০৩:২৯ পি.এম
রাজধানীর পল্লবীতে মাদক বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগির বিরোধের জেরে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় কুখ্যাত মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসী ‘ল্যাংড়া’ রুবেলসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—‘ল্যাংড়া’ রুবেল, হামিদ খান ওরফে মাখন, তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পা, পারভেজ ও রাব্বী। তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, এক হাজার পিস ইয়াবা এবং মাদক কারবার পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত দুটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ৭ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকায় ইমনের চায়ের দোকানের সামনে গোলাগুলির ঘটনার বিষয়ে ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, গোলাগুলির ঘটনায় আলমগীর নামে এক ব্যক্তি পেটে এবং মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় জোসনা নামে এক পথচারী মহিলা পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আলমগীরের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পল্লবী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়।
আরও পড়ুন: রাজধানীর হকারদের নিবন্ধনের ঘোষণা দিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক
ঘটনার পর ডিবি মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। পুলিশ ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোলাগুলিতে ব্যবহৃত একটি টয়োটা প্রিমিও গাড়ি শনাক্ত করে।
পরে গাড়িটির মালিক হামিদ খান ওরফে মাখনকে পল্লবী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে হামিদ খান জানান, গাড়িটি তার নামে নিবন্ধিত হলেও এর প্রকৃত মালিক হলো কুখ্যাত মাদক কারবারি ‘ল্যাংড়া’ রুবেল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রুবেলের সহযোগী পারভেজ ও রাব্বীকে কালশী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে রুবেলের ব্যবহৃত একটি সাদা টয়োটা ভক্সি গাড়ি এবং গাড়ির ভেতর থেকে এক হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে পারভেজ ও রাব্বীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রূপনগর থানাধীন ইস্টার্ন হাউজিংয়ের পাশের বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তানজিদ আহাম্মেদ ওরফে বাপ্পাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী শিশু হাসপাতালে চিকিৎসকের ধূমপান দেখে বরখাস্তের নির্দেশ দেন
এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি রাউন্ড গুলি এবং দুটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রুবেল, হামিদ ও অন্যান্যরা বলেন, মাদকদ্রব্য বিক্রির ১৫ লাখ টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই ‘ল্যাংড়া’ রুবেল ও তার সহযোগীদের সঙ্গে আলমগীরের বিরোধের জেরে গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটেছে। উল্লেখ্য, আলমগীর নিজেও একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, যার বিরুদ্ধে ঢাকায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এই মামলায় তিনি ভুক্তভোগী বলেও জানান ডিবি প্রধান।
ডিবি প্রধান জানিয়েছেন, ‘ল্যাংড়া’ রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করেছেন কিনা, তা তদন্তে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের মামলা করতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) তথ্য পাঠানো হবে।
অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রুবেলের নামে গাড়ি নিবন্ধিত না থাকলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, গাড়িগুলো রুবেলই কিনে দিয়েছেন। হেমায়েতপুরে রুবেলের বসবাসের বাড়ি নিয়েও তদন্ত চলছে। রুবেলের দৃশ্যমান অন্য কোনো আয়ের উৎস পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে মাদক কারবারের তার আয়ের প্রধান উৎস বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
আরও পড়ুন: মাভাবিপ্রবির জনসংযোগ উপপরিচালক বাপাজস'র সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান জানান, এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা চেষ্টা মামলার পাশাপাশি অস্ত্র আইন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।
গোলাগুলির সময় গাড়িতে বাপ্পাসহ আরো কয়েকজন ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম-পরিচয় আপাতত প্রকাশ করা হচ্ছে না। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন