ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই ভাইকিংরা আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন


কলম্বাসের ৫০০ বছর আগেই ভাইকিংরা আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন

আমেরিকা আবিষ্কারের প্রসঙ্গে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের নাম সবার আগে মনে আসে। ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর তিনি বাহামা দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছান। তবে, তার আগেই প্রায় ৫০০ বছর আগে ইউরোপের একদল নাবিক উত্তর আমেরিকার মাটিতে পা রেখেছিলেন। তারা ছিলেন ভাইকিং, যাদের নরস নামেও অভিহিত করা হয়।

ভাইকিং নামটি অনেকের কাছে পরিচিত হলেও, তারা আসলে কারা? অষ্টম থেকে একাদশ শতক পর্যন্ত ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন স্ক্যান্ডিনেভিয়ার নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের নাবিক ও যোদ্ধারা, যাদের ভাইকিং বলা হয়।

জীবিকার সন্ধানে এবং সম্পদ অর্জনের আশায় তারা সমুদ্রপথে বিশাল দূরত্ব পাড়ি দিয়ে বিভিন্ন দেশে অভিযান চালাতেন। উন্নত জাহাজ নির্মাণ ও সমুদ্রযাত্রায় দক্ষতার কারণে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জসহ ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা ও লুটপাট চালাত তারা। তাদের যুদ্ধজাহাজ ‘ল্যাংস্কিপ’ ছিল দ্রুতগতির এবং অভিযানের জন্য উপযোগী।

আরও পড়ুন: ফ্রান্সের শাতো দ্য শঁতিলি জাদুঘরে ১০০ বছর পর প্রদর্শিত হবে বিরল গোলাপি হীরা

তবে ভাইকিংরা শুধুমাত্র যোদ্ধা বা লুটেরাই ছিলেন না, তারা নতুন ভূখণ্ডও অনুসন্ধান করেছিলেন। প্রায় এক হাজার বছর আগে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে তারা বর্তমান কানাডায় পৌঁছান। সেখানে তারা নিউফাউন্ডল্যান্ডে অস্থায়ী বসতি গড়ে আশপাশের অঞ্চল অনুসন্ধান করেন। তাদের এই অভিযানের কথা বহু বছর ধরে লোককাহিনি ও গাথায় টিকে ছিল। পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে ইউরোপীয়দের আমেরিকায় পৌঁছানোর সেই বিস্মৃত ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। ১৯৬০ সালে কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ডে ‘ল’আঁস ও মেদো’ নামক স্থানে ভাইকিংদের পুরোনো শিবিরের সন্ধান পান গবেষকেরা। পরবর্তীতে প্রত্নতাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, প্রায় এক হাজার বছর আগে সেখানে তাদের অবস্থান ছিল। ধারণা করা হয়, উত্তর আমেরিকার আরও ভেতরের অঞ্চল অনুসন্ধানের জন্য জায়গাটিকে ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন ভাইকিংরা।

২০২১ সালে নতুন পদ্ধতিতে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা তাদের সেখানে থাকার সময় সম্পর্কে আরো নির্দিষ্ট তথ্য পান। এতে ভাইকিংদের আমেরিকা অভিযানের ইতিহাস নতুন করে গুরুত্ব পায়। ভাইকিংদের আমেরিকা যাত্রা একবারে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে হয়নি। তারা পথে কয়েকটি অঞ্চলে থেমে ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে এগিয়ে যান।

প্রায় ৮৭০ খ্রিস্টাব্দে তারা আইসল্যান্ডে পৌঁছান। এর প্রায় এক শতাব্দী পর গ্রিনল্যান্ডে বসতি গড়ে তোলেন। এরপর সেখান থেকে তারা বর্তমান কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে যাওয়ার পথ খুঁজে পান। প্রথমে তারা বাফিন দ্বীপে পৌঁছান, যার নাম তারা দিয়েছিলেন ‘হেলুল্যান্ড’, অর্থাৎ পাথুরে সমতল ভূমি। এরপর দক্ষিণে ল্যাব্রাডর অঞ্চলে গিয়ে নাম দেন ‘মার্কল্যান্ড’, অর্থাৎ বনের দেশ।

আরও পড়ুন: গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধের আহ্বান আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালকের

পরে আরো দক্ষিণে পৌঁছে একটি অঞ্চলের নাম রাখেন ‘ভিনল্যান্ড’। এর অর্থ আঙুরলতার দেশ। ভাইকিংদের এসব অভিযানের বিবরণ পাওয়া যায় নরস গাথায়। তাদের বংশধরেরা এসব কাহিনি লিখে রেখেছিলেন। একসময় এগুলোকে মহাকাব্যিক গল্প বলে মনে করা হলেও, বর্তমানে এসব গাথার অনেক তথ্যের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণের মিল পাওয়া গেছে।

ভাইকিংদের সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে এরিক দ্য রেডের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গাথা অনুযায়ী, তিনি নরওয়ে থেকে আইসল্যান্ডে এসেছিলেন। পরে ৯৮২ খ্রিস্টাব্দে এক প্রতিবেশী কৃষকের সঙ্গে বিরোধের কারণে তাকে আইসল্যান্ড থেকে নির্বাসিত করা হয়। এই নির্বাসনই তার জীবনের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। তিনি গ্রিনল্যান্ডে যান এবং সেখানে স্থায়ী বসতি গড়ে তোলেন। তার প্রতিষ্ঠিত বসতি প্রায় ৫০০ বছর টিকে ছিল।

পরবর্তী সময়ে গ্রিনল্যান্ড হয়ে ওঠে উত্তর আমেরিকা অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি। এরিক দ্য রেডের ছেলে লেইফ এরিকসনের নেতৃত্বে ভাইকিংরা সেখান থেকে উত্তর আমেরিকার দিকে সমুদ্রযাত্রা করেন বলে ঐতিহাসিক গাথায় উল্লেখ রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, ভাইকিংরা শুধুমাত্র একবারই সেখানে যাননি। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ থেকে বোঝা যায়, পরবর্তী দুই থেকে তিন শতাব্দী ধরেও তারা মাঝে মাঝে উত্তর আমেরিকায় যাতায়াত করতেন।

ভাইকিংদের আমেরিকা অভিযানের কাহিনি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে আইসল্যান্ডের একটি প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। এর নাম ‘ফ্ল্যাটেইয়ারবোক’, অর্থাৎ ‘ফ্ল্যাটেই দ্বীপের বই’। চতুর্দশ শতকে লেখা এই বইয়ে গ্রিনল্যান্ডে ভাইকিংদের বসতি স্থাপন এবং উত্তর আমেরিকা অভিযানের বিবরণ রয়েছে। ১৯৬৬ সালে বিবিসির উপস্থাপক ম্যাগনাস ম্যাগনুসন বইটিকে আইসল্যান্ডের সবচেয়ে মূল্যবান পাণ্ডুলিপিগুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছিলেন।

আরও পড়ুন: ট্রাম্প: ক্লিনটন-ওবামার বিরুদ্ধে তদন্তের তথ্য আছে, বড় পদক্ষেপ নিতে পারি

বইটির গুরুত্ব বোঝা যায় ১৮৯৩ সালের একটি ঘটনা থেকে। শিকাগো বিশ্বমেলার আয়োজকরা কলম্বাসের সমুদ্রযাত্রার ৪০০ বছর পূর্তি উদযাপনের জন্য বইটি ধার নিতে চেয়েছিলেন। এটি আনার জন্য যুদ্ধজাহাজ পাঠানো, সাঁজোয়া ট্রেনে পরিবহন এবং ১০ লাখ ডলারের বিমা করার মতো পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ডেনমার্কের কর্তৃপক্ষ বইটি পাঠাতে রাজি হয়নি। বইটির প্রতি এত আগ্রহের কারণ ছিল এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব। এতে কলম্বাসের বহু শতাব্দী আগে ইউরোপীয়দের উত্তর আমেরিকায় পৌঁছানোর বিবরণ সংরক্ষিত রয়েছে।

কলম্বাসের আমেরিকা যাত্রার আগেও ইউরোপীয় নাবিকদের উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে যাতায়াতের তথ্য পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, মধ্যযুগের বিভিন্ন সময়ে গ্রিনল্যান্ড ও উত্তর আমেরিকার উপকূলে সমুদ্রযাত্রা চলেছিল।

গবেষকদের কেউ কেউ মনে করেন, কলম্বাসও উত্তর আমেরিকায় ইউরোপীয়দের আগের অভিযানের বিষয়ে জানতেন। এ ক্ষেত্রে জন ডে নামে এক ইংরেজের লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করা হয়। ১৪৯৭-৯৮ সালের শীতকালে লেখা ওই চিঠিতে জন ক্যাবটের উত্তর আমেরিকা অভিযানের কথা ছিল। চিঠিতে আরও বলা হয়েছিল, ইংল্যান্ডের ব্রিস্টল থেকে আসা নাবিকেরা বহু বছর ধরেই উত্তরাঞ্চলে সমুদ্রযাত্রা করতেন। তবে কলম্বাস ভাইকিংদের ‘ভিনল্যান্ড’ সম্পর্কে কতটা জানতেন, তা নিশ্চিত নয়।

প্রত্নতত্ত্ববিদ রবার্ট ম্যাকগির ধারণা, কলম্বাসের লক্ষ্য ছিল আমেরিকায় পৌঁছানো নয়, বরং এশিয়ার সম্পদসমৃদ্ধ অঞ্চলে যাওয়ার পথ খুঁজে বের করা। এ কারণে তিনি উত্তর দিকের পরিচিত পথ এড়িয়ে পশ্চিমে দীর্ঘ সমুদ্রপথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।

আরও পড়ুন: রিয়াদগামী ফ্লাইট অনির্দিষ্টকাল স্থগিত, দাম্মাম রুট বুধবার খুলতে পারে

দীর্ঘদিন ধরে কলম্বাসের ১৪৯২ সালের অভিযানকে ইউরোপীয়দের আমেরিকায় পৌঁছানোর প্রধান ঘটনা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু ভাইকিংদের গাথা, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি ও প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার ইতিহাসের আরেকটি দিক সামনে এনেছে।

এসব প্রমাণ বলছে, কলম্বাসের প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগেই ইউরোপীয় নাবিকেরা উত্তর আমেরিকায় পৌঁছেছিলেন। তারা সেখানে শিবির গড়েছিলেন, নতুন অঞ্চল অনুসন্ধান করেছিলেন এবং কয়েক শতাব্দী ধরে মাঝেমধ্যে যাতায়াতও করেছিলেন।

অতএব, আমেরিকায় ইউরোপীয়দের আগমনের ইতিহাস শুধুমাত্র কলম্বাসের অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর পেছনে রয়েছে আরও পুরোনো এক সমুদ্রযাত্রার কাহিনি, যা বহু শতাব্দী ধরে প্রায় বিস্মৃত ছিল।

আরও পড়ুন: আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু, নতুন স্থানে বিক্ষোভের নির্দেশনা: যন্তর মন্তর

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাজ শেষে বাসায় ফেরা হলো না ফালু মিয়ার, দুর্ঘটনায় মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


কাজ শেষে বাসায় ফেরা হলো না ফালু মিয়ার, দুর্ঘটনায় মৃত্যু

রাজধানীর একটি সড়কে বেপরোয়া গতির গাড়ির ধাক্কায় এক ব্যক্তির মৃত্যু ঘটেছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) রাত ১২টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকার মোল্লা কলেজের সামনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফালু মিয়া (৪২), যিনি কুমিল্লা সদর এলাকার আব্দুল মতিনের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারসহ পূর্ব কদমতলীর জুরাইন এলাকায় বসবাস করতেন।

নিহতের ভাই রতন জানিয়েছেন, ফালু মিয়া গ্যারেজে কর্মরত ছিলেন। কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে তিনি এই দুর্ঘটনার শিকার হন।

যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সজিব উর রহমান জানিয়েছেন, আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে পুলিশ জানতে পারে যে, রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাত গাড়ি ফালু মিয়াকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে পথচারীদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়িটি শনাক্ত করার জন্য আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জর্জিয়ায় বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় নিহত ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৫ এম


জর্জিয়ায় বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় নিহত ১

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বিনোদন পার্কে রোলার কোস্টার দুর্ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া পার্কে, যা আটলান্টা থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ জানার জন্য তদন্ত শুরু করেছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্ঘটনার শিকার রাইডটির নাম পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি। তবে হেলিকপ্টার থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে, পার্কের ‘গোলিয়াথ’ নামের বিশাল রোলার কোস্টারটি মাঝপথে আটকে আছে। আটকে পড়া যাত্রীদের নামিয়ে আনতে কর্মীদের কাজ করতে দেখা গেছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাঁরা এক ব্যক্তিকে চলন্ত রাইড থেকে ছিটকে পড়তে দেখেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১১অ্যালাইভের প্রতিবেদনে এক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি রোলার কোস্টার থেকে ছিটকে একটি ভূতুড়ে বাড়ির ছাদের ওপর গিয়ে পড়েন। তবে বিবিসি স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। কর্মকর্তারা কীভাবে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

দুর্ঘটনার পর সিক্স ফ্ল্যাগস ওভার জর্জিয়া কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষ বলেছে, উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। তদন্তে পুলিশকে পূর্ণ সহযোগিতা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ম্যাবলটনের মেয়রের কার্যালয়ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করছে।

পার্কের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে চালু হওয়া ‘গোলিয়াথ’ রোলার কোস্টারটির উচ্চতা প্রায় ২০০ ফুট এবং এটি ঘণ্টায় প্রায় ১১২ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম। পার্কটির রাইড তালিকায় এটিকে উচ্চমাত্রার রোমাঞ্চকর রাইড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় সিক্স ফ্ল্যাগসের আরেকটি পার্কে ‘এক্স২’ রোলার কোস্টারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, এর কয়েক সপ্তাহ আগে। ওই রাইডে চড়ার পর কয়েকজনের মস্তিষ্কে আঘাত লাগার অভিযোগ ওঠে। তবে জর্জিয়ার সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ এম


‘ব্রেকিং ব্যাড’ অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন

জনপ্রিয় আমেরিকান ড্রামা সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ মাদক সম্রাট ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করা অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। এই অভিনেতার বয়স ছিল ৩৪ বছর এবং তিনি টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

অভিনেতার মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ এবং ক্যামেরন কাউন্টির শান্তি বিচারক সিন্ডি হিনোজোসা জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর তাকে তার বাসভবনে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে।

আরজে মিটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার প্রতিনিধি শন রেইলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, "গভীর দুঃখের সাথে আমরা প্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবী এবং প্রতিবন্ধী অধিকারের একনিষ্ঠ প্রবক্তা আরজে মিটির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি জানাচ্ছি।"

নিজে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ায় মিটি ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ‘ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র’ চরিত্রে অভিনয় করার সময় নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। এই অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৪ সালে একটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। অভিনয় ছাড়াও তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও ‘দ্য মিটে ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে আজীবন কাজ করে গেছেন।

তার আকস্মিক প্রয়াণে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে তার সহশিল্পী অ্যারন পল (যিনি জেসি পিঙ্কম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন) ও ডিন নরিসসহ (যিনি হ্যাঙ্ক শ্র্যাডারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন) অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজায় নৌপথে যাত্রীদের জন্য ১৬টি নির্দেশনা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩৬ এম


দুর্গাপূজায় নৌপথে যাত্রীদের জন্য ১৬টি নির্দেশনা জারি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এ সময় নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখার মতো ১৬টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

গত ৮ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রীদের নৌযানে ওঠানামা নির্ধারিত টার্মিনালের পন্টুন ব্যবহার করে করতে হবে। সদরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর মাঝপথে লঞ্চের সঙ্গে নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখতে হবে। লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করতে হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর জন্য ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। দিনের বেলায় স্পিডবোট নদীর মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে পারবে না এবং যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে হবে।

নৌদুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করে নৌযান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সদরঘাট নৌ টার্মিনাল ও পন্টুন এলাকায় হকার ও ক্যানভাসারদের অবস্থান বন্ধ রাখতে হবে। টার্মিনালের প্রবেশপথে নৌযানের রুট ও পন্টুনের তথ্য প্রদর্শন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে।

নৌপথের নাব্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি ফেরিঘাটে যানবাহনের প্রবেশ ও সারিবদ্ধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া অন্য যাত্রীদের বাস বা যানবাহন থেকে নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে ফেরিঘাটে নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে টার্মিনালে পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, মোবাইল ফোন চার্জিং ও বিশ্রামের ব্যবস্থা উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে।

নৌযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য লঞ্চে চারটি হটলাইন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। নম্বরগুলো হলো- জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ড ১৬১১১। আবহাওয়ার তথ্যের জন্য ১০৯০ অথবা ৪১০২৫৭৩০ ও ৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা নির্দেশনাটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%