০৩:৩৯ পি.এম
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক কিশোরকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যার পর সেই ঘটনায় অভিযুক্ত আরেক যুবককে পিটিয়ে হত্যার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম ইরানের (৪৫) ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাটেরখীল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরের নাম নাঈম (১৫) এবং নিহত ইরান ওই এলাকার নুরুল হকের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকার নুরুল ইসলাম ইরান একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। তার কিছু ইয়াবা তার এক সঙ্গী হারিয়ে ফেলেন।
আরও পড়ুন: নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার জন্য স্বজনদের দীর্ঘ অপেক্ষা
এসব খুঁজতে শুরু করলে সঙ্গী জানান, ইয়াবাগুলো এলাকার কিশোর নাঈম (১৫) ও এমরানের (২০) কাছে আছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ইরান তার দলবল নিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) রাতে নিজবাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নাঈম ও এমরানকে ব্যাপকভাবে মারধর করেন।
নাঈমকে পিটিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে চামড়া ও নখ তুলে পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় নিজবাড়ির সামনে ফেলে যান ইরান। এছাড়া একই সময়ে এমরানকে মারতে থাকলে তার বাড়ির লোকজন এমরানের প্রাণ ভিক্ষা চান।
এতে তিনি টাকা দাবি করলে তাকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে এমরানকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। সেই থেকে নাঈম ও এমরান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে নাঈম মারা যায়।
এদিকে, গত শনিবার বিকেল ৫টায় নাঈমের জানাযায় মাইকে গ্রামবাসী ঘোষণা করে যে তারা এরকম অত্যাচার মেনে নেবেন না। এতে পাল্টা হুমকি হিসেবে ইরান কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন।
আরও পড়ুন: মুন্সীগঞ্জ ডিসি অফিসে সোলার প্যানেলে উৎপাদন হবে ৮০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে চার গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে ইরানকে খুঁজে বের করে পিটিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং তার ১০-১২টি আস্তানা গুড়িয়ে দিয়ে তার ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়।
নিহত নাঈমের চাচা মো. ফারুক জানান, নাঈম খুবই দরিদ্র পরিবারের ছেলে কিন্তু ভালো ছেলে। ইরানের কিছু ইয়াবা হারিয়ে গেলে তার এক সঙ্গী নিজে বাঁচতে বলেন যে—ইয়াবাগুলো নাঈম ও ইমরানের কাছে আছে। এতে তিনি নাঈম ও এমরানকে তুলে নিয়ে গিয়ে অত্যাচার শুরু করেন। এক পর্যায়ে নাঈমের নখ ও চামড়া তুলে নেওয়া হয়। এতে গুরুতর আহত হলে তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যান তারা।
এমরানের মা হাসিনা বেগম জানান, ৩০ হাজার টাকা দিয়ে ইরানের হাত থেকে এমরানকে উদ্ধার করে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. মহিনুল ইসলাম বলেন, ‘নাঈম হত্যার ঘটনায় শনিবার থানায় একটি মামলা হয়েছে। এরপর নাঈমের জানাযা শেষে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ইরানকে হত্যা করে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া ইরানের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত অন্যান্য ১০-১২টি ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে এলাকাবাসী।
আরও পড়ুন: শীতের আগমনে গফরগাঁওয়ে প্রস্তুতির ধুম, বাজারে শীতকালীন পণ্য আসছে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন