ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

মৌসুমি ফলের অভাব নেই বাজারে, দামে চড়া


মৌসুমি ফলের অভাব নেই বাজারে, দামে চড়া

জ্যৈষ্ঠ মাসকে বলা হয় মধুমাস। নানা দেশি ফলের সরবরাহে এই মাসে পরিবেশ মধুময় হয়ে ওঠে। এবারের পরিস্থিতিও তার ব্যতিক্রম নয়। যশোরের বাজারে বর্তমানে দেশি ফলের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বাজারে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, সফেদা, ডেঁয়ো ও তালের শাঁসের স্তূপ।

চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে পাকা ফলের মিষ্টি সুবাস। কিন্তু মধুমাসের এই আনন্দের মধ্যে দাম নিয়ে ক্রেতাদের রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। যদিও আমের দাম তুলনামূলকভাবে কমে সাধারণ মানুষের নাগালে এসেছে, তবে লিচু, জাম, ডাব, ডেঁয়ো, লটকনসহ অন্যান্য অনেক ফলের দাম এখনও বেশ চড়া বলে অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।

যশোর শহরের মণিহার, চৌরাস্তা, দড়াটানা, রেলগেট, পালবাড়ি, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকার ফলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিশেষ করে বিকেলের পর ফলের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের চাপ বৃদ্ধি পায়। অনেক ক্রেতা একসঙ্গে একাধিক ধরনের ফল কিনে বাড়িতে ফিরছেন।

আরও পড়ুন: কুবি শিক্ষার্থী সুমাইয়া হত্যা মামলার রায় পেছাল, নতুন তারিখ বুধবার

বর্তমান সময়ে যশোরের বাজারে হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গোপালভোগ আমও ৫০ থেকে ৬০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে এবং আম্রপালি ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া লিচু প্রতি শ ৩৬০ থেকে ৭০০ টাকা, কালোজাম ২০০ থেকে ২৪০ টাকা প্রতি কেজি, সবেদা ১২০ টাকা, পেয়ারা ১০০ থেকে ১২০ টাকা, পেঁপে ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কলা প্রতি ডজন ৫০ থেকে ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ডাবের দাম প্রতিটি ৮০ থেকে ১৫০ টাকা, তরমুজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ডেঁয়ো ফল ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি এবং লটকন ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁঠাল আকারভেদে ১০০ টাকা থেকে ৫শ' টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া তালের শাঁস প্রতিটি ৫ থেকে ১০ টাকায় পিস বিক্রি হতে দেখা গেছে।

দড়াটানা মোড়ের ফল বিক্রেতা কল্লোল হোসেন বলেন, এখন বাজারে দেশি ফলের সরবরাহ অনেক বেশি। হিমসাগর আম ৬০ টাকা, জাম ২০০ টাকা, ডেঁয়ো ১৬০ টাকা, লটকন ২০০ টাকা এবং বোম্বাই লিচু ৫০০ টাকা শ বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় অনেক ফলের দাম কমেছে।

হাসপাতাল মোড়ের ফল ব্যবসায়ী আফজাল হোসেন বলেন, এখন দেশি ফলের ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিন প্রচুর আম, লিচু ও কাঁঠাল বাজারে আসছে। সরবরাহ বাড়ায় আমের দাম অনেকটা কমে গেছে। যদিও কিছু ফলের উৎপাদন কম থাকায় সেগুলোর দাম এখনও বেশি।

চৌরাস্তা মোড়ে ফল বিক্রেতা কাওছার আলী জানান, রাজশাহী ও দিনাজপুর থেকে প্রতিদিন লিচু আসছে। অন্তর্বর্তী হিমসাগর ও ল্যাংড়া আম ৬০ টাকা কেজিতে এবং বোম্বাই জাম ২০০ টাকা কেজিতে, লিচু ৩৬০ থেকে ৪০০ টাকা শত বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতার চাপও খুব বেশি।

আরও পড়ুন: নওগাঁর মান্দায় দুর্নীতির অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম সাময়িক বরখাস্ত

মণিহার হলের কাছে ফল ব্যবসায়ী রোস্তম আলী বলেন, ঈদের পর ফলের বিক্রি বেড়েছে। মানুষ এখন ফল কিনছেন বেশি। আগের তুলনায় বিক্রি প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়েছে।

মণিহার পাইকারি ফল মোকামের ব্যবসায়ী ও মেসার্স সিয়াম খন্দকার ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী মিঠু খন্দকার জানান, বর্তমানে যশোরে প্রতি দিন ৮ থেকে ১০ ট্রাক আম প্রবেশ করছে। প্রতিটি ট্রাকে গড়ে ১০ থেকে ১২ টন আম আসে। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় ৮০ থেকে ১২০ টন আম বাজারে আসছে। এছাড়া প্রতিনিয়ত হাজার হাজার কাঁঠাল, কয়েক লাখ লিচু এবং বিপুল পরিমাণ জাম, পেয়ারা, তরমুজ ও অন্যান্য ফল আসছে।

তিনি বলেন, আমের উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবারে দাম তুলনামূলক কম। তবে পরিবহন খরচ, শ্রমিক মজুরি, বাজার খাজনা এবং ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে অন্যান্য ফলের দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।

বাজারে ফলের প্রচুর সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও দাম নিয়ে অসন্তুষ্ট অনেক ক্রেতা। শংকরপুর এলাকার বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমের দাম কমেছে, এটা ভালো খবর। তবে একশ লিচু, এক কেজি জাম, দুটি ডাব, কিছু কলা আর কয়েক কেজি আম কিনতেই এক হাজার ২০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা খরচ হয়ে যায়। মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি অনেক টাকা।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী খুলনায় নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস সিজন-২ উদ্বোধন করেছেন

মুজিব সড়ক এলাকার সেলিনা খাতুন বলেন, যেহেতু এখন মধুমাস চলছে, গরমে তরল খাবারের পাশাপাশি শিশুর জন্য ফল কিনতে হচ্ছে। কিন্তু লিচু, জাম ও ডাবের দাম এখনও অনেক বেশি। বাজারে এত ফল থাকার পরও সব ফল সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে নেই।

চৌরাস্তা বাজারে ফল কিনতে আসা জাহিদুল ইসলাম বলেন, আমের বাজারে স্বস্তি এসেছে। তবে অন্য ফলের দাম কমেনি। আগে ৫০০ টাকায় যে পরিমাণ ফল পাওয়া যেত, এখন একই পরিমাণ কিনতে প্রায় দ্বিগুণ টাকা লাগছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান জানান, মৌসুমি ফলের বাজার নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। যাতে কোনো ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বৃদ্ধি না করতে পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। কেউ অতিরিক্ত দাম আদায়ের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরও পড়ুন: লোহাগড়ায় মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশের বক্তব্য অন্য স্থান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩১ পি.এম


সিদ্ধিরগঞ্জে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশের বক্তব্য অন্য স্থান

কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে সিদ্ধিরগঞ্জে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের সহযোগী যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল করেছেন।

শুক্রবার (৫ জুন) সিদ্ধিরগঞ্জ থানা যুবলীগের ব্যানানে চিটাগাংরোড টু ডেমরা সড়কের গলাকাটা এলাকায় এ মিছিল হয়।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঝটিকা মিছিলটিতে অন্তত ১৮-২০ জনের এক গ্রুপকে আওয়ামী লীগ, শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। মিছিলকারীরা ডেমরা সংলগ্ন গলাকাটার দিক থেকে বিভিন্ন প্রতিবাদ স্লোগান দিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানাস্থ শিমরাইলের দিকে এগোতে দেখা যায়। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানা তাঁতি লীগের সভাপতি লিটন ওরফে গুজা লিটন ও সেচ্ছাসেবক লীগের জহিরুল ইসলাম।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানিয়েছেন, মিছিল সিদ্ধিরগঞ্জ অংশে হয়নি।

তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখেছি মিছিল সিদ্বিরগঞ্জ এরিয়ায় হয়নি। এ এলাকায় মিছিল করার কোনো সুযোগ নেই। মিছিল করার মতো দুঃসাহস দেখানোর সুযোগ দেওয়া হবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মসজিদে নববীর হাজার বছরের স্থাপত্য-প্রদর্শনী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩২ পি.এম


মসজিদে নববীর হাজার বছরের স্থাপত্য-প্রদর্শনী

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মদিনা মুনাওয়ারার গৌরবময় ইতিহাস, স্থাপত্যিক বিবর্তন এবং যুগে যুগের তার সম্প্রসারণের অসাধারণ কাহিনি এখন জীবন্ত হয়ে উঠেছে এক অনন্য প্রদর্শনীতে। মসজিদে নববীর স্থাপত্য প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের উপহার দিচ্ছে ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এক ব্যতিক্রমধর্মী ইন্টারেক্টিভ অভিজ্ঞতা।

মসজিদে নববীর দক্ষিণ প্রাঙ্গণে অবস্থিত এই প্রদর্শনীতে প্রবেশ করলেই দর্শনার্থীরা যেন ফিরে যান ইসলামের স্বর্ণালি অতীতে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ইন্টারেক্টিভ স্ক্রিনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন মসজিদে নববীর প্রতিষ্ঠাকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এর দীর্ঘ ইতিহাস, বিভিন্ন খিলাফত ও ইসলামী যুগে সংঘটিত সম্প্রসারণ এবং স্থাপত্যিক উন্নয়নের ধারাবাহিক বিবরণ।

প্রদর্শনীর অন্যতম আকর্ষণ হলো, এর উন্নতমানের ডিজিটাল উপস্থাপনা। এখানে দর্শনার্থীরা স্পর্শনির্ভর পর্দার মাধ্যমে মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য বৈশিষ্ট্য, নকশাগত পরিবর্তন এবং বিভিন্ন যুগে সংযোজিত অংশগুলোর বিস্তারিত তথ্য সহজেই অন্বেষণ করতে পারেন।

ফলে ইতিহাস জানার পাশাপাশি তারা এক বাস্তবধর্মী ও প্রাণবন্ত অভিজ্ঞতার স্বাদ পান।

এ ছাড়া প্রদর্শনীতে সংরক্ষিত রয়েছে বহু মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন, যা মসজিদে নববীর স্থাপত্যিক যাত্রার বিভিন্ন অধ্যায়কে সাক্ষ্য দেয়। বিশেষ প্রদর্শনী হলে রাখা এসব নিদর্শন যুগে যুগে সংঘটিত সংস্কার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করছে। দর্শনার্থীদের জন্য আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে এখানে স্থাপন করা হয়েছে বিভিন্ন ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) মডেল, যেসব মডেলের মাধ্যমে মসজিদের ক্রমবিকাশের চিত্র স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়।

মসজিদে নববীর ৩০৮ ও ৩০৯ নম্বর গেটের নিকটবর্তী দক্ষিণ প্রবেশপথে অবস্থিত এই প্রদর্শনী প্রতিদিন দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। দেশ-বিদেশের হাজারো মুসল্লি ও পর্যটক এখানে এসে ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং স্থাপত্যিক সৌন্দর্য সম্পর্কে সমৃদ্ধ জ্ঞানার্জন করছেন। ইতিহাস, স্থাপত্য ও প্রযুক্তির অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই প্রদর্শনী শুধুমাত্র একটি প্রদর্শনী নয়; বরং এটি মসজিদে নববীর গৌরবময় অতীতকে নতুন প্রজন্মের সামনে জীবন্ত করে তোলার এক অনন্য প্রয়াস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নতুন ভিডিও প্রকাশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৬ পি.এম


ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নতুন ভিডিও প্রকাশ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে আগুন লাগার ঘটনায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সরকারের প্রাথমিক বর্ণনার চেয়ে বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএনএনের হাতে আসা নতুন ভিডিওতে ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটে গত মার্চে, যখন ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এবং সংঘাত চলছিল। যদিও তখন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আগুন লাগার ঘটনাটিকে তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে।

নতুন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রণতরির ভেতরের নাবিকদের থাকার জায়গা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শোয়ার খাটগুলো পুড়ে কালো হয়ে গেছে এবং অনেক জায়গায় তা বাঁকানো ধাতবে পরিণত হয়েছে।

ছাদ ও উপরের অংশ আগুনে প্রায় সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও ভিডিওতে ফুটে উঠেছে। ছাদের ভেতর থেকে খোলা তার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে এবং পুরো এলাকায় ছাই ও পোড়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাহাজে থাকা এক নাবিক জানান, আগুন নেভানোর সময় তারা সত্যিই ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন যে পুরো রণতরিটি হারিয়ে যেতে পারে। তিনি বলেন, 'আমি সত্যিই মনে করেছিলাম আমরা জাহাজটি হারাতে যাচ্ছি। তখন মনে হয়েছিল, হয় লড়তে হবে, না হলে মরতে হবে।'

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে, ক্ষয়ক্ষতি সামাল দিতে এবং পুনরায় আগুন লাগা ঠেকাতে জাহাজের কর্মীদের প্রায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগেছিল।

এই ঘটনায় প্রায় ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা ব্যবহার করতে পারেননি বলে জানা গেছে। এতে জাহাজের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।

আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এবং এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে যে তারা ওই বিমানবাহী রণতরিতে হামলা চালিয়েছিল। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশিত হয়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৩৯ পি.এম


রোহিঙ্গাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যা

কক্সবাজারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মধ্যে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে বলে এক গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘রিসার্চ টু প্র্যাকটিস: এভিডেন্স-বেসড অ্যাপ্রোচেস টু ফ্যাসিলিটেট বিহেভিয়ার চেঞ্জ’ শীর্ষক একটি গবেষণা ফলাফল প্রকাশনা কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

গবেষণাটি ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির ব্র্যাক জেমস পি. গ্র্যান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথ (জেপিজিএসপিএইচ), বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (বিডিআরসিএস) এবং সুইস রেড ক্রসের (এসআরসি) যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয়।

গবেষণাটি ক্যাম্প ২-ইস্ট এবং ক্যাম্প ১৩-এ কম-বি ফ্রেমওয়ার্কের ওপর ভিত্তি করে প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব এবং পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জ্ঞান, দৃষ্টিভঙ্গি, সদিচ্ছা ও চর্চার পরিবর্তনসমূহ মূল্যায়ন করা হয়। মাতৃস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রকল্পভুক্ত এলাকাগুলোতে দক্ষ প্রসব সহায়তাকারীদের বিষয়ে সচেতনতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি, সন্তান প্রসবের জন্য বাড়িই সবচেয়ে নিরাপদ স্থান—এমন সনাতন ধারণাও উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে। ফলশ্রুতিতে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের সদিচ্ছা যেমন প্রবল ছিল, তেমনি গবেষণাকালীন সময়ে প্রকৃত প্রাতিষ্ঠানিক প্রসবের হারেও দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া, সন্তান প্রসবের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারীরা নিজেদের জোরালো ভূমিকার কথাও জানিয়েছেন।

গবেষণায় পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তনের চিত্র উঠে এসেছে। তুলনামূলক অন্যান্য এলাকায় জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার কমলেও, প্রকল্পভুক্ত এলাকাগুলোতে এর হার ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির বিষয়ে পুরুষদের সচেতনতা ও সম্মতি বৃদ্ধি এবং সামগ্রিকভাবে কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রমের প্রসার এই ইতিবাচক ধারাকে ত্বরান্বিত করেছে। নারী ও পুরুষ উভয়েই কমিউনিটি স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবকদের পরিবার পরিকল্পনার তথ্যের প্রধান ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা মূলত স্থানীয় পর্যায়ে সমমনাদের মাধ্যমে পরিচালিত প্রচারণার গভীর প্রভাবকেই প্রমাণ করে।

এই আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি সত্ত্বেও গবেষণায় বেশ কিছু চলমান সামাজিক-সাংস্কৃতিক এবং কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা এখনও স্বাস্থ্যসেবার সর্বোত্তম ব্যবহারকে বাধাগ্রস্ত করছে। পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহার না করার পেছনে ধর্মীয় কারণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে। অন্যদিকে গুণগত উপাত্ত থেকে দেখা গেছে যে, পর্দা প্রথা, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সন্তান প্রসবের সময় পুরুষ চিকিৎসকদের উপস্থিতির বিষয়ে দ্বিধাবোধের মতো গভীর সামাজিক-সাংস্কৃতিক রীতিনীতি এখনও প্রবল। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, পরিবহন সংকট, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়, ওষুধের ঘাটতি, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা এবং সেবাদানকারীদের আচরণের মতো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জসমূহ।

এসব দীর্ঘস্থায়ী বাধাগুলো কাটিয়ে ওঠার জন্য গবেষণায় কমিউনিটি স্বাস্থ্য স্বেচ্ছাসেবক এবং ধর্মীয় নেতাদের ইতিবাচক আচরণগত পরিবর্তনের মূল অনুঘটক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। স্বামী, ইমাম এবং স্থানীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করে বিশেষ সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ—যার পাশাপাশি নিয়মিত গৃহ পরিদর্শন, প্রসূতি সহায়তা প্যাকেজ (মামা কিট) বিতরণ, গর্ভবতী নারীদের জন্য কমিউনিটি পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সফল প্রসবের ইতিবাচক অভিজ্ঞতাগুলো সবার সঙ্গে বিনিময় করার মতো পদক্ষেপগুলো এই পরিবর্তনের পথে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বিডিআরসিএস-এর সেক্রেটারি জেনারেল ড. কবির মো. আশরাফ আলম, এনডিসি সংকটাপন্ন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিল সামাজিক বাস্তবতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মানবিক বিপর্যয়পূর্ণ পরিবেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের আচরণ মূলত সামাজিক রীতিনীতি, সাংস্কৃতিক বিশ্বাস, ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি, পারিবারিক গতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা এবং সেবাপ্রাপ্তির চ্যালেঞ্জগুলোর একটি জটিল সংমিশ্রণ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। তিনি ব্যক্ত করেন, বিডিআরসিএস প্রমাণ-ভিত্তিক কর্মসূচি প্রণয়ন এবং সরাসরি জনমানুষের কাছ থেকে শেখার বিষয়ে গভীরভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গবেষণা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কর্মসূচির মানোন্নয়ন এবং সেবাগ্রহীতাদের বাস্তব জীবনের ইতিবাচক পরিবর্তনে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখবে।

বাংলাদেশে সুইস রেড ক্রসের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ পল ড্রসো এই পদ্ধতির কার্যকারিতার সম্পর্কে বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কম-বি মডেলের প্রয়োগ থেকে এটি স্পষ্ট যে—সক্ষমতা, সুযোগ এবং প্রেরণা যখন একসঙ্গে জোরদার করা হয়, তখন প্রতিবন্ধকতাগুলোকেও ক্ষমতায়ন ও ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তিতে রূপান্তর করা সম্ভব।

কর্মশালার সমাপনী অংশে বলা হয়, এই গবেষণা থেকে প্রাপ্ত ধারণাগুলোর পরিধি কেবল স্বাস্থ্য খাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বক্তারা জানান, এই ফ্রেমওয়ার্ক থেকে প্রাপ্ত আচরণগত ধারণাগুলো মানবিক সহায়তার অন্যান্য খাত—যেমন ওয়াশ কর্মসূচিতে হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা, পুষ্টি এবং সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমে কমিউনিটির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ কর্মসূচির জন্য একটি টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করে যে, মানুষের আচরণকে বুঝতে পারাই যেকোনো কর্মসূচির সফলতার মূল চাবিকাঠি।

এই গবেষণা এবং ফলাফল প্রকাশনা অনুষ্ঠানের জন্য স্ট্যানলি জনসন ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে অর্থায়ন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে সরকারি সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী, মানবিক সহায়তা সংস্থা, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট মুভমেন্ট এবং বিভিন্ন একাডেমিক ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিডিআরসিএস-এর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল মেজর রেজা আহমেদ চৌধুরী, পিএসসি, সিপিপি (অব.); দুর্যোগ সাড়াদান ও মানবসম্পদ (অতিরিক্ত) বিভাগের পরিচালক জয়নাল আবেদীন; হেড অব অপারেশনস-পিএমও-এর পরিচালক আকরাম আলী খান; দুর্যোগ ও জলবায়ু ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক মো. রেজাউল করিম; আইআর ও কমিউনিকেশন এবং ফান্ড রাইজিং (অতিরিক্ত) বিভাগের পরিচালক আরিফা মেহেরা সিনহা; এবং প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. এস এম হুমায়ুন কবির (অব.)।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%