০৬:৪১ এম
ডিম দীর্ঘকাল ধরে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে পরিচিত। অনেকের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এটি নিয়মিতভাবে স্থান পেয়েছে। প্রোটিনের ভালো উৎস হিসেবে, অনেকের কাছে প্রশ্ন আসে, যদি প্রতিদিন দুটি ডিম খাওয়া হয়, তাহলে শরীরে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতানুসারে, অধিকাংশ সুস্থ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য পরিমিত এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে প্রতিদিন দুটি ডিম খাওয়া উপকারী হতে পারে।
একটি বড় ডিমে সাধারণত প্রায় ৭০–৭২ ক্যালোরি এবং সহকারী প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৬ গ্রাম। এছাড়া, এতে কোলিন, বি–ভিটামিন, লুটেইন ও জিয়াজ্যান্থিনের মতো অনেক গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: বর্ষায় তেজপাতার পানি পানে মিলতে পারে যেসব স্বাস্থ্য উপকারিতা
দুটি ডিম খাওয়ার ফলে শরীর প্রোটিনের পাশাপাশি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পায়, যা মস্তিষ্ক এবং স্নায়ুর কার্যকারিতায় সহায়তা করে। ডিমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি হতে পারে। ডিম প্রোটিনসমৃদ্ধ, যা দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে সাহায্য করে এবং দ্রুত ক্ষুধা লাগার প্রবণতা কমায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, সকালের নাস্তায় যদি ডিম খাওয়া হয়, তাহলে এটি দীর্ঘ সময় ধরে শক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে। অন্যান্য হালকা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবারের তুলনায়, ডিম ধীরে হজম হয়, ফলে মাঝে অতিরিক্ত খাবারের চাহিদা কমতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ নিয়মিত ডিম খাওয়ার ফলে শরীরে স্থিতিশীল শক্তি অনুভব করা, খাবারের পরে অতিরিক্ত ক্লান্তি কমে যাওয়া এবং সামগ্রিক খাদ্য গ্রহণের ওপর কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসার মতো পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে এসব উপকারিতা আরও ভালোভাবে পাওয়া যায়, যখন ডিমের সাথে শাকসবজি, ফল, পূর্ণ শস্য এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার যুক্ত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম এককভাবে কোনো জাদুকরি খাবার নয়; বরং এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখে। ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রে এর সঙ্গে কী খাওয়া হচ্ছে সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শাকসবজি, শস্যদানা ও স্বাস্থ্যকর চর্বি সহ ডিম খাওয়া অবশ্যই বেশি উপকারী হতে পারে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস, মাখন বা পরিশোধিত রুটির সাথে খেলে স্বাস্থ্যগত উপকারিতা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: দৈনন্দিন যেসব অভ্যাস কেড়ে নিচ্ছে তরুণ প্রজন্মের শ্রবণশক্তি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন