০৩:৫৩ পি.এম
প্রায় তিন বছর দায়িত্ব পালনের পর নিউজিল্যান্ডের রাজধানী ওয়েলিংটনের উদ্দেশ্যে কায়রো ছাড়লেন বাংলাদেশে মিশরের বিদায়ী রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৮শে জুলাই) সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ দূতাবাসে ব্যক্তিগত উদ্যোগে একটি বিদায়ী নৈশভোজের আয়োজন করা হয় তার উদ্যোগে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কমিউনিটির সদস্য, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে বাংলাদেশ কমিউনিটির একাধিক সূত্রের দাবি, আমন্ত্রিত কমিউনিটির কোনো সদস্য ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেননি।
এরপর বৃহস্পতিবার (৩০শে জুলাই) বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে রাষ্ট্রদূতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত করমর্দনের অপেক্ষা, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনও হয়নি
যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী ড. ইরফান। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, অনুষ্ঠানে বিদায়ী বক্তব্যকালে কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী গত তিন বছরে রাষ্ট্রদূতের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারি বিধি-বিধানের পরিবর্তে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, বিকল্প মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। এছাড়াও অসৌজন্যমূলক আচরণ, স্বেচ্ছাচারীভাবে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা এবং স্বৈরাচারী কায়দায় দূতাবাস পরিচালনার অভিযোগও উত্থাপিত হয়। এসমস্ত অভিযোগের কারণে রাষ্ট্রদূত সামিনা নাজ ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেন। পরে তিনি বিদায়ী উপহার গ্রহণ কিংবা নৈশভোজে অংশ না নিয়েই অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
রোববার (২আগষ্ট) রাষ্ট্রদূতের কায়রো মিশনে শেষ কর্মদিবস থাকলেও তিনি দূতাবাসে আসেননি।
এদিকে রাষ্ট্রদূতের বিদায় নিয়ে মিশরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তির প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একই সাথে তার দায়িত্বকাল জুড়ে দূতাবাসের সেবার মান, প্রশাসনিক আচরণ এবং বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘদিন আলোচনা উঠে এসেছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ভিয়েতনাম থেকে বদলি হয়ে কায়রোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব নেন সামিনা নাজ। তার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দূতাবাসের নিয়মিত কনস্যুলার সেবায় অস্বাভাবিক ধীরগতি ও প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ উঠে এসেছে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশির। তারা দাবি করেছেন, সাধারণ প্রবাসী, শিক্ষার্থী, শ্রমিক এবং জরুরি সেবা নিতে আসা নাগরিকদের নানা কাজে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আরও পড়ুন: ফরিদপুরে ট্রাক উল্টে পড়ে চ্যাপ্টা প্রাইভেটকার, মা-ছেলে প্রাণ হারালেন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠিপত্র, নথি অ্যাটেস্টেশন, জন্মনিবন্ধন সংশোধন, বিভিন্ন নথির সত্যায়ন, পাসপোর্ট-সংক্রান্ত সেবা, নাম সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রমে মাসের পর মাস বিলম্ব হয়ে গেছে। অনেক আবেদনকারীকে নথি ঢাকায় পাঠানোর অজুহাতে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়েছে এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে বাংলাদেশ দূতাবাস কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মিশরে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, গত কয়েক বছরে দূতাবাসের সেবার মান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠে এসেছে, সেগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক। তাদের প্রত্যাশা, নতুন রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ দূতাবাসে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, মানবিক এবং সেবাকেন্দ্রিক পরিবেশ তৈরি হবে। পাশাপাশি অতীতের অভিযোগগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন