ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পলিসি ক্যাম্পে সারা দেশের ৩০ জনের একজন বেরোবির শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার লাবন্য


পলিসি ক্যাম্পে সারা দেশের ৩০ জনের একজন বেরোবির শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার লাবন্য

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আইরিন আক্তার লাবন্য ‘পলিসি ক্যাম্প’-এ অংশগ্রহণের জন্য সারা দেশ থেকে নির্বাচিত ৩০ জন তরুণের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছেন।

ইনস্টিটিউট ফর ইনফর্মড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) ও ইয়ুথ ফর পলিসি (YfP)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ পলিসি ক্যাম্প আগামী ১৫ থেকে ২১ আগস্ট ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।

দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগ্রহী তরুণদের আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ৩০ জনকে নির্বাচিত করা হয়েছে। নির্বাচিতদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে সুযোগ পেয়েছেন আইরিন আক্তার লাবন্য।

আরও পড়ুন: জাতীয় সংসদের এলডি হলে শুরু হলো বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ সম্মেলন

ক্যাম্পে অংশগ্রহণকারীদের নীতি প্রণয়ন, নেতৃত্ব, নাগরিক অংশগ্রহণ ও সমসাময়িক বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে ধারণা ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন সেশন, আলোচনা ও কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।

এ বিষয়ে আইরিন আক্তার লাবন্য বলেন, “সারা দেশের ৩০ জন তরুণের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। এই ক্যাম্পের মাধ্যমে নীতি প্রণয়ন ও নেতৃত্ব সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাব। অর্জিত অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কাজে লাগিয়ে সমাজ ও দেশের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে চাই।”

লাবন্যের এ অর্জনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ের এমন একটি আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণকে ইতিবাচক অর্জন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: তারেক রহমানের পরিকল্পনায় বিএনপির নেতৃত্বে গণ-অভ্যুত্থান: নুরুল আমিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ রাতে আকাশে উল্কাবৃষ্টির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার দারুণ সুযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


আজ রাতে আকাশে উল্কাবৃষ্টির মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখার দারুণ সুযোগ

আজ রাতে (১২ আগস্ট) আকাশে দেখা মিলতে পারে বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য পার্সিড উল্কাবৃষ্টি। এই উল্কাবৃষ্টি ১২ আগস্ট রাতের পরে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত সবচেয়ে সক্রিয় থাকবে। এ বছরে অমাবস্যার কারণে আকাশে চাঁদের আলো না থাকার ফলে উল্কার ঝলকানি দেখার পরিবেশেও তুলনামূলক ভাবে অনুকূল থাকবে।

যদি আকাশ পরিষ্কার থাকে এবং শহরের কৃত্রিম আলোর প্রভাব থেকে দূরে কোনো খোলা ও অন্ধকার জায়গায় অবস্থান করা যায়, তাহলে ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি উল্কা দেখা যেতে পারে। বিশেষভাবে রাত ১২টার পর থেকে ভোরের আগ পর্যন্ত উল্কা দেখার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

পার্সিড উল্কাবৃষ্টির উৎস হচ্ছে ধূমকেতু ১০৯পি/সুইফট-টাটল। সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার সময় এই ধূমকেতু মহাকাশে ধূলিকণা ও পাথুরে কণার একটি ভ্রাম্যমাণ রেখা রেখে যায়। প্রতিবছর পৃথিবী ওই ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় এসব কণা প্রচণ্ড গতিতে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে উত্তপ্ত হয়ে জ্বলে ওঠে। এর ফলে রাতের আকাশে তৈরি হয় একটি আলোর ঝলকানি, যা সাধারণভাবে ‘তারা খসা’ নামে পরিচিত।

উত্তর গোলার্ধের দেশের মানুষের জন্য পার্সিড উল্কাবৃষ্টি দেখার সুযোগ তুলনামূলক ভাবে ভালো। তবে, নির্দিষ্ট কোনো একটি জায়গায় তাকানোর প্রয়োজন নেই। পারসিয়াস নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে উল্কাগুলো আসছে বলে মনে হলেও আকাশের বিভিন্ন অংশে তাদের আলোর রেখা দেখা যেতে পারে। সুতরাং যত বেশি সম্ভব বিস্তৃত আকাশ চোখের সামনে রাখা ভালো।

এই মহাজাগতিক দৃশ্য উপভোগের জন্য টেলিস্কোপ বা দূরবীনের প্রয়োজন নেই। খালি চোখেই উল্কার ঝলকানি দেখা সম্ভব। তবে, মেঘমুক্ত আকাশ এবং আশপাশের কম আলোর দূষণ থাকাটা উল্কাবৃষ্টি দেখার প্রধান শর্ত।

অতএব, আজ রাতে সুযোগ থাকলে শহরের আলো থেকে দূরে কোনো নিরাপদ খোলা জায়গায় গিয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কয়েক মিনিট কেবল অপেক্ষা করলে দেখা মিলতে পারে ‘তারা খসার’ সেই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পল্লবীতে গুলি করে হত্যাচেষ্টা, জানা গেল কারণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:২৯ পি.এম


পল্লবীতে গুলি করে হত্যাচেষ্টা, জানা গেল কারণ

রাজধানীর পল্লবীতে মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগির বিরোধের জেরে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কুখ্যাত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ‘ল্যাংড়া’ রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—‘ল্যাংড়া’ রুবেল, হামিদ খান ওরফে মাখন, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক কারবার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গোলাগুলির ঘটনায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় জোসনা নামে এক পথচারী মহিলা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।

 

ঘটনার পর ডিবি মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করে।

পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ খান জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক হলো কুখ্যাত মাদক কারবারি ‘ল্যাংড়া’ রুবেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে কালশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।

এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রুবেল, হামিদ ও অন্যান্যরা বলেন, মাদকদ্রব্য বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটেছে। উল্লেখ্য, আলমগীর নিজেও একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, যার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এই মামলায় তিনি ভুক্তভোগী বলেও জানান ডিবি প্রধান।

ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ‘ল্যাংড়া’ রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন কিনা, তা তদন্তে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তথ্য পাঠানো হবে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রুবেলের নামে গাড়ি নিবন্ধিত না থাকলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গাড়িগুলো রুবেলই কিনে দিয়েছেন। হেমায়েতপুরে রুবেলের বসবাসের বাড়ি নিয়েও তদন্ত চলছে। রুবেলের দৃশ্যমান অন্য কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মাদক কারবারের তার আয়ের প্রধান উৎস বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।

গোলাগুলির সময় গাড়িতে বাপ্পাসহ আরো কয়েকজন ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কালীগঞ্জে ইয়াবা সেবনের দায়ে ৩ জনের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


কালীগঞ্জে ইয়াবা সেবনের দায়ে ৩ জনের কারাদণ্ড

গাজীপুরের কালীগঞ্জের গ্রাম এলাকায় নিভৃত পল্লীতে প্রকাশ্যে ইয়াবা সেবনের দায়ে তিনজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১২ আগস্ট) কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক এই রায়টি দিয়েছেন।

দণ্ডিত তিনজন হলেন কালীগঞ্জের তুমলিয়া পুনারটেক গ্রামের এস এম জিলানীর ছেলে নজরুল ইসলাম (৪৭), টেক মানিকপুর গ্রামের সুলতান মোল্লার ছেলে মোক্তার মোল্লা (৩৫) এবং মোক্তারপুর ইউনিয়নের হারিদেবপুর গ্রামের মৃত গনি মিয়ার ছেলে আবুল কাসেম (২৯)।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম জানান, ইয়াবা সেবনের অভিযোগে তিনজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় যথাক্রমে ১০ দিন, তিন মাস এবং ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে এক শ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও কালীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আল আমিন হালদার কালের কণ্ঠকে সংবাদটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ট্রাম্প এত দিন মিথ্যা বলেছিলেন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩১ পি.এম


ট্রাম্প এত দিন মিথ্যা বলেছিলেন?

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:১৪

বিষয়টি গোয়েন্দা সিনেমার মতই রোমাঞ্চকর। ডেটলাইন ৮ জুলাই।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে আগের দিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তুরস্ক এসেছিলেন। তিনি এসেছিলেন কাতার রাজপরিবারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে। কিন্তু ফেরার সময় বিমানবন্দরে দেখা গেল এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানটি দাঁড়িয়ে আছে।

রাতারাতি বিমান বদলানোর বিষয় নিয়ে কারো কল্পনা ছিল। সেই কল্পনার ভেতর দিয়েই ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে চড়ে বসেন। এর আগে তিনি বিমানের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সবার কাছ থেকে বিদায় নিলেন, ছবি উঠলো। প্রচার হলো যে ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে চড়ে আঙ্কারা ত্যাগ করলেন।

এমন পরিস্থিতিতে বিমানে তখন ট্রাম্পের সফরসঙ্গী সাংবাদিক, হোয়াইট হাউসের স্টাফ এবং বিমানের কর্মীরা already বসেছিলেন।

এরপর সবার চোখের সামনে ধুলো দিয়ে ট্রাম্প বিকল্প দরজা দিয়ে বিমানের বাইরে নেমে গেলেন। সেখানে একটি ভ্যান ছিল, যা বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী। সেই ভ্যানের ভেতরে চড়ে পরাক্রমশালী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রানওয়ের অপর প্রান্তে অপেক্ষায় থাকা সামরিক বিমান ‘এয়ার ফোর্স সি-৩২এ’তে চলে গেলেন।

সবার কল্পনাকে হার মানিয়ে সেই সামরিক বিমান নিয়ে ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিল্ডেনহল ঘাঁটিতে উড়ে গেলেন।

কিন্তু নাটক তখনও শেষ হয়নি। ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানটি পৌঁছানোর কিছু মিনিট পর এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানটিও পৌঁছে যায় সেখানে। ট্রাম্প সামরিক বিমান থেকে নেমে একটি গোপন দরজা দিয়ে ভেতরে গিয়ে বসলেন এয়ারফোর্স ওয়ানে। এরপর যথারীতি, একজন সিদ্ধ অভিনেতার মতো, তিনি হাত নাড়তে নাড়তে এয়ারফোর্স ওয়ান থেকে নেমে আসেন।

সবাই জানলো ট্রাম্প এয়ারফোর্স ওয়ানের বিমানে চড়েই আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যে এসেছেন। সেখান থেকে তিনি সফরসঙ্গীদের নিয়ে এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানে চড়ে ওয়াশিংটন ফিরলেন। ওয়াশিংটন পোস্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই গোপন অভিযানের খবর প্রকাশ না করা পর্যন্ত সবাই ভাবছিল, তিনি এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানেই আঙ্কারা ছেড়েছেন। ওয়াশিংটন পোস্ট খবর প্রকাশের পর ট্রাম্প তার এই গোপন অভিযানের গল্প স্বীকার করে বলেছেন, সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে তিনি এটি করেছেন। তবে প্রেসিডেন্টের এই গোপন অভিযান নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের জন্ম হচ্ছে।

ওয়াশিংটনের পোস্টের খবরের সত্যতা স্বীকার করা মানে হলো, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ট্রাম্প ও হোয়াইট হাউস মিলে ট্রাম্পের ফেরার ব্যাপারে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা বলেছেন। প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার কারণে সিক্রেট সার্ভিসের পরামর্শে গোপন অভিযান বা অভিনয় নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

প্রশ্ন হলো, নিরাপত্তা ঝুঁকি কেটে যাওয়ার পরও কেন বিষয়টি পরিষ্কার করে জানানো হলো না। কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান বদলের ঘটনা এটি প্রথম নয়, ২০০০ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের পাকিস্তান সফরের সময়ও বিমানের বদল হয়েছিল। ক্লিনটনের জন্য নির্ধারিত মার্কিন ব্র্যান্ডের সি-২০ বিমানটি অবতরণ করার কিছুক্ষণ পর একটি চিহ্নহীন সি-২০ বিমানে করে ক্লিনটন পাকিস্তান পৌঁছেছিলেন। ওসামা বিন লাদেনের মতো সন্ত্রাসীরা বিমানটি ভূপাতিত করতে পারে, এই আশঙ্কার কারণে ক্লিনটনের বিমান বদলানোর ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু ক্লিনটন শিগগিরই তার নিরাপত্তা কৌশল কার্যকরভাবে প্রকাশ করেছিলেন।

ওয়াশিংটন পোস্ট মঙ্গলবার জানিয়েছে, ক্লিনটন হোয়াইট হাউস সফরের আগে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের প্রধানকে অফ দ্য রেকর্ড ব্রিফ করেছিলেন। কিন্তু লক্ষণীয় বিষয় হলো, আপাত বিপদ কেটে যাওয়ার পরেও ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস ক্রমাগত মিথ্যা বলে গেছে।

যুক্তরাজ্য থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানে চড়ে ওয়াশিংটন ফেরার পথে বিমানে বসে সাংবাদিকদের সাথে নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প বারবার কোনো ধরনের হুমকির কথা অস্বীকার করেন। যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্র ফেরার পথে এক সাংবাদিক ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, ‘আপনি বলছেন কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি ছিল না?’ ট্রাম্প উত্তর দেন, ’না। না। কেন থাকবে?’ অন্য কোনো সমস্যা ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ’না।’

নির্দিষ্ট কোনো হুমকি ছিল কি না তা নিয়ে সাংবাদিকরা ক্রমাগত চাপ দিতে থাকলে ট্রাম্প বিষয়টি এড়িয়ে যান। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘দেখুন, আমার ওপর তো সবসময়ই হুমকি থাকে। আপনাদের আগে তাদের তালিকায় আমি এক নাম্বারে আছি। তবে আমি গেলে, আপনারাও যাবেন।’ মুখে ‘আমি গেলে আপনারাও যাবেন’ বললেও ট্রাম্প কার্যত সাংবাদিক এবং অন্য স্টাফদের ঝুঁকির মুখে ফেলে নিজে বিকল্প বিমানে চড়ে বসেছিলেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, সত্যি যদি ঝুঁকি থাকেই, তাহলে সাংবাদিক এবং অন্য স্টাফদের নিরাপত্তার বিষয়টি কেন বিবেচনায় নেয়া হয়নি? তাদের কেন কিছু না জানিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ফ্লাইটে ভ্রমণ করতে বাধ্য করা হলো? কেন তাদের জন্য কোনো বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হলো না? তাছাড়া এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী বিমানটি রক্ষায় কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল? ট্রাম্পকে রক্ষায় কি তাহলে এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমান এবং তার যাত্রীদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্লিনটনের মতো ট্রাম্পও অফ দ্য রেকর্ড সাংবাদিকদের জানিয়ে রাখতে পারতেন। তবে সাংবাদিকদের সাথে ট্রাম্পের সেই আস্থার সম্পর্ক নেই। সাবেক সিক্রেট সার্ভিস এজেন্ট রবার্ট ম্যাকডোনাল্ড সিএনএন-এর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ’অন্য বিমানটির জন্য কী ধরনের নিরাপত্তা নেয়া হয়েছিল, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠবে, যেখানে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবং হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিত্বকারী ব্যক্তিরা তখনও সেই বিমানে ভ্রমণ করছিলেন।‘

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও গত মঙ্গলবার সিএনএন-এর একটি প্রশ্ন এড়িয়ে যান, যেখানে জানতে চাওয়া হয়েছিল যে প্রশাসন সাংবাদিক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঝুঁকির মুখে ফেলেছিল কি না। সাংবাদিক কিংবা সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, কংগ্রেসকেও বিষয়টি সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। একজন ডেমোক্রেটিক জাতীয় নিরাপত্তা সহযোগী গত মঙ্গলবার জানান, কংগ্রেসের শীর্ষ নেতাদের দল ‘গ্যাং অব এইট’-কেও এই ঘটনাটি সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়নি।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্টের যাতায়াত ব্যবস্থাপনায় কংগ্রেস সাধারণত গভীরভাবে যুক্ত হয় না। তারপরও ওই সহযোগী মনে করেন, ’ঘটনাটি সম্পর্কে না হলেও, হুমকির বিষয়ে কংগ্রেসকে ব্রিফ করা উচিত ছিল।’

বারাক ওবামার সময় হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা ডেভিড অ্যাক্সেলরড সিএনএন-এর এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ’হুমকির মাত্রা এতটা বেশি থাকার কারণে প্রেসিডেন্টকে রক্ষা করতে যদি তাদের এমন অসাধারণ পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজন হয়ে থাকে, তবে মার্কিন জনগণের জানার অধিকার ছিল যে এই নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হুমকির মাত্রা এতটাই উচ্চ ছিল।’

ট্রাম্প এবং হোয়াইট হাউস বরাবরই ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। কিন্তু নিরাপত্তার হুমকির কারণে গোপনে বিমান বদলের ঘটনায় এটা প্রমাণিত, ইরানের কথিত হুমকিটি যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য ছিল। শুধুমাত্র ট্রাম্প নয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথও বিমান ভূপাতিত করার ক্ষেত্রে ইরানের তথাকথিত অক্ষমতার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

গত মার্চ মাসে হেগসেথ বলেছিলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল শিগগিরই ’ইরানি আকাশসীমার সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ এবং ’প্রশ্নাতীত আকাশসীমা’ লাভ করবে। গত ২৪ মার্চ ট্রাম্প যোগ করেছিলেন, ’আমাদের বিমান আক্ষরিক অর্থেই তেহরান এবং তাদের অন্যান্য অংশের ওপর দিয়ে উড়ছে; তারা এ নিয়ে কিছুই করতে পারছে না।’

ট্রাম্প আরো বলেছিলেন, ইরানের কোনো নৌবাহিনী, কোনো সামরিক বাহিনী, কোনো বিমান বাহিনী এবং কোনো বিমান বিধ্বংসী ব্যবস্থা নেই। এখন দেখা যাচ্ছে সবই বাগাড়ম্বর। ইরানের ভয়েই আঙ্কারা থেকে পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে, ট্রাম্প ও হেগসেথের মন্তব্যের পরপরই, এপ্রিলের শুরুতে দুটি মার্কিন জেট বিমান ভূপাতিত করে ইরান তাদের সক্ষমতা বুঝিয়ে দিয়েছিল।

তারচেয়ে বড় কথা হলো, ট্রাম্প আঙ্কারা থেকে এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরোনো বিমানে চড়ে আঙ্কারা ত্যাগের সময়ই এয়ারফোর্স ওয়ানের নতুন বিমানটির নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। বিষয়টি হোয়াইট হাউস বরাবর অস্বীকার করে এসেছে। ট্‌রাম্প তখন বলেছিলেন, মার্কিন সেনারা যাতে ভালো করে ঘুরে দেখতে পারে, এ জন্যই নতুন বিমানটি আগেই পাঠানো হয়েছিল। নিউইয়র্ক টাইমস নতুন বিমানের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তাদের চার সাংবাদিককে তলব করেছিল হোয়াইট হাউস। ট্রাম্প настолько ক্ষেপেছিলেন যে, কারা এই তথ্য ফাঁস করলো, তা জানতে ব্যাপক তদন্তও হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের কারো কারো ফোন পর্যন্ত জব্দ করা হয়েছিল।

এখন ঘটনা পরম্পরায় প্রমাণিত যে, নিউইয়র্ক টাইমসের সংবাদ সঠিক ছিল। কারণ আঙ্কারা থেকে ফেরার পরেই নতুন বিমানটি আবার সংস্কারে পাঠানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, রাজকীয় বিমানে চড়ার জন্য উতালা হয়ে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। এ জন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিকভাবে যাচাই করার আগেই তাড়াহুড়ো করে নতুন বিমানটি এয়ারফোর্স ওয়ান বহরে যুক্ত করা হয়েছিল। প্রশ্ন হলো, তাহলে নিউইয়র্ক টাইমসের চার সাংবাদিককে তলব করা হলো কেন?

অনেক প্রশ্নের শেষ প্রশ্ন হলো, ইরানের ভয়ে পালালেও ট্রাম্প এটিকে এতদিন স্বীকার করেননি কেন? ট্রাম্প যে ভয় পেয়েছেন, এটা কাউকে জানাতে চাননি নাকি ইরানের সামরিক সক্ষমতা রয়েছে, সেটা স্বীকার করতে চাননি?

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%