ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জুলাই সনদের ভিত্তিতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন না হওয়ায় দেশে মবতন্ত্র: জেডিপি


জুলাই সনদের ভিত্তিতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন না হওয়ায় দেশে মবতন্ত্র: জেডিপি

জুলাই সনদের আলোকে ‘স্বাধীন পুলিশ কমিশন’ গঠন না করার কারণে দেশে ‘মবতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি (জেডিপি)। দলটির বক্তব্য, পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যকর ভূমিকা ব্যাহত হচ্ছে।

মব সন্ত্রাস ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে, সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং আশুলিয়ার তাহফিজুল কুরআনিল কারিম ফাজিল মাদ্রাসায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে দায়ী করেছে দলটি। তারা দাবি করেছে, জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া এবং পরে সেখানে যুবদলকে মব করার সুযোগ দেওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ এসব কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের অন্যতম প্রত্যাশা ছিল পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছিল। পরে জুলাই সনদের ৬৯ নম্বর দফায় স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের বিষয়ে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল। তাঁর দাবি, এ বিষয়ে কোনো দল নোট অব ডিসেন্ট দেয়নি।

আরও পড়ুন: পূজামণ্ডপে মুসলমানদের উপস্থিতি সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ: খাদ্যমন্ত্রী

নাঈম আহমাদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য ও অবস্থান দেখে তাঁদের আশঙ্কা হচ্ছে, পুলিশকে আবারও দমন-পীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজে ব্যবহারের চেষ্টা করা হচ্ছে কি না। তিনি দাবি করেন, পুলিশ সদস্যরাও দলীয় আনুগত্যের পরিবর্তে পেশাদার ও আন্তর্জাতিক মানের বাহিনী হিসেবে কাজ করতে চান।

জাসদ কার্যালয়ে কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি প্রসঙ্গে নাঈম আহমাদ বলেন, পুলিশ লিখিত অনুমতি দেওয়ার পর সেখানে অভিযান চালানো ন্যায্য নয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশের নাকের ডগায় যুবদলকে সেখানে মব করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে পুলিশ সদস্যদের নৈতিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস আরও দুর্বল হচ্ছে।

জেডিপির আহ্বায়ক প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হলে দলটির অন্যতম প্রধান সহযোগী হিসেবে জাসদ কেন নিষিদ্ধ নয়। তিনি আরও জানতে চান, পুলিশ কেন জাসদকে কর্মসূচি পালনের লিখিত অনুমতি দিয়েছিল।

পুলিশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে নাঈম আহমাদ বলেন, বাংলাদেশের পুলিশব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোর শিকড় ঔপনিবেশিক আমলে। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ সরকার ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনের ভিত্তিতে এ অঞ্চলে পুলিশব্যবস্থা গড়ে তোলে। তাঁর ভাষ্য, ওই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল জনগণের সেবা নয়, ঔপনিবেশিক কর্তৃত্ব ও শোষণ বজায় রাখা।

আরও পড়ুন: ভারতের পথে যুব মহিলা লীগ নেত্রী সুলতানা বেগম আটক

তিনি বলেন, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইন এখনো বহাল রয়েছে। যদিও বিভিন্ন সময়ে কিছু সংশোধন হয়েছে, তবে এর মূল দর্শন ও কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। ফলে পুলিশকে জনগণের সেবক হওয়ার পরিবর্তে সরকারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রয়ে গেছে।

নাঈম আহমাদ পুলিশ কর্মকর্তাদের পদায়ন, পদোন্নতি ও পুরস্কারের সংস্কৃতির অভিযোগও করেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে সরকারি নির্দেশ বিনা প্রশ্নে পালনকারী এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক কর্মকর্তা পুরস্কার, পদোন্নতি ও পছন্দের পদায়ন পেয়েছেন। বিপরীতে ভিন্নমত পোষণকারীদের শাস্তিমূলক পদায়ন কিংবা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে নাঈম আহমাদ বলেন, আদালতের রায়ের পর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত একজনের ‘আমি শুধু সরকারের নির্দেশ পালন করেছি’ ধরনের বক্তব্য এমন একটি কাঠামোর প্রতিফলন, যেখানে সরকারি নির্দেশ অন্ধভাবে পালন করাকেই পেশাদারিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পুলিশ সংস্কারের প্রশ্নে বিএনপি সরকার আওয়ামী লীগের পদাঙ্ক অনুসরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন জেডিপির আহ্বায়ক। তিনি বলেন, ২০০৭ সালে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের প্রস্তাবসহ নতুন পুলিশ অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করা হয়েছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরও সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি।

আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু

নাঈম আহমাদ বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ সংস্কারের দাবি আবারও জোরালো হয়। এর ধারাবাহিকতায় অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ জারি করে। তবে পরবর্তী সময়ে তা কার্যকর আইনে পরিণত না হওয়ায় অধ্যাদেশটির কার্যকারিতা লোপ পায়।

তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় এসে বিএনপি সরকারও পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশকে কার্যকর আইন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেনি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনাতেও পুলিশ সংস্কারবিষয়ক সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

নাঈম আহমাদ বলেন, একটি কার্যকর স্বাধীন পুলিশ কমিশন থাকলে পুলিশকে কোনো দলের ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ কমে যাবে। পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের পর বিষয়টি গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশের ভিত্তিতে আইন প্রণয়নের দাবি জানায় জেডিপি। নাঈম আহমাদ বলেন, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ কোনো সংশোধন ছাড়াই আইন হিসেবে পাস করতে হবে এবং পুলিশের আইনি দর্শন ও কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

তিনি আগামী সংসদ অধিবেশনে পুলিশ কমিশন গঠনের আইন পাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অন্যথায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি সরকারের দিকেও জনগণের আঙুল উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জেডিপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিম, প্রধান সংগঠক মো. আহছান উল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক মুত্তাকী বিন মনির, যুগ্ম সদস্য সচিব মাহতাব হোসেন সাব্বির, ইয়াসিন আরাফাত রাজ, মো. মুহিব্বুল্লাহ, জাতীয় ছাত্রমঞ্চের প্রধান সংগঠক সালমান শরীফসহ দলটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘের বিশেষ দূতের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৩৯ পি.এম


রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জাতিসংঘের বিশেষ দূতের

জাতিসংঘের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ রোহিঙ্গা সংকটের সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত ৭৯তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে বাংলাদেশ সহ-আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সভায় তিনি এই আহ্বান জানান। সভাটির প্রতিপাদ্য ছিল— ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস: এ রিনিউড কল ফর এ ডিউরেবল সলিউশন ফ্রম প্রোট্র্যাক্টেড ডিসপ্লেসমেন্ট, উইথ জাস্টিস অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবিলিটি"।

২০১৭ সালের ভয়াবহ গণ-বাস্তুচ্যুতির প্রায় এক দশক পার হতে চললেও, বাংলাদেশে এখনও ১২ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী অবস্থান করছেন। বিশ্বের সর্ববৃহৎ কক্সবাজার শরণার্থী শিবিরে প্রতি বছর ৩০ হাজারেরও বেশি শিশু জন্ম নিচ্ছে, যাদের কাছে এই দীর্ঘ স্থানচ্যুতিই একমাত্র বাস্তবতা।

বিশেষ দূত জুলি বিশপ বলেন, ‘‘২০১৭ সালে জন্ম নেওয়া একটি শিশুর জন্য তার পুরো শৈশবটাই এখন এক দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতির নাম।’’

বিশাল সংখ্যক এই জনসংখ্যার আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে অনন্য ও অসাধারণ দায়িত্ব পালন করছে, সভায় তার ভূয়সী প্রশংসা করেন বিশপ। তিনি সতর্ক করেন যে, বৈশ্বিক মানবিক সহায়তার তহবিল কমে যাওয়ায় খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং নারীদের সুরক্ষার মতো জীবনরক্ষাকারী মূল পরিষেবাগুলো মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কেবল মানবিক সহায়তা দিয়ে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

মিয়ানমারের সামরিক শাসক দল (নেপিডো) যখন ঢাকার সাথে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে শরণার্থী প্রত্যাবাসনের দাবি করছে, তখন জুলি বিশপ সেখানে বাস্তবভিত্তিক ও জটিল প্রশ্ন তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন রাজ্যের (আরাকান) বেশিরভাগ অঞ্চলই এখন সশস্ত্র গোষ্ঠী 'আরাকান আর্মি'র (এএ) নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। রাখাইনের ১৭টি উপজেলার মধ্যে ১৪টি এবং প্রতিবেশী চিন রাজ্যের পালেতওয়া উপজেলা বর্তমানে তাদের দখলে।

চলমান এই সহিংস সংঘাতের পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘‘মিয়ানমারের রাখাইন বা অন্য কোথাও রোহিঙ্গাদের জন্য স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই প্রত্যাবাসনের পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি।’’

তড়িঘড়ি করে প্রত্যাবাসন চেষ্টার বিষয়ে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, ‘‘যারা এখনই রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে ফেরত পাঠানোর কথা বলছেন, তারা মূলত বিদ্যমান ঝুঁকিগুলোকে উপেক্ষা করছেন। এতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কোনো সম্প্রদায়কেই পুনরায় বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়।’’

জটিল এই অচলাবস্থার কারণে সৃষ্টি হওয়া ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি মানব পাচার, জোরপূর্বক সৈন্যে নিয়োগ এবং বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে বিপজ্জনক নৌ-যাত্রার বৃদ্ধির বিষয়টি উপস্থাপন করেন। শিবিরগুলোর করুণ চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘‘সম্প্রতি শরণার্থী শিবিরগুলোতে বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার উচ্চ হার আমাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য এক করুণ ও জরুরি সতর্কবার্তা।’’

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দ্য গাম্বিয়ার দায়ের করা গণহত্যা মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, স্থায়ী সমাধানের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা অপরিহার্য। তিনি বলেন, "বিচারহীনতার সংস্কৃতির ওপর কখনোই টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।"

সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি রোডম্যাপ তুলে ধরেন জাতিসংঘের এই বিশেষ দূত। এর মধ্যে রয়েছে: বৈশ্বিক পর্যায়ে এই ইস্যুতে রাজনৈতিক দৃষ্টি বজায় রাখা, মানবিক তহবিলের ঘাটতি পূরণ করা এবং আসিয়ান-এর পাঁচ দফা সম্মতির ভিত্তিতে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করা। উল্লেখ্য, এটি মিয়ানমার সম্পর্কিত আসিয়ান-এর একটি শান্তি পরিকল্পনা, যা ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও পরবর্তীতে তা বাস্তবায়ন করেননি।

সবশেষে বিশপ বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অনীহা বা উদাসীনতার মাশুল রোহিঙ্গাদের দেওয়া উচিত নয়। কোনোভাবেই এটি যেন একটি 'ভুলে যাওয়া সংকটে' পরিণত না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিল্পকলা অ্যাকাডেমির শীর্ষ পদে আসছেন রেজাউদ্দিন স্টালিন, এগিয়ে তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


শিল্পকলা অ্যাকাডেমির শীর্ষ পদে আসছেন রেজাউদ্দিন স্টালিন, এগিয়ে তিনি

শিল্পকলা একাডেমির শীর্ষ পদে কে আসছেন, এ নিয়ে সংস্কৃতি অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন মহাপরিচালক (ডিজি) পদে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ পূর্ণ করে সদ্য বিদায় নিয়েছেন। পদটি শূন্য হলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদকে একাডেমির অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে সাংস্কৃতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—কে বসবেন শিল্পকলার স্থায়ী আসনে? সরকারের পক্ষ থেকে আগামী দুইদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা নতুন প্রজ্ঞাপন আসবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক পদে একাধিক ব্যক্তির নাম শোনা গেলেও, মন্ত্রণালয় থেকে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে একমাত্র বিদায়ি মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন-এর ফাইল জমা পড়েছে।

রেজাউদ্দিন স্টালিন পুনর্নিয়োগের ব্যাপারে আশাবাদী। তিনি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে স্মার্ট শিল্পকলা গড়তে চান। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনভূমির প্রধান কেন্দ্র। গত এক বছর অত্যন্ত প্রতিকূল ও চ্যালেঞ্জিং সময়ের মধ্য দিয়ে আমি এই গুরুদায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছি। বিগত দিনে দেশের সামগ্রিক পটপরিবর্তনের পর একাডেমির প্রশাসনিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং সাধারণ শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করাই ছিল আমার মূল লক্ষ্য।’

তিনি আরো বলেন, শিল্পকলা একাডেমিকে যে কোনো জটিলতামুক্ত করে প্রকৃত অর্থেই শিল্পীবান্ধব ও জনমুখী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা বিলিয়ে দেব। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে শিল্পকলাকে নতুন রূপ দিতে চাই।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জলরাশি মাঝখানে সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ ভূমি। পর্যটনের সম্ভাবনায় আমতলীর মাঝের চর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ পি.এম


জলরাশি মাঝখানে সবুজে ঘেরা বিস্তীর্ণ ভূমি। পর্যটনের সম্ভাবনায় আমতলীর মাঝের চর
 
 
চারদিকে পায়রা নদীর বিস্তীর্ণ কোথাও গাছপালার সারি, কোথাও খোলা সবুজ প্রান্তর। নদীর জলরাশির ওপর দিয়ে নৌকায় এগিয়ে গেলে ধীরে ধীরে চোখে পড়ে এই অপরূপ ভূখণ্ড।
 
 দূর থেকে দেখলে মনে হয়, পায়রা নদীর বুকেই যেন জেগে উঠেছে সবুজের একটি দ্বীপ। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও নিরিবিলি পরিবেশে ঘেরা এমনই সম্ভাবনাময় স্থান বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝের চর।
পায়রা নদীবেষ্টিত মাঝের চর এখনো পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠেনি। নেই পর্যটকদের জন্য পরিকল্পিত অবকাঠামো, নির্ধারিত নৌঘাট কিংবা বসার ব্যবস্থা। তবু প্রকৃতির নিজস্ব সৌন্দর্যেই জায়গাটি আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।
 
 বিশেষ করে নদী, সবুজ প্রকৃতি, নৌভ্রমণ ও গ্রামীণ জীবনের স্বাভাবিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে মাঝের চরকে ঘিরে একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্যের ভিত্তি রয়েছে।
নদী, সবুজ আর নীরবতার মেলবন্ধন
মাঝের চরের অন্যতম আকর্ষণ এর চারপাশের নদী ও প্রাকৃতিক পরিবেশ। পায়রা নদীর জলরাশি ঘিরে থাকা এই ভূখণ্ডে শহরের কোলাহল নেই। নদীর ওপর নৌযাত্রা, খোলা আকাশ, সবুজ গাছপালা এবং গ্রামীণ জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা দর্শনার্থীদের জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পারে।
 
সকালে নদীর ওপর সূর্যের আলো, বিকেলে পশ্চিম আকাশের রঙ বদলানো এবং সন্ধ্যায় নদীর বুকে নেমে আসা নীরবতা—প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে এসবই হতে পারে আকর্ষণের উপাদান। একই সঙ্গে স্থানীয় জীবনযাত্রা, নদীনির্ভর মানুষের কর্মকাণ্ড ও কৃষিভিত্তিক পরিবেশ পর্যটকদের সামনে উপকূলীয় জনপদের একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারে।
 
পরিকল্পিত উদ্যোগে হতে পারে পর্যটনকেন্দ্র
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের সাধারণ অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কোনো প্রাকৃতিক স্থানকে পর্যটনকেন্দ্রে রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়; স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, ভূমির ধারণক্ষমতা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাকেও বিবেচনায় নিতে হয়। মাঝের চরের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন।
 
প্রথম ধাপে চরের ভূমির প্রকৃতি, আয়তন, যোগাযোগব্যবস্থা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য নিয়ে সমীক্ষা করা যেতে পারে। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাই করে সীমিত পরিসরে পরিবেশবান্ধব পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব। নিরাপদ নৌযাতায়াত, একটি নির্ধারিত নৌঘাট, পর্যটকদের বসার স্থান, হাঁটার পথ, বিশ্রামস্থল, তথ্যকেন্দ্র, সাইনবোর্ড, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্রাথমিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হলে দর্শনার্থীদের জন্য জায়গাটি আরও উপযোগী হতে পারে।
 
তবে উন্নয়নের নামে যাতে চরের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ নষ্ট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত কংক্রিট স্থাপনা, অপরিকল্পিত দোকানপাট কিংবা প্লাস্টিক ও বর্জ্যের বিস্তার এই সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
‘ইকো-ট্যুরিজম’ হতে পারে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত
মাঝের চরকে প্রচলিত পর্যটনকেন্দ্রের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ট্যুরিজম গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।
 
 দেশীয় বৃক্ষরোপণ, পাখির আবাসস্থল সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক জলাধার ও সবুজ এলাকা রক্ষা, নির্দিষ্ট হাঁটার পথ এবং প্লাস্টিকবিরোধী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এখানে প্রকৃতিনির্ভর পর্যটনের পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে।
এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পর্যটকরা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, প্রকৃতি ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য দেখতেও এখানে আসতে পারেন।
 
 শিক্ষার্থী, প্রকৃতিপ্রেমী, আলোকচিত্রী ও গবেষকদের জন্যও জায়গাটি আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
বদলাতে পারে স্থানীয় অর্থনীতির চিত্র
মাঝের চরকে ঘিরে পর্যটন কার্যক্রম চালু হলে এর সুফল স্থানীয় মানুষের কাছেও পৌঁছাতে পারে। নৌযান পরিচালনা, স্থানীয় পর্যটক গাইড, খাবারের দোকান, স্থানীয় কৃষিপণ্য ও হস্তশিল্প বিক্রি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং বিভিন্ন সেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় নারীদের তৈরি খাদ্যপণ্য বা হস্তশিল্প, কৃষকের উৎপাদিত পণ্য এবং স্থানীয় ঐতিহ্যভিত্তিক খাবার পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করা গেলে পর্যটন ও স্থানীয় অর্থনীতির মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব।
 
 এতে একদিকে যেমন স্থানীয় উদ্যোক্তারা লাভবান হবেন, অন্যদিকে পর্যটকরাও একটি এলাকার নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
যোগাযোগ ও নিরাপত্তায় গুরুত্ব
তবে মাঝের চরকে পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় বিষয়গুলোর একটি হবে নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা। নদীপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নৌযান, নিরাপদ নৌঘাট, লাইফ জ্যাকেট, আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে সতর্কতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে উদ্ধারব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে পর্যটকদের জন্য নিরাপত্তা নির্দেশিকা, পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক তথ্যফলক এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থা রাখা দরকার। পর্যটন মৌসুমে অতিরিক্ত মানুষের চাপ সামাল দেওয়ার সক্ষমতাও পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।
 
প্রয়োজন সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
মাঝের চরকে পর্যটন সম্ভাবনার আলোচনায় আনতে স্থানীয় প্রশাসন, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রথমে একটি বিস্তারিত সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করে চরের পরিবেশগত ঝুঁকি, যোগাযোগ, ভূমির ব্যবহার, পর্যটক ধারণক্ষমতা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এরপর পরীক্ষামূলকভাবে সীমিত পরিসরে পর্যটন কার্যক্রম শুরু করে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ধাপে ধাপে উন্নয়ন করা যেতে পারে। এতে একদিকে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতির ঝুঁকিও কমবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, পায়রা নদীর বুকের এই প্রাকৃতিক ভূখণ্ডের সম্ভাবনাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। পর্যটন উন্নয়নের পাশাপাশি মাঝের চরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
 
প্রকৃতির সৌন্দর্যকে পুঁজি করে নয়, প্রকৃতিকে রক্ষা করেই পরিকল্পিত পর্যটন গড়ে তোলা গেলে মাঝের চর ভবিষ্যতে আমতলীর পর্যটন মানচিত্রে নতুন একটি আকর্ষণ হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে। পায়রা নদীর জলরাশির মাঝখানে সবুজে ঘেরা এই চর তখন শুধু স্থানীয় মানুষের পরিচিত একটি ভূখণ্ড নয়—হয়ে উঠতে পারে উপকূলীয় বাংলাদেশের প্রকৃতি, নদী ও মানুষের জীবনকে কাছ থেকে দেখার একটি সম্ভাবনাময় গন্তব্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দেশে প্রথম প্ল্যানটেইন থেকে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাকৃবির সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাকৃবি প্রতিনিধি

সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং

০৪:৫০ পি.এম


দেশে প্রথম প্ল্যানটেইন থেকে নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনে বাকৃবির সাফল্য
ব্রয়লার মুরগির উৎপাদনে কৃত্রিম মেডিসিনের বিকল্প হিসেবে ঔষধি উদ্ভিদ প্ল্যানটেইন ব্যবহার করে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। প্রায় দুই দশকের ধারাবাহিক গবেষণায় প্ল্যানটেইনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ঔষধি বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে একটি ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করেছেন তারা। এটি ব্যবহারে ব্রয়লার মাংসে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য ও হিট স্ট্রেস সহনশীলতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজ উৎপাদন, চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও খামারে ব্যবহারের সম্ভাব্য একটি দেশীয় ভ্যালু চেইন গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছেন গবেষকরা।

গবেষণাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক ও বাকৃবির এনিমেল নিউট্রিশন বিভাগের ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। সহযোগী গবেষক হিসেবে রয়েছেন উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. তামান্না হক। গবেষণায় স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাও যুক্ত রয়েছেন। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস)-ইউএসডিএ অর্থায়নে ‘সাসটেইনেবল কমার্শিয়ালাইজেশন অব প্ল্যানটেইন অ্যান্ড সিড ভ্যালু চেইন ডেভেলপমেন্ট ফর সেফ অ্যান্ড ফাংশনাল ব্রয়লার মিট প্রোডাকশন’ প্রকল্পের আওতায় গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে।

ড. মোহাম্মদ আল-মামুন বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাকৃতিকভাবে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন করা। প্রচলিত ব্রয়লার উৎপাদনে ব্যবহৃত কৃত্রিম মেডিসিন, ভিটামিন ও গ্রোথ প্রমোটরের বিকল্প হিসেবে আমরা প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণা করছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু বাউ-প্লান্টিভ বাজারে আনা নয়, বরং প্ল্যানটেইন থেকে বীজ, বীজ থেকে ফিড, ফিড থেকে কার্যকরী মাংস এবং গবেষণা থেকে একটি টেকসই বাংলাদেশভিত্তিক বাণিজ্যিক সিড-টু-মিট ভ্যালু চেইন তৈরি করা।’

ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ খাওয়ানো ব্রয়লারের হাড়ের গঠন শক্তিশালী হয় এবং হাড়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও আয়রনের পরিমাণ বাড়ে। মুরগির দৈহিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি পালক ঘন ও উজ্জ্বল হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব মুরগির মাংসে স্বাস্থ্যকর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড বা আলফা-লিনোলেনিক অ্যাসিডের পরিমাণ প্রায় ৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে মাংসের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বাড়ে এবং গরমের ধকল বা হিট স্ট্রেস সহ্য করার সক্ষমতাও উন্নত হয়। গবেষণার প্রতিটি ট্রায়ালে প্রায় ৪৫০টি করে ব্রয়লার মুরগি নিয়ে ৩৫ দিন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এভাবে তিনটি পৃথক পর্যায়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। ময়মনসিংহ ও মানিকগঞ্জে উন্মুক্ত মাঠের পাশাপাশি এসি ও নন-এসি গ্রিনহাউসেও প্ল্যানটেইন চাষ করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে বাণিজ্যিকভাবে প্ল্যানটেইন উৎপাদনের সম্ভাবনা পাওয়া গেছে।

গবেষক বলেন, প্ল্যানটেইন চাষের ক্ষেত্রে বীজের আমদানিনির্ভরতা ছিল অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। আমদানিকৃত প্যারেন্টাল বীজ দিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রতি একরে মাত্র আড়াই কেজি বীজ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে প্রথম প্রজন্মের (জি-১) বীজ উৎপাদন বেড়ে প্রায় ১৪০ কেজিতে এবং দ্বিতীয় প্রজন্মে (জি-২) প্রতি একরে প্রায় ২০০ কেজিতে পৌঁছেছে। বর্তমানে এক একর প্ল্যানটেইন থেকে উৎপাদিত বীজ দিয়ে প্রায় ৮০ একর জমিতে নতুন করে চাষ করা সম্ভব। ফলে ভবিষ্যতে আমদানিকৃত বীজের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে প্ল্যানটেইনের বীজের একটি শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

 প্ল্যানটেইনকে প্রধান উপাদান হিসেবে ব্যবহার করে দেশীয় কয়েকটি ঔষধি উদ্ভিদের সমন্বয়ে ‘বাউ-প্লান্টিভ’ নামে ফাইটোজেনিক ফিড অ্যাডিটিভ তৈরি করা হয়েছে। ব্রয়লার ও দেশি মুরগির ওপর ধারাবাহিক পরীক্ষায় এর ইতিবাচক প্রভাব পাওয়া গেছে। প্রচলিত কৃত্রিম অ্যাডিটিভের তুলনায় বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয়ও কিছুটা কমে। প্রচলিত মেডিসিন ব্যবহারে প্রতি মুরগিতে গড়ে সাড়ে ৮ টাকা খরচ হলেও বাউ-প্লান্টিভ ব্যবহারে তা প্রায় ৭ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

ড. আল-মামুন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্ল্যানটেইন নিয়ে গবেষণার কাজ আমিই প্রথম শুরু করি। ২০০৪ সালে জাপানে পিএইচডি করার সময় থেকেই এই ভেষজ নিয়ে কাজ করছি। ব্রয়লার মুরগিতে প্ল্যানটেইনের ব্যবহার বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বেও প্রথমবারের মতো আমরা করেছি। জাপানে গবেষণার সময় প্ল্যানটেইনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরে বাংলাদেশে এর চাষ, ব্যবহার ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা যাচাই করা হয়েছে। আমাদের তৈরি বাউ-প্লান্টিভ এখন গবেষণাগার থেকে খামার পর্যায়ে প্রয়োগের পর্যায়ে এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন মূল চ্যালেঞ্জ বৃহৎ পরিসরে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ। সরকার, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বীজ কোম্পানি, ফিড মিল, পোল্ট্রি শিল্প, এনজিও ও বাজার ব্যবস্থাপনার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি আধুনিক প্রসেসিং, ব্লাস্ট ফ্রিজিং ও কোল্ড-চেইন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ উদ্যোগ সফল হলে একদিকে নিরাপদ ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ পোল্ট্রি মাংস উৎপাদন বাড়বে, অন্যদিকে প্ল্যানটেইন বীজ ও ফিড অ্যাডিটিভ শিল্পের বিকাশ, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।’

প্ল্যানটেইন একটি ঔষধি উদ্ভিদ। এতে গ্লাইকোসাইড, ক্যাটালপলসহ বিভিন্ন বায়োঅ্যাক্টিভ যৌগ রয়েছে। উদ্ভিদটির শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের বায়োঅ্যাক্টিভ উপাদানের মান জাপানে উৎপাদিত প্ল্যানটেইনের কাছাকাছি বলে গবেষণায় দেখা গেছে। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত প্রায় আট মাস এটি চাষ করা সম্ভব।

গবেষক বলেন, ‘বাউ-প্লান্টিভ’ প্ল্যানটেইন ও দেশীয় কয়েকটি ঔষধি ভেষজের সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটির কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিলে এবং চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। গবেষণার বিভিন্ন ফলাফল নিয়ে ‘পোল্ট্রি সায়েন্স জার্নাল’ ও ‘ইতালিয়ান জার্নাল অব অ্যানিমেল সায়েন্স’সহ বিভিন্ন সাময়িকীতে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পেটেন্টের জন্যও আবেদন করা হয়েছে।

গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকার ফার্মগেটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে প্রকল্পটির সমাপনী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেসের (বিএএস) সভাপতি অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএএসের সহ সভাপতি অধ্যাপক ড. জেড এন তাহমিদা বেগম । প্রধান প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আল-মামুন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা মো বয়জার রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. জহুরুল করিম বলেন, একটি ভালো কৃষি প্রযুক্তি বা উন্নত জাত উদ্ভাবনে দীর্ঘ সময় ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। বিশ্বজুড়ে কৃষি উৎপাদনে ধান, গমসহ বিভিন্ন ফসলে বহুগুণ ফলন বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশেও উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নত বিশ্বে বেসরকারি খাতের অর্থায়নেই সিংহভাগ গবেষণা পরিচালিত হয়। বাংলাদেশেও জিন এডিটিং, হাইব্রিড জাত ও গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতে হবে। গবেষকদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ না রেখে মাঠপর্যায়ে পাইলটিং ও রিফাইনমেন্টের মাধ্যমে কৃষকের ব্যবহারের উপযোগী করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট নির্দেশিকা বা ম্যানুয়াল প্রস্তুত করতে হবে। পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) ও সম্প্রসারণ সংস্থাগুলোর মাধ্যমে তিন ধাপে কার্যকর প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে।
 

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%