মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৩৬ এম
জনপ্রিয় আমেরিকান ড্রামা সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ মাদক সম্রাট ওয়াল্টার হোয়াইটের ছেলের চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি অর্জন করা অভিনেতা আরজে মিটি মারা গেছেন। এই অভিনেতার বয়স ছিল ৩৪ বছর এবং তিনি টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
অভিনেতার মৃত্যুর তাৎক্ষণিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ব্রাউনসভিল পুলিশ বিভাগ এবং ক্যামেরন কাউন্টির শান্তি বিচারক সিন্ডি হিনোজোসা জানিয়েছেন, গত ১২ অক্টোবর তাকে তার বাসভবনে মৃত ঘোষণা করা হয়। তবে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এই মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা নেই এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হবে।
আরজে মিটের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে তার প্রতিনিধি শন রেইলি এক বিবৃতিতে বলেছেন, "গভীর দুঃখের সাথে আমরা প্রিয় অভিনেতা, সমাজসেবী এবং প্রতিবন্ধী অধিকারের একনিষ্ঠ প্রবক্তা আরজে মিটির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবরটি জানাচ্ছি।"
নিজে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত হওয়ায় মিটি ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে ‘ওয়াল্টার হোয়াইট জুনিয়র’ চরিত্রে অভিনয় করার সময় নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়েছিলেন। এই অসাধারণ অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৪ সালে একটি স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। অভিনয় ছাড়াও তিনি ইউনাইটেড সেরিব্রাল পালসি ও ‘দ্য মিটে ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার রক্ষায় এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে আজীবন কাজ করে গেছেন।
তার আকস্মিক প্রয়াণে হলিউডে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ‘ব্রেকিং ব্যাড’ সিরিজে তার সহশিল্পী অ্যারন পল (যিনি জেসি পিঙ্কম্যানের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন) ও ডিন নরিসসহ (যিনি হ্যাঙ্ক শ্র্যাডারের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন) অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার অবদানের কথা স্মরণ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করেছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এ সময় নৌদুর্ঘটনা মোকাবিলায় উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখা, ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধ এবং রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখার মতো ১৬টি নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
গত ৮ অক্টোবর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রীদের নৌযানে ওঠানামা নির্ধারিত টার্মিনালের পন্টুন ব্যবহার করে করতে হবে। সদরঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে নদীর মাঝপথে লঞ্চের সঙ্গে নৌকা বা ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ রাখতে হবে। লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করতে হবে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে।
দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর জন্য ফিটনেসবিহীন লঞ্চ, নৌযান ও ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাতে স্পিডবোট চলাচল বন্ধ থাকবে। দিনের বেলায় স্পিডবোট নদীর মাঝখান দিয়ে চলাচল করতে পারবে না এবং যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরা নিশ্চিত করতে হবে।
নৌদুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উদ্ধারকারী জাহাজ প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে। আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করে নৌযান পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সদরঘাট নৌ টার্মিনাল ও পন্টুন এলাকায় হকার ও ক্যানভাসারদের অবস্থান বন্ধ রাখতে হবে। টার্মিনালের প্রবেশপথে নৌযানের রুট ও পন্টুনের তথ্য প্রদর্শন এবং অবৈধ পার্কিং বন্ধের ব্যবস্থা নিতে হবে।
নৌপথের নাব্যতা বজায় রাখার পাশাপাশি ফেরিঘাটে যানবাহনের প্রবেশ ও সারিবদ্ধ চলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফেরিতে ওঠার আগে চালক ছাড়া অন্য যাত্রীদের বাস বা যানবাহন থেকে নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
এ বিষয়ে ফেরিঘাটে নির্দেশনামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করতে হবে। নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে টার্মিনালে পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, মোবাইল ফোন চার্জিং ও বিশ্রামের ব্যবস্থা উন্নত করার কথাও বলা হয়েছে।
নৌযাত্রায় জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য লঞ্চে চারটি হটলাইন নম্বর প্রদর্শন করতে হবে। নম্বরগুলো হলো- জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯, ফায়ার সার্ভিস ১০২, বিআইডব্লিউটিএর যাত্রীসেবা ১৬১১৩ এবং কোস্ট গার্ড ১৬১১১। আবহাওয়ার তথ্যের জন্য ১০৯০ অথবা ৪১০২৫৭৩০ ও ৪১০২৫৭৩১ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব ছন্দা পালের স্বাক্ষরে জারি করা নির্দেশনাটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) এবং নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের সদস্য ইলহান ওমরের ওয়াশিংটন ডিসির বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করেছেন দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) তদন্তকারী দল।
১২ অক্টোবর সোমবার ভোরে এই অভিযানটি তার শৈশবের অভিবাসন সংক্রান্ত নথিপত্রের বিষয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস-এর সূত্রে জানা যায়, তদন্তকারীরা ইলহান ওমরের প্রয়াত বাবার দ্বারা পূরণকৃত নথিপত্রগুলো খতিয়ে দেখছেন। নথিতে মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং অভিবাসন জালিয়াতির সম্ভাব্য দিকগুলোও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
এদিকে, ইলহান ওমরের কার্যালয় এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছে। তারা এক বিবৃতিতে জানায়, তিনি কোনো অন্যায় করেননি। অভিযানের ঘটনাকে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে লক্ষ্যবস্তু করতে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করার নজিরবিহীন পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১২ অক্টোবর সোমবার একটি পোস্টে ইলহান ওমর উল্লেখ করেন, ‘আমি ভালো আছি’ এবং ‘আমাকে চুপ করানো যাবে না।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নিশানা করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তার দাবি, গত ১০ বছর ধরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও অপপ্রচারের মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু করে আসছেন। সাম্প্রতিক অভিযানটি সেই রাজনৈতিক ভীতি প্রদর্শনের আরেকটি ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার অপরাধ তদন্ত বিভাগ এই তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে। দেশটির বিচার বিভাগও এই তদন্তে সহায়তা করছে।
বিচার বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, তাদের কাছ থেকে পাওয়া তল্লাশি পরোয়ানার ভিত্তিতে তদন্তকারীরা অভিযান পরিচালনা করেছেন। এটি একটি চলমান কেন্দ্রীয় ফৌজদারি তদন্তের অংশ।
তদন্ত সম্পর্কে অবগত সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ এই তল্লাশির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে অবগত ছিলেন। বিচার বিভাগের জনস্বার্থ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সততা-সংক্রান্ত বিভাগও বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ প্রদান করেছে।
অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার তদন্ত বিভাগ অভিবাসন নথি জালিয়াতি, পরিচয় জালিয়াতি এবং অভিবাসন-সুবিধা পেতে প্রতারণার মতো কেন্দ্রীয় অপরাধের তদন্ত করতে পারে। বহিষ্কারকেন্দ্রিক অভিযানের বাইরে, এ বিভাগের বিশেষ তদন্তকারীরা ফৌজদারি তদন্ত পরিচালনা এবং আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করেন।
ইলহান ওমরের বাড়িতে অভিযানের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস, দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক এবং ককাসের চেয়ারম্যান পিট আগুইলার।
এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অভিযানটিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারকে অন্যায়ভাবে ব্যবহারের অভিযোগ নিয়ে এ ঘটনা গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
ইলহান ওমর মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের সমালোচনার লক্ষ্যবস্তু। তবে সোমবারের অভিযানের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অভিযানের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। ইলহান ওমরকে ‘ভয়াবহ ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বিষয়টি বিচার বিভাগের ওপর ছেড়ে দেন।
এর আগে, গত সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোম্যান জানিয়েছিলেন, ইলহান ওমরকে ঘিরে একটি ফৌজদারি তদন্ত চলমান রয়েছে। সে সময় ওমর বলেছিলেন, তদন্তের বিষয়ে তাকে কেউ যোগাযোগ করেনি।
তবে এখন পর্যন্ত তদন্তে ওঠা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আজারবাইজানের স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় বিক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। মধ্য এশিয়ার এই দেশে সরকার ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি কার্যকর করার লক্ষ্যে নতুন পোশাকবিধি প্রণয়ন করেছে। যদিও সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করা হয়নি, তবুও বেশ কিছু স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন, বিক্ষোভ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদে অংশ নিচ্ছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের মন্ত্রিসভা সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের পোশাকবিধিতে সংশোধনী অনুমোদন করে। সরকারের মতে, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মনিরপেক্ষ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক নিশ্চিত করা। তবে বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়ার পর রাজধানী বাকুসহ বিভিন্ন স্থানে হিজাব পরা ছাত্রীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের বিধিনিষেধ শিক্ষকদের ক্ষেত্রেও আরোপিত হয়েছে।
শিক্ষক জাহরা হাসানোভা আল-জাজিরাকে বলেন, স্কুলে হিজাব পরে আসা নিষিদ্ধ বলে তাকে জানানো হয়েছে। তিনি এই সিদ্ধান্তে কষ্ট পেয়েছেন এবং উল্লেখ করেছেন, "হিজাব পরা ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়।" ভবিষ্যতে যদি এটি খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তা নিজের ইচ্ছাতেই নেওয়া উচিত।
দেশটির জনসংখ্যার প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম। আজারবাইজানের সংবিধানে রাষ্ট্রকে ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। নতুন পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্কের মধ্যে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখার যুক্তি এবং হিজাব পরার স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার—দুটি বিষয়ই সামনে এসেছে।
এদিকে, নতুন বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে কারাবন্দি সাংবাদিক পোলাদ আসলানোভ অনশন শুরু করেছেন। ২০২০ সালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তিনি কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তার স্ত্রী গুলমিরা আসলানোভা ফেসবুকে প্রকাশিত এক বার্তায় জানিয়েছেন, সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রতিবাদে আসলানোভ অনশনকে নিজের প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
দেশটিতে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিঘ্ন ঘটার খবরও পাওয়া গেছে। তবে ওপেন অবজারভেটরি অব নেটওয়ার্ক ইন্টারফেরেন্স এবং নেটব্লকসের তথ্য দিয়ে ব্যাপক ইন্টারনেট বন্ধের খবর নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত।
আজারবাইজানের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ প্রতিবেশী তুরস্কেও ছড়িয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে আজারবাইজানের কনস্যুলেটের সামনে বিক্ষোভ করেন প্রতিবাদকারীরা। তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের ওপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং বাকুর কর্তৃপক্ষকে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। কেউ কেউ এ পরিস্থিতির সঙ্গে তুরস্কের ১৯৯৭ সালের ‘উত্তরাধুনিক অভ্যুত্থান’-পরবর্তী সময়ে হিজাব পরা নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ ও সরকারি চাকরিতে কাজের ক্ষেত্রে আরোপিত বিধিনিষেধের তুলনা করেছেন।
বিক্ষোভের প্রসঙ্গে সরাসরি তুরস্কের নাম উল্লেখ না করলেও, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ দেশটির প্রতি পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন। ক্ষমতাসীন নিউ আজারবাইজান পার্টির কংগ্রেসে তিনি বলেছেন, "আমাদের জীবনযাপনের ধরনে হস্তক্ষেপ করবেন না।" তবে এ মন্তব্যের বিষয়ে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে দেওয়া ভাষণে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, মুসলিম নারীরা ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। যদিও তিনি সরাসরি আজারবাইজানের নাম উল্লেখ করেননি, তার বক্তব্যকে হিজাব ও ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলমান আন্তর্জাতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশজুড়ে বিশেষ তদারকি অভিযান পরিচালনা করেছে, যা ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে মূল্য কারসাজি, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং সরবরাহে অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা মহানগরসহ ৪২টি জেলায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের ফলস্বরূপ, ভোক্তা অধিকারবিরোধী বিভিন্ন অনিয়মের জন্য ১২০টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট ৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিত্যপণ্যের বাজারে মূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং ভোক্তাদের ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এদিন অধিদপ্তরের ৫৬টি টিম একযোগে দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকারি ও খুচরা বাজারে তদারকি কার্যক্রম চালিয়েছে।
অভিযানের সময় ফল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বিক্রয়মূল্য, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার, মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং ওজন ও পরিমাপের যথার্থতা যাচাই করা হয়। একইসঙ্গে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয় অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি, অতিরিক্ত দাম আদায় এবং পণ্যের সরবরাহে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির মতো অনিয়ম প্রতিরোধে।
বিশেষভাবে ফলের বাজারে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে বিক্রি এবং ফলে ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। ন্যায্য ও যৌক্তিক মূল্যে ফল বিক্রি এবং পণ্যের মান বজায় রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুত কিংবা পণ্যের স্বাভাবিক সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা যাবে না। প্রতিটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান স্থানে হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের যথাযথ ভাউচার সংরক্ষণ এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, বাজারে কেনাকাটার ক্ষেত্রে ভোক্তাদের সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন বুঝে নেওয়া এবং মোড়কজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা বিক্রয়মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কেনাকাটার রশিদ সংরক্ষণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি, ভেজাল কিংবা অন্য কোনো প্রতারণার শিকার হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের হটলাইন ১৬১২১-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন ভোক্তারা।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি প্রতিরোধ এবং স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করতে দেশব্যাপী এ ধরনের তদারকি ও আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ