বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
১১:৩৮ এম
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন মন্তব্য করেছেন, "নভেম্বর, ডিসেম্বর, জানুয়ারি টানা ৩ মাস রাজপথে পাহারা দেওয়ার বিকল্প নেই।"
তিনি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে এই মন্তব্য করেন।
রাশেদ খাঁন তার পোস্টে উল্লেখ করেন, "পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, দীর্ঘ সময় ঘাপটি মেরে থেকে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুতি নিয়েছে এবং যে কোনো সামাজিক আন্দোলনে গড়ে উঠলেই সেখানে তারা ছোবল দেওয়ার অপচেষ্টা করবে।"
তিনি আরও বলেন, "আওয়ামী ছোবল থেকে দেশ বাঁচাতে শহীদ ওসমান হাদির পথ কি অনুসরণ করতে পারবে জামায়াত-এনসিপি? আর যদি সেটি না করতে পারে তাহলে ধরেই নিতে হবে প্রয়োজন অনুযায়ী রাজনৈতিক স্বার্থে তারা শহীদ ওসমান হাদিকে বেচা-বিক্রি করে। প্রকৃতপক্ষে জামায়াত-এনসিপি শহীদ ওসমান হাদির আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা থেকে যোজন যোজন দূরে।"
রাশেদ খাঁন বলেন, "শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে মজুরি বোর্ড। সেখানে সরকার-মালিক ও শ্রমিক পক্ষ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। কারও একার পক্ষে একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।"
এছাড়া, নাহিদ ইসলাম শ্রমিকদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মন্তব্য করেন, "অতীতে আন্দোলনে আওয়ামী লীগ জামায়াত ভূত দেখতো, এখন বিএনপি আওয়ামী লীগ ভূত দেখছে।"
রাশেদ খাঁন বলেন, "এর মধ্য দিয়ে নাহিদ ইসলাম শ্রমিকবেশে আন্দোলনে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের অংশগ্রহণকে সমর্থন জুগিয়েছেন। তিনি কি তাহলে আন্দোলনের নামে আওয়ামী দুর্বৃত্তদের সৃষ্ট সেই অরাজকতা, জ্বালাও-পোড়াও, হামলা ও ভাঙচুরের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পক্ষে?"
তিনি আরও বলেন, "বেশকিছু দিন আগে আমি বলেছিলাম, দুইটা বিরোধীদলের (বর্তমান বিরোধীদল ও পতিত স্বৈরাচার) অপতৎপরতা সামলিয়ে বিএনপি সরকারকে দেশ চালাতে হচ্ছে। সেই কথা আজ অক্ষরে অক্ষরে সত্য প্রমাণিত হচ্ছে। রাজপথে যতবারই আওয়ামী দুর্বৃত্তরা অরাজকতা সৃষ্টি করতে আসবে, সেটা শুধু বিএনপিকেই মোকাবিলা করতে হবে, ফ্যাসিবাদ দমনে জামায়াত-এনসিপিকে আর কখনোই পাশে পাওয়া যাবে না। বরং দুঃখজনক হলেও সত্য যে, জামাত-এনসিপি এখন ক্ষমতায় যাওয়ার মোহে পতিত ফ্যাসিস্ট অপশক্তির সাথে তালে তালমিলিয়ে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় অসহযোগিতা করতে থাকবে।"
সবশেষে তিনি বলেন, "আলহামদুলিল্লাহ, নাহিদ ইসলামের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে কাজে ফিরতে শুরু করেছে গার্মেন্টসকর্মীরা।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালিতে ‘অননুমোদিত পথে’ চলাচলের চেষ্টার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকার এবং একটি টাগবোট মাইন বিস্ফোরণের শিকার হয়। এই ঘটনায় ট্যাংকার ও টাগবোটে আগুন লেগে যায়। এ তথ্য প্রকাশ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। একইসাথে, যুক্তরাষ্ট্রের দুটি এলইউসিএএস ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, গত রাতে হরমুজ প্রণালির দক্ষিণ দিকের জলপথে চলাচলরত একটি বড় তেলবাহী ট্যাংকার সমুদ্র মাইন বিস্ফোরণের কবলে পড়ে। এতে জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রণালির পূর্বাঞ্চল দিয়ে বের হওয়ার সময় দ্বিতীয় একটি সুপারট্যাংকারেও আগুন ধরে যায়। পরে আগুন নেভানোর জন্য সেখানে পাঠানো একটি টাগবোটেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, আইআরজিসি দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনীর ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ‘অনুপ্রবেশকারী’ এলইউসিএএস ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। পরে ড্রোন দুটিকে নিরাপদে অবতরণে বাধ্য করে তারা অক্ষত অবস্থায় নিজেদের হেফাজতে নেয়।
বিবৃতিতে আইআরজিসি অভিযোগ করে, মাইন পাতা জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কারণে দেশটির করদাতা ও আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর বিপুল আর্থিক ও বিমা ব্যয়ের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার কোর্টবাজার অঞ্চলে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১১ ও ১২-এর সিআইসি (ক্যাম্প-ইন-চার্জ) শফিউল ইসলাম।
এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা এবং উদ্ধারকারীরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। তবে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য মাধ্যমিকের গণ্ডি পার হওয়ার আগেই ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের তৌফিক হাসান। পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে তিনি পরিবারের ভরণপোষণ করতেন। কিন্তু গাজীপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনের সময় দুই কারখানার সামনে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে শ্রমিকদের মারধরের শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গাজীপুরে গত কয়েক দিন ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন চলছিল পোশাক শ্রমিকদের। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে হঠাৎ করে বন্ধ ঘোষণা করা হয় তৌফিকের কর্মস্থল লায়লা স্টাইল গার্মেন্টস। এরপর তিনি দুই সহকর্মীকে নিয়ে বাসার পথে রওনা হন।
জানা গেছে, প্রায় এক কিলোমিটার দূরে নোমান টেরি টাওয়াল মিলস লিমিটেড ও তালহা ফেব্রিক্স নামে একই মালিকানাধীন দুটি কারখানার সামনে সংঘর্ষ বাধে। অভিযোগ রয়েছে, বাইরে থেকে লোকজন এনে কারখানা দুটি পাহারা দিয়ে চালু রাখা হয়েছিল। কারখানার সামনে পাহারার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ ঘটে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তৌফিক ও তার এক সহকর্মী মোবাইল ফোনে সংঘর্ষের ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, একপর্যায়ে তৌফিককে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে তার মৃত্যু ঘটে।
তৌফিক স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে গাজীপুরের বাংলাবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পোশাক কারখানায় কাজ করছিলেন। তার মৃত্যুর শোকে স্তব্ধ গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কোচাশহর ইউনিয়নের ছয়ঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দারা।
নিহতের বড় ভাই জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে দৌড়ে সরে যেতে দেখে তৌফিকও একপাশে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় দুই যুবক মোবাইল ফোন হাতে দৌড়ে যাওয়ায় হামলাকারীরা হয়তো তৌফিককেও ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মনে করেন। তিনি কোনোভাবেই ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তাকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি।
স্বজনরা জানান, পেছন দিক থেকে মিছিল আসতে দেখে দুজন দৌড়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এসময় তৌফিকও দৌড়াতে গিয়ে পড়ে যান। এরপরই সেখানে থাকা লোকজন তার ওপর হামলা চালায়। হাসপাতালে যাওয়ার পর নোমান টেরি টাওয়াল মিলস লিমিটেডের কর্মীদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, স্থানীয় কিছু যুবককে ভাড়া করে কারখানার সামনে রাখা হয়েছিল। তারাই তৌফিককে মারধর করেন।
এদিকে, ভূমিহীন পরিবারটির মাথা গোঁজার স্থায়ী ঠাঁই নেই। ১২ মাস বয়সী শিশুসন্তানকে নিয়ে বর্তমানে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তৌফিকের স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে তারা দিশেহারা। নিহতের স্ত্রী সেতু মনি বলেন, ‘আমার একটা এতিম বাবু। ওকে নিয়ে আমি কোথায় যাব? আমাদের কোনো বাড়িঘর নেই। আমি কোথায় গিয়ে থাকব, কীভাবে চলব?’
প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তাদের নিজস্ব কোনো জায়গাজমি নেই। তৌফিকের পরিবার যাতে চলতে পারে, সে জন্য সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান তারা। পাশাপাশি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
এদিকে নিহত তৌফিকের স্ত্রীকে নগদ এক লাখ টাকা দিয়ে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রীর মাধ্যমে সহযোগিতা করা হয়েছে। এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পরিবারের যা কিছু প্রয়োজন, প্রাথমিকভাবে আমরা সহযোগিতা করেছি।’
বুধবার সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয় তৌফিককে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতাবিষয়ক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে মোংলায় ইনভেস্ট বাংলাদেশ ও চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশন সিআরসিসি-এর মধ্যে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের পক্ষে সংস্থাটির ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের পক্ষে চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এ সময় ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসি চেয়ারম্যান দাই হেগেন উপস্থিত ছিলেন।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো, পরিবহন, লজিস্টিকস, শিল্প, জ্বালানি, পরিবেশ ও দক্ষতা উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময়, বন্দর সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ