সিরাজুল ইসলাম জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:০৩ পি.এম
কক্সবাজারের উখিয়া থাইংখালীতে অভিযান চালিয়ে পাহাড়ি বালুভর্তি দুটি ডাম্পার জব্দ করেছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উখিয়া রেঞ্জের থাইংখালী বিটের ঘোনারপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান শেষে জব্দ করা ডাম্পার দুটি উখিয়া রেঞ্জ কার্যালয়ের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
উখিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আরাফাত মাহমুদসহ বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। পাহাড়ি বালু পরিবহনের বিরুদ্ধে বন বিভাগের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ ও বনসম্পদ রক্ষায় পাহাড়ি বালুর অবৈধ উত্তোলন ও পরিবহন বন্ধে নিয়মিত নজরদারি এবং কার্যকর অভিযান প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নদীর ওপর প্রায় ৩০০ ফুট দীর্ঘ বাঁশের সাঁকোটি বর্তমানে ভাঙা অবস্থায় রয়েছে। এর মাঝের অর্ধেক অংশ সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে। কিছু মানুষ বুকসমান পানির মধ্যে দিয়ে নদী পার হওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ কেউ সাঁতার কেটে পার হচ্ছেন। ভাঙা অংশের ওপর দিয়ে পার হওয়ার ঝুঁকি নিয়েও কিছু মানুষ চেষ্টা করছেন।
এটি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় অবস্থিত বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীর ওপরের সাঁকো। প্রায় তিন মাস ধরে সাঁকোটি ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে, কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই কারণে নদীর দুই তীরে অবস্থিত আট গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে তারা নিজেদের উদ্যোগে সাঁকোটি মেরামত করতেন, কিন্তু এবারে তা করা হয়নি। এর ফলে বাঁশের পাটাতন ও কাঠামো দুর্বল হয়ে গেছে। প্রায় তিন মাস আগে সাঁকোটির মাঝামাঝিতে অর্ধেক অংশ ভেঙে যাওয়ার পর এলাকার হাজারো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।
সূত্রে জানা যায়, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী এলাকার হকবাজার এবং লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরখারুয়া ও খারুয়া গ্রামের মানুষ ভোগান্তিতে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিনতি রানী বলেন, "মাথায় বাদামের বোঝা নিয়ে বুকসমান পানি মাড়িয়ে নদী পার হচ্ছি। খালি ছবি তোলেন বাহে। দুই-তিন মাস ধরে এত কষ্ট করে নদী পারাপার হচ্ছি, কিন্তু কেউ আমাদের খোঁজ নিতে আসেনি। ছেলে-মেয়েদেরও অনেক কষ্ট করে নদী পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। আমরা আর এ দুর্ভোগ সহ্য করতে পারছি না। দ্রুত সাঁকোটি মেরামত করা হোক।"
স্থানীয় মুদি দোকানি আকাশ মাহমুদ জানান, "এলাকার দেড়-দুই শ শিক্ষার্থী নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বালারহাট আদর্শ স্কুল, বিভিন্ন মাদরাসা ও ফুলবাড়ী কলেজে পড়াশোনা করে। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় তাদের প্রতিদিন অনেক কষ্ট করে নদী পার হতে হচ্ছে।"
বিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী সুমন মিয়া, শাকিব ও সবুজ মিয়া এবং কলেজ শিক্ষার্থী সাইফুল ইসলাম, আব্দুল জব্বার ও মঈনুদ্দিন জানান, সাঁকোটির অবস্থা করুণ। স্কুল-কলেজে যেতে খুব কষ্ট হয়। বিকল্প সড়কও নেই। কখনও সাঁতার কেটে, কখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভাঙা সাঁকো পার হতে হচ্ছে। পারাপারের সময় অনেকেই পড়ে গেছে। বড়রাও দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাহিদ হাসান বলেন, সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার কারণে স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। দ্রুত সেখানে একটি টেকসই বাঁশের সাঁকো নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেনের উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এবং মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুদ্ধের অবসানের প্রাথমিক শর্ত হিসেবে ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের কাছে ৫১ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা বিমান হামলা ও অবরোধের কারণে তারা এই অর্থের দাবি করেছে।
এছাড়া, আনসারুল্লাহকে ইয়েমেনের শাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরামকো স্থাপনা, ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং লোহিত সাগরে চলাচলকারী ট্যাঙ্কারগুলোর ওপর হামলা ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির আশেপাশের ভূখণ্ড দখলের ঘটনার পর রিয়াদ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।
হুথিদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৫১ বিলিয়ন ডলারের এই পরিমাণটি সৌদি আরবের হামলা এবং দীর্ঘস্থায়ী অবরোধের ফলে হওয়া ক্ষতির বিপরীতে চাওয়া হয়েছে। আলোচনা চললেও, সমঝোতার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সূত্র: গালফ নিউজ
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়ে তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় সুনামগঞ্জ শহরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে শহরের জেল রোড এলাকা থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আলফাত স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক হাজী নুরুল মোমেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন তাহিরপুর উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ, দোয়ারাবাজার উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা সফর আলী, ছাতক উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধা তোতা মিয়া এবং মুক্তিযোদ্ধা সন্তান আশরাফুল ইসলাম রাজুসহ অনেকে।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে অসীম সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছেন। তাঁদের অবদান কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। অথচ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর তাঁর দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায়টুকুও যদি সম্মানজনকভাবে নিশ্চিত করা না যায়, তা জাতির জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক।
তাঁরা আরও বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা শুধু তাঁদের পরিবারের দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্র ও সমগ্র জাতির দায়িত্ব। জীবদ্দশায় যেমন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সম্মান নিশ্চিত করতে হবে, তেমনি মৃত্যুর পরও তাঁর প্রাপ্য মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কারণে একজন মুক্তিযোদ্ধার শেষ বিদায় বাধাগ্রস্ত হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সমাবেশে বক্তারা ফিরোজপুরে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। কারা এবং কী কারণে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে বাধা দিয়েছেন, তা তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দায়ীদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানান তাঁরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দেশের কোথাও যেন কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন কিংবা রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল বরণ আচার্য, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক কমান্ডার আব্দুল মজিদ, সদস্য সচিব প্রভাত রঞ্জন তালুকদার, জগন্নাথপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহ সিরাজ কুতুবী, জামালগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল কাদির, দিরাই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার উমুদ রঞ্জন দাস, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সৈয়দ জসিম উদ্দিন এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আতাউর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা।
সমাবেশ থেকে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও মর্যাদার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। মানিক পশারির দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করেন তাঁরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ