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, আবহাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন, সরঞ্জামের নিয়মিত পরীক্ষা কিংবা জরুরি উদ্ধার প্রস্তুতি নিশ্চিত না করেই প্যারাসেইলিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। তাই শৌভিকের মৃত্যুর পর পর্যটকদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে।

জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান জানান, জেলা প্রশাসন প্যারাসেইলিং কার্যক্রমের অনুমোদন দেয়নি এবং ইতোমধ্যে মেরিন ড্রাইভের পাশে সব প্যারাসেইলিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নাসিরনগরে প্রবাসীর অর্থায়নে মসজিদে সুলাইমানের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


নাসিরনগরে প্রবাসীর অর্থায়নে মসজিদে সুলাইমানের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ এর অর্থায়নে নতুন মসজিদে সুলাইমান এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিব নামাজের পর গোকর্ণ দক্ষিণ বেড়িবাধ সংলগ্ন নতুন জামে মসজিদ নির্মাণ কাজের উদ্বোধন উপলক্ষে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের উপস্থিতিতে দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বরুনা মাদ্রাসার শায়খুল হাদিস মাওলানা মুফতি ওলিউর রহমান হামিদী বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে আকর্ষণীয় এ মসজিদে সুলাইমানের কাজ শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ নাসিরনগর আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এমএ হান্নান।

এ সময় এমপি বলেন, "জনসেবাকে ইবাদত মনে করে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। এই মসজিদ শুধু নামাজের জায়গা নয় বরং ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।" তিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী গোকর্ণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদের এই মহতী উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

মসজিদে সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা মালয়েশিয়া প্রবাসী হাফেজ হুসাইন আহমাদের সভাপতিত্বে হাফেজ মাওলানা খোবাইব আহমাদের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গোকর্ণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ শাহীন, মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মাওলানা আব্দুল আওয়াল, মাওলানা রায়হান আহমদ শরীফী, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি একে এম খালেদ। এ সময় হ‍্যালো সাইফুলের সত্ত্বাধিকারী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ এলাকার জনপ্রতিনিধি, আলেম উলামাগণ, মসজিদ নির্মাণ প্রকৌশলী, মসজিদে সুলাইমানের নিয়োগ প্রাপ্ত ইমাম ও খতিব এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, মসজিদে সুলাইমানের প্রতিষ্ঠাতা নাসিরনগর উপজেলার গোর্কণ গ্রামের কৃতি সন্তান হাফেজ হুসাইন আহমাদ মালয়েশিয়ায় শ্রমিক থেকে শিল্পপতি হয়েছেন। ২০০৮ সালে পিতার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে স্বচ্ছলতার আশায় কলিং ভিসায় গোকর্ণ গ্রামের যুবক হাফেজ হুসাইন আহমাদ পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। পবিত্র কোরআনের ৩০ পাড়া বুকে ধারন করে ও কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে প্রথম পেশা শুরু করেন মসজিদের ইমামতি। কিন্তু অদম্য হাফেজ হুসাইন মালয়েশিয়ায় গিয়ে প্রথমে কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কিছুদিন পর ব্যবসায় ইনভেস্ট করা শুরু করেন। তারপর কখনো হয়েছেন প্রতারণার শিকার, কখনো আবার প্রতিপক্ষের রেষামলে পড়ে হারিয়েছেন সর্বস্ব। এতদ সত্ত্বেও তিনি মনোবল হারান নি, বরং বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছেন দৃঢ়তার সাথে। হার না মানা অদম্য হুসাইন দীর্ঘ ১ যুগ পর আলোর দেখা পেয়ে কারখানার শ্রমিক থেকে আজ প্রতিষ্ঠিত হলেন শিল্পপতি হিসেবে। তিলে তিলে মালয়েশিয়ায় গড়ে তুলেন ৫ হাজার বাংলাদেশী রেমিট্যান্স যোদ্ধার কর্মসংস্থানের দৃষ্টান্ত “উই ওয়ান এগ্রো গ্রুপ অব কোম্পানি।” তিনি সেখান থেকে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে নিজ এলাকা গোর্কণে গড়ে তুলছেন মসজিদ মাদ্রাসাসহ সামাজিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান।

কওমি মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে হাফেজ হুসাইন আহমাদ এমন কিছু করার পরিকল্পনা করেছেন, যা শুধু দূনিয়াবী কাজে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে আখরাতের জন্যেও তার কৃত কর্মের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন বলে তিনি জানিয়েছেন। এতে ব্যয় হবে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। যা তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে মসজিদ সুলাইমান ও মাদ্রাসা কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোমনায় বিধবা নারীর জমি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


হোমনায় বিধবা নারীর জমি দখল ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

কুমিল্লার হোমনায় এক বিধবা ও অসহায় নারীর জমি জবরদখলের অপচেষ্টা, নির্যাতন ও জীবননাশের হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী নারী।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হোমনা পৌর সুপার মার্কেটের ৩য় তলায় এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী জলি বেগম (৫৯)। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার ছোট ছেলে মো. নূর-এ আলম।

সংবাদ সম্মেলনে জলি বেগম বলেন, তার স্বামী মৃত মোফাক্ষের আলী খান জীবিত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে দানপত্র দলিল (নং ৩৫৫৮/৯৬) এর মাধ্যমে চান্দেরচর মৌজার ১১ শতক জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করে দেন। তিনি উল্লেখ করেন, উক্ত জমিতে দোকানঘর নির্মাণ করে গত ৩০ বছর ধরে ভাড়া দিয়ে আসছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, স্বামীর প্রথম স্ত্রীর সন্তান নূর মোহাম্মদ জালিয়াতির মাধ্যমে জমিটি নিজের নামে রেকর্ড করিয়ে নেন। বিষয়টি জানার পর ২০২১ সালে জমিটির বিএস রেকর্ড সংশোধনের জন্য আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত উক্ত জায়গায় স্থিতাবস্থা রক্ষা ও ১৪৫ ধারা জারি করলেও প্রতিপক্ষ তা অমান্য করে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জলি বেগম আরও জানান, প্রতিপক্ষ নূর মোহাম্মদ ও তার সহযোগীরা পূর্বেও একাধিকবার তার ওপর হামলা চালিয়েছে। ২০১৯ সালে তাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাত ভেঙে দেওয়া হলে তিনি থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে ১ আগস্ট (২০২৬) সন্ধ্যায় চান্দেরচর চৌমুহনী বাজারে তার দোকানঘরের সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলা হয় এবং দোকানপাটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়েও তিনি হোমনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগী বিধবা নারী তার জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা রক্ষায় এবং আদালতের ১৪৫ ধারা বাস্তবায়নে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে নূর মোহাম্মদ তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "জলি বেগমের (সৎ মা) জমি হলো ১৬ দাগে, আর আমার জমি ১৫ দাগে। আমার বাবা জীবিত থাকা অবস্থাতেই এই জমি আমাকে দিয়ে গেছেন।" তিনি আরও জানান, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী, তার বাবা তার দাদার কাছ থেকে ১৬ দাগের জমি পান। পরবর্তীতে ১৯৯৫ ও ১৯৯৬ সালে তিনি তার ছোট মাকে দুটি দলিলের মাধ্যমে সেই জমি লিখে দেন; যার দলিল এখনো আছে।

অন্যদিকে, ১৫ দাগের জমিটি ১৯৮৩ সালে তার নানী (সাবেক ৫ দাগ থেকে) তাকে দেন। এরপর ১৯৮৮ সালে জমিটি তার নামে রেকর্ড হয়। তখন তিনি অষ্টম শ্রেণিতে পড়তেন এবং ছোট ছিলেন; তার বাবা তার নামে এই রেকর্ড করিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার শিক্ষক বাবা স্ট্রোক করে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তারা একের পর এক দলিল তৈরি করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুমিল্লা বারে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৭ পি.এম


কুমিল্লা বারে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তরের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির উদীয়মান আইনজীবী এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর এবং তাঁর পরিবারের ওপর সংঘটিত হত্যাচেষ্টামূলক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র প্রতিবাদে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণ উত্তাল হয়ে ওঠে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সামনে সাধারণ আইনজীবীদের উদ্যোগে এক বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে কুমিল্লা বারের নবীন ও প্রবীণ মিলিয়ে শতাধিক আইনজীবী অংশ নেন। প্রতিবাদী স্লোগান এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে উচ্চারিত কণ্ঠে আদালতপাড়া মুখর হয়ে ওঠে। বক্তারা উল্লেখ করেন, একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলা শুধুমাত্র একটি পরিবারের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং এটি বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং আইনজীবী সমাজের স্বাধীন পেশাগত দায়িত্ব পালনের ওপরও সরাসরি হুমকি।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মো. কাইমুল হক রিংকু, কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট মো. সহিদ উল্লাহ, সাবেক সভাপতি মো. শরীফুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল হক খন্দকারসহ বারের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন এডভোকেট মোহাম্মদ মোজাদ্দেদ হাসান আদনান।

বক্তারা বলেন, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাঁরা প্রশ্ন তোলেন, যদি একজন আইনজীবী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত থাকেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কীভাবে ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রাখবেন।

তারা আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায়, এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।

মানববন্ধন থেকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যের প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানানো হয়। তাঁরা অনুরোধ করেন, এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর ও তাঁর পরিবারের ওপর হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের পক্ষে যেন কোনো আইনজীবী মামলা পরিচালনা না করেন। এই আহ্বানের মাধ্যমে আইনজীবী সমাজের ঐক্য, পেশাগত মর্যাদা এবং সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সম্মিলিত অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন উপস্থিতরা।

আইনজীবীরা জানান, যদি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী সন্ত্রাস, সহিংসতা ও হত্যাচেষ্টার মাধ্যমে আইনজীবীদের ভয় দেখিয়ে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করতে চায়, তাহলে পুরো আইনজীবী সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তাঁরা স্পষ্ট ভাষায় জানান, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার স্বার্থে সন্ত্রাস ও সহিংসতার বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

শেষে বক্তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে এডভোকেট মিজানুর রহমান অন্তর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

মানববন্ধন শেষে উপস্থিত আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, আইনজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের প্রত্যয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা ও মূল্যবোধ চর্চায় সুনাগরিক হয়ে ওঠার তাগিদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৮:১৯ পি.এম


জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা ও মূল্যবোধ চর্চায় সুনাগরিক হয়ে ওঠার তাগিদ

জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক লায়ন আসলাম চৌধুরী এফসিএ। তিনি উল্লেখ করেন, শিক্ষাজীবনের উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পরীক্ষায় ভালো ফল অর্জন করা নয়; বরং অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দেশ ও সমাজের জন্য দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাটিয়ারী বিজয় সরণী কলেজে নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা এবং বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে একাদশ ও স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। একই সঙ্গে স্নাতক চতুর্থ বর্ষের কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মাননা স্মারক এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ও শিক্ষকরা প্রধান অতিথি আসলাম চৌধুরীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এরপর নবীন শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসলাম চৌধুরী বলেন, শিক্ষাজীবন ভবিষ্যৎ জীবনের ভিত্তি তৈরির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে নিয়মিত অধ্যয়নের পাশাপাশি সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, সততা ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা করতে হবে। শ্রেণিকক্ষের পাঠের পাশাপাশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হলে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা। একাডেমিক সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে মেডেল ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। নবীনদের বরণের একই আয়োজনে জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।

ভাটিয়ারী এলাকার শিক্ষার্থীদের উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতেও ‘বিজয় সরণী কলেজ, ভাটিয়ারী, চট্টগ্রাম’ নামে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখ রয়েছে। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্কাউট সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা, নবীন বরণ, সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%