বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৭:২৭ পি.এম
আন্তর্জাতিক গন্তব্যে যাতায়াতকারী বাংলাদেশি যাত্রীরা ‘এমিরেটস হলিডেজ’-এর নির্দিষ্ট প্যাকেজের আওতায় ৯৬ ঘণ্টার দুবাই ট্রানজিট ভিসা পেতে পারবেন। এই সুবিধার মাধ্যমেই তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সর্বোচ্চ চার দিন পর্যন্ত অবস্থান করার সুযোগ পাবেন।
‘এমিরেটস হলিডেজ’-এর একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মরিশাস, জর্ডান, মিসর ও তুরস্কসহ বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী এবং ওমরাহ পালনে যাওয়ার জন্য এ সুবিধাটি বিশেষভাবে উপযোগী।
নতুন এই ব্যবস্থার আওতায়, যোগ্য বাংলাদেশি যাত্রীরা দুবাইয়ে চার দিন থাকার সুবিধাসহ এমিরেটস হলিডেজের নির্ধারিত প্যাকেজ কিনে এই ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন।
এই সুবিধার ফলে বাংলাদেশি যাত্রীরা তাদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের মধ্যে দুবাইয়ে একটি সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতির সুযোগ পাবেন। এতে মূল যাত্রার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম প্রধান বিমান চলাচল ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে স্বল্পসময়ের বিনোদনমূলক ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া, দূরপাল্লার ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদের জন্য সংযোগ স্থল হিসেবে দুবাই ব্যবহারের মাধ্যমে এই ট্রানজিট ভিসা যাতায়াতকে আরো সুবিধাজনক ও সহজ করে তুলবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশালের বানারীপাড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইন্টারনেট বিলের বরাদ্দ থেকে ১০ লক্ষাধিক টাকার আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) অধিদপ্তরের ‘ডিজিটাল সংযোগ স্থাপন (ইডিসি)’ প্রকল্পের আওতায় বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার নামে ভুয়া বা অতিরিক্ত সময়ের বিল-ভাউচার প্রস্তুত করে এ অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
স্থানীয় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার নুর আলম সিদ্দিকসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দিকে অভিযোগের তীর রয়েছে। তবে ঠিকাদার নুর আলম সিদ্দিক অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা ও আইসিটি কর্মকর্তারাও।
তথ্য অনুযায়ী, ইডিসি প্রকল্পের আওতায় বানারীপাড়া উপজেলার প্রায় শতাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অপটিক্যাল ফাইবারের মাধ্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, বিদ্যালয়গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে ইন্টারনেট বিল রিচার্জ করার কথা ছিল।
ভুক্তভোগী শিক্ষকদের দাবি, যদিও উপজেলার অনেক বিদ্যালয়ে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে, তবে তা দীর্ঘদিন চালু থাকেনি। কোথাও সংযোগ দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও কয়েক মাস সেবা দেওয়ার পর রিচার্জ না করায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ফলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিজেদের অর্থে ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করতে হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা সমন্বয় সভায় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা মৌখিকভাবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খগোপতি রায়কে অবহিত করলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষকদের।
অভিযোগ রয়েছে যে, যেসব বিদ্যালয় নিজেদের অর্থে কয়েক মাসের ইন্টারনেট বিল পরিশোধ করেছে, তারা ওই সময়ের বিলের ভাউচার প্রস্তুত করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের পক্ষ থেকে উপজেলা আইসিটি অফিসের অফিস সহায়ক মো. সবুজ ও ইডিসি প্রকল্পের ফিল্ড আইটি টেকনিশিয়ান আব্দুর রহমান রাজুর মাধ্যমে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে ৩-৪ মাসের পরিবর্তে ১১ মাসের বিল-ভাউচার ও প্রত্যয়নপত্রে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।
শিক্ষকদের অভিযোগ, তাদের অভিযোগ করা হয়েছিল যে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয়গুলো এসব বিলের টাকা পাবে। পরবর্তীতে ওই ভাউচারের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিল প্রস্তুত করে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে এবং চেকের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অর্থ উত্তোলন করলেও সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়গুলোকে ইন্টারনেট সেবা বাবদ বকেয়া বিলের টাকা কিংবা অর্থ প্রাপ্তির কোনো স্বীকৃতিপত্র দেওয়া হয়নি।
এ ঘটনায় উপজেলা আইসিটি অফিসের দুই কর্মচারী সবুজ ও আব্দুর রহমান রাজুর বিরুদ্ধে ঠিকাদারকে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, তারা দায়িত্বে অবহেলা করে বিদ্যালয়গুলো থেকে বিল-ভাউচার সংগ্রহে সহযোগিতা করেছেন।
উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদ বলেন, তিনি এ ধরনের কোনো অনিয়মের বিষয়ে জানেন না।
বানারীপাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল আলম মিঠু অভিযোগ করে বলেন, যখন তিনি উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তা হাফিজ আল আসাদের কাছে যান, তখন তিনি ঠিকাদার নুর আলমের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে তাঁর অফিসে বসে বিষয়টি ‘সমাধান’ করার জন্য এক লাখ টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন মনিরুল। তবে তিনি ওই প্রস্তাবে রাজি হননি বলে জানান।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা খগোপতি রায় বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা না করে চূড়ান্ত বিল-ভাউচার স্বাক্ষর দিয়ে বিল পাশ করার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, বিল-ভাউচার পাওয়ার পর তা পাশ করে দেওয়া তাঁর দায়িত্বের অংশ। তিনি এ বিষয়েও কিছু জানেন না।
ঠিকাদার নুর আলম সিদ্দিক অর্থ আত্মসাৎ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্বাক্ষর করা বিল-ভাউচারের ভিত্তিতেই তিনি তাঁর পাওনা টাকা উত্তোলন করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, কোনো অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে তিনি জড়িত নন।
অভিযোগের ঘটনায় সরকারি অর্থের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল। এদের দাবি, সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রকৃত ইন্টারনেট সংযোগ, সেবার মেয়াদ, রিচার্জের তথ্য, বিল-ভাউচার, প্রত্যয়নপত্র ও চেকের মাধ্যমে উত্তোলন করা অর্থের হিসাব যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, শিক্ষার্থীদের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকারের কোটি কোটি টাকার প্রকল্প যদি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাধাগ্রস্ত হয়, তবে এর সুফল থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে। তাই দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি উঠেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ীতে এক ঘটনার মধ্যে বাস এবং মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যু ঘটেছে। তার নাম পলাশ প্রামানিক, বয়স ২৫ বছর। তিনি রাজবাড়ী সদর উপজেলার বাগমারা গ্রামের আরজু প্রামানিকের ছেলে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে সাড়ে ৩টার সময় রাজবাড়ী-বালিয়াকান্দি সড়কের রাজবাড়ী সদর উপজেলার মাটিপাড়া ব্রীজের কাছে এই দুঘর্টনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকার মাটিপাড়া ব্রীজে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই মোটরসাইকেল আরোহী পলাশ প্রামানিকের মৃত্যু হয়। এরপর পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘাতক বাসটি পালিয়ে যায়।
রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ এ বিষয়ে জানিয়েছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। তিনি এছাড়া জানায়, ঘাতক বাসটি আটক করতে চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, ২০২৬: উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ ফ্যাশন সোর্সিং ট্রেড ফেয়ার ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক ২০২৬’-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এটি নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা ও পণ্যের বৈচিত্র্য তুলে ধরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেভাদা অঙ্গরাজ্যের লাসভেগাস ট্রেড সেন্টারে ১০ থেকে ১২ আগস্ট অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীটি বৈশ্বিক ক্রেতা এবং তৈরি পোশাক খাতের শিল্প-সংশ্লিষ্টদের জন্য ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) আর্থিক সহযোগিতা এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের সার্বিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আয়োজিত কনক্রিট প্রদর্শনীতে দেশের শীর্ষস্থানীয় ২০টি তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠান ২১টি বুথ নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে।
বিশ্বব্যাপী পোশাক প্রস্ততকারক, টেক্সটাইল ও ফ্যাব্রিক সরবরাহকারী, ক্রেতা, আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড এবং ডিজাইনারদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের স্বীকৃত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘সোর্সিং অ্যাট ম্যাজিক’ পরিচিত। মার্কিন বাজারে প্রবেশ এবং বৈশ্বিক সোর্সিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের জন্য মেলাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
এবারের আয়োজনে বাংলাদেশ, চীন, ভিয়েতনাম ও যুক্তরাষ্ট্রসহ ২৪টি দেশের প্রদর্শকরা অংশগ্রহণ করেন। মেলায় প্রায় ৮০০টির বেশি স্টল স্থাপন করা হয়। তিন দিনব্যাপী আয়োজনে ৭০টি দেশের প্রায় সাড়ে আট হাজার দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন, যাদের মধ্যে ৭৩ শতাংশের বেশি উচ্চপর্যায়ের ক্রেতা ও খাতসংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক।
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে নিজেদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা ও প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা তুলে ধরছেন। বিশেষ করে নিটওয়্যার, ওভেন পোশাক, ক্যাজুয়াল পোশাক, কটন শার্ট, প্রিমিয়াম ডেনিম, বিশেষায়িত ওয়াশড পণ্য এবং উচ্চমূল্যের ফরমাল পোশাক প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন প্রশংসা অর্জন করেছে।
মেলার চলাকালে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়িক বৈঠক ও বাণিজ্যিক আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন। এভাবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যবসায়িক অনুসন্ধান পেয়েছেন এবং নতুন রপ্তানি আদেশ পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন খাতের পরিবর্তনশীল চাহিদার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে বাংলাদেশ প্রস্তুত। এ মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেটি আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তারা মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বাজারের বহুমুখীকরণ এবং একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং গন্তব্য হিসেবে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে এ অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে ফের পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে চলেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওদেসা এলাকায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আঘাত হেনে আগুন ধরে যায়। এতে অন্তত দুজন নিহত হন। একই সময়ে কিয়েভ দাবি করেছে, রাশিয়ার গভীরে একটি তেল শোধনাগারে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের স্টেট ইমার্জেন্সি সার্ভিস জানায়, ওদেসা অঞ্চলের বেরেজিভকা জেলায় রুশ হামলায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায় এবং পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ওই সময় ট্রেনটিতে ৩৪০ জন যাত্রী ছিলেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ট্রেনটিতে জেটচালিত একটি ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, হামলাকারীরা জানত যে এটি সম্পূর্ণ বেসামরিক একটি লক্ষ্য।
জেলেনস্কি আরো বলেন, ইউরোপে যুদ্ধ বন্ধে যদি বিশ্ব সত্যিই আন্তরিক হয়, তাহলে ইউক্রেনের জন্য আরও বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রয়োজন এবং রাশিয়ার ওপর আরও চাপ দরকার।
এদিকে, ওদেসা অঞ্চলের ইজমাইল জেলার প্রশাসন জানিয়েছে, রাতভর রুশ হামলায় বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং সেখানে আগুন ধরে গেছে। হামলায় ইজমাইল শহরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বেসরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানি ডিটেইক বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে কাজ করছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী দাবি করেছে, রাতভর রাশিয়া ১৩৩টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে ইউক্রেনীয় বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইজমাইল বন্দরে ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি অস্থায়ী অবস্থানে এবং সামরিক সরঞ্জাম খালাস ও সংরক্ষণে ব্যবহৃত বন্দর অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি দানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত রেনি বন্দরে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একটি কমান্ড পোস্টে হামলার দাবি করেছে মস্কো।
রাশিয়ায় ইউক্রেনের ড্রোন হামলার প্রসঙ্গে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর দেশটির ১৭টি অঞ্চলের পাশাপাশি কৃষ্ণসাগর, আজভ সাগর ও ক্রিমিয়ার আকাশে মোট ৩৬২টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
এদিকে, রাশিয়ার বাশকোর্তোস্তান অঞ্চলের প্রধান রাদিয় খাবিরভ জানিয়েছেন, চিশমিনস্কি জেলায় একটি লজিস্টিকস কেন্দ্রে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় দুজন আহত হয়েছেন। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, ভূপাতিত একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ সালাভাত শহরের একটি শিল্প এলাকায় পড়ে আগুন ধরে গেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন মার্কেটপ্লেস ওয়াইল্ডবেরিজও জানিয়েছে, তাদের একটি স্থাপনায় থাকা শিল্প এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে আগাম লোকজন সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ওই স্থাপনায় কোনো পণ্য সংরক্ষণ করা ছিল না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
পরে ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ নিশ্চিত করে যে, তারা বাশকোর্তোস্তানের গাজপ্রম নেফতেখিম সালাভাত তেল শোধনাগারকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, হামলায় শোধনাগারটি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পরে সেখানে আগুন ধরে যায়। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ