০২:৪২ পি.এম
মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা স্থগিত করেছেন, কিন্তু এই অবস্থায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে একটি পোস্টে হেগসেথ বলেছিলেন, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ এতটাই জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কখনো দেখা যায়নি। হেগসেথ জানিয়েছেন, 'বাস্তবতা হলো, প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রস্তুত ছিল এবং এখনও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেখা যায়নি—এমন সর্বোচ্চ প্রস্তুতিতে রয়েছে। আমরা অস্ত্রশস্ত্রে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।'
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, ট্রাম্পের বিবেচনায় থাকা সামরিক অভিযানটি যদি সম্পন্ন হতো, তবে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলা হিসাবে গণ্য হতে পারত। এটি ইরানের জন্য 'বিপর্যয়কর' পরিণতি বয়ে আনতে পারত, এমন মন্তব্যও তিনি করেছেন।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
হেগসেথের এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে উচ্চতর অগ্রাধিকার দেয়ার চেষ্টা করলেও সামরিক প্রস্তুতি কমাচ্ছে না।
সোমবার ইরানে বড় ধরনের সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা শুরু করার কথা বলেন। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, পরিকল্পিত সামরিক অভিযানের মাত্রা সম্পর্কে ইরান অবগত ছিল। তিনি বলেন, 'তারা হামলার মাত্রা সম্পর্কে জানত, কারণ তারা এটি প্রস্তুত হতে দেখেছিল।'
ট্রাম্প আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন কূটনীতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। 'এখন আমরা যা করছি, তা হলো আলোচনার মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। এটি আগামীকাল বিকেলে শুরু হবে এবং এরপর আমরা কী হয় দেখব।'
তবে আলোচনা চললেও চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে রাজি হননি ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, আসন্ন আলোচনায় হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি—দুটি বিষয় গুরুত্ব পাবে। তিনি বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের নেতারা তাকে পরিকল্পিত সামরিক অভিযান বাতিল করার অনুরোধ করেছেন, কারণ তারা মনে করেন যে, কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ এখনও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, আলোচনার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। এরপর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও সমঝোতা হতে পারে, এতে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত মানেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, তার চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘ইরানের পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ’।
সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেখা যাচ্ছে, ওয়াশিংটনের দ্বিমুখী কৌশল ব্যাপকভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সামরিক প্রস্তুতি বজায় রাখছে যুক্তরাষ্ট্র, অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার তদারকি করছে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সামরিক পদক্ষেপ স্থগিত রাখলেও ট্রাম্প ও হেগসেথের বক্তব্যে স্পষ্ট, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের বিকল্প খোলা রেখেছে ওয়াশিংটন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন