ঢাকা রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ০৮ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২৩শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অটোচালকদের খামখেয়ালিপনায় ভোগান্তিতে


গোবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা অটোচালকদের খামখেয়ালিপনায় ভোগান্তিতে

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) যাতায়াতের অটোরিকশার ভাড়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকার কারণে চালকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে সন্ধ্যা ও রাতে একই গন্তব্যে যেতে দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া দাবি করার অভিযোগ তাদের রয়েছে।

পাচুরিয়া ব্রিজ ভেঙে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। আগে ঘণ্টাভিত্তিক বাস চলাচলের কারণে যাতায়াতে কিছুটা স্বস্তি ছিল। বর্তমানে ক্যাম্পাস থেকে আনসার মাঠ এবং ঘোনাপাড়া হয়ে পাচুরিয়া পর্যন্ত বাস চলাচল করলেও আগের মতো ঘণ্টাভিত্তিক সেবা নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই যাতায়াতের জন্য অটোরিকশার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসিক সুবিধা থাকলেও বাকি ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে হয়। ক্লাস, টিউশনি ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে প্রতিদিনই তাদের ক্যাম্পাসে আসা-যাওয়া করতে হয়। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একই গন্তব্যে যেতে বিভিন্ন চালক বিভিন্ন ভাড়া দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গোবরা, নিলারমাঠ ও সোনাকুড় এলাকায় যেতে প্রচলিত ভাড়া জনপ্রতি ৫ টাকা হলেও কোনো কোনো চালক ১০ টাকা দাবি করেন। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শহরে যাওয়ার সময় ১০ টাকা নেওয়া হলেও ফেরার পথে একই ভাড়া দিতে চান না চালকদের কেউ কেউ। এসব এলাকায় যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীদের অটোতে উঠতে না দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা না থাকায় এ নিয়ে প্রায়ই চালকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। বিশেষ করে রাতে নজরদারি না থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রবণতা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

আরও পড়ুন: শিক্ষামন্ত্রী: বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গবেষণায় গুরুত্ব দিতে হবে

অটোরিকশার ভাড়া ও চালকদের আচরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা যাতায়াতের সময় অতিরিক্ত ভাড়া দাবি এবং চালকদের দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরছেন।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাসিন জায়েফ বলেন, ‘সব সময় বাসের সময়সূচির সঙ্গে আমাদের যাতায়াতের সময় মেলে না। ফলে বাধ্য হয়েই অটোতে উঠতে হয়। কিন্তু অটোতে উঠলেই ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিলারমাঠ ও সোনাকুড়ের প্রচলিত ভাড়া ৫ টাকা হলেও অনেক চালক ১০ টাকা দাবি করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সময় ৫ টাকা ভাড়া নিলেও ফেরার পথে ১০ টাকা চান। ১০ টাকা দিতে না চাইলে অনেক সময় অটোতে তুলতে চান না। বিশেষ করে রাতে ৫ টাকার ভাড়া ২০ টাকাও দাবি করেন কেউ কেউ। আবার নতুন শিক্ষার্থীরা ভাড়া সম্পর্কে না জানায় তাদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার ঘটনা ঘটে।’

ভোগান্তির বিষয়ে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রেজওয়ানা নাসরিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে যাতায়াত করতে গিয়ে শুরু থেকেই অটোভাড়া নিয়ে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বিষয়টি হয়তো খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু যারা নিয়মিত এই পথে চলাচল করি, তাদের জন্য বেশ বিরক্তিকর। নিলারমাঠ, গোবরা, চরঘাটা, ঘোনাপাড়াসহ আশপাশের এলাকাগুলো থেকে ক্যাম্পাসে আসতে সাধারণত ভাড়া ৫ টাকা। কিন্তু অটোতে উঠলেই অনেক সময় ১০ টাকা দাবি করা হয়। ১০ টাকার নোট দিলে বলা হয়, তাদের কাছে ৫ টাকা নেই। কখনো আবার অন্য অজুহাত দেখানো হয়। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে চালকরা বলেন, ‘৫ টাকা না থাকলে অটোতে উঠেছেন কেন?’

তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় সন্ধ্যার পর বা রাতে। কোনো কারণে ফিরতে একটু দেরি হলে একই পথের ভাড়া দ্বিগুণ দাবি করেন চালকরা। তখন প্রয়োজনের তাগিদে বাড়তি ভাড়া দিয়েই ফিরতে হয়। ভাড়া নিয়ে কিছু বলতে গেলেও অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় কথা শুনতে হয়, তর্কে জড়াতে হয়। প্রতিদিন যাতায়াতের সময় এমন পরিস্থিতিতে পড়া সত্যিই অস্বস্তিকর। অন্তত ভাড়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নিয়ম থাকা উচিত, যাতে সময় বা পরিস্থিতির অজুহাতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

আরও পড়ুন: ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ প্রজেক্ট অ্যাওয়ার্ডিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. এস এম আহসান বলেন, এ বিষয়ে এর আগে সরাসরি কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রতিটি রুটের জন্য একটি নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা থাকা উচিত। আমরা এসব রুটে চলাচলকারী অটোরিকশা মালিক সমিতির সঙ্গে বসে শিক্ষার্থীদের জন্য ভাড়ার তালিকা তৈরি করে দেব, যাতে এ নিয়ে তাদের আর ভোগান্তিতে পড়তে না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফটিকছড়িতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০২ পি.এম


ফটিকছড়িতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১, তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় মোহাম্মদ জিসান নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও চার যুবক আহত হয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের চাড়ালিয়াহাট সড়কের আমতলী সংলগ্ন বাইশ্যরপুল এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন, লেলাং ইউনিয়নের গোপালঘাটা গ্রামের মুছা আহমদের ছেলে মোহাম্মদ মোবারক (৩১), একই এলাকার মো. আকবরের ছেলে জিমান (২০), ধমধমা গ্রামের চিত্তরঞ্জনের ছেলে সাগর (২৫), দিলীপ চন্দ্র নমের ছেলে সৌরভ নম (২০) এবং সুয়াবিল ইউনিয়নের শোভনছড়ি গ্রামের সঞ্জু চক্রবর্তীর ছেলে বাবলু চক্রবর্তী (১৭)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুটি মোটরসাইকেল বিপরীত দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসছিল। এক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এতে উভয় মোটরসাইকেলের আরোহীরা সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের ফলে মোটরসাইকেল দুটিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নাজিরহাটস্থ ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফরীদা আকতার আহত পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানান। তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে আহতদের মধ্যে মোহাম্মদ জিসানের মৃত্যু ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তানোরে রোপা আমন ধান কাটা শুরু, দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৩ পি.এম


তানোরে রোপা আমন ধান কাটা শুরু, দাম নিয়ে উদ্বিগ্ন কৃষকরা

বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত তানোর উপজেলায় শুরু হয়েছে কৃষকদের স্বপ্নের সোনালী ফসল রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কার্যক্রম। এবারের ফলন একেক বিঘা জমিতে কাচিতে ৩৩ থেকে ৩৫ মন এবং পাকিতে ১৮ থেকে ২০ মন হচ্ছে। পাখির ডাকের সঙ্গে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন মাঠে চলছে রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। কৃষক ও শ্রমিকদের মধ্যে যেন দম ফেলার সময় নেই।

একদিকে আমন ধান কাটা চলছে, অন্যদিকে সেই জমিতে আলু রোপণের জন্য হাল চাষের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফলে আমন ধান কাটার পাশাপাশি আলু রোপণের প্রস্তুতির জন্য কাজ করতে পেয়ে শ্রমিকরা ব্যাপক খুশি।

জানা গেছে, অন্যবছরের তুলনায় এবছর রোপা আমন রোপণের শুরু থেকে কৃষকদের ব্যাপক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের ভরা মৌসুম আষাঢ় মাসে তেমন বৃষ্টির দেখা ছিল না। এর ফলে অনেক কৃষক সঠিক সময়ে আমন ধান রোপণ করতে পারেননি। তবে অসময়ে হলেও আমন ধান চাষে বাদ পড়েননি কোনো কৃষক।

যারা আমনের শুরুতে ডিপ মটারের পানি কিনে আমন ধান রোপণ করেছিলেন, তাদের জমির ধান কাটা এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। এখন তারা সেই জমিতে আলু রোপণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ২২ হাজার ৪৩৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ।

কামারগাঁ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, এবারের আমন চাষে কৃষকদের ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আমন চাষের শুরু থেকেই পানির সমস্যা ছিল, তার সাথে পটাশ সারের সংকটও ছিল তীব্র। অনেক কৃষক পটাশ সার ছাড়াই আমন ধান চাষ করেছেন। তবুও আল্লাহর রহমতে ভালো ফলন হয়েছে। ছাঐড় গ্রামের কৃষক আব্দুল বলেন, "কৃষক যে পরিমাণ কষ্ট করে আমন ধান চাষ করেন কিন্তু ধানের দাম না থাকায় কষ্টের দামি উঠে না। সবকিছু দাম বাড়তি অথচ কয়েক বছর ধরে ধানের দামে ধস নেমে আছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষক ধান চাষ করাই ছেড়ে দিবে।" কৃষকের পাশে থাকার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ জানান, রোপা আমনের এই একটি আবাদ কৃষকরা অল্প খরচে বেশি লাভবান হয়ে থাকেন। যদি কোনো দুর্যোগ বালাই না হয়, তাহলে আমনের ফলনও খুব ভালো হয়। কৃষকের আমন ধান চাষে রোগ বালাই না হওয়ার জন্য প্রথম থেকে প্রতিনিয়ত কৃষি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে থেকে তদারকি করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৪ পি.এম


মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি উল্লেখ করেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত দেশের সেবা করে গেছেন। তিনি এয়ারকন্ডিশনের ভেতরে বসে না থেকে গেঞ্জি গায়ে কৃষকের সঙ্গে কোদাল মেরেছেন। তাঁর মৃত্যুর পর বঙ্গভবনের পাশে জনতা ব্যাংক শাখায় ২৪৬ টাকা জমা ছিল। সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্য ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাড়ে তিন বছরের মধ্যে দেশটিকে বিশ্বের বুকে সম্মানের দেশ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর চীন সফরে গিয়েছিলেন এবং চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি বিরল সংবর্ধনা প্রদান করেছিল। এর আগে চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি সৌদি আরবে গিয়ে বলেছিলেন, "আমার দেশ থেকে জনশক্তি নিতে হবে" এবং সৌদি বাদশা রাজি হয়ে যান। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কল্যাণে ৪০ লাখ মানুষ সৌদি আরবে কাজ করছেন। সৌদিতে তাঁর রোপিত নিমগাছ ‘জিয়া গাছ’ নামে পরিচিত।

মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, ৭ ই নভেম্বর বাংলাদেশ জেগে উঠল। সিপাহী ও জনতা মিলে বাংলাদেশে একটি বিপ্লব ঘটেছিল। সেই বিপ্লবের মহানায়ক ছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বাংলাদেশের জনগণ তাঁকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করেন। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়। তিনি গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেন। সব রাজনৈতিক দল পুনর্গঠিত হয় এবং সারা বাংলাদেশে উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দেন, সেখানেই তিনি নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। তাঁর শাহাদাতের পর তাঁর সহধর্মিণী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারাজীবন গণতন্ত্র ও দেশ গঠনের জন্য কাজ করে গেছেন। তাঁদের সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী দেশনায়ক তারেক রহমান দেশ গঠনের জন্য সকাল ৮টা থেকে মধ্যরাত অবধি কাজ করে যাচ্ছেন। মন্ত্রী বলেন, "আমি সখিপুর-বাসাইলসহ সব জায়গায় কাজ করে যাচ্ছি।"

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সখিপুরকে মূল্যায়ন করে সখিপুরকে থানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সখিপুরের পাহাড় কাঞ্চনপুরে বিমান বাহিনী ঘাঁটি স্থাপন করেছেন। ইতিমধ্যে সখিপুর-বাসাইলের অসংখ্য স্কুলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চারতলা ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। ইমাম-মুয়াজ্জিন, মসজিদের খাদেম, মন্দির ও প্যাগোডার পুরোহিতদের জন্য নিয়মিত বেতনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনের জন্য চতুর্দিক থেকে কাজ করে যাচ্ছেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমার এলাকার মানুষ তাদের পুরোনো ভিটেতে ঘর দিতে গেলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বাধা দেন। বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "একজন মানুষকেও আর হয়রানি করবেন না।" সখিপুরের মানুষ আর কোনো হয়রানি সহ্য করবে না। বেআইনি আটিয়া বন অধ্যাদেশ বিলুপ্ত করার জন্য তিনি সংসদে দুবার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, "মনে রাখবেন, দেশটা এখন গণতান্ত্রিক দেশ।" দেশ গঠনের জন্য সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। বিরোধী দলের লং মার্চের বিরুদ্ধে তিনি বলেন, "জ্বালানি তেল খরচ করে বিরোধী দল লং মার্চ করছে।" দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিরোধী দলকে গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য অনুরোধ জানান।

মন্ত্রী বলেন, পতিত পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা গার্মেন্টশিল্পের শ্রমিকের মজুরির নামে নাশকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল। এদের তালিকা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "হাসিনা নাকি ডিসেম্বরে আসছে, আসলে ফাঁসির কাষ্ঠে দণ্ডিত হবে। আসলে তো আসবেনা, দলীয় নেতাকর্মীদের উসকে দিচ্ছে।" তিনি সতর্ক করেন, এ দেশে আর কোনো অরাজকতা হতে দেওয়া হবে না।

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি সখিপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে ডাকবাংলো চত্বরে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. খোরশেদ আলম, সিনিয়র সহসভাপতি মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি আকবর আলী, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. কবির হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার মো. সবুর রেজা, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মীর আবুল হাশেম আজাদ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ফরহাদ ইকবাল, সদস্য সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন, সহসভাপতি বি এম বজলুর রহমান ভূঁইয়া, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবুল, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. আযম, পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজী আব্দুল গনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তানভীর হাসান শহীদ, সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক একাব্বর হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ইমরান খান, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোর্শেদ ইসলাম অন্তরসহ বিএনপির সহযোগী অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

এর আগে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাড. আহমেদ আযম খান এমপি ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, পতাকা উত্তোলন ও উপজেলা হলরুমে আলোচনাসভায় অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

০৫:০৫ পি.এম


রাজবাড়ীতে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচ কর্মী গ্রেপ্তার

রাজবাড়ীর পাংশা থানা পুলিশের একটি অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পাঁচজন সক্রিয় কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, পাংশা উপজেলার বাগমারা গ্রামের সালেক ওরফে সাল্লেক প্রামানিকের ছেলে সাইফুল প্রামানিক (২০), একই গ্রামের আমজাদ ওরফে টিক্কা প্রামানিকের ছেলে ইরান প্রামানিক (২২), মেঘনা (উত্তরপাড়া) গ্রামের রজব মোল্লার ছেলে নয়ন মোল্লা (২০), বাগমারা গ্রামের ফজলুল হক ওরফে ফজলু শেখের ছেলে মোঃ রাব্বি হোসেন (২২) এবং মেঘনা উত্তরপাড়া গ্রামের মোঃ রাজু শেখের ছেলে মোঃ সুহান শেখ ওরফে সোহান (২৩)।

গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৪টার সময় পাংশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলামের নেতৃত্বে পাংশা থানা পুলিশ ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পাংশা থানার মামলার তদন্তে পাওয়া আসামী হিসেবে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে। পাংশা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার বিরোধী বিভিন্ন কার্যকলাপের সাথে সরকারের ভাবমূর্তী ক্ষুন্ন করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারসহ অন্তরঘাঁত মূলক কার্যকলাপের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ধৃতরা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং বিগত সরকারের সময়ে অবৈধভাবে প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

তিনি আরও জানান, ধৃতরা গত ০৭ নভেম্বর ভোরে পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সরকার বিরোধী অন্তর্ঘাত মূলক কার্যক্রমের জন্য একত্রিত হয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। গ্রেপ্তারকৃতদের রবিবার দুপুরে রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এছাড়া, নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম গত শনিবার সকালে নিজের মাকে সাথে নিয়ে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের মেঘনা এলাকায় শেখ হাসিনার মুক্তির দাবিতে একটি মিছিল করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ৫০ থেকে ৭০ জন নেতা কর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৭শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫১
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%