বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:২৮ পি.এম
জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহীদ মোহাম্মদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় কক্সবাজারের পেকুয়ার মেহেরনামা মুরাপাড়া শহীদ ওয়াসিমের সমাধিস্থল পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক।
এ সময় ইশরাক বলেন, ‘আমি জুলাই অভ্যুত্থানের একজন কর্মী এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের একজন রাজপথের যোদ্ধা হিসেবে চাই-জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যা এবং গত ১৭ বছরে সংঘটিত গুম, খুন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি, নির্দেশদাতা ও সহযোগীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হোক।’
ইশরাক আরও বলেন, ‘বিচার শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে আমি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কথা বলব এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাব।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার কোনো অপচেষ্টা সফল হতে দেয়া হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের আন্দোলনে আমরা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলাম। আজও সেই আন্দোলনের লাখো-কোটি মানুষ জীবিত আছে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ। বাংলাদেশের জনগণ প্রয়োজনে আবারও প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।’
এ সময় প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ও শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম।
ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন বলেন, ‘২০২৪ সালের ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের, বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে আন্দোলন শুরু হয়। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবু সাঈদ এবং চট্টগ্রামের ওয়াসিমসহ ছয়জন শহীদ হন।’
তিনি আরো বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের এই শহীদরা আমাদের পথ দেখিয়েছেন-অন্যায় ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম থেকে পিছু হাঁটার কোনো সুযোগ নেই। আবু সাঈদ ও ওয়াসিমের আত্মত্যাগসহ দুই হাজারের বেশি শহীদের রক্তের বিনিময়ে যে পরিবর্তন এসেছে, তার প্রকৃত মূল্যায়ন হবে সব হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে।’
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘আমরা চাই জুলাই-আগস্টের গণহত্যার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হোক। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে শহীদ ওয়াসিমসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরেই একটি সাম্য, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে নাসির উদ্দীন।
শহীদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলম বলেন, ‘দুই বছর আগে আজকের এই দিনে আমার ছেলে চট্টগ্রামের রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়েছে। দুই বছর পার হয়ে গেলেও আমরা এখনো বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। তবে আমরা আশাবাদী, এই সরকার আমাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমার সন্তানসহ অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে-যারা নির্দেশ দিয়েছে, যারা গুলি চালিয়েছে এবং যারা সহযোগিতা করেছে—প্রত্যেকের সমান বিচার হতে হবে। শুধু একজনের বিচার হলে হবে না, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা শহীদ পরিবারের সদস্যরা এখনো বেঁচে আছি। আমাদের সন্তানদের রক্তের বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমরা ন্যায়বিচারের দাবি থেকে সরে যাব না। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যেন কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি আর মানুষের ওপর এমন নির্যাতন চালানোর সাহস না পায়।’
পরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন শহীদ ওয়াসিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং আর্থিক সহায়তা দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঐতিহাসিক জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে যশোরের শার্শায় শহীদ আব্দুল্লাহর কবর জিয়ারত, দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদের নেতৃত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ শহীদ আব্দুল্লাহর বাড়িতে যান। সেখানে তাঁর কবর জিয়ারত করে আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে দেশব্যাপী শহীদদের স্মরণে কবর জিয়ারত, আলোচনা সভা, স্মরণসভা, দোয়া মাহফিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এসব আয়োজনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকার বংশালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের অভিযান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ। ওই সময় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে আরও বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ হারায়।
এদিকে, জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি তাদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যশোরে জুলাই শহীদ দিবস নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে।
র্যালি, স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, আলোচনা সভা এবং বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনার মাধ্যমে এই দিবসটি উদ্যাপন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। ওই র্যালিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং অন্যান্য শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
র্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বকুলতলায় অবস্থিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রথমে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
পরে পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনসহ দলটির নেতাকর্মীরা স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া এনসিপির যশোর জেলা সমন্বয়কারী নূরুজ্জামানের নেতৃত্বে ওই দলের নেতাকর্মীরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সময়ক্রমে স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি সম্মান জানান।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে শহীদদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নীলফামারীর ডিমলায় বিয়ের মাত্র একদিন পর আব্দুল মালেক (২৫) নামে এক যুবক মসজিদের ভেতর আত্মহত্যা করেছেন। তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে গিয়ে নিহতের মামা আহিদুল ইসলাম (৪০) অসুস্থ হয়ে মারা যান। বুধবার (১৫ জুলাই) রাতের দিকে উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের মুনাকাশা কাকড়া চৌপতি জামে মসজিদে মরদেহটি পাওয়া যায়। আব্দুল মালেক ওই এলাকার মুনাকাশা গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আব্দুল মালেকের বিয়ে হয়। পরে বুধবার মধ্যরাতে স্থানীয় মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরের ছাদের কাঠামোর সঙ্গে তাকে গলায় রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে ডিমলা থানা পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
ভাগনের এমন মৃত্যুর খবর শোনার পর আহিদুল ইসলাম স্তব্ধ হয়ে যান। পরে মরদেহ দেখতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে মারা যান।
ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী গণমাধ্যমে জানান, বিয়ের মাত্র একদিন পর মালেক আত্মহত্যা করেছেন। একই সাথে ভাগনের মৃত্যুর শোকে মামা আহিদুল ইসলামের মৃত্যু ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই জোড়া মৃত্যুর কারণে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মুয়াজ্জিনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নীলফামারী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলার প্রস্তুতি চলছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় অভিযান চালিয়ে কম্বোডিয়ায় মানব পাচার চক্রের মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)’র কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর বনশ্রী-সংলগ্ন আফতাবনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. মাহাফুজ উল্লাহ সিদ্দিকী (৪০) নামে পাচার চক্রের ওই হোতাকে গ্রেফতার করা হয়।
আজ ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত মাহাফুজ উল্লাহ সিদ্দিকী বিমানবন্দর থানার মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশে দায়েরকৃত মামলার এজাহারনামীয় আসামি।
মাহাফুজ উল্লাহ কম্বোডিয়ায় মানব পাচার চক্রের অন্যতম মূল হোতা বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়।
গ্রেফতারকৃতের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ