০২:৪১ পি.এম
তুরস্কের বিনিয়োগ তহবিলের কেলেঙ্কারির তদন্তের প্রেক্ষিতে দেশটির সাবেক মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন একে পার্টির জ্যেষ্ঠ নেত্রী ফাতমা বেতুল সায়ান কায়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। শুক্রবার ভোরে এ আদেশটি জারি করা হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এবং দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কায়া সেপ্টেম্বর মাসে দলের উপপ্রধানের পদ ত্যাগ করার পর একে পার্টি থেকেও পদত্যাগ করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, বিনিয়োগ তহবিলে সংকটের সূচনার ঠিক আগে শেয়ার বিক্রি করে তিনি উল্লেখযোগ্য মুনাফা অর্জন করেন। ওই সংকটের কারণে তুরস্কের শেয়ারবাজারে ব্যাপক দরপতন ঘটে।
আনাদোলুর রিপোর্ট অনুযায়ী, ইস্তাম্বুলের একটি আদালত কায়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে, যা হলো পুঁজিবাজার আইন লঙ্ঘন এবং অপরাধের উদ্দেশ্যে গঠিত একটি সংগঠনের সদস্য হওয়া।
আরও পড়ুন: আমাজন রেইনফরেস্টে প্রায় ১২ হাজার ৬০০ বছরের প্রাচীন শিলাচিত্র, আট মাইল বিস্তৃত ‘প্রাচীনকালের সিস্টিন চ্যাপেল’
ইস্তাম্বুলের প্রধান আইনজীবীর কার্যালয়ের অর্থপাচার তদন্ত বিভাগে জিজ্ঞাসাবাদের পর কায়ার বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই মামলায় তার স্বামী ইলিয়াস কায়াকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে আদালতের শর্ত অনুযায়ী, তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
আইনজীবীর অভিযোগ অনুযায়ী, কায়ার কাছে পুঁজিবাজারে লেনদেন হওয়া বিভিন্ন আর্থিক পণ্যের দাম বা মূল্যকে প্রভাবিত করতে সক্ষম এমন গোপন তথ্য ছিল। আনাদোলুর প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, সংকটের কেন্দ্রে থাকা একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা এমরে তেজমেনের সঙ্গে কায়ার যোগাযোগ ছিল, যা তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রধান বিরোধী দল ইয়েনি পার্টির এক মুখপাত্র অভিযোগ করেন, কায়া ও তার স্বামী বিনিয়োগ বিক্রি করে প্রায় ২১৭ কোটি লিরা বা ৪ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার ডলার উপার্জন করেছেন। তাদের মোট ১৬ কোটি ৩০ লাখ লিরা বা ৩২ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বিনিয়োগ বিক্রির মাধ্যমে এই অর্থ অর্জিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে এসব বিনিয়োগ বিক্রি করা হয়েছিল, যার বেশির ভাগই ছিল জাহাজ নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ওজাতা দেনিজিলিকের শেয়ার। এপ্রিলের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি শেয়ারের দাম ছিল প্রায় ২২০ লিরা, যা ১৫ সেপ্টেম্বর বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৯৮০ লিরায়। অর্থাৎ, বিনিয়োগ তহবিল খাতে অস্থিরতা শুরুর আগেই শেয়ারটির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছিল।
আরও পড়ুন: ইরানে কবে হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র, জানা গেল ৯ নভেম্বর তারিখ
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের সন্দেহ, কম লেনদেন হওয়া কয়েকটি শেয়ারের দাম কারসাজির মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছিল, যার ফলে বাজারে নগদ অর্থের সংকট তৈরি হয়। ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে এসব শেয়ারের দাম দ্রুত কমতে শুরু করে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন