প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বিএনপি সরকারের শাসনের প্রথম ১০০ দিনে হত্যাকাণ্ড, অপহরণ, ছিনতাই, ডাকাতি এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, এসব পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা নাজুক ও বেদনাদায়ক হয়ে পড়েছে।
আজ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেওয়া নোটিশের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা এই মন্তব্য করেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে অপরাধের গ্রাফ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে মার্চ ও এপ্রিল মাসে দেশে ৬০৫টি খুন, ২৯৪টি ছিনতাই, ৯০টি ডাকাতি এবং ১৯৬টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একইসাথে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ছিল ১২৯টি এবং চুরির ঘটনাও ঘটেছে ২ হাজার ২১৪টি।
নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি জানান, আলোচিত তিন মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৩ হাজার ৪৯৬টি। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৮ থেকে ১০২ জন, দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার ৩০ থেকে ৩৬ এবং ধর্ষণের শিকার শিশুর সংখ্যা ৪৯ থেকে ৭১ জন। এই সকল পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দেয় যে গত তিন মাসে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবস্থা কতটা নাজুক ও ভয়জনক।
সরকারের সাফল্য ও ব্যর্থতার মূল্যায়নে অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে মানদণ্ড হিসেবে গণ্য করা হয় জানিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এই সরকারের অর্থনীতি ও আইন-শৃঙ্খলা- এই দুটি বিষয়ের উপরেই সরকারের ৫০ ভাগ সফলতা অথবা ব্যর্থতা নির্ভর করবে, আর বাকি ৫০ ভাগ অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ওপর নির্ভর করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত থাকলে তাঁর ব্যর্থতার বিশদ বিবরণ আরও সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা যেত।
বিএনপির একসময়ের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বক্তব্যের শুরুতে সংসদকক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর খালি আসনের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘সামনে তাকিয়ে দেখলাম তার আসনটি খালি, অর্থাৎ তিনি উপস্থিত নেই। কী আর করা, তার অনুপস্থিতিতেই বলি।’
এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ আজ সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো।
টিআইবির যে পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে রুমিন ফারহানা সংসদে কথা বলেছেন, তা নিয়ে মন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘টিআইবি রিপোর্ট করে পত্রিকার কাটিং থেকে। তারা কোনো তদন্ত করে না।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন