বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০১:৫৮ পি.এম
ঝালকাঠিতে আজ সকালে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সচেতনতামূলক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন এবং জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহযোগিতায় এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তৃতায় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন।
সভাটি সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. বশির গাজী। এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আনজুমান নেছা, বিভিন্ন দোকান মালিক, ব্যবসায়ী, মাছ বিক্রেতা, বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
সভায় আলোচনা হয় নিষিদ্ধ পলিথিন শপিং ব্যাগের ক্ষতিকর প্রভাবগুলো, পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে। পাশাপাশি পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন উপায় নিয়েও আলোচনা করা হয়। বক্তারা পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের উপরও গুরুত্বারোপ করেন।
বক্তাদের মতে, পলিথিন ব্যবহারের ফলে জলাবদ্ধতা, মাটি ও পানি দূষণসহ পরিবেশের একাধিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই তারা সমর্থন জানান যে, শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকে পলিথিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করা জরুরী। নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে ব্যবসায়ী এবং ভোক্তা উভয়স্তরের সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যে ভিশন রয়েছে, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সফররত মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতা এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি রাষ্ট্রদূত অতুল কেশপ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের অতুল কেশপ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং তার সরকারের উষ্ণ অভ্যর্থনায় আমরা সত্যিই আনন্দিত।’ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ২৫টি কোম্পানির ৫০ জন ব্যবসায়িক নির্বাহী এই প্রতিনিধিদলে রয়েছেন। বাংলাদেশে সর্বোচ্চ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হতে পেরে মার্কিন কোম্পানিগুলো অত্যন্ত গর্বিত।
বৈঠকের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন আমরা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে শুনেছি। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশের ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার যে লক্ষ্য রয়েছে, আমরা তাতে বিশ্বাস করি।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা মনে করি, এই দেশের মানুষের যে মেধা ও সম্ভাবনা রয়েছে, সেটা কাজে লাগিয়ে আমেরিকার প্রাইভেট সেক্টর বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সরবরাহের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।’
সরকারের পক্ষ থেকে অত্যন্ত ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন উল্লেখ করে অতুল কেশপ বলেন, ‘সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামষ্টিক অর্থনীতির সূচকগুলো ঠিক রাখার বিষয়ে সরকারের বার্তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই ইতিবাচক বার্তাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের কোম্পানিগুলো এবং ইউএস চেম্বার অব কমার্সের কাছে পৌঁছে দেব।’
অতুল কেশপ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে মার্কিন কোম্পানিগুলো গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই অংশীদারত্ব ভবিষ্যতেও সরকার ও জনগণের সঙ্গে অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পত্নীতলায় একটি যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় শ্যামল তিগ্গা (৪০) নামের একজন মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নজিপুর-ধামইরহাট আঞ্চলিক সড়কের বিজিবি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শ্যামল তিগ্গা পত্নীতলা উপজেলার আকবরপুর ইউনিয়নের রায়তারা এলাকার বিরশা তিগ্গার ছেলে হিসেবে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে শ্যামল তিগ্গা পার্শ্ববর্তী সড়ক থেকে প্রধান সড়কে উঠছিলেন। ঠিক সেই সময় দ্রুতগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তার মোটরসাইকেলটিকে জোরালোভাবে ধাক্কা দেয়। এর ফলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন। আশপাশের লোকজন তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত উদ্ধার করেন এবং পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুরো বিষয়টির ওপর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর মরদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সৌদি আরবের সঙ্গে বিমান চলাচলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সাপ্তাহিক ৪৯টি ফ্লাইট থেকে বাড়িয়ে ৮৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদরদফতরে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।
তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, সাপ্তাহিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের অনুমোদিত সংখ্যা ৪৯ থেকে বৃদ্ধি করে ৮৪ করা হয়েছে। পাশাপাশি সপ্তাহে ২১টি কার্গো ফ্লাইট, পঞ্চম স্বাধীনতা ট্রাফিক অধিকার, কোড-শেয়ারিং, কো-টার্মিনালাইজেশন ও উড়োজাহাজ লিজিংয়ের সুযোগও রাখা হয়েছে।
তিনি এ তথ্য আরও বিশদে বর্ণনা করে জানান, নতুন সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মনোনীত এয়ারলাইন্সগুলো প্রতি সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৮৪টি যাত্রীবাহী ফ্লাইট পরিচালনা করার সুযোগ পাবে। এর আগে চলাচলকারী ফ্লাইটের সংখ্যা ছিল ৪৯। অর্থাৎ সপ্তাহে অতিরিক্ত ৩৫টি ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বেবিচক চেয়ারম্যান আরও জানান, নতুন এই সমঝোতা শুধুমাত্র ফ্লাইট সংখ্যার বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে যাত্রী পরিবহন, হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা, প্রবাসী যোগাযোগ, কার্গো পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং এয়ারলাইনগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষার দাবিতে ফ্রান্সের অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও দ্বিচারিতা’ বলে বর্ণনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে ফ্রান্সের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে ফ্রান্সের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেন দেশটির নৈতিক অবস্থান নিয়ে।
ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কালাস যখন ইরানে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় নিন্দা জানান, তখন আরাগচি এ প্রতিক্রিয়া জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি উল্লেখ করেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে অন্যান্য দেশগুলোকে জ্ঞান দেয়ার আগে ফ্রান্সের উচিত নিজেদের অবস্থান পর্যালোচনা করা। তিনি ফ্রান্সের এমন অবস্থানকে ‘নির্লজ্জ ও বিব্রতকর দ্বিচারিতা’ বলেও আখ্যায়িত করেন।
আরাগচি আরও বলেন, গাজায় ইসরায়েলের ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডে’ ফ্রান্সের সমর্থন এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনে তাদের ভূমিকা ফ্রান্সের কথিত নৈতিক অবস্থানকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে।
তার এই বক্তব্যটি আসে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বিবৃতির পর। ওই বিবৃতিতে ফ্রান্সসহ ২৬টি দেশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান ইরানে প্রতিবাদকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা ইরানকে মৃত্যুদণ্ডের প্রয়োগ বন্ধ করার আহ্বান জানান এবং যাদের ‘বিচারবহির্ভূতভাবে আটক’ করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাদের মুক্তি দেওয়ার জন্য জোর দেন।
তবে, ইরানের পক্ষ থেকে ফ্রান্সের এই সমালোচনাকে দ্বৈত নীতির উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়েছে। তেহরান অভিযোগ করেছে, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের রক্ষক হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করলেও, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ভয়াবহ পরিণতির মধ্যেও ফ্রান্স তার সমর্থন অব্যাহত রাখা অব্যাহত রেখেছে। একসাথে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সময় ফ্রান্সের অংশগ্রহণও ইরানবিরোধী ছিল।
তেহরান পূর্বে বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর অন্যদের নৈতিক শিক্ষা দেওয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, যদি তারা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত না করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনকে সমর্থন করে। তথ্যসূত্র: তাসনিম নিউজ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ