বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:২০ পি.এম
আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ অথবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করার সুযোগ নেই, এমন যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কোনো পরিস্থিতিতেই মা-বাবার তালাকের বিরোধের ওপর নির্ভর করে না; এটি শিশুর একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।
বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ সম্প্রতি এই রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে বিবাহ হয়। পরবর্তীতে, স্ত্রী ও তাদের নাবালক কন্যা সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হয়। স্বামী দাবী করেন যে, তিনি আগে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। কিন্তু ফ্যামিলি কোর্টে তিনি আইন অনুযায়ী সেই তালাকের প্রমাণ দিতে পারেননি। ফলে আদালত স্ত্রী এবং সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন। পরে স্বামী নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা দায়ের করে দাবি করেন যে তালাক কার্যকর হয়েছে এবং এই মামলার অজুহাতে ভরণপোষণের ডিক্রির এক্সিকিউশন স্থগিত করার আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদনটি খারিজ করলে বিষয়টি হাইকোর্টে আসে।
রায়ে কি বলেছেন হাইকোর্ট
হাইকোর্ট রায়ে বলেন, শুধু একটি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেই পূর্বে প্রদত্ত চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোন সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত সেটি কার্যকর থাকবে, এবং এক্সিকিউশন কোর্টকে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আদালত আরো বলেন, যে তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় বা কার্যকর নয়, সেই তালাকের কোন আইনগত কার্যকারিতা নেই। এমন তালাক বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটায় না এবং ভরণপোষণ বা দেনমোহরের ডিক্রি বাস্তবায়নের পথে কোন আইনি বাধাও সৃষ্টি করতে পারে না।
ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ার পুনর্ব্যক্ত
রায়ে আদালত পরিষ্কারভাবে বলেছেন যে, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ এবং বৈবাহিক অধিকার সম্পর্কিত বিরোধ নিষ্পত্তির একমাত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের।
নাবালক সন্তানের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
হাইকোর্টের রায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের বিষয়টি। হাইকোর্ট বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার একটি স্বাধীন ও স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না। বাবা শুধুমাত্র তালাকের বিরোধের অজুহাতে সন্তানের ভরণপোষণের দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।
আরও পড়ুন: পিতা-মাতার ভরণপোষণ না করলে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ৩ মাসের কারাদণ্ড
রায়ে আরো উল্লেখ করা হয়, এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব কেবল বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা। তারা নতুন করে তালাক বৈধ কি না অথবা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না, এসব প্রশ্ন বিচার করতে পারে না। ডিক্রির বাইরে গিয়ে নতুন বিরোধ নিষ্পত্তি করার কোন এখতিয়ার তাদের নেই।
অকার্যকর তালাক নতুন তালাকের পথে বাধা নয়
আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেছেন, যদি পূর্বে দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর প্রমাণিত হয় এবং স্বামী সত্যিই বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তাহলে আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দেয়ার সুযোগ তার রয়েছে। তবে সেই সম্ভাবনা পূর্বে প্রদত্ত ডিক্রির অধীনে সৃষ্ট দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে তাকে মুক্তি দেয় না।
চূড়ান্ত আদেশ
হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখে। একই সঙ্গে আদালত স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া এবং স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের সকল বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
রায়ের তাৎপর্য
এই রায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে আরো সুদৃঢ় করেছে—তালাকের আইনগত কার্যকারিতা অবশ্যই আইন অনুযায়ী প্রমাণিত হতে হবে; নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন অধিকার; এবং নতুন মামলা দায়ের করে কোন চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বিলম্বিত বা বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। ফলে পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং নারী ও শিশুর আইনগত অধিকার সুরক্ষায় এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।
আদালতে স্বামীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. শহিদুল ইসলাম এবং স্ত্রীর পক্ষে শুনানী করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। তাকে সহযোগিতা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তানজিলা রহমান ও ইফাত হাসান শাম্মি।
আইনজীবী ইশরাত হাসান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই রায়টি পারিবারিক আইনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাইকোর্ট স্পষ্ট বলেছেন যে, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী বা নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ এড়ানো যাবে না। পাশাপাশি আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ একটি স্বাধীন আইনগত অধিকার এবং বিবাহ, তালাক ও ভরণপোষণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একচ্ছত্র এখতিয়ার ফ্যামিলি কোর্টের। আমি বিশ্বাস করি, এই রায় নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
এইএসসি ও সমমান পরীক্ষা নিয়ে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, একটি গোষ্ঠী ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে পুলিশের প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতির অনুষ্ঠান চলাকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সরকারকে বিব্রত করতে চায়, এমন একটি গোষ্ঠী রয়েছে- যারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ওইদিন পরীক্ষা নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা দিতে না পারলে, সেটা পুনরায় নেওয়া হবে। ভুল প্রশ্নের জন্য তদন্ত হবে, এবং দায়ীদের প্রতি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তে পরীক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট।’
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ‘এসব বিষয়ে এত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছি না। যারা এসব নিয়ে কথাবার্তা বলছেন, তারা সংখ্যায় খুব বেশি নয়। সরকার এসব বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সে সময় সচিবালয়ে ঢুকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে পরীক্ষা স্থগিত করা, বিনা পরীক্ষায় পাশের মতো ঘটনার মুখোমুখি হয়েছিল। তখন সরকার বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নিতে চাই। দেশের শিক্ষার মান নিচে নেমে গিয়েছিল। সেক্ষেত্রে নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা নেয়া এবং শিক্ষার মান উন্নত করতে চাই।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারের পেকুয়ার মেহেরনামা মুরাপাড়া শহীদ ওয়াসিমের সমাধিস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক।
এ সময় ইশরাক বলেন, ‘আমি জুলাই অভ্যুত্থানের একজন কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন রাজপথের যোদ্ধা হিসেবে চাই-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা এবং গত ১৭ বছরে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
ইশরাক আরও বলেন, ‘বিচার শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে আমি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলব এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে আমরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলাম। আজও সেই আন্দোলনের লাখো-কোটি মানুষ জীবিত আছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের জনগণ প্রয়োজনে আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ ছয়জন শহীদ হন।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন-অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে পিছু হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের আত্মত্যাগসহ দুই হাজারের বেশি শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে।’
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহীদ ওয়াসিমসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই একটি সাম্য, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে নাসির উদ্দীন।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই দিনে আমার ছেলে চট্টগ্রামের রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে। দুই বছর পার হয়ে গেলেও আমরা এখনো বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। তবে আমরা আশাবাদী, এই সরকার আমাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমার সন্তানসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে-যারা নির্দেশ দিয়েছে, যারা গুলি চালিয়েছে এবং যারা সহযোগিতা করেছে—প্রত্যেকের সমান বিচার হতে হবে। শুধু একজনের বিচার হলে হবে না, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো বেঁচে আছি। আমাদের সন্তানদের রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচারের দাবি থেকে সরে যাব না। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আর মানুষের ওপর এমন নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়।’
পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আর্থিক সহায়তা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে যশোরের শার্শায় শহীদ আব্দুল্লাহর কবর জিয়ারত, দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান। সেখানে তাঁর কবর জিয়ারত করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী শহীদদের স্মরণে কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, স্মরণসভা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এসব আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকার বংশালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ। ওই সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়।
এদিকে, জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে জুলাই শহীদ দিবস নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার মাধ্যমে এই দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। ওই র্যালিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং অন্যান্য শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রথমে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ দলটির নেতাকর্মীরা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া এনসিপির যশোর জেলা সমন্বয়কারী নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে ওই দলের নেতাকর্মীরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সময়ক্রমে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ