ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লক্ষ্মীপুরে নারকেলের ছোবড়ায় কোটি টাকার বাণিজ্য


লক্ষ্মীপুরে নারকেলের ছোবড়ায় কোটি টাকার বাণিজ্য

এক যুগ আগে নারকেলের ছোবড়া ছিল একটি অবহেলিত উপকরণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেওয়া হতো, আর কিছু মানুষ এটি রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতেন। কিন্তু সেই অবহেলিত ছোবড়া এখন লক্ষ্মীপুরের অর্থনীতির চিত্র পরিবর্তন করছে। স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উদ্যোগে এটি আজকাল একটি মূল্যবান সম্পদে পরিণত হয়েছে। ছোবড়া থেকে তৈরি বিভিন্ন পণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, লক্ষ্মীপুর জেলায় গড়ে গড়ে ওঠা প্রায় ৩০টি কারখানাকে ঘিরে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার বাণিজ্য চলছে। জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলায় নারকেলের ছোবড়া থেকে আঁশ ও গুঁড়া তৈরি হয়। নারকেলের আঁশ (ফাইবার) থেকে তৈরি হচ্ছে জাজিম, গদি, দড়ি, স্লিপার (জুতা), খেলনা ও শৌখিন সামগ্রী। ফাইবার তৈরির সময় প্রচুর গুঁড়াও উপজাত হিসেবে উৎপাদিত হচ্ছে। এই গুঁড়া বা কোকোডাস্ট কৃষিকাজে ব্যবহার হচ্ছে। যেসব বাগানে মাটির অভাব রয়েছে, সেখানে এসব গুঁড়ার ব্যবহার হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ২ হাজার ৭৩৫ হেক্টর জমিতে নারকেলের বাগান প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। এছাড়া, অধিকাংশ প্রতিটি বাড়ির আঙিনাতেই নারকেল গাছ দেখা যায়। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল সংগ্রহ করার পর তা ছুলে ছোবড়া ফাটানোর কাজ করা হয় কারখানায়। প্রতিটি কারখানা থেকে মাসে প্রায় ৩ লাখ টাকার ছোবড়া বিক্রি করা হয়। প্রতিটি কারখানায় ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক নিয়োজিত আছেন।

আরও পড়ুন: ভাণ্ডারিয়ায় যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন, র‌্যালি ও সমাবেশ

জেলা বিসিক শিল্প নগরীর উপব্যবস্থাপক ফজলুল করিমের মতে, লক্ষ্মীপুর নারকেল, সুপারি এবং সয়াবিনের জন্য বিখ্যাত। তবে নারকেলের ছোবড়াও একটি সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবেও মাথায় রাখতে হবে। এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৩০ জন উদ্যোক্তা জড়িত আছেন। উদ্যোক্তারা যদি বিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, তাহলে ক্ষুদ্রঋণ সহায়তা, প্রশিক্ষণ প্রদানসহ শিল্প নিবন্ধনের আওতায় এলেও পারবেন। বিসিকের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখলে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন বলেও এই কর্মকর্তা জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আ. লীগের সাবেক এমপিসহ ৪০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৬ পি.এম


আ. লীগের সাবেক এমপিসহ ৪০০ নেতাকর্মীর নামে মামলা

বরিশালের বানাড়ীপাড়ায় শ্রমিক দলের নেতা যে বাড়িতে বোমা নিক্ষেপ করে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে, সেই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মনিরুল ইসলাম মনিসহ ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও ৩০০-৪০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার দিবাগত রাতে উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাদী হয়ে এই মামলা করেছেন। তিনি পেশায় একজন অটোরিকশাচালক।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গরদ্বার গ্রামে শুক্রবার রাত ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে আসামিরা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং এটি পরিবারসহ বাদী রাসেলের হত্যার উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। এই আক্রমণের ফলে তার ঘর আগুনে পুড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছিল।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সৈয়দ মজিবুল ইসলাম টুকু ও জিয়াউল হক মিন্টু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত লাল কুন্ডু, সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন উর রশিদ স্বপন ও নুরুল হুদা, সদস্য আনিছুর রহমান মিলন, সাবেক কোষাধ্যক্ষ ফারুক সরদার, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম, বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল চক্রবর্তী, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুল হক মাসুম, সাবেক পৌর কাউন্সিলর জাকির হোসেন মোল্লা, মনির হোসেন ও জাহিদ হোসেন সরদার, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান আলী হাওলাদার, সাবেক সহসভাপতি মনির বিশ্বাস, সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমম রায় সুমন, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মহসিন ফকির এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সিকদার।

এছাড়া পৌর যুবলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ্, যুবলীগ নেতা মশিউর রহমান সুমন, সেলিম, জসিম মীর, মাসুম আকন, সোহাগ মাল, আতিকুল ইসলাম বাপ্পী, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাসেল মাল, বন্দর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী সুমন পোদ্দার, বাইশারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি আব্দুল্লাহ্ ফকির, আওয়ামী লীগ নেতা ও বাইশারীর ইউপি সদস্য শাহাদাত ফকির, বাইশারীর সাবেক ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর বেপারী, সাবেক ইউপি সদস্য রিপন বড়াল, ইউপি সদস্য সাহেব আলী, বাইশারীর ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আবদুল কাদের, ৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি কালাম বেপারী, আওয়ামী লীগ কর্মী ছৈয়দ, ইমন ও অলিন কৃষ্ণ শীলকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।

এই মামলায় উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বানারীপাড়া ষ্টেশনের টিম লিডার আনোয়ার হোসেন জানান, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে গরদ্বার গ্রামে অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। তাদের সেখানে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় ফের খবর আসে যে আগুন নিভে গেছে, তাই ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে যেতে হয়নি।

মামলার আসামি আওয়ামী লীগের দলীয় সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুল ইসলাম মনি দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি সাজানো। তিনি বলেন, "আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসাতে বিএনপি নাটক মঞ্চস্থ করেছে।"

মামলার অন্যতম আসামি উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুল জানিয়েছেন, তিনি এই মামলার বিষয়ে কিছু জানেন না এবং তাকে আসামি করা হয়েছে এমন কিছু বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। বাদী রাসেলকেও তিনি চেনেন না।

বাদী মো. রাসেলের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে বোমা বিস্ফোরণের আলামত পেয়েছেন। তবে এর বেশি কিছু বলতে তিনি অপরাগতা প্রকাশ করেছেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মজিবর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় আবদুল্লাহ ফকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে তিনি ঘটনাস্থলে যাননি। উল্লেখ্য, আসামীদের মধ্যে উপজেলা বিএনপি সহসভাপতি সালেক মল্লিক শিমুলের নামও রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৭ পি.এম


শিশু তাবাচ্ছুম ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় আসামি তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চার বছর বয়সী শিশু তাবাচ্ছুমকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি, পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) ঝিনাইদহের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।

এই মামলার ঘটনায় চার মাসের মধ্যে সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ভিকটিম শিশুর পরিবার।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার বাদুড়গাছা গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবু তাহের চার বছরের শিশু তাবাচ্ছুমকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়।

একপর্যায়ে, শিশুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করতে শুরু করলে আবু তাহের তার নিজের লুঙ্গি দিয়ে শিশুটির শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। পরে, রাতের ওই সময় শিশুটির মরদেহ একটি বস্তায় ভরে পাশের আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখেন আবু তাহের।

এ ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে দ্রুততার সাথে ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়াবাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে, আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং সবশেষ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন। এরপর দ্রুততম সময়ে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে রবিবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়।

আসামি আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং তিনি বাদেডিহি গ্রামে শিশু তাবাচ্ছুমদের বাড়ির পাশে একটি ভাড়াবাসায় বসবাস করতেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকিতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:১৮ পি.এম


কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা ঝুঁকিতে

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডিআরসি) ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব একটি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা অনেকেই সংক্রমিত হচ্ছেন।

রোগটি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রচেষ্টাকে এই পরিস্থিতির কারণে আরও কঠিন করে তুলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ইবোলা আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজারেরও বেশি। একই সঙ্গে, ৭৮ জনের বেশি স্বাস্থ্যকর্মী সংক্রমিত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১৮ জন ইতোমধ্যে মারা গেছেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বেশিরভাগ স্বাস্থ্যকর্মী ‘বিশেষ’ ইবোলা চিকিৎসা কেন্দ্রের পরিবর্তে, সাধারণ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে কাজ করার সময় সংক্রমণ হচ্ছেন।

আন্তর্জাতিক মেডিক্যাল সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেডিক্যাল কর্পসের কঙ্গো শাখার চিকিৎসা প্রধান আবদু সেবুশিশে জানিয়েছেন, আক্রান্ত সকল স্বাস্থ্যকর্মীর সংক্রমণ ঘটেছে চিকিৎসা কেন্দ্রের বাইরের দিকে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রোগটি শুরুতে সাধারণ রোগের মতো মনে হওয়ায় অনেক সময় ইবোলা শনাক্তে দেরি হয়।

ইবোলার বান্ডিবুগিও ধরন শুরুতে ম্যালেরিয়া বা সাধারণ জ্বরের মতো উপসর্গ প্রদর্শন করে। ফলে, রোগী এবং চিকিৎসক উভয় পক্ষই শনাক্তে বিলম্ব করে এবং এই সময়েই সংক্রমণ বেশি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাপারে মনে করেন, সংক্রমণের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়া, পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি এবং হাসপাতালের দুর্বল নজরদারি পরিস্থিতি অমানবিক করে তুলছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সতর্ক করে বলেছে যে, স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রে যথাযথ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকলে ইবোলা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। একটি সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, রোগটির প্রাথমিক লক্ষণ অস্পষ্ট হওয়ায়, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

কঙ্গো সরকারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৩ জন নিশ্চিত ইবোলা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৪ জন মারা গেছেন এবং ১০০ জন রোগী হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়েছেন। বর্তমানে, প্রাদুর্ভাবের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ইতুরি প্রদেশে ছড়িয়েছে। মোট আক্রান্তের ৯০ শতাংশের বেশি এই অঞ্চলে রয়েছে। এই এলাকায় হাসপাতালগুলোতে রোগী চাপ দ্রুত বাড়ছে এবং অনেক চিকিৎসাকেন্দ্র তাদের ধারণক্ষমতার থেকে বেশি রোগী নিয়ে কাজ করছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ইতুরি অঞ্চলে সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে। পাশাপাশি, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তবে, পরিস্থিতিটি এখনো ব্যাপকভাবে জটিল অবস্থায় রয়ে গেছে। সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষের মধ্যে নজরদারিতে মাত্র ৫৮ শতাংশ মানুষের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে আনা সম্ভব হয়েছে। কয়েকদিন আগে এই হার ৭০ শতাংশেরও বেশি ছিল, কিন্তু বর্তমানে বিশেষজ্ঞদের মতে, সংঘাতপ্রবণ এই অঞ্চলে রোগীর গতিবিধি চিহ্নিতকরণ অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আফ্রিকা অঞ্চলের জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি মোকাবেলা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের প্রধান মারি রোজেলিন বেলিজেয়ার বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি পূর্ণ প্রস্তুতির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। তিনি পরিস্থিতির অগ্রগতিকে ১০-এর মধ্যে তিন অথবা চার হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি আরও জানান, রোগী, তাদের পরিবার এবং নজরদারিতে থাকা ব্যক্তিদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সব বাধার মধ্যেও কর্মকর্তারা বলছেন, আগের তুলনায় এখন বেশি রোগী সুস্থ হয়ে ফিরছেন। এর সঙ্গে সঙ্গে জনসচেতনতা কার্যক্রমও বাড়ানো হচ্ছে। জুন মাসে, আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ও আফ্রিকান দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রায় ৯১ কোটি মার্কিন ডলারের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা রয়েছে যে, এই প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে আসতে আরো কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ২২শে জুন, ২০২৬ ইং

০১:২১ পি.এম


রাজশাহীর দুর্গাপুরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল

রাজশাহীর দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঝটিকা মিছিল করেছেন দলের কিছু নেতাকর্মী। মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে টানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার (২১ জুন) কানপাড়া-খড়খড়ি সড়কের ফলিয়ার বিল এলাকায় ১০ থেকে ১২ যুবক মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরে ঝটিকা মিছিল করেন। প্রায় ৫ থেকে ৬ মিনিট স্থায়ী ওই মিছিলে অংশ নেওয়া যুবকদের হাতে থাকা ব্যানারে ‘আয়োজনে—রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ’ লেখা ছিল।

ব্যানারে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, রাজশাহী-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আব্দুল ওয়াদুদ দারার ছবি সংযুক্ত ছিল। সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ছবিও রাখা হয়।

ব্যানারে লেখা হয়েছিল ‘প্রত্যাবর্তন-০২’ এবং ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ স্লোগান। এছাড়া আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে করে আসা ১০ থেকে ১২ জন যুবক ফলিয়ার বিলের মধ্যবর্তী সেতুর কাছে ব্যানার প্রদর্শন করে ছবি তোলেন। পরে তারা ব্যানার হাতে সংক্ষিপ্ত মিছিল করে দক্ষিণ দিকে চলে যান। মিছিল শেষে মোটরসাইকেলে করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

তাদের দেখে মনে হয়েছে তাঁরা ছাত্রলীগের কর্মী।

 

রবিবার রাতে ঝটিকা মিছিলের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফসহ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী নিজেদের ফেসবুক আইডিতে এসব ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। এরপর বিষয়টি এলাকায় বিশাল আলোচনার সৃষ্টি করে।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পঞ্চনন্দ সরকার বলেন, ‘ঝটিকা মিছিলের বিষয়টি আমরা জেনেছি। কারা এ ধরনের মিছিল করেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অংশগ্রহণকারীদের মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট থাকায় প্রাথমিকভাবে তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%