০৬:৫১ পি.এম
বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে বেলজিয়ামের সাথে গোল শূন্য ড্র করেছে ইরান। এর ফলে নকআউট পর্বে তাদের সম্ভাবনা এখনও টিকে আছে। তবে এর সঙ্গে ঘটে গেছে একটি ভিন্ন ঘটনা।
ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ইরানকে ‘আবারও কঠোরভাবে আঘাত করার’ হুমকি দেন।
ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের কারণে তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেয়।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ: জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর জানিয়েছে, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে ইরানের ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন ইরান যুদ্ধের অল্প সময় পর মিনাবের একটি স্কুলে মার্কিন বিমান হামলায় নিহত ১৬৮ জনের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়। ওই হামলায় নিহতদের অধিকাংশই ছিলেন শিশু।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান; ইরানের আত্মা আজও জীবন্ত ও অটল। আমরা গর্বের সাথে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি। আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ, লস অ্যাঞ্জেলেস।’
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছিল, ‘ধন্যবাদ প্রত্যেক ইরানিকে, যারা এই ১৮০ মিনিটজুড়ে (লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের খেলা দুটি ম্যাচ) ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ ও আত্মা উজাড় করে দিয়েছেন। বিশ্বের সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান ও বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত হোক।’
চিঠির সঙ্গে ‘#168’ এবং ‘#Minab’ হ্যাশট্যাগও উল্লেখ করা হয়েছিল, যা ওই বিমান হামলার স্মরণ করিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা
মিনাবে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর এটি ছিল ইরানি ফুটবলারদের দ্বিতীয় উদ্যোগ। বিশ্বকাপে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর সময়ও খেলোয়াড়দের ব্লেজারে ‘#168’ লেখা বিশেষ পিন দেখা যায়।
এদিকে পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই ইরান দল ও মার্কিন কর্তৃপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন অভিযোগ করেন, ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ সেজে একজন ব্যক্তি দলের সদস্য হিসেবে লস অ্যাঞ্জেলেসগামী বিমানে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর সরাসরি যোগাযোগ ছিল। তবে ওই ব্যক্তিকে বিমান যাত্রার আগে আটক করা হয়।
তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশন এসব অভিযোগকে মিথ্যা বলে আখ্যা দেয় এবং দাবি করে, বিশ্বকাপ চলাকালে দলকে অস্থির করার উদ্দেশ্যে এমন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
ইরানের প্রধান কোচ আমির ঘালেনোয়ি জানিয়েছেন, যাতায়াতজনিত সমস্যার কারণে তাকে অনুশীলনের সময় অর্ধেকে নামিয়ে আনতে হয়েছে। তার অভিযোগ, প্রতিটি ম্যাচের পরে দলকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে এবং স্টেডিয়ামের কাছাকাছি হোটেলে থাকার পরিবর্তে তাদের মেক্সিকোর তিহুয়ানায় অবস্থিত বেসক্যাম্পে ফিরে যেতে হচ্ছে। এতে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ও বিশ্রামে প্রভাব পড়ছে।
আরও পড়ুন: চীনে পাচারের চেষ্টা, ১২ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নারী উদ্ধার
সূত্র: দ্য মিরর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন