ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সন্দ্বীপে জামায়াতে ইসলামীর রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত


সন্দ্বীপে জামায়াতে ইসলামীর রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সন্দ্বীপ উপজেলা শাখার উদ্যোগে রুকন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মজলিসে শূরার সদস্য ও সন্দ্বীপ উপজেলা আমীর মাওলানা সিরাজুল ইসলাম ফিরোজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা আবু তাহের।

সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আমীর ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য মুহাম্মদ আলা উদ্দীন সিকদার।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ আলা উদ্দীন সিকদার বলেন, সংগঠনের শক্তি শুধু সংখ্যার ওপর নির্ভর করে না; দায়িত্বশীল, ত্যাগী, আমলদার ও আদর্শবান কর্মীরাই সংগঠনের প্রকৃত শক্তি। এজন্য রুকনদের নিজেদেরকে গড়ে তোলার পাশাপাশি নামাজ, কোরআন, আমল, আখলাক ও আত্মশুদ্ধির প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন রুকন শুধু নিজের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণেও কাজ করবেন। অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়া, বিপদে সহযোগিতার হাত বাড়ানো এবং সমাজে ন্যায়, সততা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। পরিবার, কর্মক্ষেত্র, বাজার ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজেদের আচরণ ও চরিত্রের মাধ্যমে ইসলামী মূল্যবোধ তুলে ধরার আহ্বান জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা সেক্রেটারি মুহাম্মাদ আব্দুল জব্বার বলেন, রুকন হওয়া শুধু একটি সাংগঠনিক পরিচয় নয়; এটি একটি আমানত ও দায়িত্ব। আল্লাহর সন্তুষ্টিকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করে সংগঠনের নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলার পাশাপাশি ব্যক্তিগত আমল, দায়িত্বশীলতা ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখার মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে তুলতে হবে।

সমাবেশে দারসুল কোরআন পেশ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ওলামা বিভাগের দায়িত্বশীল মাওলানা মহি উদ্দিন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বায়তুলমাল সেক্রেটারি ডা. আব্দুল হামিদ চৌধুরী, সন্দ্বীপ উপজেলা নায়েবে আমীর মাওলানা এ এম এম রফিকুল মাওলা এবং উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধ্যনগরে ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আব্দুল আউয়াল মিছবাহ সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৩৩ পি.এম


মধ্যনগরে ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষার মানোন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর বাজার দারুল উলুম মাদানিয়া ক্বওমী মাদ্রাসায় শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও দ্বীনি শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষায় উৎসাহিত করতে অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মাদ্রাসার সভাপতি হাজী খোরশেদ আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মাদ্রাসায় উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা ও নৈতিক চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
হাফেজ জুনায়েদ আহমেদের কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে ও শিক্ষা সচিব মাওলানা আবুল বারাকাত এর সঞ্চালনায় অভিভাবক সমাবেশে
বক্তব্য রাখেন , মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা ফাজিল আহমদ, সহ সভাপতি রাশেদ আলম মাষ্টার, মধ্যনগর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও অত্র মাদ্রাসার কোষাধ্যক্ষ হাজি আমিন, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ মধ্যনগর উপজেলা আমীর মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস মধ্যনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল আউয়াল মিছবাহ, সাংবাদিক আব্দুল মান্নান, মাওলানা নূরুল হুদা,কমিটির সম্মানিত সদস্য আবুল হাসিম,ব্যবসায়ী ওলি উল্লাহ, সহকারী শিক্ষক কামাল উদ্দিন, সহকারী শিক্ষক হাফেজ মাহবুবুর রহমান, মাওলানা এমদাদ উল্লাহ,জেনারেল শিক্ষক সাহেব আলী মাষ্টার, অভিভাবকদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মধ্যনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তিতাস মাহমুদ, সানোয়ার হোসেন রমজান আলী, প্রমুখ।

বক্তারা বলেন - ক্বওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি সময়োপযোগী আধুনিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগে এক নারীর মৃত্যু: আঞ্চলিক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪২ পি.এম


রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় প্লেগে এক নারীর মৃত্যু: আঞ্চলিক কর্মকর্তা

ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : রাশিয়ার একটি প্রত্যন্ত সাইবেরীয় অঞ্চল ইরকুটস্কে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে এক নারীর মৃত্যুর খবর দিয়েছেন স্থানীয় এক কর্মকর্তা। এদিকে, রাশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর সংস্পর্শে আসা কয়েক ডজন মানুষকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, মৃত নারীর নাম দরিয়া শিপিলোভা। তার বয়স ২৮ বছর এবং তিনি পেশায় একজন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান ছিলেন।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র মাধ্যমে এসেছে। ‘পিপল অব বৈকাল’ নামের সংবাদমাধ্যমটি জানায়, শিপিলোভা ইরকুটস্ক অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটে কাজ করতেন। ধারণা করা হচ্ছে, একটি পরীক্ষার নল ভেঙে যাওয়ার ফলে তিনি ফুসফুসের প্লেগে (নিউমোনিক প্লেগ) আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

এছাড়া, ওই সংবাদমাধ্যম আরও জানায়, শিপিলোভার সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি। একই সঙ্গে, এএফপি এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।

এর আগে, রাশিয়ার বুরিয়াতিয়া অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সেই সিডেনভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে জানিয়েছিলেন, প্রতিবেশী ইরকুটস্ক অঞ্চলের এক নারী ‘প্লেগে মারা গেছেন’।

প্লেগ একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ। এর একটি ধরন হলো নিউমোনিক প্লেগ, যা ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, নিউমোনিক প্লেগ অত্যন্ত সংক্রামক এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু না হলে এটি প্রাণঘাতী হতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকার সাবরেজিস্টারদের পোস্টিংয়ে লটারি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


ঢাকার সাবরেজিস্টারদের পোস্টিংয়ে লটারি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঢাকা শহরের সাবরেজিস্টারদের পোস্টিংয়ের জন্য লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহার বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন একই জায়গায় সাবরেজিস্টারদের থাকার কারণে বদলি করতে গেলে বিভিন্ন দিক থেকে তদবির আসে। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে ঢাকা শহরের মধ্যে সাবরেজিস্টারদের পোস্টিং লটারি ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, নিয়মনীতি মেনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য সংরক্ষণ এবং তা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, ধাপে ধাপে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব তথ্য সংযুক্ত হলে একজন ব্যক্তির বিভিন্ন তথ্য একটি ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব হবে।

তিনি আরও বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধে সহায়তা পাওয়া যাবে। যদি কোনো ব্যক্তি এক জায়গায় বিয়ে করার পর তথ্য গোপন করে অন্য জায়গায় আবার বিয়ে করতে যায়, তাহলে অনলাইনে তার আগের তথ্য দেখা যাবে। তখন পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ওই ব্যক্তির আরেকটি বিয়ে নিবন্ধনের বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য থাকলে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলেও নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে এ ধরনের দাবি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমবে এবং রাষ্ট্রের ওপরও অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।

বিদেশে থাকা বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অনলাইনে সংরক্ষিত বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগবে জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চান, তাহলে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে অনলাইনে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে ওই ব্যক্তির প্রকৃত স্ত্রী কে, সে বিষয়ে দ্রুত তথ্য পাওয়া যাবে।

আইনমন্ত্রী অনলাইনভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে পুলিশ ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে ঘুস দাবির একটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় একজন সাব-ইন্সপেক্টরের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা, পরে ২ হাজার টাকা ঘুস চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় রফাদফা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। বিবাহসংক্রান্ত নিবন্ধন অনলাইনে এলে এ ধরনের কিছু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধে সহায়তা পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা যখন একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে। জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্যের মধ্যে যেভাবে সংযোগ রয়েছে, একইভাবে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও পর্যায়ক্রমে এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, একটি শিশু জন্মের পর তার জন্মনিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরবর্তীতে ১৮ বছর বয়সে জাতীয় পরিচয়পত্র করার সময় জন্মনিবন্ধনের তথ্য প্রয়োজন হয়। একইভাবে পাসপোর্ট করার সময় জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্যের প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বাংলাদেশেও এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে। বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও যখন এনআইডি ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হবে, তখন একজন ব্যক্তির তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে পাওয়া সম্ভব হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় নতুন দিগন্ত উন্মোচন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় নতুন দিগন্ত উন্মোচন

॥ দিদারুল আলম ॥

ঢাকা, ৩ অক্টোবর, ২০২৬ : সম্পত্তি দান করার পরও জীবদ্দশায় তা ভোগ ও ব্যবহার করার পূর্ণ আইনি অধিকার সংরক্ষণের সুযোগ রেখে দেশে সম্পত্তি হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়। জাতীয় সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬’ পাস হওয়ার মাধ্যমে উন্মোচিত হয়েছে এই নতুন দিগন্ত।

নতুন আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তরের আইনি কাঠামোয় ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে একটি নতুন পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে, সম্পত্তির চূড়ান্ত মালিকানা গ্রহীতার অনুকূলে হস্তান্তর হলেও দাতা যতদিন জীবিত থাকবেন, ততদিন ওই সম্পত্তি নিজের মতো ভোগদখল ও ব্যবহার করার অধিকার রাখবেন।

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে জানিয়েছেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছি। এই আইন দ্বারা হেবা কিংবা গিফট বা অন্য কোনোভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরকে বাধাগ্রস্ত করবে না বা ক্ষতিগ্রস্ত করবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই আইনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের একটি বিকল্প করোনারি আনছি। কেউ যদি হেবা করতে চান, হেবা করতে পারবেন। সেখানে কোনো বাধা নেই। কেউ যদি অন্য আইনে সম্পত্তি ডিল করতে চান, সেটাও করতে পারবেন। সেখানেও কোন বাধা নেই।’

ইসলামী আইনের সঙ্গে বৈপরীত্যের অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, ‘ইসলামিক ল’ বা হেবা আইনের ওপর কারো হাত দেওয়ার ক্ষমতা নেই। আমরা সেখানে হাত দিইনি। আমরা হেবাকে সংরক্ষণ করেছি। আইনের মধ্যে এক্সপ্রেসলি সেটা বলেছি।’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটা গ্রুপ এটা নিয়ে পলিটিক্স করার চেষ্টা করছে। এগুলো সাধারণ মানুষ গ্রহণ করছে না। সাধারণ মানুষ এই আইনটাকে খুব পজিটিভলি দেখছে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬-কে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়া বাসস’কে জানিয়েছেন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশের বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় এটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, আইনটির সংশোধনীর গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানি, সন্তান-সন্ততি বা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পরও দাতা নিজের জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। আইনটিতে এ বিধান সময়োপযোগী সংশোধনী।

সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত সংশোধনী আইনটি যথাযথভাবে যেন সর্বত্র প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়, এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি আরও বলেন, সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পর পিতা-মাতার করুণ পরিণতির বহু ঘটনা আমরা দেখেছি।

পিতা-মাতার প্রতি নিজ সন্তানদের অবজ্ঞার বহু নজিরও আমাদের সামনে রয়েছে।

একলাছ ভূঁইয়া বলেন, আমাদের দেশ চলে সাংবিধানিক আইনের অধীনে। দেশে প্রচলিত ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোয় সম্পত্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত পুরনো আইনটির সংশোধন করে জাতীয় সংসদ যে বিধান নিশ্চিত করেছে, এজন্য সরকারকে স্বাগত জানান তিনি।

সুপ্রিমকোর্টের অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ্ মিয়া বলেন, ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬ অনুযায়ী সম্পত্তি হস্তান্তর বা দানে দাতার জীবনকালীন নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। দাতা তার জীবদ্দশায় সম্পত্তির পূর্ণ ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিজের কাছে অক্ষুন্ন রেখেই পরবর্তী প্রজন্মের অনুকূলে মালিকানা হস্তান্তর করতে পারবেন।

বিশিষ্ট এই আইনজীবী বলেন, সংশোধিত আইনটি সমাজের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। এটি পিতা-মাতার প্রতি সন্তানদের দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতা এবং পারিবারিক সম্পর্কের ভিতকে মজবুত করবে। পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্বহীন, অমানবিক আচরণ পরিহার ও সতর্ক করতে এ আইনটি সময়োপযোগী এবং আইনি ও সামাজিক সঙ্কটের টেকসই সমাধান।

তিনি বলেন, পরিবারের ভবিষ্যৎ সুরক্ষা এবং প্রবীণ বয়সে নিজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা-এই দ্বৈত সংকটের একটি সুষম ও আইনি সমাধান দেবে এই বিধান।

জাতীয় সংসদে পাস ও রাষ্ট্রপতির সম্মতি লাভের পর গত ৮ সেপ্টেম্বর আইনটি সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়। এটি ২০২৬ সালের ১০৫ নং আইন, যা সম্পত্তি হস্তান্তর আইন তথা ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট, ১৮৮২ এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত আইন।

আইনটি সংশোধন করে প্রকাশিত গেজেটে বলা হয়েছে, সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ এর অধীন জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান সংক্রান্ত বিধান সুনির্দিষ্ট করা এবং ওই ভোগাধিকার সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়। আইনটি ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬ নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

আইনটির ধারা ১২২ক-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে বলা হয়েছে, এই আইনে বা বর্তমানে বলবৎ অন্য কোনো আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, কোনো দাতা তার জীবদ্দশায় কোনো সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহার করার অধিকার নিজের জন্য সংরক্ষণ করে স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি দান করলে, সেই দান বৈধ হবে।

উপ-ধারা (১)-এর অধীনে দান বৈধ হওয়ার জন্য শর্ত হলো-এই ধরনের দান করতে পারবেন পিতা বা মাতা তার সন্তান বা সন্তানদেরকে; দাদা-দাদি বা নানা-নানি তার নাতি বা নাতনিকে; সন্তান তার পিতা-মাতা বা দাদা-দাদিকে; নাতি-নাতনি তার দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে; অথবা স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরকে। তবে, দানটি যদি স্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত হয়, তাহলে এই ধারার অধীনে ঘোষণা করে এবং রেজিষ্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ অনুযায়ী নিবন্ধিত দলিল সম্পাদনের মাধ্যমে দান করতে হবে।

দাতার জীবদ্দশায় যদি গ্রহীতা মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী সম্পত্তিটি গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে হস্তান্তরিত হবে। তবে সম্পত্তির ওপর দাতার জীবনকালীন ভোগাধিকার বহাল থাকবে এবং সম্পত্তির সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। অর্থাৎ, দানগ্রহীতা মারা গেলেও দাতার জীবদ্দশায় সম্পত্তি ভোগ করার অধিকার নষ্ট হবে না।

এই ধারায় সম্পত্তি হস্তান্তরকে এই আইনের অধীনে একটি স্বতন্ত্র বা পৃথক ধরনের হস্তান্তর পদ্ধতি হিসেবে গণ্য করা হবে। এর ফলে এই আইন বা অন্য কোনো প্রচলিত আইনে স্বীকৃত সাধারণ দান, হেবা অথবা অন্য কোনো বৈধ হস্তান্তর পদ্ধতির বৈধতা সীমিত, ক্ষুণ্ন বা প্রভাবিত হবে না।

ধারা ১২২খ-জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো দান একবার নিবন্ধিত হয়ে গেলে সাধারণভাবে তা অপ্রত্যাহারযোগ্য হবে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে- দাতা ও গ্রহীতা পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে একটি নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে দানের ফলে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থা করতে পারবেন, যদি তা প্রয়োজন হয়-আর্থিক প্রয়োজনের কারণে; চিকিৎসাগত প্রয়োজনের কারণে; শিক্ষাগত প্রয়োজনের কারণে; পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে; অথবা অন্য কোনো প্রকৃত ও যৌক্তিক প্রয়োজনের কারণে। অথবা কোনো পক্ষের সম্মতি নেওয়া সম্ভব না হলে-যেমন-সে অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে; নিখোঁজ থাকলে; মানসিকভাবে অক্ষম হলে; আইনগত অক্ষমতা থাকলে; অথবা অন্য কোনো যথেষ্ট কারণ থাকলে, অন্য পক্ষ জেলা জজের কাছে আবেদন করতে পারবেন।

জেলা জজ ধারা ১২২ক-এর অধীনে সৃষ্ট অধিকার পরিবর্তন, বাতিল বা অন্য কোনোভাবে ব্যবস্থাপনার অনুমতি দিতে পারবেন, যদি উপ-ধারা (১)(ক)-এ বর্ণিত প্রয়োজনীয়তার কোনো একটি বিদ্যমান থাকে। জেলা জজের আদেশের আগে করণীয় (২) উপ-ধারা (১)-এর (খ) দফার অধীনে কোনো আদেশ দেওয়ার আগে জেলা জজকে-(ক) সম্পত্তি বা সংশ্লিষ্ট অধিকারে স্বার্থ রয়েছে এমন সব ব্যক্তিকে নোটিশ দিতে হবে (খ) প্রয়োজন মনে করলে যথাযথ তদন্ত বা অনুসন্ধান করতে হবে; এবং (গ) নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনটি সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সুষম আইনি সুরক্ষা ব্যবস্থা। বিদ্যমান পারিবারিক সংকট দূর করার পাশাপাশি প্রবীণদের আত্মমর্যাদা ও আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই নতুন আইনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%