ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কাউখালীতে প্রত্যেক জেলে পরিবার পেল ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল অবরোধে সহায়তা বাড়ানোর দাবি জেলেদের


কাউখালীতে প্রত্যেক জেলে পরিবার পেল ২৫ কেজি করে ভিজিএফের চাল অবরোধে সহায়তা বাড়ানোর দাবি জেলেদের

পিরোজপুরের কাউখালীতে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ থাকাকালে জেলে পরিবারের জীবনযাত্রা নির্বাহে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। তবে বরাদ্দের পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।

বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে উপজেলার আমড়াজুড়ি ইউনিয়নে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা ৩১০টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মাঝে এ চাল বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরিবারকে ২৫ কেজি করে মোট ৭ দশমিক ৭৫ মেট্রিক টন চাল দেওয়া হয়।
চাল বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন, আমড়াজুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান, ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশুতোষ বড়াল এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইকবাল হোসেন।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কাউখালী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মোট ১ হাজার ৬৫০টি নিবন্ধিত জেলে পরিবারের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৪১ দশমিক ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে চাল নিতে এসে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জেলেরা। জেলে লিটন সেখ ও সুকুমার বড়াল বলেন, ‘বর্তমান বাজারে দ্রব্যমূল্যের যে ঊর্ধ্বগতি, তাতে ২২ দিনের অবরোধকালে মাত্র ২৫ কেজি চাল দিয়ে একটি পরিবারের সংসার চালানো কঠিন। চালের পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় অন্যান্য পণ্যও কিনতে হয়। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবরোধকালীন সরকারি সহায়তার পরিমাণ আরও বাড়ানো হোক।
এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মা ইলিশ রক্ষায় প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জেলেদের অবরোধকালীন সহায়তার জন্যই সরকার ভিজিএফের চালের ব্যবস্থা করেছে। সুনির্দিষ্ট তালিকা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে চাল বিতরণ করা হচ্ছে। তবে জেলেদের সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর যে দাবি রয়েছে, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জরুরি। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ নিয়মিতভাবে তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করছে।

আরও পড়ুন: মাদারীপুরে খাবারের অভাবে লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে বানর, সংখ্যা কমছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তেজগাঁওয়ে যুবদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩০ পি.এম


তেজগাঁওয়ে যুবদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

ডেঙ্গু প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল রাজধানীর পূর্ব তেজতুরী বাজার এলাকায় পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি আয়োজন করেছে, যা তাদের দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ।

বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসলাম স্বপন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তেজগাঁও থানা যুবদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে ছিলেন।

কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এবং মশার বংশবিস্তারের সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হয়।

নেতাকর্মীরা এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ রোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার, কোথাও পানি জমতে না দেওয়ার এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার আহ্বান জানান।

স্বপন মন্তব্য করেন, "ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের বাসা-বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।"

নেতা-কর্মীরা জানান, যুবদলের এই কর্মসূচির মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডারবান টেস্টে গ্রিনকে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


ডারবান টেস্টে গ্রিনকে পাচ্ছে না অস্ট্রেলিয়া

পচেফস্ট্রুমে অনুষ্ঠিত শেষ ওয়ানডেতে পেটে আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় গ্রিন ডারবান টেস্ট থেকে বাদ পড়েছেন; সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে ফিরলেও তাকে শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে অস্ট্রেলিয়ার।

অস্ট্রেলিয়ার অলরাউন্ডার ক্যামেরন গ্রিন পেটের চোটের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবানে প্রথম টেস্টে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না। তবে সিরিজের পরবর্তী ম্যাচে গকেবেরহা বা কেপটাউন টেস্টে তার ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। ফিরলেও বোলিং করার সম্ভাবনা নেই; আপাতত তাকে শুধুমাত্র ব্যাটার হিসেবে ফিরিয়ে আনার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়া।

পচেফস্ট্রুমে সিরিজের শেষ ওয়ানডেতে করবিন বশের বিপক্ষে মাত্র তিন বলের স্পেল করার সময় গ্রিন পেটে আঘাত পান। সেই ওভারে ছক্কা হজম করার পর তাকে মাঠ ছাড়তে হয় এবং পরে আউট হন। চোটটি ক্রিকেটে বিরল হওয়ায় অস্ট্রেলিয়ার মেডিকেল দল অন্যান্য খেলাধুলায় একই ধরনের চোটের উদাহরণ খুঁজে দেখছে। কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, গ্রিনের পুনর্বাসন ভালোভাবে এগোচ্ছে, তবে এ সপ্তাহে তাকে ধীরে ধীরে বিভিন্ন কার্যক্রমে ফেরানো হবে।

কাঁধের চোটের কারণে আগে থেকেই দীর্ঘ সময় বোলিংয়ের বাইরে থাকা গ্রিনকে এখনই বল হাতে ফেরানোকে ‘খুব বেশি ঝুঁকি’ মনে করছেন ম্যাকডোনাল্ড। তাই ব্যাটার হিসেবে তার প্রত্যাবর্তনই অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের বিপক্ষে আগস্টের সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন গ্রিন এবং গত অ্যাশেজে ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তনের পর ৫ নম্বর পজিশনে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। ম্যাকডোনাল্ডের মতে, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স তার আত্মবিশ্বাসে বড় পরিবর্তন এনেছিল। বল হাতে গ্রিনের ভূমিকা না থাকলেও বিউ ওয়েবস্টার প্রয়োজনে কাছাকাছি ভূমিকা পালন করতে পারেন।

গ্রিনের বদলে ডারবান টেস্টে মূল বিকল্প হিসেবে কুপার কনোলি ও সদ্য দলে ফেরানো নিক ম্যাডিনসন রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিননির্ভর কন্ডিশনের কথা মাথায় রেখে ম্যাডিনসনের স্পিন খেলার দক্ষতাকে তার দলে ফেরার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশে কেশব মহারাজের সঙ্গে সাইমন হারমারকে খেলানোর সম্ভাবনাও রয়েছে, যদিও শুরু থেকেই স্পিনাররা খেলবেন নাকি ম্যাচের পরিস্থিতি অনুযায়ী আসবেন, তা নিশ্চিত নয়।

এদিকে ট্রাভিস হেড ওপেনিংয়ে থাকবেন বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন ম্যাকডোনাল্ড, আর বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬ নম্বরে ব্যাট করা অ্যালেক্স ক্যারিকে এর চেয়ে ওপরে তোলার পরিকল্পনা নেই। ২০২৫ সালের মার্চের পর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট না খেলা ম্যাডিনসনকে ক্যানসারের চিকিৎসার পর দলে ফেরানো হয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, অসুস্থতার আগের বছরগুলোর পারফরম্যান্স বিবেচনায় তার নির্বাচকদের নজর থেকে পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার কথা নয়। চলতি মৌসুমের প্রথম ওয়ানডেতেই সেঞ্চুরি করে তিনি নিজের প্রত্যাবর্তনের জানান দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হকারদের অবস্থান পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩১ পি.এম


হকারদের অবস্থান পরিদর্শনে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম

রাজধানীর ফুটপাত ও প্রধান সড়কগুলোতে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে মাঠে নেমেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন।

আজ বুধবার বেলা ১২টার দিকে তিনি উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার হকারদের অবস্থান সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি অননুমোদিতভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখলকারীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশ দেন।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের কারণে পথচারীদের চলাচলের বিঘ্ন ঘটার খবর পেয়ে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি লক্ষ্য করেন, করপোরেশন অনুমোদিত নির্দিষ্ট স্থান ছাড়াও বেশ কিছু পয়েন্টে হকাররা সড়ক ও পথচারীদের হাঁটার ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসিয়েছে।

অনুমোদিত জায়গার বাইরে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব দোকানপাট দেখে ডিএনসিসি প্রশাসক তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সঙ্গেই তা উচ্ছেদ করার নির্দেশ প্রদান করেন।

পরিদর্শন শেষে উপস্থিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, "কোনো অবস্থাতেই জনগণের চলাচলের পথ অবরুদ্ধ করতে দেওয়া হবে না।"

তিনি নির্দেশ দেন, কেউ যেন পুনরায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে অস্থায়ী দোকান বা পসরা বসাতে না পারে। এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি চালানোর পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। ফুটপাতকে স্থায়ীভাবে দখলমুক্ত রেখে সাধারণ নগরবাসীর স্বস্তি বজায় রাখতে এ ধরনের ঝটিকা পর্যবেক্ষণ ও উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নতুন মুখ নেহা বোরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩২ পি.এম


ভারতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নতুন মুখ নেহা বোরা

ভারতের বাংলায় বিজেপির ক্ষমতায়ন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা এবং সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে চলা সন্ত্রাসী হামলার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন নকশালপন্থি দল সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসার সভাপতি নেহা বোরা। এই তথ্যটি বিবিসি থেকে জানা যায়।

নেহা বোরা চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে তার আন্দোলন শুরু করেন। ভারতে মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা 'নিট'-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে অনশনরত অভিজিৎ দীপকে ও সোনম ওয়াংচুকের পাশাপাশি আরও একটি মুখ নজর কেড়েছিল। তিনি হলেন নেহা বোরা, যিনি ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) এই প্রতিবাদের সমর্থনে তার কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে অনশনে যোগ দিয়েছিলেন।

বিভিন্ন আন্দোলনে নেহা বোরার অংশগ্রহণ

নেহা বোরা যে মূল পার্টির ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, সেই সিপিআই (এমএল) লিবারেশন পার্টির ভারতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা ছয়। এর মধ্যে দুজন বিহারের এবং দুজন ঝাড়খণ্ড রাজ্যের বিধায়ক। এছাড়া, আরও দুজন বিহারের কারাকাট ও আরা সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য।

যদিও ছাত্র সংগঠন আইসা দেশের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় ছাত্র রাজনীতি করে থাকে।

সিজেপি আন্দোলনের পর ফের আলোচনায় আসেন নেহা বোরা, যখন তিনি ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের বিরুদ্ধে ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিতে রাঁচিতে পৌঁছেছিলেন।

সেই সময়ে তার মুখে কালি ছুড়ে মারা হয়। তবে বোরা বলেন, "মুখে কালি ছুড়ে মারলে আমি ভয় পাওয়ার মানুষ নই। দিল্লির আন্দোলনের সময়ে আমি প্যালেট গান এবং লাঠিচার্জেরও মুখোমুখি হয়েছি।"

তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, "তারা কি মনে করেন, কালি ছুড়ে মেরে সারা দেশের ছাত্র-যুবদের ক্ষোভকে দমিয়ে রাখা যাবে?"

এরপর তিনি বিহারে গিয়ে সিজেপির বিক্ষোভের সময়ে গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন করেন। গত কয়েক বছর ধরে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় নেহা বোরা এখন দেশের চলমান যুব ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন।

তার দৃঢ় অবস্থান, স্পষ্টভাষী বক্তৃতা এবং লড়াকু মনোভাবের কারণে নেহা বোরা ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তার বক্তৃতার একাধিক রিল ভাইরাল হয়েছে।

এখন নেহা বোরা আবার দিল্লিতে তার সমর্থকদের নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন।

এবার তিনি এবং তার সমর্থকেরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মাঠে নেমেছেন। একাধিক বিরোধী দলের অভিযোগ, দেশে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের জন্য জ্ঞানেশ কুমার দায়ী এবং এর ফলে কোটি কোটি মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারিয়েছেন।

সম্প্রতি ইংরেজি সংবাদপত্র 'ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস' তাদের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করেছিল যে, এসআইআর প্রক্রিয়াকে ঘিরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।

নেহার পথচলা

নেহা উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। তিনি প্রথমে দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরে আম্বেদকর ইউনিভার্সিটি, দিল্লি থেকে এমএ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির জওহরলাল নেহরু ইউনিভার্সিটিতে (জেএনইউ) পিএইচডি করছেন।

দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জেএনইউ-তে বামপন্থি ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ নেহা বোরা। তাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়।

বর্তমানে তিনি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গণআন্দোলন ও বামপন্থি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হিসেবে ক্রমশ উঠে আসছেন।

পথে নেমেই পথ চিনেছেন নেহা

গত মাসে ফ্রন্টলাইন পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোরা বলেছিলেন, "যন্তর-মন্তরেও বিপুল সংখ্যক পোস্টার লাগানো হয়েছিল। সেখানে লেখা ছিল, 'আপনারা গডসেকে বিশ্বাস করেন, আমরা ভগৎ সিংকে বিশ্বাস করি। এটাই আপনার এবং আমার মধ্যে মৌলিক পার্থক্য, আর সেই কারণেই আপনাদের ক্ষমতা ছাড়তে হবে।' মানুষ বারবার বলছিল যে, যারা গডসেকে বিশ্বাস করে, তারা এই দেশ শাসন করবে না।"

তিনি আরও বলেছিলেন, "এখানে আরএসএস-এর সেই সংস্কৃতির কথা বলা হচ্ছিল, যা দেশের মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।"

নেহা বোরা এমন একটি পরিবারে জন্ম নিয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির সমর্থক। ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, "আমার নিজের পরিবারেই বিজেপির কট্টর সমর্থক রয়েছেন এবং আমাদের বাড়িতে এ নিয়ে বড় ধরনের মতপার্থক্য ছিল। আমি যখন থেকে দিল্লিতে এসেছি এবং রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হয়েছি, তখন থেকেই বাড়িতে এই মতপার্থক্য চলছে।"

নেহা বোরা মনে করেন, সিজেপি আন্দোলনের গুরুত্ব শুধু ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে সীমাবদ্ধ নয়।

তিনি বিশ্বাস করেন, তরুণ প্রজন্ম এই আন্দোলন থেকে শিখেছে যে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বদলে একে অপরের জন্য লড়লে পরিবর্তন আনা সম্ভব।

তিনি চান, যন্তর-মন্তর আন্দোলন থেকে যে শক্তি ও উদ্দীপনার জন্ম হয়েছে, তা যেন এসআইআর, নির্বাচনক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন), শ্রমিকদের অধিকার এবং নারীদের সংরক্ষণের মতো অন্যান্য বিষয়ক আন্দোলনেও ছড়িয়ে পড়ে।

তার কাছে এই আন্দোলন গণতন্ত্র এবং দেশের গণতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক ও ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামো রক্ষার বৃহত্তর সংগ্রামের একটি অংশ।

গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে একটি আলোচনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে নেহা বোরার তুলনা করে মানুষ বিতর্ক শুরু করেছেন, যে কে বেশি 'ম্যাচিউর'।

এক্স-এ এক ইউজার, অ্যামক, নেহা বোরার ছবি পোস্ট করে লিখেছিলেন, "ম্যাচিউরিটি হলো, যখন আপনি বুঝতে পারবেন যে নেহা বোরা অভিজিৎ দীপকের চেয়ে বেশি প্রতিভাবান। তিনি জেন-জি প্রজন্মের একেবারে আইকন, আর তার স্টাইল ও ব্যক্তিত্ব দুর্দান্ত।"

এই পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করে অভিজিৎ দীপকে নিজেই লিখেছিলেন, "আমি এর সঙ্গে একমত।"

এই পোস্টের কিছুক্ষণ পরই নেহা এক্স-এ লিখেছিলেন, "তুলনা নয়, সংহতি। আমরা একসঙ্গে লড়ি।"

এর জবাবে অভিজিৎ লিখেছিলেন, "ইনকিলাব জিন্দাবাদ।"

সিজেপি-র আন্দোলনের সময়ে যন্তর-মন্তরে এক বিক্ষোভে বক্তৃতা দিতে গিয়ে নেহা বোরা নিজেও বলেছিলেন যে দীপকে বিনয়ী, অন্যদের পরামর্শ গ্রহণ করতে প্রস্তুত থাকেন এবং তিনি আন্দোলনকারীদের এই উপলব্ধি করিয়েছেন যে, তিনিও তাদের মতোই এই সংগ্রামের এক ছাত্র ও সহযোদ্ধা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%