ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

মদিনায় ১১৪ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ খনিজের সন্ধান সৌদি আরবের


মদিনায় ১১৪ মিলিয়ন টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ খনিজের সন্ধান সৌদি আরবের

সৌদি আরব মদিনা অঞ্চলে প্রায় ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক আবিষ্কারের দাবি করেছে। দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুলআজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনার জাবাল সায়িদ প্রকল্প এলাকায় অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক জরিপের মাধ্যমে এই আকরিক খুঁজে পাওয়া গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন গণমাধ্যম মন্ত্রীর বরাত দিয়ে এই তথ্য জানায়।

সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আকরিকে ভারী বিরল খনিজ পদার্থের উচ্চ ঘনত্ব রয়েছে। পাশাপাশি এতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ইউরেনিয়ামের উপস্থিতিও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সৌদি আরব এখন তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। সেই লক্ষ্যে দেশটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা করছে। এই আবিষ্কারকে সেই প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচির আওতায় দেশে ইউরেনিয়াম উত্তোলন ও বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার মধ্যে সৌদি আরবের এই ঘোষণা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দেশটির সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা রয়েছে। সৌদি মাটিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকায় দেশটি ইরানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও বিবেচিত। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের তৎপরতায় লোহিত সাগরে সৌদি আরবের সামুদ্রিক যোগাযোগও চাপে পড়েছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উদ্বেগও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পেছনে একটি বড় কারণ। তারা দাবি করছে, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির মাধ্যমে অস্ত্র তৈরির দিকে এগোচ্ছে। তবে তেহরান সবসময় বলে আসছে, তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যে।

মদিনায় ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক আবিষ্কারের এই দাবি এমন সময়ে এল যখন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা জোরদার হয়েছে। গত জুলাইয়ে দুই দেশ একটি দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তির পাশাপাশি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি তৈরির একটি চুক্তিও সই করেছে। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিগুলো সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি তৈরিতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে সৌদি আরব সরাসরি মার্কিন তদারকি ছাড়াই নিজের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ পাবে।

তবে মদিনায় পাওয়া আকরিকে ঠিক কতটুকু ইউরেনিয়াম আছে এবং বাণিজ্যিকভাবে কতটুকু উত্তোলন করা সম্ভব, তা আরও বিস্তারিত অনুসন্ধান ও মূল্যায়নের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে রহস্যজনক লোডশেডিং, জিএমকে স্ট্যান্ড রিলিজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৪৮ এম


প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে রহস্যজনক লোডশেডিং, জিএমকে স্ট্যান্ড রিলিজ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করার লক্ষে দেশের সব জেলার সঙ্গে ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (এমপি)। এ সময় রহস্যজনক লোডশেডিংয়ের দায়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পিরোজপুরের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. আলতাফ হোসেনকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হয়েছে।  

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মানব সম্পদ পরিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মইনুল হাসান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ দেওয়া হয়। পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলা মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে।

ওই মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কিন্তু বক্তব্য শুরু হওয়ার মাত্র এক মিনিটের মাথায় কনফারেন্স স্থলের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কিছুক্ষণ পর ফিরে আসে। পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকা সত্ত্বেও কেবল মিলনায়তনে এমন ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

বিষয়টি সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিশ্চিত করেছেন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অতিরিক্ত দায়িত্বরত জেনারেল ম্যানেজার মো. কামরুজ্জামান। 

অফিস আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, জিএম মো. আলতাফ হোসেনকে সোমবার সংযুক্তিকৃত দপ্তরে যোগদান করার জন্য বলা হলো। একই সঙ্গে পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জ্যেষ্ঠ ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজারকে তার নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ জিএম এর অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) রাইসুল ইসলাম বলেন, আমি আগেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে বিষয়টি অবগত করেছিলাম। তারপরও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তবে উপজেলা পরিষদের অন্য জায়গাতে বিদ্যুৎ ছিল। কমিউনিকেশন গ্যাপ হওয়ার কারণে এটা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। পরবর্তীতে শুনেছি জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তাকে বরিশালে সংযুক্ত করা হয়েছে। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাব আল-মান্দেব দখলে কতজন হুথি সেনা লড়েছিল, জানাল ইয়েমেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


বাব আল-মান্দেব দখলে কতজন হুথি সেনা লড়েছিল, জানাল ইয়েমেন

ইয়েমেনের কৌশলগত বাব আল-মান্দেব প্রণালি নিয়ন্ত্রণে নিতে হুথিরা ৭৬ হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েন করেছিল। এমন চমকপ্রদ দাবি করেছে দেশটির সরকারপন্থি বাহিনী। 

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকার-সমর্থিত ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের মুখপাত্র মেজর জেনারেল সাদিক দোয়াইদ এ দাবি করেন। তিনি জানান, এই অভিযান পরিচালনায় ইরানি ও লেবানিজ বিশেষজ্ঞরাও যুক্ত ছিলেন।

সাদিক দোয়াইদ বলেন, পশ্চিম উপকূলে চালানো এসব অভিযানের পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি কয়েক মাস আগেই নেওয়া হয়েছিল।

তার দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরাসরি নির্দেশে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের ব্যবস্থাপনায় ইরানি ও লেবানিজ বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেস জানিয়েছে, তারা পশ্চিম উপকূলে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ ফ্রন্টে লড়াই করছে। পাশাপাশি সৈকত ও দ্বীপগুলোর নিরাপত্তাও নিশ্চিত করছে বাহিনীটি।

দোয়াইদের তথ্য অনুযায়ী, ৯ আগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হুথিরা ১৩০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ১৪৫টি আত্মঘাতী ড্রোন এবং বিস্ফোরকবোঝাই ১৫টি নৌযান ব্যবহার করেছে।

এর মধ্যে সরকারপন্থি বাহিনীর কমান্ডার এবং ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের উপপ্রধান তারিক সালেহর নিয়ন্ত্রিত অবস্থান লক্ষ্য করে ২৩টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৮টি ড্রোন হামলা চালানো হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।

 

২০১৪ সালে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘ যুদ্ধ শুরু হয়। ২০২২ সালের এপ্রিল থেকে সংঘাতের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও সাম্প্রতিক নতুন লড়াই আবারও দেশটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হুথিরা ইসরাইল এবং লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আঞ্চলিক সংঘাতেও গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ হয়ে উঠেছে। এবার বাব আল-মান্দেবকে ঘিরে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মক্কা জোটের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক, তুরস্ক-পাকিস্তানের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


মক্কা জোটের কার্যকারিতা নিয়ে বিতর্ক, তুরস্ক-পাকিস্তানের নীরবতা প্রশ্নবিদ্ধ

সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলার প্রেক্ষাপটে, তুরস্ক ও পাকিস্তান সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। গত মাসে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরব চুক্তিতে সই করার পর থেকেই এই জোটের কার্যকারিতা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও বেসামরিক এলাকায় হুথিদের হামলার পর, প্রশ্ন উঠেছে—চুক্তি অনুযায়ী কি তুরস্ক সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়াবে?

তবে, তুরস্কের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন, এখনই জোটের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। তার মতে, চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা বাধ্যবাধকতা এখনো আইনগতভাবে কার্যকর হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আইকে জানিয়েছেন, চুক্তিটি তিন দেশের অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর পরই এর প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা কার্যকর হবে।

তিনি আরও জানান, তুরস্ক শিগগিরই চুক্তিটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবে এবং সম্ভাব্যভাবে অক্টোবরেই এর প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

তুরস্কের সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের অনুমোদন ছাড়া দেশটির প্রেসিডেন্ট কোনো নিরাপত্তা চুক্তি অনুমোদন করতে পারেন না। পাকিস্তানের ক্ষেত্রেও পার্লামেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। তবে সৌদি আরব রাজকীয় ডিক্রির মাধ্যমে চুক্তিটি অনুমোদন করতে পারে।

ফলে, এখনই তুরস্ককে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য দায়ী করা আইনগতভাবে সঠিক নয় বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

তুর্কি কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, মক্কা চুক্তি শুধুমাত্র একটি নিরাপত্তা জোট নয়; বরং এটিকে একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তার ভাষায়, চুক্তিটি খুব সতর্কতার সঙ্গে তৈরি করা হয়েছে এবং এর পূর্ণাঙ্গ কাঠামো প্রকাশ হলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

চুক্তি কার্যকর হওয়ার পরও তিন দেশকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—

- সম্ভাব্য হুমকি মূল্যায়নের ব্যবস্থা;

- তিন দেশের মধ্যে নিয়মিত পরামর্শ ও সমন্বয়;

- যৌথ প্রতিরক্ষা ও প্রস্তুতি পরিকল্পনা;

- সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় বা **ইন্টারঅপারেবিলিটি** তৈরি;

- দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে তোলা।

তুর্কি কর্মকর্তার মতে, এসব ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কয়েক বছরও সময় লাগতে পারে।

তিন দেশ একসঙ্গে সামরিক মহড়াই করেনি

তুরস্ক, পাকিস্তান ও সৌদি আরব এর আগে আলাদাভাবে একে অপরের সঙ্গে সামরিক মহড়ায় অংশ নিয়েছে। কিন্তু তিন দেশকে নিয়ে একসঙ্গে কোনো ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া এখনো হয়নি।

সুতরাং, চুক্তি সই করলেই তিন দেশের বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে একসঙ্গে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

তবে, জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিন দেশ সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুতে তিন বছরের জন্য একজন পাকিস্তানি মহাসচিব এই দায়িত্ব পালন করবেন।

ন্যাটোর মতো হলেও হামলা মানেই পালটা

মক্কা চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, কোনো একটি সদস্যের ওপর হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ কারণে চুক্তিটিকে প্রায়ই ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।

তুর্কি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তি তৈরির সময় ন্যাটোর চুক্তি থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়া হয়েছে।

তবে, ন্যাটোর আর্টিকেল ৫-এর মতো এখানেও কোনো সদস্য আক্রান্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক পালটা হামলা চালানোর বাধ্যবাধকতা নেই। বরং আক্রান্ত দেশ সহযোগিতা চাইলে সদস্যরা আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

অর্থাৎ, হামলা হলেই সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হবে—এমন কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা চুক্তিতে নেই।

সৌদির পাশে রাজনৈতিক সমর্থন দিয়েছে তুরস্ক-পাকিস্তান।

সৌদি আরবের ওপর সাম্প্রতিক হুথি হামলার পর, তুরস্ক ও পাকিস্তান রাজনৈতিকভাবে রিয়াদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।

পাকিস্তান জানিয়েছে, সৌদির সঙ্গে তাদের আলাদা একটি বাধ্যতামূলক দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি থাকলেও রিয়াদ এখনো তাদের সামরিক হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়নি।

তুর্কি কর্মকর্তাও প্রশ্ন তুলেছেন, অতীতে ন্যাটোর সদস্যদের আকাশসীমায় রুশ ড্রোন প্রবেশের ঘটনায় জোট সবসময় সামরিক পালটা ব্যবস্থা নিয়েছে কি না।

তুর্কি কর্মকর্তার মতে, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কোনো একটি হামলার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে এমন একটি প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার ঝুঁকি কমে।

তিনি স্বীকার করেছেন, হুথিদের সৌদি আরবের ওপর হামলা এবং ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের সম্ভাবনা এই জোটের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

তবে, তার দাবি, এই চুক্তি করা হয়েছে দীর্ঘমেয়াদে তিন দেশের মধ্যে এমন একটি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে, যা উত্তেজনা কমাতে এবং সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিয়ের আগে পাত্রীকে অন্য পুরুষ দেখতে পারবেন কি? জানালেন আহমাদুল্লাহ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


বিয়ের আগে পাত্রীকে অন্য পুরুষ দেখতে পারবেন কি? জানালেন আহমাদুল্লাহ

ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব ও বরকতময়তা অপরিসীম। এটি শুধুমাত্র দুই ব্যক্তির মিলন নয়, বরং দুটি পরিবারের মধ্যে ভালোবাসা, দায়িত্ব ও সহযোগিতার সূচনা করে। এজন্য ইসলামে বিবাহকে সহজ, বরকতময় এবং শরিয়াহসম্মতভাবে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

বর্তমানে মুসলিম সমাজে বিয়ে উপলক্ষে পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে নানা সামাজিক কুসংস্কার ও অনাচার বিদ্যমান। বিয়ের প্রক্রিয়ায় পাত্রী কে দেখবে, সে সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকা অত্যন্ত জরুরি।

এই প্রসঙ্গে একটি ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ মন্তব্য করেন যে, বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে পাত্রীকে তার বংশের সকল পুরুষ দেখতে পারে। অনেক সময় পাত্র নিজেই পাত্রীকে দেখে না। এ ক্ষেত্রে উত্তম পদ্ধতি হলো, বিয়ের সিদ্ধান্ত হলে ছেলে-মেয়ে একে অপরকে দেখে নেবে। এটি সুন্নাত। এর ফলে কিছু উপকারিতা রয়েছে। প্রথমত, বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রী একে অপরকে দেখলে ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। দ্বিতীয়ত, কোনো দোষ-ত্রুটি থাকলে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়, ফলে পরবর্তীতে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় না।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয় মনে রাখা উচিত, বিয়ের ক্ষেত্রে পাত্রীকে শুধুমাত্র পাত্র দেখতে পারবে, অন্য কোনো পুরুষের দেখা হারাম।

শায়খ আহমাদুল্লাহ আরও উল্লেখ করেন, আমাদের দেশে প্রচলিত কিছু খারাপ প্রথা হলো, পাত্রী দেখতে গিয়ে অন্য পুরুষসহ পাঁচ-সাতজন দেখতে যান। এটি কোরবানির বাজারে গরু-ছাগল দেখার মতো। এভাবে পাত্রীকে অপমান করা ইসলাম অনুমোদন করে না। এই ক্ষেত্রে পাত্রীকে শুধুমাত্র পাত্রপক্ষের মা, বোন, ভাবি এবং অন্যান্য নারীরা দেখতে পারবেন।

ইসলামে বিয়ের গুরুত্ব ও বরকতময়তা অপরিসীম। এ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—

يَا مَعْشَرَ الشَّبَابِ مَنِ اسْتَطَاعَ مِنْكُمْ الْبَاءَةَ فَلْيَتَزَوَّجْ وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَعَلَيْهِ بِالصَّوْمِ فَإِنَّه“ لَه“ وِجَاءٌ

‘হে যুবসমাজ, তোমাদের মধ্যে যার বিয়ের সামর্থ্য আছে, তার বিয়ে করা উচিত। কেননা বিয়ে চোখকে নিচু রাখে এবং লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। আর যার সামর্থ্য নেই, সে যেন রোজা রাখে। কেননা রোজা যৌবনের খায়েশ কমিয়ে দেয়।’ (বুখারি ৫০৬৫, মুসলিম ১৪০০)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%