ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশিসহ সব প্রবাসীর জন্য কাতারের জরুরি নতুন নির্দেশনা


বাংলাদেশিসহ সব প্রবাসীর জন্য কাতারের জরুরি নতুন নির্দেশনা

বাংলাদেশিসহ সব প্রবাসীর জন্য কাতার সরকার নতুন জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে, যা রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা বাতিলসংক্রান্ত। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কাতারে যেসব প্রবাসীর রেসিডেন্স পারমিট বাতিল করা হবে তাদের বাতিলের তারিখ থেকে পরবর্তী ১৪ দিনের মধ্যে দেশ ত্যাগ করতে হবে। যদি তারা সময়সীমা অতিক্রম করেন, তবে তাদের সর্বদা নির্দিষ্ট হারে জরিমানা দানা হবে, এই তথ্য জানিয়েছে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবরটি গালফ নিউজের।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উদ্যোগে একটি নিরাপদ ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবিনারে বিমানবন্দর পাসপোর্ট বিভাগের কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন আলি আহমেদ আলি আল কুয়ারি নতুন নির্দেশনা সম্পর্কে প্রবাসীদের জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রেসিডেন্স পারমিট বাতিল হওয়ার পর আগে যে ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বা অতিরিক্ত সময় দেওয়া হত, তা কমিয়ে ১৪ দিন করা হয়েছে।

আল কুয়ারি প্রবাসীদের সতর্কতার সঙ্গে জানান যে, যদি কোনো প্রবাসী নতুন নির্ধারিত ১৪ দিনের সময়সীমা অতিক্রম করে কাতারে অবস্থান করেন, তবে তাকে অতিরিক্ত প্রতিদিন ১০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানা দিতে হবে।

আরও পড়ুন: ২৪ ঘন্টায় ডিএমপি’তে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে ২১১১টি মামলা

একই ওয়েবিনারে উপস্থিত কাতার প্রবাসী ও ভ্রমণকারীদের ভিসা স্ট্যাম্পে উল্লিখিত বৈধতা এবং অবস্থানের মেয়াদ সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করতে বলা হয়। আল কুয়ারি বলেন, যদি কেউ ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাতারে অবস্থান করেন, তাহলে তাকে প্রতিদিন ২০০ কাতারি রিয়াল হারে জরিমানা দিতে হবে।

বাংলাদেশিসহ সব প্রবাসীর যেকোনো ধরনের ভ্রমণের আগে ‘মেতরাশ’ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে নিজেদের আইনি অবস্থা যাচাই করে নেওয়ার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেছে কাতার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা কাতার ছাড়ার আগে তাদের কোনো বকেয়া ট্রাফিক জরিমানা, অতিরিক্ত অবস্থানের জরিমানা অথবা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনি জটিলতা পরীক্ষা করে নিতে পারবেন।

এছাড়া, যেসব প্রবাসী তাদের নতুন পাসপোর্টে রেসিডেন্স পারমিট বা আকামা স্থানান্তর করতে চান, তারাও কোনো সরকারি দপ্তর না গিয়ে মেতরাশ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে পারবেন।

আরও পড়ুন: ইসরাইলি সেনাদের নৃশংসতা নিয়ে ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের আলোচনা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী নেপাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫০ পি.এম


বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী নেপাল

নেপালের প্রতিনিধি সভার স্পিকার ডোল প্রসাদ আরিয়ালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান।

বুধবার, নেপালের স্পিকারের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকালে, রাষ্ট্রদূত স্পিকারকে তার নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনও পৌঁছে দেন।

তিনি নেপালের স্পিকারকেও প্রেসিডেন্ট অব দ্য জেনারেল অ্যাসেম্বলি (পিজিএ) নির্বাচনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রার্থনার প্রতি নেপালের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান।

বৈঠকে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ এবং নেপালের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন, যা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভিন্ন মূল্যবোধ এবং জনগণের সাথে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগের উপরে।

রাষ্ট্রদূত দুই দেশকে উল্লেখ করেন ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী হিসেবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিপুল, কিন্তু এখনো বহুলাংশে অব্যবহৃত সহযোগিতার সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, উন্নয়ন এবং আর্থ-সামাজিক রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও নেপাল অনেক অভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে এবং এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে প্রসারিত সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় ও অংশীদারিত্বকে আরো জোরদার করা প্রয়োজন।

রাষ্ট্রদূত জ্বালানি, বাণিজ্য, পর্যটন, শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উন্নয়ন এবং জনগণের সাথে জনগণের সংযোগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের আগ্রহ ও প্রস্তুতির কথা তুলে ধরেন।

তিনি সার্ক এবং বিমসটেকসহ অন্যান্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ফোরামে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগের কথাও উল্লেখ করেন এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশসমূহের মধ্যে বাণিজ্য, সংযোগ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

নেপালের স্পিকার বাংলাদেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অর্জিত উল্লেখযোগ্য সাফল্যের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিজ্ঞতা নেপালের নিজেদের উন্নয়ন যাত্রায় কার্যকরী অবদান রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন।

তিনি এটি আরও উল্লেখ করেন, খেলাধুলা দুই দেশের জনগণের মধ্যে, বিশেষত তরুণদের মধ্যে, বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধির মাধ্যমে সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছে।

এছাড়াও, তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সুদৃঢ় করতে পর্যটন, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করেন।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ থেকে উদ্ভূত অভিন্ন ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, হিমালয় অঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকায় পরিবেশগত ঝুঁকিগুলি সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি যৌথ উদ্বেগের বিষয়। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় তিনি অধিকতর আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশে চিকিৎসা শিক্ষা ও কারিগরি বিষয় অধ্যয়নরত নেপালি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও শিক্ষা-সুবিধা প্রদানে বাংলাদেশের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৫ পি.এম


রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা: হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১৪ জুলাই

ঢাকায় একটি আদালত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য আগামী ১৪ জুলাই দিন ধার্য করেছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামের একটি সংগঠনের জুম মিটিংয়ে অংশ নিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত এবং রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার জন্য এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মঈন উদ্দিন চৌধুরীর আদালতে অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। এইদিন রাষ্ট্রপক্ষ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করতে শুনানি করেছে। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন।

তবে আসামিপক্ষের শুনানি শেষ না হওয়ায় আগামী ১৪ জুলাই পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

এই বিষয়টি আদালতের বেঞ্চ সহকারী গোলাম নবী নিশ্চিত করেছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ মোট ২৮৬ জন আসামির মধ্যে ২৫৯ জন পলাতক রয়েছেন। অপরদিকে, সাবিনা আক্তার তুহিনসহ ২৭ জন গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর অনলাইন প্ল্যাটফর্মে 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামে একটি গ্রুপের জুম মিটিং হয়ে থাকে। ওই মিটিংয়ে পলাতক শেখ হাসিনাকে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতায় আনা এবং তা নিশ্চিত করার জন্য লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়ে থাকে। ওই সভায় দেশ-বিদেশ থেকে মোট ৫৭৭ জন অংশ নেন এবং শেখ হাসিনার সব নির্দেশ পালন করার ব্যাপারে সকলে একমত প্রকাশ করেন।

এছাড়া ড. রাব্বি আলমের (যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি) হোস্টিংয়ে শেখ হাসিনা এবং হোস্ট, কো-হোস্ট ও অংশগ্রহণকারীদের কথোপকথনে ভয়েস রেকর্ড পর্যালোচনায় 'জয় বাংলা ব্রিগেড' নামক প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আলোচনা হয় যে, বৈধ সরকারকে শান্তিপূর্ণভাবে দেশ পরিচালনা করতে দেওয়া হবে না।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মিটিংয়ে সরকারকে উৎখাত করার জন্য গৃহযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের সুস্পষ্ট উপাদান রয়েছে বলে প্রতীয়মান হওয়ার কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের প্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ শেখ হাসিনাসহ ৭৩ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার মো. এনামুল হক।

পরে সিআরপিসি’র ১৯৬ ধারায় ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সিআইডির এই কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালতে শেখ হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশন্স) মো. এনামুল হক।

মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবিনা আক্তার তুহিন, ড. রাব্বি আলম, কবিরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, এলাহী নেওয়াজ মাছুম, জাকির হোসেন জিকু, প্রফেসর তাহেরুজ্জামান, এ. কে. এম. আক্তারুজ্জামান, আজিদা পারভীন পাখি, শাহীন, এডভোকেট এ. এফ. এম. দিদারুল ইসলাম, মাকসুদুর রহমান, সাবেক এমপি সৈয়দ রুবিনা আক্তার, সাবেক এমপি পংকজ নাথ, লায়লা বানু, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, রিতু আক্তার, নুরুন্নবী নিবির, সাবিনা বেগম ও শরিফুল ইসলাম রমজান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হোটেলের বিছানায় তোয়ালে দিয়ে কেন বানানো হয় রাজহাঁস?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৭ পি.এম


হোটেলের বিছানায় তোয়ালে দিয়ে কেন বানানো হয় রাজহাঁস?

হোটেলের ঘরে প্রবেশ করলেই বিছানায় এক জোড়া সুন্দরভাবে মোড়ানো তোয়ালার রাজহাঁস দেখলে কারও মন ভালো হবে না? এই বিশেষ কারুকার্যকে বলা হয় ‘টাওয়েল অরিগামি’, যা কাগজের জাপানি শিল্প ‘অরিগামি’র অনুপ্রেরণায় তৈরি। প্রথম দর্শনেই অতিথিদের চমকে দেওয়ার জন্য এবং তাদের স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে এটি একটি অত্যন্ত অদ্ভুত কৌশল।

এই সুন্দর ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তত্ত্ব। তোয়ালের এই রাজহাঁস নিমেষের মধ্যে ঘরের পরিবেশকে রাজকীয় এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। অতিথিরাও বুঝতে পারেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের আরামের জন্য বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, রাজহাঁস হলো ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। যখন দুটি হাঁস মুখোমুখি গলা মিলিয়ে বসে একটি নিখুঁত ‘হার্ট’-এর আকার নেয়, তখন ঘরের রোমান্টিক পরিবেশ বহুগুণ বেড়ে যায়।

এ জন্য মূলত হানিমুন বা কাপল ট্রিপের সময় এই দৃশ্য বেশি করে চোখে পড়ে। জানা গেছে, কার্নিভাল ক্রুজ লাইনের এক ক্রু সদস্য প্রথম তোয়ালে দিয়ে বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। পরে, এই ভাবনা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে যায় এ পর্যায়ে, বিলাসবহুল হোটেলগুলি এটিকে নিজেদের স্বাক্ষর স্টাইল হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমানে, এটি হাউসকিপিং কর্মীদের দক্ষতার একটি অন্যতম বড় মাপকাঠি।

যান্ত্রিকতার বাইরে গিয়ে মানুষের হাতে তৈরী ছোঁয়া অতিথিদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা তাদের হোটেলের প্রতি বিশ্বস্ততা বাড়ায়। বর্তমান ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের যুগে এটি হোটেলের জন্য একটি চমৎকার ‘ফ্রি মার্কেটিং টুল’। অতিথিরা ঘরে ঢুকেই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, ফলে বিনা খরচেই দুর্দান্ত ব্র্যান্ডিং হয়ে যায় হোটেলের।

অনেকে মনে করেন, এই হাঁস তৈরিতে আঠা অথবা তার ব্যবহার হয়। কিন্তু আসল রহস্য হাউসকিপিং কর্মীদের দক্ষতায় লুকানো। নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করা একদম তাজা এবং নরম তোয়ালেকে বিশেষ প্রযুক্তিতে ভাঁজ করেই এই আকৃতি দেওয়া হয়। এর জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিতে হয়। পরের বার আপনাদের হোটেলে গিয়ে বিছানায় এমন রাজহাঁস দেখতে পেলে বুঝবেন, এটি কেবলই তোয়ালে নয়। এটি আসলে হোটেল ইন্ডাস্ট্রির আতিথেয়তার একটি নিজস্ব ভাষা, যার উদ্দেশ্য আপনার সফরটিকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, কী রয়েছে এতে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ১৭ই জুন, ২০২৬ ইং

০৬:৫৮ পি.এম


ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের ১৪ দফা চুক্তি প্রকাশ, কী রয়েছে এতে?

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির ১৪ দফা খসড়া মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন প্রকাশ করেছে।

এই খসড়ায় উল্লেখ রয়েছে যুদ্ধবিরতি, পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরান-এর ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির।

সিএনএনের দাবি, তারা এক মার্কিন কর্মকর্তার কাছ থেকে এই সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া কপি পেয়েছে। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে উপস্থিত এক কূটনীতিক এবং আলোচনার সঙ্গে জড়িত আরও দুই কূটনৈতিক সূত্র এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে। তবে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেছেন, ফাঁস হওয়া নথিটি চূড়ান্ত সমঝোতার প্রকৃত প্রতিফলন নয়।

খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ গত রোববার ডিজিটালভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এদিকে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করতে ৬০ দিনের সময়সীমা কার্যকর হবে।

খসড়া অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির অনুমতি দেবে। এছাড়া, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতি পূরণ করলে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের উন্নয়ন তহবিলে প্রবেশাধিকার পেতে পারে। তবে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় এই যে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা খসড়ায় নেই।

চুক্তির ১৪ দফার মধ্যে রয়েছে:

১। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এবং বর্তমান যুদ্ধে জড়িত তাদের মিত্ররা সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও স্থায়ী সমাপ্তি ঘোষণা করবে। উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না এবং শক্তি প্রয়োগ বা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকেও বিরত থাকবে।

২। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান দেখাবে এবং পরস্পরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।

৩। উভয় দেশ সর্বোচ্চ ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আলোচনা চালাবে। পারস্পরিক সম্মতিতে এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

৪। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বাধা বা হস্তক্ষেপ বন্ধ করবে। সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আশপাশের এলাকা থেকে তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করবে।

৫। ইরান সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের পরপরই পারস্য উপসাগর থেকে ওমান সাগর পর্যন্ত বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার পদক্ষেপ নেবে। এ ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত প্রতিবন্ধকতা দূর ও মাইন অপসারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

৬। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের পুনর্বাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের অর্থায়নে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করবে। এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত হবে।

৭। যুক্তরাষ্ট্র চূড়ান্ত চুক্তির আওতায় নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ইরানের ওপর বর্তমান সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এর মধ্যে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) বোর্ড অব গভর্নরসের প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা প্রাথমিক ও গৌণ নিষেধাজ্ঞাগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

৮। ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং পারমাণবিক কর্মসূচি-সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত চুক্তিতে সমাধান করা হবে।

৯। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষ বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে। ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিতে বর্তমান অবস্থা বজায় রাখবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করবে না।

১০। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পরপরই এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবার রপ্তানির অনুমোদন দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতও থাকবে।

১১। আলোচনায় অগ্রগতির ভিত্তিতে ইরানের স্থগিত বা সীমাবদ্ধ তহবিল ও সম্পদ মুক্ত করে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে। ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারিত যেকোনো চূড়ান্ত অর্থপ্রদানে এসব অর্থ ব্যবহার করা যাবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন ও লাইসেন্স যুক্তরাষ্ট্র প্রদান করবে।

১২। চূড়ান্ত চুক্তির সফল বাস্তবায়ন ও ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি তদারকির জন্য একটি বাস্তবায়ন কাঠামো গঠন করা হবে।

১৩। সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর এবং ৪, ৫, ১০ ও ১১ নম্বর ধারার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার নিশ্চয়তা পাওয়ার পর উভয় দেশ বাকি ধারাগুলো নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনা শুরু করবে।

১৪। চূড়ান্ত চুক্তি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হবে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%