১১:২০ পি.এম
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুবি) টানা আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির বাস্তবায়নে সন্তোষজনক অগ্রগতি হওয়ায় ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, আগামী রবিবার (২ আগস্ট) থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, তিন দফা দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গৃহীত পদক্ষেপ সন্তোষজনক হওয়ায় আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণে থাকবে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করেছে, ভবিষ্যতে যদি কোনো ধরনের গড়িমসি বা অসহযোগিতামূলক আচরণ পরিলক্ষিত হয়, তাহলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এর আগে, গত ২৪ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আলোচনায় তিন দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছিল। দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেয় শিক্ষার্থীরা। এর ফলে, প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক দফা বৈঠক হওয়ার পরও সন্তোষজনক অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ও একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরে প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে ভবনগুলোর তালা খুলে দেওয়া হলেও তারা ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন অব্যাহত রাখেন।
আরও পড়ুন: ১৬ বছর আগের ঘটনায় জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় ফাঁসলেন রাখি সাওয়ান্ত
শিক্ষার্থীদের প্রথম দাবি ছিল বিজয়’২৪ হলের ক্যানটিনকর্মী কর্তৃক সংঘটিত যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হল প্রভোস্ট বডির জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
প্রশাসন জানান, অভিযুক্ত ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসান ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে চারটি ধারায় মামলা করা হয়েছে এবং বর্তমানে তারা কারাগারে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, আদালতের মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া, হল প্রভোস্ট বডির ভূমিকা তদন্তে গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনার সুযোগ পাবেন এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কিত তথ্যও জানানো হবে।
দ্বিতীয় দাবি ছিল যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষক, অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলাম এবং বাংলা ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি। এ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৭তম সিন্ডিকেট সভায় অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল ইসলামকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অধ্যাপক ড. মো. রুবেল আনসারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানি নিরোধকেন্দ্রের তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃতীয় দাবিতে ‘স্পন্দন-২৪’ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিল করা দাবি জানানো হয়। এ বিষয়ে ক্লাবটি তাদের বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে সব কার্যক্রম আজীবনের জন্য বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি, আগামী ২ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালকের দপ্তরে ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের আবেদন জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে ক্লাবটির সদস্যরা।
আরও পড়ুন: হুইপ দুলুর আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শন, অনুপস্থিত চিকিৎসকদের শোকজের নির্দেশ
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক মো. সালাউদ্দিন এ বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। শিক্ষার্থীরা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করছি।’
উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই রাতে বিজয়’২৪ হলের ছাত্রীদের শৌচাগার ও গোসলখানার ভেন্টিলেটর দিয়ে গোপনে ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যানটিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করেন শিক্ষার্থীরা এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। একই ঘটনায় তার স্ত্রীরও গ্রেপ্তার হয়। এ ঘটনার বিচার দাবির সঙ্গে যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্পন্দন-২৪ ক্লাবের নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে।
টানা আন্দোলনের মধ্যে প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক, তদন্ত কার্যক্রম এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তের পর তিন দফা দাবিতে সন্তোষজনক অগ্রগতি হয়েছে বলে শিক্ষার্থীরা মনে করছেন। এই কারণে, আগামী রোববার থেকে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবিগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন না হলে তারা পুনরায় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
আরও পড়ুন: রাতের আঁধারে মহাসড়কে আতঙ্ক, অটোরিকশার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন