০৬:৩৫ পি.এম
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলা খারুয়া বাজারে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বন্ধ করার জন্য জারি করা ১৪৪ ধারা এখন চতুর্থ দিনের মতো চালু রয়েছে। বাজারের প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ রয়েছে, দুই-তিনটি ওষুধের দোকান ছাড়া।
এভাবে ব্যবসায়ীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন। সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপস্থিতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।
চার দিন আগে, ৪ জুন তারিখে, খারুয়া ও নরেন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘর্ষের ফলে দোকান ভাঙচুর এবং মালপত্র লুটপাট শুরু হয়। এ ঘটনার পর, পুলিশ ও র্যাব ঘটনাস্থলে গিয়ে আট রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন/ধানের শীষ নাকি দাঁড়িপাল্লা, কার ওপর আস্থা রাখছেন ভোটাররা
এর ফলস্বরূপ, নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাতের পক্ষ থেকে বাজার এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
ওই সংঘর্ষের বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানার পুলিশ অভিযোগ করায়, ৭০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচ শত লোককে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে অনেকে গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। সংঘর্ষের দিন খারুয়া বাজারে উপস্থিত ছিলেন না এমন দুই অভিযুক্ত জানিয়েছেন যে, তারা ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না।
তবে তাদেরকে আসামি করা হয়েছে বলেই অভিযোগ করেছেন তারা।
স্থানীয় একটি ফার্মেসির মালিক মো. ফারুক মিয়া জানিয়েছেন, মানুষ যখন ওষুধের প্রয়োজন পড়ে, তখনই তিনি তার ফার্মেসি খোলা রেখেছেন। কিন্তু বেচাকেনা প্রায় নেই। মানুষ আতঙ্কের কারণে বাজারে আসতে সাহস পাচ্ছেন না, বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: বরিশালে ডিএইচএমএস ভর্তি পরীক্ষা: সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দিল বিএমপি
কিছু ফলের দোকানি জানিয়েছেন, গত ৪ জুন থেকে দোকান বন্ধ থাকার কারণে তাদের ফল নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ফল বাড়িতে নিয়ে পরিবারের সদস্যদের খাইয়েছেন এবং বাকিগুলো ফেলে দিতে হয়েছে।
খারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. শামছুন্নাহার বলেছেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ে ৩৮০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ১৪৪ ধারা জারির কারণে গ্রামের বাসিন্দারা তাদের সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন না। শনিবার দিনে মাত্র ৬৮ জন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এসেছিল।’
খারুয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে কাউকেও পাওয়া যায়নি। মহিলা মাদরাসা ও কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে, জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।
চা বিক্রেতা বাবুল মিয়া বলেছেন, ‘আমার পরিবারে ৬ সদস্য আমার ওপর নির্ভরশীল। এই আয় দিয়েই সংসার চালাতে হয়। কিন্তু গত পাঁচ দিন ধরে কোনো আয় হয়নি। এখন বড় সমস্যায় আছি।’
আরও পড়ুন: দুমকিতে লটারির মাধ্যমে কর্মী নির্বাচন, উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমা জান্নাত বলেন, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। পুলিশ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন