০৬:১৯ এম
বর্তমানে অনেক মানুষ স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য খাবারে চিনি কমিয়ে দিচ্ছেন বা সম্পূর্ণরূপে বাদ দিচ্ছেন। সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রায়শই দেখা যায়, কেউ এক মাস চিনি এড়িয়ে ওজন কমানোর অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, আবার কেউ ত্বকের অবস্থার উন্নতি বা বাড়তি কর্মশক্তি পাওয়ার কথা বলছেন। তবে প্রশ্ন হলো, এক মাস চিনি বাদ দিলে কি সত্যিই উল্লেখযোগ্যভাবে ওজন কমে যাবে?
অতিরিক্ত চিনি কেন ওজন বাড়ানোর পেছনে কাজ করে? কোমল পানীয়, মিষ্টি, প্যাকেটজাত জুস এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবারের মধ্যে থাকা অতিরিক্ত চিনি শরীরে বেশি ক্যালোরি সরবরাহ করে। কিন্তু এই ধরনের খাবার দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা রাখতে পারে না। এর ফলে দ্রুত ক্ষুধা লাগতে পারে এবং বেশি খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি গ্রহণের ফলে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো ঘটতে পারে—
আরও পড়ুন: বর্ষায় তেজপাতার পানি পানে মিলতে পারে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা
শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।
পেটের চারপাশে চর্বি জমতে পারে।
রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করতে পারে।
মিষ্টি বা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আকর্ষণ বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস কেড়ে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের শ্রবণশক্তি
টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষ করে চিনিযুক্ত পানীয় অতিরিক্ত ক্যালোরি সরবরাহ করে, যা বহু সময় অজান্তেই দৈনিক ক্যালোরি গ্রহণ বাড়িয়ে দেয়।
অবশ্য এক মাসে কতটা ওজন কমতে পারে? এর উত্তর স্পষ্ট নয়। ওজন কমার পরিমাণ নির্ভর করে একজনের খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক কার্যক্রম, ঘুমের মান, বিপাকক্রিয়া এবং মোট ক্যালোরি গ্রহণের ওপর।
যারা নিয়মিত কোমল পানীয়, মিষ্টি, ডেজার্ট বা চিনিযুক্ত পানীয় গ্রহণ করেন, তারা চিনি কমানোর পর তুলনামূলক দ্রুত পরিবর্তন অনুভব করতে পারেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে এক মাসে কয়েক কেজি ওজন কমতে পারে। তবে এটি মূলত ক্যালোরি গ্রহণ কমে যাওয়ার ফল, শুধুমাত্র চিনি বাদ দেওয়ার কারণে নয়।
আরও পড়ুন: তীব্র দাবদাহে পুরুষদের তুলনায় কেন বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নারীরা?
প্রথমদিকে যে ওজন কমে, তার সংস্কার হতে পারে শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত পানি থেকেও, কারণ চিনি এবং পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট কম খেলে গ্লাইকোজেনের মজুত কমে যায়, যা পানি জমার সাথে যুক্ত। ফলে শরীরের ফোলাভাবও কমে আসতে পারে।
চিনি কমালে শরীরে কী পরিবর্তন আসে? চিনি কমানোর প্রথম কয়েক দিনে বেশিরভাগ মানুষ মিষ্টি খাওয়ার জন্য তীব্র ইচ্ছা বোধ করেন। কারণ, চিনিযুক্ত খাবার মস্তিষ্কের পুরস্কার-ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। তবে কিছুদিন পর অনেকের মধ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়, যেমন—
ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।
ঘন ঘন নাস্তা খাওয়ার অভ্যাস কমে যায়।
আরও পড়ুন: টানা বৃষ্টির পর স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ যেসব রোগের কারণ
শক্তির ওঠানামা কম হয়।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠে।
শক্তি এবং ঘুমের মানে প্রভাব ফেলে।
অতিরিক্ত চিনি রক্তে শর্করার স্তর দ্রুত বাড়িয়ে থাকে এবং পরে দ্রুত কমিয়ে দেয়। এর ফলে ক্লান্তি, অবসন্নতা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন: কাশি সারাতে লবঙ্গ কতটা উপকারী
চিনি কমানোর পর অনেকে জানান—
সারাদিন বেশি সতেজ অনুভব করেন।
মনোযোগ ধরে রাখা সহজ হয়।
ঘুমের মান বিশেষভাবে উন্নত হয়।
আরও পড়ুন: বন্ধ নাকের যন্ত্রণা থেকে দ্রুত স্বস্তি: ওষুধ ছাড়াই কার্যকর ৩ সহজ উপায়
খাবারের পর অতিরিক্ত ক্লান্তি কমে যায়।
তবে এসব সুফল পেতে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও স্বাস্থ্যকর হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের উপদেশ, সম্পূর্ণ চিনি বাদ দেওয়া কি জরুরি? লম্বা সময়ের জন্য কঠোরভাবে সকল প্রকার চিনি এড়িয়ে চলা সবার জন্য বাস্তবসম্মত না হওয়ার কারণে পুরোপুরি চিনি বাদ দেওয়ার চেয়ে চিনি গ্রহণের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাই বেশি কার্যকর।
অতিরিক্ত চিনি কমানোর জন্য কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে:
কোমল পানীয়ের গ্রহণ কমানো।
মিষ্টি এবং ডেজার্টের পরিমাণ সীমিত রাখা।
খাবারের পুষ্টিগুণের লেবেল পড়া।
কম প্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়া।
খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং আঁশ যুক্ত রাখা।
এক মাস অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে বা বাদ দিয়ে কিছু মানুষের ওজন কমতে পারে, তবে এর পরিমাণ ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে। একই সাথে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ, শক্তির স্থিতিশীলতা এবং বিপাকীয় স্বাস্থ্যের উন্নতি হতে পারে। তাই দ্রুত ওজন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ না করে, বরং দীর্ঘমেয়াদি সুস্থ জীবনযাপনের অংশ হিসেবে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: এনডিটিভি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন