০৬:৫৭ পি.এম
হোটেলের ঘরে প্রবেশ করলেই বিছানায় এক জোড়া সুন্দরভাবে মোড়ানো তোয়ালার রাজহাঁস দেখলে কারও মন ভালো হবে না? এই বিশেষ কারুকার্যকে বলা হয় ‘টাওয়েল অরিগামি’, যা কাগজের জাপানি শিল্প ‘অরিগামি’র অনুপ্রেরণায় তৈরি। প্রথম দর্শনেই অতিথিদের চমকে দেওয়ার জন্য এবং তাদের স্বাগত জানানোর উদ্দেশ্যে এটি একটি অত্যন্ত অদ্ভুত কৌশল।
এই সুন্দর ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে গভীর মনস্তত্ত্ব। তোয়ালের এই রাজহাঁস নিমেষের মধ্যে ঘরের পরিবেশকে রাজকীয় এবং আকর্ষণীয় করে তোলে। অতিথিরাও বুঝতে পারেন, হোটেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের আরামের জন্য বাড়তি যত্ন নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া, রাজহাঁস হলো ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক। যখন দুটি হাঁস মুখোমুখি গলা মিলিয়ে বসে একটি নিখুঁত ‘হার্ট’-এর আকার নেয়, তখন ঘরের রোমান্টিক পরিবেশ বহুগুণ বেড়ে যায়।
এ জন্য মূলত হানিমুন বা কাপল ট্রিপের সময় এই দৃশ্য বেশি করে চোখে পড়ে। জানা গেছে, কার্নিভাল ক্রুজ লাইনের এক ক্রু সদস্য প্রথম তোয়ালে দিয়ে বিভিন্ন প্রাণীর অবয়ব তৈরি করতে শুরু করেছিলেন। পরে, এই ভাবনা বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে যায় এ পর্যায়ে, বিলাসবহুল হোটেলগুলি এটিকে নিজেদের স্বাক্ষর স্টাইল হিসেবে গ্রহণ করে। বর্তমানে, এটি হাউসকিপিং কর্মীদের দক্ষতার একটি অন্যতম বড় মাপকাঠি।
আরও পড়ুন: ঢামেকের জরুরি বিভাগে ভুয়া চিকিৎসক মো. রাকিব আটক
যান্ত্রিকতার বাইরে গিয়ে মানুষের হাতে তৈরী ছোঁয়া অতিথিদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে, যা তাদের হোটেলের প্রতি বিশ্বস্ততা বাড়ায়। বর্তমান ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামের যুগে এটি হোটেলের জন্য একটি চমৎকার ‘ফ্রি মার্কেটিং টুল’। অতিথিরা ঘরে ঢুকেই ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, ফলে বিনা খরচেই দুর্দান্ত ব্র্যান্ডিং হয়ে যায় হোটেলের।
অনেকে মনে করেন, এই হাঁস তৈরিতে আঠা অথবা তার ব্যবহার হয়। কিন্তু আসল রহস্য হাউসকিপিং কর্মীদের দক্ষতায় লুকানো। নিখুঁতভাবে ইস্ত্রি করা একদম তাজা এবং নরম তোয়ালেকে বিশেষ প্রযুক্তিতে ভাঁজ করেই এই আকৃতি দেওয়া হয়। এর জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণও নিতে হয়। পরের বার আপনাদের হোটেলে গিয়ে বিছানায় এমন রাজহাঁস দেখতে পেলে বুঝবেন, এটি কেবলই তোয়ালে নয়। এটি আসলে হোটেল ইন্ডাস্ট্রির আতিথেয়তার একটি নিজস্ব ভাষা, যার উদ্দেশ্য আপনার সফরটিকে আজীবন স্মরণীয় করে রাখা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন