১০:৫২ পি.এম
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের রেলওয়ের অধিগ্রহণের ভূমি দখল করতে এবং বিভিন্নরকম স্থাপনা তৈরীতে লিপ্ত হয়েছে কিছু সংখ্যক কুচক্রের লোকজন। রেলওয়ের ভূমি নামে মাত্র লিজ দেখিয়ে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেছে রাসেল মিয়া ও সেলিম রেজা নামের একটি কুচক্রী মহল। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রম থেমে নেই। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যখন লিজ বাতিল করে দেয়, তখন কানুনের প্রতি কোন শ্রদ্ধা না দেখিয়ে রাসেল মিয়া ও সেলিম রেজা নিজেদের নামে লিজ থাকার দাবি করেন। বর্তমানে হাইকোর্টে বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। হাইকোর্টের আদেশের আগেই তারা আপিল বিভাগে আপিল করেছেন, কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের আপিল বিভাগ তাদের আপিলটি খারিজ করে দিয়েছে। এরপরও তারা থেমে নেই। রাসেল মিয়া ও সেলিম রেজার কুচক্র মহলের কার্যক্রম চলমান, তারা জনসমাজে বিভিন্নভাবে প্রচার করে চলেছে যে, মহামান্য হাইকোর্ট তাদেরকে স্থাপনা নির্মাণ করতে রায় দিয়েছেন। এর পাশাপাশি তারা পাঁচ্চর বাজারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে কথিত লিজের গল্প বানিজ্য করে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রশাসনের কোন বাধার সম্মুখীন হতে পারেননি রাসেল মিয়া ও সেলিম রেজার প্রভাবের কারণে। সাবেক ফ্যাসিস্ট সরকারের আশ্রয়ে বেড়ে উঠা এরা বর্তমানে যথাযথভাবে ফুলে ফেপে উঠছে। বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহলে এমপি ও মন্ত্রীর সাথে আতাত করে নিজেদের নামে ভূয়া বসস্থিতির জমি নিয়ে কৃষি লিজ নেয় এবং পরে সেখানে বানিজ্যিক দোকান নির্মাণ করে। মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ ও রেলওয়ের কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তারা তাদের কর্মকাণ্ড নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় সূত্র মতে, বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগের ছত্রছায়ায় এরা দেশের বিভিন্ন জেলার টেন্ডার বাজি করছিলো এবং এখন সরকার অধিগ্রহণের ভূমি দখলের পাশাপাশি ভূয়া কাগজপত্র দেখিয়ে নামমাত্র লিজ বানিজ্য সম্প্রসারণ করছে। জমির মালিকানা কাগজ না থাকা সত্ত্বেও পল্লী বিদ্যুত থেকে তারা বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ নিতে সক্ষম হয়েছে। বিদ্যুৎ অফিসের সাব জোনাল ম্যানেজার এবিষয়ে উত্তর দিতে পারেননি। সন্ন्यासীর চর জোনাল অফিসের কর্মচারীর বক্তব্য, অনলাইনের আবেদনের ওপর ভিত্তি করে সরেজমিন তদন্ত করে মিটার সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে কিন্তু জমির কাগজপত্র তারা ভালোভাবে বুঝতে পারেনি। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ মিটার সংযোগ নিতে অন্যান্য গ্রাহকদের কাগজ সঠিক থাকা সত্ত্বেও অনলাইন আবেদন পাস হচ্ছে না। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, রেলওয়ের অধিগ্রহণের ভূমির মালিকানা কাগজ না থাকা সত্ত্বেও পল্লী বিদ্যুৎ কিভাবে মিটার সংযোগ প্রদান করেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কাছে ওই ভূমিতে কোন ধরনের নোটিশ বা জরুরি সতর্কতার কোন ধরনের ব্যানার পোস্টার আসেনি। ঘটনা স্থলে গিয়ে দেখা যায়, লিজ গ্রহণ কর্তৃপক্ষ তাদের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশ দিয়েছে রাসেল মিয়া ও সেলিম রেজার নাম। তাহলে কি তারা মহামান্য হাইকোর্টের আদেশের ঊর্ধ্বে নিজেদের তৈরি আদেশকে সমাজের জনগণের সামনে প্রতিফলিত করছে?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন