০৩:০১ এম
ওমান সাগরে ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার দিকে অগ্রসর হওয়া একটি মার্কিন সামরিক জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের নৌবাহিনী।
ওমান সাগর অবস্থানরত মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ইরানের দাবি অস্বীকার করেছে সেন্টকম। ছবি: সংগৃহীত
আরও পড়ুন: পুতিন ও জেলেনস্কির শিগগিরই বৈঠক হবে: ট্রাম্প
বুধবার (৩ জুন) রাতে ইরানের আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান সাগরে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নেওয়া জাহাজটি একটি ‘কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের জেরে এই ঘটনা ঘটেছে।
তবে সেন্টকম ওমান সাগরে মার্কিন জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করার ইরানের দাবিকে মিথ্যা বলে অভিহিত করেছে। এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরান মিথ্যা বলছে।’
এদিকে কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার (৩ জুন) ভোরে ইরানের ড্রোন হামলায় একজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: আইফোনের জন্য বন্ধুকে খুন করেছে সায়েল মিয়া
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ এটা আবারও বেসামরিক লোকজন ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এতে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কূটনৈতিক মিশনও আক্রান্ত হয়েছে।
তবে ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারী গার্ড কোর (আইআরজিসি) ঘটনাটিতে নিজের বাহিনীকে দায়ী করেনি। তারা দাবি করেছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী টার্মিনালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পেছনে তাদের বাহিনী নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ত্রুটি দায়ী।
এদিকে, কুয়েতে হামলার বিষয়ে ইরানের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা অভিযোগ করেছে যে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলাটি তেহরান উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চালিয়েছে।
এক্সে (সাবেক টুইটার) করা এক পোস্টে সেন্টকম বলেছে, ‘ইরান ড্রোন ব্যবহার করে বেসামরিক বিমানবন্দরে ইচ্ছাকৃত, পরিকল্পিত এবং অযৌক্তিক হামলা চালিয়েছে।’
আরও পড়ুন: প্রশান্ত মহাসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৫ জন নিহত
আরও পড়ুন: কুয়েতে ইরানের হামলায় একজন নিহত
টেকসই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার (২ জুন) ইরানে মার্কিন বাহিনী নতুন হামলা শুরু করে। এ হামলাকে মার্কিন বাহিনী ‘আত্মরক্ষামূলক’ হিসেবে দাবি করেছে।
ইরানের আইআরজিসি এক বিবৃতিতে জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কারে আকাশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আইআরজিসি জানায়, এরপর মার্কিন বাহিনী কেশম দ্বীপের দক্ষিণে গার্ড বাহিনীর একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালায়। যুক্তরাষ্ট্রকে এসব হামলার জন্য ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়ার অভিযোগে কুয়েত ও বাহরাইনকে অভিযুক্ত করে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এই হামলার নিন্দা করেছে।
আরও পড়ুন: মঙ্গলে নাসার ওডিসির দুই দশকের সাফল্য ও নতুন তথ্যের উন্মোচন
পরে হামলার জবাবে ইরান কুয়েত ও বাহরাইনে পাল্টা হামলা চালায়। আইআরজিসি পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিশোধ হিসেবে একটি ‘আঞ্চলিক দেশে’ অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে এবং হেলিকপ্টারে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
সঙ্গে সাথে সতর্ক করে বলা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী হামলার জন্য একটি ‘চূড়ান্ত’ জবাব দেয়া হবে এবং ইরানের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডে জড়িত শক্তিগুলোকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন