০৩:১৫ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট জাপানের তোমোকো আকানে এবং আরেকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ওপর মঙ্গলবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এ নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্রের আদালটির বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন অভিযানের অংশ হিসেবে দেওয়া হলো, যেখানে আইসিসি রাজনীতিকীকরণের অভিযোগ করেছে।
আইসিসির সিনিয়র বিচারিক আইনজীবী সেনেগালের আবদুলায়ে সেয়ের ওপরও ট্রাম্প প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এটি আইসিসির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপ। এ খবরটি ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘এই ব্যক্তিরা আইসিসির এমন কর্মকর্তাদের তদন্ত, গ্রেফতার, আটক বা বিচারের উদ্যোগে সরাসরি যুক্ত ছিলেন, যাদের সরকার আইসিসির এখতিয়ার মেনে নেয়নি।’ তবে তিনি এর জন্য কোনো উদাহরণ দেননি। আইসিসি মঙ্গলবার এর জবাবে বলেছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘আইনের শাসনকে দুর্বল করছে।’
আরও পড়ুন: ইউজিসির দুই বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা
আইসিসি একটি বিবৃতিতে জানায়, ‘আইন প্রয়োগের কারণে যখন বিচারিক কর্মকর্তাদের হুমকির মুখে পড়তে হয়, তখন আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থাই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।’
২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত আইসিসি সবচেয়ে গুরুতর নৃশংসতা ও অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচার করে থাকে। যদি কোনো দেশে জবাবদিহি নিশ্চিত করার মতো পর্যাপ্ত বিচারব্যবস্থা না থাকে, তবে এটি সর্বশেষ আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠার চুক্তির পক্ষভুক্ত নয়, তবুও ইতোমধ্যে আদালটির কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি।
এ নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে বা মার্কিন আর্থিক ব্যবস্থায় লেনদেন করতে পারবেন না। এই পদক্ষেপ মূলত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আইসিসির তদন্তের জেরেই নেওয়া হয়েছে, যেহেতু ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র।
২০২৪ সালের গাজা যুদ্ধের ঘটনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে এক্সে দেওয়া একটি পোস্টের মাধ্যমে নেতানিয়াহু মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত
তিনি আইসিসিকে ‘ক্যাঙ্গারু আদালত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের ভাষা ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহারকে আড়াল করছে।
আইসিসির সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী টম বেরেন্ডসেন এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, আইসিসির কর্মকর্তা ও কর্মীদের বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞায় নেদারল্যান্ড ‘অসন্তুষ্ট’। তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালত ও ট্রাইব্যুনালগুলোকে স্বাধীনভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হতে হবে।’
যুদ্ধাপরাধের শিকার ব্যক্তিরা
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির বিরুদ্ধে বড় ধরণের কূটনৈতিক অভিযান শুরু করেছে। এ আদালতকে আমেরিকানদের জন্য ‘হুমকি’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশটি তার অংশীদারদের আইসিসি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে।
আরও পড়ুন: ভূরুঙ্গামারীতে আটক হলেন ভুয়া ডিবি সদস্য মমিনুল ইসলাম
ইতোমধ্যে চাদ ও ভেনেজুয়েলা আইসিসি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও গ্রেফতারের পর ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছে।
আইসিসি ওই দেশগুলোর প্রত্যাহারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ সম্মিলিতভাবে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে।
আইসিসি প্রতিষ্ঠার রোম সংবিধিতে স্বাক্ষর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে চুক্তিটি কখনো অনুমোদন করেনি দেশটি। ইসরাইল ও রাশিয়াও আইসিসির সদস্য নয়।
রুবিও’র বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত একটি দুর্নীতিগ্রস্ত এবং মারাত্মকভাবে রাজনীতিকীকৃত অতিরাষ্ট্রীয় আদালত। আদালতটি বিদ্বেষপূর্ণভাবে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে এবং এখতিয়ার অতিক্রম করেছে। রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এর আক্রমণ আমরা সহ্য করব না।’
আরও পড়ুন: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র জ্বালানি নিরাপত্তায় মাইলফলক: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব
গত সপ্তাহে চারটি মানবাধিকার সংগঠন নিউইয়র্কের একটি আদালতে ট্রাম্পের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। এ সংগঠনগুলো জানায়, এসব নিষেধাজ্ঞার কারণে যুদ্ধাপরাধের শিকার ব্যক্তিরা ন্যায়বিচারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বাদী সংগঠনগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ), যারা মঙ্গলবার নতুন নিষেধাজ্ঞার নিন্দা করেছে।
এইচআরডব্লিউর মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা সম্পর্কিত পরিচালক বালকিস জাররাহ এক বিবৃতিতে বলেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের চরম অবজ্ঞার সর্বশেষ উদাহরণ এবং গুরুতর অপরাধে জড়িত আমেরিকান ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার থেকে রক্ষা করার প্রকাশ্য প্রচেষ্টা।’
২০২৩ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের ঘটনায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আইসিসি গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এর জবাবে মস্কো আদালটির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর দফতরে বিএমইউর ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন