০৫:৩১ পি.এম
জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হয় মধুমাস। নানা দেশি ফলের সরবরাহে এই মাসে পরিবেশ মধুময় হয়ে ওঠে। এবারের পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। যশোরের বাজারে বর্তমানে দেশি ফলের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বাজারে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, সফেদা, ডেঁয়ো ও তালের শাঁসের স্তূপ।
চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। কিন্তু মধুমাসের এই আনন্দের মধ্যে দাম নিয়ে ক্রেতাদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যদিও আমের দাম তুলনামূলকভাবে কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে, তবে লিচু, জাম, ডাব, ডেঁয়ো, লটকনসহ অন্যান্য অনেক ফলের দাম এখনও বেশ চড়া বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
যশোর শহরের মণিহার, চৌরাস্তা, দড়াটানা, রেলগেট, পালবাড়ি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিশেষ করে বিকেলের পর ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্রেতা একসঙ্গে একাধিক ধরনের ফল কিনে বাড়িতে ফিরছেন।
আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার রায় পেছাল, নতুন তারিখ বুধবার
বর্তমান সময়ে যশোরের বাজারে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোপালভোগ আমও ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং আম্রপালি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লিচু প্রতি শ ৩৬০ থেকে ৭০০ টাকা, কালোজাম ২০০ থেকে ২৪০ টাকা প্রতি কেজি, সবেদা ১২০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কলা প্রতি ডজন ৫০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ডাবের দাম প্রতিটি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, তরমুজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ডেঁয়ো ফল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি এবং লটকন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁঠাল আকারভেদে ১০০ টাকা থেকে ৫শ' টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তালের শাঁস প্রতিটি ৫ থেকে ১০ টাকায় পিস বিক্রি হতে দেখা গেছে।
দড়াটানা মোড়ের ফল বিক্রেতা কল্লোল হোসেন বলেন, এখন বাজারে দেশি ফলের সরবরাহ অনেক বেশি। হিমসাগর আম ৬০ টাকা, জাম ২০০ টাকা, ডেঁয়ো ১৬০ টাকা, লটকন ২০০ টাকা এবং বোম্বাই লিচু ৫০০ টাকা শ বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেক ফলের দাম কমেছে।
হাসপাতাল মোড়ের ফল ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, এখন দেশি ফলের ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিন প্রচুর আম, লিচু ও কাঁঠাল বাজারে আসছে। সরবরাহ বাড়ায় আমের দাম অনেকটা কমে গেছে। যদিও কিছু ফলের উৎপাদন কম থাকায় সেগুলোর দাম এখনও বেশি।
চৌরাস্তা মোড়ে ফল বিক্রেতা কাওছার আলী জানান, রাজশাহী ও দিনাজপুর থেকে প্রতিদিন লিচু আসছে। অন্তর্বর্তী হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ৬০ টাকা কেজিতে এবং বোম্বাই জাম ২০০ টাকা কেজিতে, লিচু ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা শত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার চাপও খুব বেশি।
আরও পড়ুন: নওগাঁর মান্দায় দুর্নীতির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত
মণিহার হলের কাছে ফল ব্যবসায়ী রোস্তম আলী বলেন, ঈদের পর ফলের বিক্রি বেড়েছে। মানুষ এখন ফল কিনছেন বেশি। আগের তুলনায় বিক্রি প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
মণিহার পাইকারি ফল মোকামের ব্যবসায়ী ও মেসার্স সিয়াম খন্দকার ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মিঠু খন্দকার জানান, বর্তমানে যশোরে প্রতি দিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক আম প্রবেশ করছে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ১০ থেকে ১২ টন আম আসে। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১২০ টন আম বাজারে আসছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কাঁঠাল, কয়েক লাখ লিচু এবং বিপুল পরিমাণ জাম, পেয়ারা, তরমুজ ও অন্যান্য ফল আসছে।
তিনি বলেন, আমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবারে দাম তুলনামূলক কম। তবে পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি, বাজার খাজনা এবং ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে অন্যান্য ফলের দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।
বাজারে ফলের প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট অনেক ক্রেতা। শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমের দাম কমেছে, এটা ভালো খবর। তবে একশ লিচু, এক কেজি জাম, দুটি ডাব, কিছু কলা আর কয়েক কেজি আম কিনতেই এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি অনেক টাকা।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করেছেন
মুজিব সড়ক এলাকার সেলিনা খাতুন বলেন, যেহেতু এখন মধুমাস চলছে, গরমে তরল খাবারের পাশাপাশি শিশুর জন্য ফল কিনতে হচ্ছে। কিন্তু লিচু, জাম ও ডাবের দাম এখনও অনেক বেশি। বাজারে এত ফল থাকার পরও সব ফল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই।
চৌরাস্তা বাজারে ফল কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমের বাজারে স্বস্তি এসেছে। তবে অন্য ফলের দাম কমেনি। আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ ফল পাওয়া যেত, এখন একই পরিমাণ কিনতে প্রায় দ্বিগুণ টাকা লাগছে।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, মৌসুমি ফলের বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যাতে কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধি না করতে পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কেউ অতিরিক্ত দাম আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: লোহাগড়ায় মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন