শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৯:৪২ এম
দেশের ৩ জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা থেকে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে সকাল ৫টায় দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরের জন্য প্রকাশিত পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, কুষ্টিয়া, খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়াও দেশের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রবীণ অভিনেতা মুস্তাক খানকে সহকর্মী ও ভক্তদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে চিরবিদায় জানানো হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) মুম্বাইয়ে তাঁর শেষকৃত্যে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। রাজপাল যাদব, সঞ্জয় মিশ্র, মনীশ ওয়াধওয়া, শাহজাদ খান, জায়েদ দরবার, সুনীল পাল ও অনীস বাজমি এ সময় শ্রদ্ধা জানান।
বৃহস্পতিবার মুস্তাক খান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শারীরিক জটিলতা দেখা দেওয়ার কারণে তাঁকে নানাবতী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর শরীরে ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চললেও ধীরে ধীরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু ঘটে।
পরিবারের সদস্য, বন্ধু এবং সহকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা ও শেষকৃত্যে উপস্থিত হয়ে ভারতীয় চলচ্চিত্রে মুস্তাক খানের অবদান এবং দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।
মুস্তাক খানের ছেলে মোহসিন খান বলেন, তাঁর বাবা ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। প্রথমে ক্যানসারটি প্রথম পর্যায়ে ছিল, কিন্তু পরে এটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে এত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে যে তাঁরা বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই অনেক দেরি হয়ে যায়। তবে শেষ সময়ে তাঁর বাবার মুখে হাসি ছিল।
বাবার সঙ্গে শেষ কথোপকরণের স্মৃতিচারণ করে মোহসিন বলেন, তখন মুস্তাক খান খুব খুশি ছিলেন এবং হাসছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে আমি খুব আনন্দিত। জীবনে যে কাজ করেছি, আশা করি তা মানুষের কাছে পৌঁছেছে।"
মোহসিন জানান, মুস্তাক খানের বেশ কয়েকটি সিনেমা, টেলিভিশন ধারাবাহিক ও ওয়েব সিরিজ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
মোহসিন জানান, মৃত্যুর এক দিন আগে রাজপাল যাদব হাসপাতালে গিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তাঁকে দেখে মুস্তাক খান খুব খুশি হয়েছিলেন। অভিনেতা অনুপম খেরও ফোন করে সহানুভূতি ও অনুপ্রেরণামূলক কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
১৯৮০ সালে ‘আলবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিয়ো আতা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে মুস্তাক খানের অভিনয়জীবন শুরু হয়। তিন দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘ওয়েলকাম’, ‘গদর: এক প্রেম কথা’ ও ‘হাম হ্যায় রাহি পেয়ার কে’।
‘ওয়েলকাম’ সিনেমায় তাঁর ‘মেরি এক টাং নাকলি হ্যায়, ম্যায় হকি কা বহুত বড়া প্লেয়ার হু’ সংলাপের দৃশ্যটি দর্শকদের কাছে এখনও জনপ্রিয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নেত্রকোনায় নিখোঁজের সাত দিন পর নাজু আক্তার (৩৪) নামের এক নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মৌগাতি ইউনিয়নের নগুয়া গ্রামে বাড়ির পাশের একটি মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নাজু আক্তারের সাবেক স্বামী নুরুল আমীনকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন নাজুকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। নাজু ছিলেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর নাজু আক্তার নিখোঁজ হন। বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে ২২ সেপ্টেম্বর নেত্রকোনা মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তাঁর ভাই শুভ।
জিডির পর পুলিশ নাজু আক্তারের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে। একপর্যায়ে তাঁর সাবেক স্বামী নুরুল আমীনের ওপর সন্দেহ হয় পুলিশের। তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে নাজুকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নুরুল আমীনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় নগুয়া গ্রামে অভিযান চালানো হয়। পরে বাড়ির পাশের মাঠের মাটির নিচ থেকে নাজু আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের বলেন, নাজু আক্তার ও নুরুল আমীনের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল আমীন দাবি করেছেন, বিচ্ছেদের পর ক্ষোভ থেকে তিনি নাজুকে হত্যা করেন।
ওসি জানান, নুরুল আমীন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। নাজু আক্তারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নগরীর পরিবেশ, জলাশয় ও সড়ক ব্যবস্থাপনায় বিরূপ প্রভাবের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে বালু সরবরাহে ব্যবহৃত অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বরিশাল সিটি করপোরেশন। একই সঙ্গে এসব কেন্দ্রের ইজারার মেয়াদ আর না বাড়ানো এবং নগরীর বিভিন্ন এলাকায় স্থাপিত বালু সরবরাহের পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (মেয়রের দায়িত্বে) অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের নির্দেশনা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) রুম্পা সিকদারের স্বাক্ষর করা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের চিঠিতে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে জানানো হয়েছে। চিঠির অনুলিপি বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার, বিএমপি পুলিশ কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নগর এলাকায় বালু অবতরণ কেন্দ্রের জন্য ১৮টি কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বর্তমানে ১৩টি কেন্দ্র কার্যকর রয়েছে। এসব কার্যাদেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও এক বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও তা অনুমোদন করা হয়নি।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, পরিবেশবিদদের মতামত এবং জনসাধারণের আবেদনের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে গত ২৭ আগস্ট সিটি করপোরেশনের পরিচালনা কমিটির সাধারণ সভায় বিষয়টি আলোচনা হয়। সভার ৭ নম্বর আলোচ্যসূচির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নগরীর বালু অবতরণ কেন্দ্রগুলোর কার্যাদেশ বাতিল এবং ইজারার মেয়াদ না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকার বালু সরবরাহের পাইপলাইন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে অবহিত করা হয়েছে।
সিটি করপোরেশনের চিঠিতে বালু সরবরাহের পাইপলাইন ব্যবস্থার কারণে নগরীর বিভিন্ন স্থানে জলাশয় ও জমি ভরাট, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং যান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
কিছু এলাকায় রাস্তার ওপর দিয়ে পাইপলাইন নেওয়ার ফলে সড়কের স্বাভাবিক ব্যবহার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পাইপের মাধ্যমে বালু পরিবহনের সময় আশপাশের জমি ও জলাশয়ে বালু পড়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায়ও সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশ ও তীরের স্বাভাবিক ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে। এর প্রভাবে নদীতীরবর্তী বসতি, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকে। অতিরিক্ত বালু উত্তোলনের ফলে নদীর জলজ পরিবেশ ও মাছের আবাসস্থলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বরিশাল নদীবেষ্টিত নগরী হওয়ায় নদী ও জলাশয় রক্ষা এবং নগরীর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল রাখার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
সিটি করপোরেশনের এ সিদ্ধান্তের পর নগরীর বালু সরবরাহ ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকা বালু সরবরাহের বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তনে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ অসন্তুষ্ট হতে পারে-এমন আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যসহ তা যাচাই করে প্রকাশ করা হবে।
নগরবাসীর প্রত্যাশা, বালু অবতরণ কেন্দ্র ও পাইপলাইন অপসারণের সিদ্ধান্ত শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে পরিবেশ, নদী, জলাশয় ও সড়ক নিরাপত্তার স্বার্থে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। পাশাপাশি আইনসম্মতভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সরকার বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের বার্তা খুবই পরিষ্কার- বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য উন্মুক্ত। রাজনীতিতে আসার আগে ব্যবসায় কর্মজীবন শুরু করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেখান থেকে তিনি একটি সহজ শিক্ষা পেয়েছেন- বিনিয়োগের জন্য আস্থা, পূর্বানুমেয়তা এবং প্রবৃদ্ধির উপযোগী সঠিক পরিবেশ প্রয়োজন।
শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত প্রধানমন্ত্রী ম্যানহাটনে জেপি মর্গানের সদর দপ্তর ২৭০ পার্ক অ্যাভিনিউয়ে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে এক প্রাতরাশ বৈঠকে একথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈঠকের আয়োজক জেপি মর্গান এবং অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ওয়াল স্ট্রিটের মানুষ নন; একজন বাংলাদেশি এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসেছি।
তিনি বলেন ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা তাঁদের ব্যবসা এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করেন, আর তিনি কাজ করেন বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায়। দায়িত্ব ভিন্ন হলেও উভয়ের মূলনীতি একই-সাফল্য নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেছেন। আজ তিনি দেশের অর্থনীতি এবং বৈশ্বিক ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যমান সুযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরতে চান।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের বসবাস। দেশটির রয়েছে তরুণ ও কর্মঠ জনগোষ্ঠী, ক্রমবর্ধমান বাজার এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান।
তিনি বলেন, বিশ্ব বাংলাদেশকে বড় উৎপাদন ও তৈরি পোশাকের কেন্দ্র হিসেবে চেনে। এটি বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি এবং তা অব্যাহত থাকবে। তবে আজকের বাংলাদেশ এর চেয়েও অনেক বেশি সম্ভাবনা ধারণ করে।
জ্বালানি, অবকাঠামো, লজিস্টিকস, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, জলবায়ু অর্থায়ন, উৎপাদন, কৃষি ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী সংযুক্ত উৎপাদন, বিনিয়োগ ও সেবা খাতের একটি কেন্দ্রে পরিণত করা সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশকে আরও সহজ, স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার করা, বিধিবিধান সহজ করা, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নয়ন, মুনাফা সহজে দেশে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা এবং অবকাঠামোর উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করতে চায় তাঁর সরকার। একই সঙ্গে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের উদ্যোগ এবং চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
বিশ্বের প্রধান অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ঘনিষ্ঠ সংযোগ স্থাপনে এসব পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের প্রথম সার্বভৌম বন্ড ইস্যুতে জেপি মর্গ্যানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন রেফারেন্স পয়েন্ট পেয়েছেন এবং দেশের পুঁজিবাজারকে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীরা শেষ পর্যন্ত কোনো বক্তব্যের পর কী ঘটে, তার ভিত্তিতেই একটি দেশকে মূল্যায়ন করেন। বিধিবিধান কতটা পূর্বানুমেয়, বিনিয়োগ কতটা সুরক্ষিত, মূলধন কতটা দক্ষতার সঙ্গে স্থানান্তর করা যায় এবং মুনাফা কতটা সহজে দেশে ফেরত নেওয়া যায়-এসব তাঁদের যৌক্তিক প্রশ্ন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নীতির মাধ্যমে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে তার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে আস্থা তৈরি করাই সরকারের দায়িত্ব। সরকার স্বল্পমেয়াদি লেনদেন নয়, উভয় পক্ষের জন্য মূল্য সৃষ্টি করবে এমন দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব চায়।
ওয়াল স্ট্রিটের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে এমন একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে চায় সরকার, যেখান থেকে বিনিয়োগকারীরা বৃহত্তর আঞ্চলিক বাজারে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর গনি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবেন এবং তাদের স্বার্থ ও সুনির্দিষ্ট বিষয়গুলো সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করবেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য অত্যন্ত সরল- আরও বিনিয়োগ, আরও বাণিজ্য, আরও কর্মসংস্থান, আরও প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব।
বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং যেখানে সম্ভব বাধা দূর করতে আমরা প্রস্তুত। আশা করি, আপনাদের অনেককেই শিগগিরই বাংলাদেশে দেখতে পাব।
বৈঠকে ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ