১১:০৫ এম
মাগুরায় আলোচিত আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় ফাঁসির রায় হলেও, বছর ধরে হাইকোর্টে ঝুলছে ডেথ রেফারেন্স। বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় হলেও, সেই রায় কার্যকর কবে হবে, কেউ তা জানে না। এসব চাঞ্চল্যকর মামলার ক্ষেত্রে আসছে আলাদা বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ।
গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে, বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে মাগুরা ও ফরিদপুরের হাসপাতালে নেয়া হয়।
অবস্থার অনতি হলে, তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
আরও পড়ুন: শেরপুর সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ১১ লাখ টাকার ভারতীয় তৈরি পোশাক জব্দ করা হয়,
সেই ঘটনায় বিচারের দাবিতে একসময় ফুঁসে উঠেছিল পুরো দেশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে রাজপথ, সর্বত্র ক্ষোভ আর কান্না ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনার আড়ালে চলে যায় ঘটনাটি।
শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আসামি হিটু শেখকে গত বছরের ১৭ মে মৃত্যুদণ্ড দেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এর চার দিন পর ডেথ রেফারেন্সের নথি হাইকোর্টে পৌঁছায়। রায় ঘোষণা এবং ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানোর এক বছর পূর্ণ হলেও, পরবর্তী অগ্রগতি নেই। কবে হবে সাজা কার্যকর, তাও অজানা। অথচ মাত্র ১৪ কার্যদিবসেই শেষ হয়েছিল আলোচিত এই মামলার বিচার।
ছোট্ট আছিয়ার ধর্ষক হিটু শেখ ফাঁসির দণ্ড পেলেও, এক বছর ধরে কারাগারেই কাটছে তার। এই ঘাতকের রায় কার্যকরের অপেক্ষায় আছিয়ার পরিবার। তার মা আয়েশা খাতুন বলেন, ‘দুনিয়ার মানুষ যে আন্দোলন করিছে, সে হিটুত এহন বিচার হলি না। হিটুর ছালপাল ঘুরে বেড়াচ্চে। আমার কোল খালি করে তারা তো দুধেমাছে খাইয়ে বেড়াচ্চে। আমি কী পালাম?’
এমন সব চাঞ্চল্যকর মামলার সাজা যখন বছরের পর বছর আটকে থাকে, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, বিচার প্রক্রিয়ার এই ধীরগতিতে কী আস্থা হারাচ্ছে মানুষ?
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে রোগীর শরীরে কাঁচের টুকরো রেখে সেলাই, চিকিৎসকের দুঃখ প্রকাশ
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কাজী জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘হাইকোর্টে অন্যান্য মামলার পাশাপাশি অনেক ডেথ পেনাল্টি মামলা আটকে আছে। এখানে ডেথ পেনাল্টিগুলো শুনানি হয় বছরের সিরিয়াল অনুসারে। অর্থাৎ আগের বছরের ডেথ পেনাল্টিগুলো আগে শুনানি হয়, পরেরগুলো পরে হয়। এ ক্ষেত্রে এখন আমরা প্রায় চার পাঁচ বছরের মতো একটা ব্যাকলক্সের মধ্যে রয়েছি।’
এদিকে, চাঞ্চল্যকর এসব মামলার বিচার কার্যকর হতে যুগের পর যুগ লেগে যাওয়ার পেছনে আইনি জটিলতা কাটাতে আলাদা বেঞ্চ গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন আইনজীবীরা।
জাহেদ ইকবাল বলেন, ‘চিফ জাস্টিস একটা বেঞ্চ গঠন করে দিতে পারেন অথবা প্রসিকিউশন চিফ জাস্টিসের কাছে আবেদন করতে পারেন যে, আমাদের এ মামলাটা বেশি সেনসিটিভ এবং মামলাটার মাধ্যমে আমরা সমাজে একটা বার্তা দিতে চাই, এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হলে তাৎক্ষণিক শাস্তি এবং বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।’
শুধু আলোড়ন সৃষ্টি করা ঘটনা নয়, সবার জন্য সমান আইনও নিশ্চিত করার তাগিদ আইনজীবীদের।
আরও পড়ুন: নেত্রকোনায় জামাত শিবিরের দেশ বিরোধী চুক্তির প্রতিবাদে মানববন্ধন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন