ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষায় জাতিসংঘের জোরালো সহায়তা চাইলেন অর্থ উপদেষ্টা


নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষায় জাতিসংঘের জোরালো সহায়তা চাইলেন অর্থ উপদেষ্টা

বাংলাদেশের নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে ইউএন উইমেনের আরো জোরালো সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। বৈশ্বিক সংঘাত, অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্নের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এ আহ্বান করা হয়েছে। বুধবার জাতিসংঘের সহকারি মহাসচিব এবং ইউএন উইমেনের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়ারাদজাই গুম্বোনজভান্দারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ কথা বলেন তিতুমীর। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, বৈঠকে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ মানবিক বিবেচনায় ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। এতে দেশের ওপর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও নিরাপদে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে ইউএন উইমেনের আরো সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন। একই সঙ্গে প্রত্যাবাসনের পর রোহিঙ্গা নারী ও কন্যাশিশুরা যেন নিরাপদ এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারে, সব ধরনের অধিকার ভোগ করতে পারে এবং টেকসই জীবিকার সুযোগ পায়, সেই বিষয়ে সহযোগিতা চান। উপদেষ্টা বলেন, চলমান বৈশ্বিক সংকটের বিভিন্ন প্রভাব বাংলাদেশের আর্থিক সক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে সংকুচিত করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কঠোর ঋণশর্তের কারণে অনুদান ও স্বল্পসুদে অর্থায়নের সুযোগও সীমিত হয়েছে। তিনি নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়ন জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি আরো শক্তিশালী করতে ইউএন উইমেনের সহযোগিতা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নারী-কেন্দ্রিক উন্নয়ন কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরার সময় তিতুমীর বলেন, সরকারের উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিবারের নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’, মেয়েদের স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ এবং জীবনচক্রভিত্তিক সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা। লিঙ্গ সমতার অগ্রগতিতে বাংলাদেশের প্রশংসা করেন ইউএন উইমেনের ডেপুটি এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নিয়ারাহদজাই গুম্বোনজভান্দা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ উদ্যোগকে একটি উদ্ভাবনী নারীকেন্দ্রিক সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি তার কক্সবাজার সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের মানবিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সাথে লিঙ্গ সমতা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, সামাজিক সুরক্ষা, ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ কর্মসূচি এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ইউএন উইমেনের অব্যাহত অংশীদারিত্বের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন চলমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৭ পি.এম


প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন চলমান

প্রবাসীদের জন্য ২০২৭ সালের হজের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

অনলাইন ডেস্কের মাধ্যমে জানা যায়, বাংলাদেশের হজ কোটার আওতায় ২০২৭ সালে হজ পালনে আগ্রহী প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) নাগরিকদের প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারি কিংবা বেসরকারি—উভয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রবাসীরা হজে যেতে পারবেন।

মন্ত্রণালয়ের বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ই-হজ সিস্টেমে প্রাক-নিবন্ধনের জন্য আবেদন কারীকদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, হোয়াটসঅ্যাপ-সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং বাংলাদেশের একটি ব্যাংক হিসাবের তথ্য থাকতে হবে। একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে একই পরিবারের একাধিক সদস্য প্রাক-নিবন্ধন করতে পারবেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ই-হজ সিস্টেমে আবেদন করার সময় আবেদনকারীকে এনআরবি (Non-Resident Bangladeshi) হিসেবে তথ্য দিতে হবে। এ ছাড়া, তিনি যে দেশে বসবাস করছেন, সেই দেশের নাম উল্লেখ করে বৈধ বসবাসের প্রমাণপত্র (ডকুমেন্ট) আপলোড করতে হবে।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিগগিরই ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ও গাইডলাইন ঘোষণা করা হবে। পরে, ই-হজ সিস্টেমে প্রকাশিত প্যাকেজ থেকে পছন্দ অনুযায়ী নির্বাচন করে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

সৌদি আরব সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী নিবন্ধিত হজযাত্রীরা হজ পালনের সুযোগ পাবেন। মন্ত্রণালয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রেখে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লুঙ্গির ভেতর সোনা পাচারের চেষ্টা, আটক ১

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


লুঙ্গির ভেতর সোনা পাচারের চেষ্টা, আটক ১

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আনুমানিক ১ কোটি ৭৬ লাখ টাকার ৮টি সোনার বারসহ মো. মিজানুর রহমান (৬১) নামের একজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরের দিকে বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ানের (৬ বিজিবি) পরিচালক ও অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আটককৃত মো. মিজানুর রহমান চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার পিরপুরকুল্লা গ্রামের বাসিন্দা।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজিবির চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হাসানের কাছে গোপন তথ্য আসে যে, দামুড়হুদা উপজেলার মুন্সিপুর সীমান্ত দিয়ে সোনার একটি চালান ভারতে পাচারের চেষ্টা থাকতে পারে। এই তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সিপুর বিওপিকে সতর্ক করা হয় এবং সীমান্ত এলাকায় একটি বিশেষ টহলদল মোতায়েন করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গা বাজার থেকে মোটরসাইকেলযোগে মুন্সিপুর বিওপির সামনে পৌঁছালে বিজিবির টহল দল সন্দেহভাজন মো. মিজানুর রহমানকে থামায়। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি কোমরে লুঙ্গির ভাঁজে সোনা বহনের কথা স্বীকার করেন। এরপর তার দেহ তল্লাশি করে টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি প্যাকেটের ভেতর থেকে ৮টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৭৬ লাখ ১ হাজার ২৩০ টাকা।

এই সময় আটক ব্যক্তির কাছ থেকে একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং একটি ডায়াং মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তি এবং জব্দকৃত মালামাল দামুড়হুদা মডেল থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া উদ্ধার হওয়া সোনার বারগুলো সরকারি বিধি অনুযায়ী চুয়াডাঙ্গা ট্রেজারি অফিসে জমা দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কখনোই ত্যাগ ছাড়া অর্জিত হয়নি: ডিসি ফরিদা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:২৮ পি.এম


স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কখনোই ত্যাগ ছাড়া অর্জিত হয়নি: ডিসি ফরিদা

বুধবার ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন ডিসি ফরিদা খানম।

ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেছেন, ‘স্বাধীনতা, ন্যয়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কখনোই বিনা ত্যাগে অর্জিত হয়নি। জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’

এই সময় তিনি আন্দোলনের অসংখ্য শহীদ, আহত এবং সংগ্রামী মানুষের আত্মত্যাগের কথা আমাদের মনে করিয়ে দেন।

বুধবার (১৬ জুলাই) ‘জুলাই শহীদ দিবস’ উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই আহত বীর যোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, সুধীজন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘১৬ জুলাই বাংলাদেশের জাতীয় ইতিহাসে আত্মত্যাগ, সাহস ও নতুন অভিযাত্রার এক অনন্য দিন। ২০২৪ সালের এই দিনে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে যে আত্মত্যাগের নজির স্থাপন করেছিলেন, তা জাতির বিবেককে জাগ্রত করেছিল এবং গণ-অভ্যুত্থানে নতুন গতি এনে দিয়েছিল।’

এসময় তিনি শহীদ আবু সাঈদ, শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন। তিনি পাশাপাশি আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।

ফরিদা খানম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার সাহসী আন্দোলন দেশের ইতিহাসে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ সেই আন্দোলনকে নতুন শক্তি ও দিকনির্দেশনা দিয়েছিল।’

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ শুধু গর্বের বিষয় নয়, এটি সবার জন্য একটি দায়িত্বও। শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে জনবান্ধব, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক, বৈষম্যহীন ও সেবামুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে ঢাকা জেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবে। সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও ন্যায়সংগত সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে জেলা প্রশাসনের অন্যতম অঙ্গীকার।’

তিনি আরো বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগকে শুধু স্মরণ করলেই হবে না; তাঁদের আদর্শ, সাহস, দেশপ্রেম ও ন্যায়বোধ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি স্তরে ধারণ করতে হবে। তাহলেই তাঁদের আত্মদান সত্যিকার অর্থে সার্থক হবে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’

আলোচনা সভা শেষে জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কেন স্বপ্নের শহর বেইজিং ছেড়ে যাচ্ছেন চীনের তরুণরা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ১৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৩ পি.এম


কেন স্বপ্নের শহর বেইজিং ছেড়ে যাচ্ছেন চীনের তরুণরা?

শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চীনের রাজধানী বেইজিংকে উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়েছে। সাম্রাজ্যিক রাজধানী থেকে আধুনিক চীনের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র- বেইজিং বরাবরই এমন একটি শহর, যেখানে এসে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেছে লাখো মানুষ।

মধ্যযুগে সাম্রাজ্যিক প্রশাসনে যোগ দেওয়ার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা যেমন বেইজিংয়ে এসে পরীক্ষায় অংশ নিতেন, তেমনি সাম্প্রতিক কয়েক দশকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করা তরুণ, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন প্রদেশের শ্রমিকরা অর্থনৈতিক উন্নয়নের সুযোগ কাজে লাগাতে রাজধানীতে ভিড় জমিয়েছেন।

কিন্তু সেই চিত্র এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় যে শহরে স্থায়ী ঠিকানা পাওয়াই ছিল সাফল্যের প্রতীক, আজ সেই বেইজিং ছেড়ে অন্য শহরে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বহু তরুণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Escaping Beijing’ (বেইজিং থেকে পালিয়ে যাওয়া) হ্যাশট্যাগের জনপ্রিয়তা এই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন।

২৯ বছর বয়সী ওয়াং লেইও ছিলেন এমনই একজন স্বপ্নবাজ তরুণ। প্রতিবেশী হেবেই প্রদেশে জন্ম নেওয়া ওয়াং ছোটবেলায় প্রথমবার বেইজিংয়ে এসে বিশাল অট্টালিকা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, “বেইজিং রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে আমি আর আমার বন্ধু প্রথমবার আকাশচুম্বী ভবন দেখেছিলাম। তখনই তাকে বলেছিলাম, বড় হয়ে আমি একদিন ওই ভবনের চূড়ায় দাঁড়াব।” ২০২০ সালে তিনি রাজধানীতে চলে আসেন এবং চীনের একসময়ের অত্যন্ত লাভজনক রিয়েল এস্টেট খাতে চাকরি শুরু করেন। তার বিশ্বাস ছিল, কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন সফল হওয়া সম্ভব হবে।

কিন্তু মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে সেই স্বপ্ন ভেঙে পড়ে। বর্তমানে তিনি মনে করেন, তার ভবিষ্যৎ আর বেইজিংয়ে নয়।

চীনের অর্থনৈতিক উত্থানের পেছনে ছিল ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ অভ্যন্তরীণ জনস্থানান্তর। কোটি কোটি মানুষ গ্রাম ও ছোট শহর ছেড়ে বেইজিং, সাংহাইসহ বড় নগরগুলোতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে বেইজিংয়ের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ। বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখে পৌঁছেছে। দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর বাসিন্দা হওয়াই ছিল সামাজিক মর্যাদা ও সাফল্যের পরিচয়।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি পাল্টে গেছে। দীর্ঘদিনের দুই অঙ্কের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রিয়েল এস্টেট খাতের সংকট এবং করোনাভাইরাস মহামারির ধাক্কা।

যেসব পরিবার তাদের অধিকাংশ সঞ্চয় বাড়ি কেনায় বিনিয়োগ করেছিল, তারা বাড়ির দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে কোভিড-১৯ মহামারি মানুষকে ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তার কথা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। ফলে ভোগব্যয় কমেছে, ব্যবসা সম্প্রসারণ থেমে গেছে এবং কর্মসংস্থানের বাজারও সংকুচিত হয়েছে।

ওয়াং লেই বলেন, রিয়েল এস্টেট খাতের সংকটের কারণে তার ওপর প্রচণ্ড মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল। তার ভাষায়, “রিয়েল এস্টেট বাজার খুবই খারাপ অবস্থায় ছিল। চাপ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে, শেষ পর্যন্ত চাকরি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই।” বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করছেন এবং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে যৌথভাবে একটি ছোট বার পরিচালনা করছেন। কাজের স্বাধীনতা বাড়লেও আর্থিক সংকট কাটেনি।

তিনি বলেন, “আমার আশপাশের অনেক মানুষ- সহকর্মী ও বন্ধুরাও- একই ধরনের চাপে আছেন। তাদের বেতন জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে যদি সম্পর্ক, বাড়িভাড়া কিংবা মাঝেমধ্যে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার খরচ যোগ হয়, তাহলে অর্থ একেবারেই যথেষ্ট থাকে না।”

চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন অনেক তরুণ রাজধানী ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। অধিকাংশের অভিযোগ একই- অস্বাভাবিক ব্যয়বহুল বাসস্থান, তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অনিশ্চিত কর্মজীবন। ওয়াংয়ের মতে, একই পরিমাণ অর্থ অন্য কোনও শহরে ব্যয় করলে তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো জীবনযাপন সম্ভব।

অবশ্য বেইজিং ছেড়ে যাওয়ার সঙ্গে এখনও সামাজিক একটি নেতিবাচক ধারণা জড়িয়ে আছে। অনেকেই এটিকে ব্যর্থতা কিংবা ‘সম্মান হারানো’ হিসেবে দেখেন। তবে ওয়াং মনে করেন, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই মানসিকতা দ্রুত বদলাচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে চীনে ‘৯৯৬’ কর্মসংস্কৃতি- অর্থাৎ সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, সপ্তাহে ছয় দিন কাজ- সফলতার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হতো। প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বহু জন এই সংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে পুরোনো প্রজন্মের মধ্যে ‘চি কু’, অর্থাৎ কষ্ট সহ্য করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ব্যাপকভাবে প্রচলিত।

কিন্তু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া এবং প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় তরুণদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করেছে। এরই ফলে ২০২১ সালে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ‘ট্যাং পিং’ কিংবা ‘লাইং ফ্ল্যাট’ ধারণা। এই ধারণায় বিশ্বাসীরা অতি প্রতিযোগিতামূলক জীবন, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং শুধুমাত্র উচ্চ আয়ের পেছনে ছুটে চলার পরিবর্তে সহজ, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানসিকভাবে শান্ত জীবনকে বেশি গুরুত্ব দেন।

ওয়াং লেই জানান, তার অনেক বন্ধু ইতোমধ্যেই রাজধানী ছেড়ে অন্য শহরে চলে গেছেন। তিনি বলেন, “আমি বুঝতে পেরেছি, যারা বেইজিং ছেড়ে অন্য শহরে গেছে তারা আমার চেয়ে অনেক বেশি সুখে আছে। তাদের জীবনে চাপ ও উদ্বেগ অনেক কম।” তবে তিনি মনে করেন না যে রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানেই উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করা। তার ভাষায়, “হয়তো কিছু তরুণ কঠোর পরিশ্রম করতে চায় না, কিন্তু অনেকেই এখনও চায়। শুধু আজকের বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে।”

শৈশবে ওয়াং বিশ্বাস করতেন, চীনের সবচেয়ে বড় শহরে প্রতিষ্ঠিত হওয়াই জীবনের সাফল্য। কিন্তু এখন তার কাছে সাফল্যের অর্থ বদলে গেছে। তিনি বলেন, এখন সাফল্য মানে এমন একটি শহর খুঁজে পাওয়া, যেখানে মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও টেকসই জীবন গড়ে তুলতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%