ঢাকা শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৮ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আকাশে ৪ সেকেন্ডের আতঙ্ক, নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার সেই বিমান!


আকাশে ৪ সেকেন্ডের আতঙ্ক, নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার সেই বিমান!

আকাশপথে উড়ার সময় একটি বিমান এয়ার ইন্ডিয়ার, ৪ সেকেন্ডের জন্য পুরোপুরি চালকবিহীন ও ফ্লাইট কন্ট্রোলমুক্ত হয়ে গিয়েছিল। থাইল্যান্ডের ফুকেট থেকে নয়াদিল্লিগামী এআই-২৩৭৯ নম্বর ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিমানটি এক ধাক্কায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়।

বিশ্বখ্যাত বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ারবাস’-এর প্রাথমিক ব্ল্যাক বক্স (ডিজিটাল ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডার) বিশ্লেষণের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

এয়ারবাসের প্রাথমিক মূল্যায়নে পাওয়া গেছে যে, একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিমানটির তিনটি প্রধান হাইড্রোলিক সিস্টেম হঠাৎ করে ব্যর্থ হয়ে পড়ে। ফলে বিমানের গতিপথ ও দিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এলিভেটর, এইলারন এবং স্পয়লার সবই পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায় এবং নিজেদের মতো চলতে শুরু করে। এটি এই ধরনের বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের ইতিহাসে অত্যন্ত বিরল এবং নজিরবিহীন এক ঘটনা।

আরও পড়ুন: ইরান: মার্কিন যুদ্ধজাহাজ সাগরে পেলেই ডুবিয়ে দেওয়া হবে

ফ্লাইট চলাকালীন উক্ত চার সেকেন্ডের মধ্যে বিমানের এলিভেটর এবং এইলারনগুলো পাইলটের নির্দেশনা ছাড়াই নড়াচড়া করতে থাকে। সাধারণত বিমানের সামনের অংশকে ওপরে বা নিচে নামাতে এলিভেটর, ডানার ভারসাম্য বজায় রাখতে এইলারন এবং বিমানের গতি কমাতে বা নামতে সহায়তা করতে স্পয়লার ব্যবহৃত হয়, যা সবসময় হাইড্রোলিক পাওয়ার অনুকূলে থাকে। এই সময় বিমানের অটো-পাইলট সিস্টেম স্বতঃস্ফূর্তভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং ককপিটে স্টল ওয়ার্নিং (ডানা যথেষ্ট লিফট হারালে যে সতর্কতা সংকেত বাজে) সংকেত বেজে ওঠে। বিপদের আগেই বিমান পরিচালনায় নিযুক্ত কো-পাইলট সম্ভাব্য ক্র্যাশ এড়াতে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর অনুসরণ করে কন্ট্রোল স্টিক সামনের দিকে চেপে ধরেন। কিন্তু হাইড্রোলিক পাওয়ার সচল না থাকার কারণে বিমানটি তৎক্ষণাৎ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাইনি। চার সেকেন্ড পর যখন হাইড্রোলিক ব্যবস্থা সচল হয়, তখন বিমানটি হঠাৎ করে খাড়া নিচে নেমে যেতে শুরু করে। শারীরিকভাবে তীব্র ঝাঁকুনিতে চালক নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেলেও ততক্ষণে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং সিটবেল্ট না বাঁধা অনেক যাত্রী ও কেবিন ক্রু বিমানটির ছাদে আঘাত পান, যার ফলে বেশ কয়েকজন মারাত্মক আহত হন।

এনডিটিভি জানিয়েছে যে, ৭.৮ বছর পুরনো এ-৩২০ নিও মডেলের এই বিমানটির যাবতীয় তথ্য ফ্রান্সে অবস্থিত এয়ারবাসের ২৪ ঘণ্টার কারিগরি পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ‘এয়ারট্যাক’-এ পাঠানো হয়। বোয়িং বা এয়ারবাসের উড়োজাহাজ থেকে ‘এসিএআরএস’ ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য পাঠানো ছাড়াও অবতরণের পরপরই এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে ব্ল্যাক বক্সের পূর্ণাঙ্গ ডাটা সংগ্রহ করে ফ্রান্সে পাঠানো হয়। উক্ত ডাটা বিশ্লেষণ করে গত ৫ আগস্ট মধ্যরাতে, অর্থাৎ ঘটনার প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা পর এয়ার ইন্ডিয়ার কাছে প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয় এয়ারবাস। তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে জরুরি পরিস্থিতির পেছনে একটি ত্রুটিপূর্ণ প্রেশার সেন্সরকে দায়ী করা হলেও, সেটিই মূল কারণ কি না, তা নিয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এয়ারবাস এখনো পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত দিকনির্দেশনাও প্রদান করেনি।

বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত অনেক দূর এগিয়ে গেছে। এয়ারবাস এবং ফরাসি দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা বিইএ-এর একটি যৌথ প্রতিনিধিদল দিল্লিতে পৌঁছে বৃহস্পতিবার বিমানটি পরিদর্শন করছে। তাদের প্রাথমিক শারীরিক পরীক্ষার নতুন তথ্যগুলো ভারতের জাতীয় সংস্থা ‘এয়ারক্রাফট অ্যাকসিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো’-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন উপস্থিত করেছে।

অন্যদিকে, এই বিপজ্জনক ফ্লাইট বিপর্যয়ে বিমানটির মূল পাইলট ইন কমান্ড, ক্যাপ্টেন সুদীপ বশিষ্ঠের আচরণগত কোনো ভূমিকা ছিল কি না তা নিয়ে আলাদা তদন্ত চলছে। যদিও দুর্ঘটনার সঙ্গে উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক এখনও নিশ্চিত নয়, তবে ঘটনার পর বিমানবন্দরে করা দুটি প্রস্রাব পরীক্ষায় সুদীপ বশিষ্ঠের শরীরে মারিজুয়ানা (গাঁজা)-র উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এমনকি ফ্লাইটের একজন কেবিন ক্রু অভিযোগ করেছেন যে, পাইলট ফ্লাইট শুরুর আগে গাঁজা সেবন করেছিলেন। এই গুরুতর অপরাধ ও নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘনের বিষয়টি সামনে আসার পর এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের সকল পাইলটদের জন্য শরীরে কোনো নিষিদ্ধ মাদক বা উপাদানের উপস্থিতি আছে কি না, তা নিশ্চিতে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: কানাডায় অভিবাসন জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ বাংলাদেশির বিরুদ্ধে মামলা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রাইভেট কার থামিয়ে প্রবাসীর সাড়ে ২৩ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার একজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৮ এম


প্রাইভেট কার থামিয়ে প্রবাসীর সাড়ে ২৩ লাখ টাকা ছিনতাই, গ্রেপ্তার একজন

চট্টগ্রামের রাউজানে প্রবাসীর ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় মো. জয়নাল আবেদীন (৫২) নামের একজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাই হওয়া টাকার মধ্যে ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ঘটনাটি সোমবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার ১ নম্বর হলদিয়া ইউনিয়নের ইয়াছিন নগর এলাকার সেবাখোলা এলাকায় ঘটে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে জয়নালকে গ্রেপ্তার করে এবং টাকা উদ্ধার করে। এ ঘটনায় বুধবার (১২ আগস্ট) ভুক্তভোগী মো. আহম্মদ উল্লাহ বাদী হয়ে রাউজান থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, হলদিয়া এলাকার কাতারপ্রবাসী মো. রাসেলের বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য ইট কেনার পরিকল্পনা ছিল। এজন্য তার চাচাতো ভাই মো. আহম্মদ উল্লাহ ওরফে সাব্বির (২৬) সোমবার ব্যাংক হিসাব থেকে ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি মো. রোহান (১৮) ও মো. আরফাত (২২) নামের দুজনকে সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে স্থানীয় একটি ইটভাটার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তাদের গাড়িটি সেবাখোলা এলাকায় পৌঁছালে ৫ থেকে ৬ জনের একটি দল গাড়ির গতিরোধ করে। এ সময় দেশীয় অস্ত্রের মুখে সাব্বিরকে জিম্মি ও মারধর করে তার কাছে থাকা ২৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে হলদিয়া ইউনিয়নের ইয়াছিন নগরের সিকদার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বসতঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ছিনতাই হওয়া বাকি ৬ লাখ টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দলের অভিযান চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ এম


বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল তেলের দাম

ইরানকে কেন্দ্র করে নতুন সামরিক উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারে আবারও তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে ইরানের ওপর নৌ অবরোধ অনির্দিষ্টকাল ধরে রাখতে হুমকি দেওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) একটি প্রতিবেদনে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯ সেন্ট বা ০.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৮৭.১৬ ডলার হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ৪ সেন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮১.২৯ ডলার।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় উভয় বেঞ্চমার্কের দাম ২ শতাংশের বেশি হ্রাস পেয়েছিল। যদিও ব্রেন্ট ক্রুড টানা ছয় সেশন এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড টানা পাঁচ সেশন বৃদ্ধি পাওয়ার পর চলতি সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার দিকে রয়েছে।

এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনীর বাসিজের প্রধান হোসেইন তাইয়েব জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত হলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে বাঁধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা তেলের দাম বৃদ্ধির জন্য চাপের সৃষ্টি করছে।

তবে এর বিপরীতে তেলের চাহিদা নিয়ে আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস কিছুটা দুর্বল হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ওপেক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তেলের চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে এনেছে।

এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাপ্তাহিক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা তেলের দাম বৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনে বেশি দরুদ পড়লে মিলবে বিশেষ রহমত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২১ এম


জুমার দিনে বেশি দরুদ পড়লে মিলবে বিশেষ রহমত

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। মহান আল্লাহ তাআলা নিজেই নবীজি (সা.)-এর প্রতি রহমত ও প্রশংসা করেন এবং ফেরেশতারাও তাঁর জন্য বরকতের দোয়া করেন। এই কারণে মুমিনদের নবীজি (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ ও সালাম পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ তাআলা বলেন—

إِنَّ اللَّهَ وَمَلَائِكَتَهُ يُصَلُّونَ عَلَى النَّبِيِّ ۚ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا صَلُّوا عَلَيْهِ وَسَلِّمُوا تَسْلِيمًا

অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে মুমিনগণ, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো এবং যথাযথভাবে সালাম পাঠ করো।”

(সুরা আল-আহজাব, আয়াত: ৫৬)

হাদিসে দরুদ পাঠের বড় ফজিলতের কথা এসেছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি একবার তাঁর ওপর দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তাআলা তার ওপর ১০টি রহমত বর্ষণ করবেন।

(সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৪৮৫)

তবে জুমার দিনে দরুদ পাঠের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আওস ইবন আওস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন মানুষের দিনগুলোর মধ্যে অন্যতম শ্রেষ্ঠ দিন। এই কারণে এ দিনে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করার কথা বলেছেন তিনি। কারণ, মুমিনদের পাঠ করা দরুদ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পেশ করা হয়।

সাহাবিরা প্রশ্ন করেছিলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর কীভাবে দরুদ তাঁর কাছে পৌঁছাবে? উত্তরে তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তাআলা মাটির জন্য নবী-রাসুলদের দেহ ভক্ষণ করা হারাম করেছেন।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

অন্য এক হাদিসে আনাস ইবন মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিন ও জুমার রাতে তাঁর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করতে। কারণ, যে ব্যক্তি একবার দরুদ পাঠ করবে, আল্লাহ তার ওপর ১০টি রহমত নাজিল করবেন।

(সহিহুল জামে, হাদিস: ১২০৯)

তাহলে জুমার দিনের গুরুত্বপূর্ণ আমলের মধ্যে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ কাজ। মুমিনরা এ দিনে নামাজ, দোয়া ও অন্যান্য ইবাদতের পাশাপাশি বেশি বেশি দরুদ পাঠ করে আল্লাহর রহমত লাভের চেষ্টা করতে পারেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা ‘মামার বাড়ির আবদার’: রিজভী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৪ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


হাসিনার রাজনীতিতে ফেরার ইচ্ছা ‘মামার বাড়ির আবদার’: রিজভী

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার ভারতে বসে রাজনৈতিক সংবাদ সম্মেলন করা এবং দেশে ফিরে রাজনীতি করার ঘোষণা দেয়াকে ‘মামার বাড়ির আবদার’ এবং ‘ধৃষ্টতা’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেছেন, হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করার পর এই ধরনের বক্তব্য জনগণ মেনে নেবে না। জনগণের দাবি হলো গুম ও খুনের বিচার দেখা।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর পল্লবীতে বিএনপির প্রয়াত ক্রীড়াসংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়ার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বর্তমান সরকারকে ন্যায়-নিষ্ঠার ওপর দাঁড়ানো সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, বিগত দিনে যারা গুম করেছে ও খুনের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিচার দেখতে চায় দেশের সাধারণ মানুষ। শেখ হাসিনার বিচার অবশ্যই বাস্তবায়িত হতে হবে। যিনি এত মানুষকে হত্যা করেছেন, তিনি আবার বিদেশে বসে প্রেস কনফারেন্স করে বলছেন ডিসেম্বরে ফিরে আসবেন, রাজনীতি করবেন। এটা যেন মামার বাড়ির আবদার।

রিজভী আরও বলেন, যারা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছেন, মূলত তারা তাকে দিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে চান। শেখ হাসিনা ও তার দল জিয়া পরিবারকে ধ্বংস করার চেষ্টা করেছে।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে রিজভী বলেন, আরাফাত রহমান কোকো রাজনীতি করতেন না, তিনি ছিলেন একজন ক্রীড়াসংগঠক। কিন্তু তার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। মা'র উপর অত্যাচার ও নির্যাতন তিনি সহ্য করতে পারেননি।

একই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেছেন, গত ১৭ বছরে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মী অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তবে এত কিছুর পরেও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি চান না, বরং তিনি দেশের মানুষের সঙ্গে নিয়ে সুবিচারের রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করতে চান।

অনুষ্ঠানে পল্লবী ও রূপনগর থানার বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৩ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৫
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৫
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%