০৮:৪০ পি.এম
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের ইস্যুতে বর্তমান চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সমর্থকেরা মধ্যে একটি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এই সংঘর্ষ দফায় দফায় প্রায় ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে নির্বিচারে টিয়ারশেল ছোড়ার প্রয়োজন পড়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর 'অপারেশন ডেভিল হান্ট' চলাকালে বড়ইউড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহমদ গ্রেফতার হন। তার অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন প্যানেল চেয়ারম্যান ও যুবদল নেতা মিজানুর রহমান কপিল। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ফরিদ আহমদ সম্প্রতি জাতীয় নির্বাচনের পর জামিনে মুক্তি পান। মুক্তি পেয়ে তিনি পুনরায় ইউপি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান কপিল তাতে তীব্র আপত্তি জানান। এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ও বিরোধ বিরাজ করছিল।
আজ সোমবার সকালে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায়। এদিন ইউনিয়ন পরিষদে সরকারের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে নগদ অর্থ ও চাল বিতরণের আয়োজন ছিল। এই অনুষ্ঠানে মূল চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ উপস্থিত হয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার
একপর্যায়ে ফরিদ আহমদ এবং মিজানুর রহমান কপিলের মধ্যে সরাসরি তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর ফলে ফরিদ আহমদের সমর্থকরা নোয়াগাঁও ও কদুপুরসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম থেকে আসেন এবং কপিলের সমর্থকেরা হলদারপুর গ্রামের লোকজন নিয়ে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে মুহূর্তের মধ্যে পুরো ইউনিয়ন পরিষদ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়ে যায়।
ইউপি কার্যালয়ে উপস্থিত একজন প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক বলেন, 'ত্রাণ বিতরণের সময় হঠাৎ দুই নেতার মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। কিছুক্ষণ পরেই চারপাশের গ্রামের মানুষ লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পুরো পরিষদ এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।'
সংঘর্ষের খবর পেয়ে বানিয়াচং থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরিস্থিতি চরম রূপ নিলে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ভয়াবহ সংঘর্ষে আহত অর্ধশতাধিক মানুষেরকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালসহ আশেপাশের নানা চিকিৎসাকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।
বানিয়াচং সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রবাস কুমার সিংহ বলেন, 'চেয়ারম্যান এবং প্যানেল চেয়ারম্যানের মধ্যে পূর্ববিরোধ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের ফলশ্রুতিতেই মূলত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত এবং পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
আরও পড়ুন: বৃহস্পতিবার সিলেটের কিছু এলাকায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন