বৃহস্পতিবার, ১ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৫৬ পি.এম
দীর্ঘ ১২ বছরের অভিযান শেষে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক সামরিক জোট আনুষ্ঠানিকভাবে ইরাক থেকে সমস্ত সৈন্য প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে। এর ফলে, কুর্দি সামরিক বাহিনী 'পেশমারগা' (Peshmerga) একটি নতুন ও অনিশ্চিত যুগে প্রবেশ করেছে। গত তিন দশক ধরে, এই অঞ্চলে কুর্দিদের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা ও আইএসআইএল (আইসিস) দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি মূল ভূমিকা পালন করে আসছিল।
আন্তর্জাতিক বাহিনীর বিদায়ের পর, ইরাকি কুর্দিস্তানে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সেনা প্রত্যাহারের ঠিক প্রাক্কালে, ২১ সেপ্টেম্বর কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার (KRG) ঘোষণা করে যে, তারা তাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর দুটি প্রধান সশস্ত্র বাহিনীকে একীভূত করে একটি জাতীয় বাহিনী গঠন করেছে।
কেআরজি (KRG) রাষ্ট্রপতি নেচিরভান বারজানি এক অনুষ্ঠানে বলেন, "কুর্দিস্তানের জন্য একটি একীভূত বাহিনী, একটি মন্ত্রণালয় এবং একটি একক কমান্ড থাকা প্রয়োজন। পেশমারগাকে দলীয় প্রভাব ও রাজনৈতিক বিরোধের ঊর্ধ্বে উঠে একটি জাতীয় সামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ করতে হবে।" ঐতিহাসিকভাবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী কুর্দিস্তান ডেমোক্রেটিক পার্টি (কেডিপি) এবং প্যাট্রিওটিক ইউনিয়ন অব কোনো কুর্দিস্তান (পিইউকে)-এর অনুগত বাহিনীগুলোকে এই কাঠামোর আওতায় আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই একীভূতকরণ ইরাকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সাহায্য করবে। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন সেনাদের প্রস্থানের পর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে। মার্কিন বাহিনী তাদের মূল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ায়, কুর্দিস্তানের রাজধানী এরবিল এখন বিমান ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে পড়েছে।
এছাড়া, ওয়াশিংটনের সেনা প্রত্যাহারের পর কুর্দি নেতাদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র কি দীর্ঘমেয়াদে কুর্দিস্তানের নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসছে? এর জবাবে, কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে, তারা এখন থেকে বাগদাদের কেন্দ্রীয় ইরাকি সরকারের সঙ্গে শক্তিশালী সামরিক সমন্বয় ও যোগাযোগের মাধ্যমে আইএস বা যেকোনো আঞ্চলিক নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবেলা করবে। সূত্র: আল-জাজিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে লাগেজ নিয়ে ভোগান্তির অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর চারজন সংসদ সদস্য।
এই সংসদ সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ঢাকা-৫ আসনের মোহাম্মদ কামাল হোসেন, গাজীপুর-৪ আসনের সালাহউদ্দিন আইউবী এবং খুলনা-২ আসনের জাহাঙ্গীর হুসাইন।
তাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মদিনা থেকে ঢাকায় অবতরণ করে বিমানের বিজি৩৩৮ ফ্লাইটটি। কিন্তু বেশির ভাগ যাত্রী তিন ঘণ্টা পরও ট্যাগযুক্ত লাগেজ বুঝে পাননি।
এ ঘটনায় যাত্রীদের হয়রানি, লাগেজ যথাযথভাবে বুঝিয়ে না দেওয়া এবং দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগ তুলে তারা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
বিমান পরিচালনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর করা ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, বিজি৩৩৮ (মদিনা-ঢাকা) ফ্লাইটে আসা যাত্রীদের মধ্যে বেশির ভাগই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের ট্যাগযুক্ত লাগেজ পাননি। এই যাত্রীদের মধ্যে অন্তত ৩৫ জন সংসদ সদস্য ছিলেন। লাগেজ না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও যৌক্তিক কারণ জানানো হয়নি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি ও হয়রানি সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, লাগেজ বুঝে না পেয়ে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করতে বাধ্য হন। অভিযোগকারীরা বিষয়টি দ্রুত সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেন ওই অভিযোগের কপির ছবি নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশ করেছেন। তিনি স্ট্যাটাসে লিখেছেন, "শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এই ভোগান্তির শেষ কোথায়? আজ সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে অবতরণ করা বিজি৩৩৮ ফ্লাইটের সাধারণ যাত্রীদের পক্ষ হতে যাত্রী হয়রানি, মালামাল যথাযথভাবে বুঝিয়ে না পাওয়া ও কর্তব্যে অবহেলার কারণে আমরা ৪ জন জাতীয় সংসদ সদস্য বিমান কর্তৃপক্ষ বরাবর অভিযোগ দাখিল করলাম।"
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষ অভিযোগের কপি পেয়েছে বলে বিমান সূত্র নিশ্চিত করেছে। তারা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গাজা সিটিতে ইসরায়েলি বিমান হামলার ফলে নিহত ১০৫ জন ফিলিস্তিনির মৃতদেহ উদ্ধার করে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাদের আত্মীয়স্বজন ও উদ্ধারকারীরা। গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলোর কফিন নিয়ে একটি শোক শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেগুলো গাজা সিটির উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত শেখ রাদওয়ান কবরস্থানে দাফন করা হবে।
এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছিল ২০২৩ সালের ২৫ অক্টোবর। গাজা সিটির ইয়ারমুক স্কয়ার এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনী অন্তত ২০টি বোমা ফেলেছিল। এই প্রাণঘাতী হামলায় ‘আল তাজ ৩’ নামক একটি ৭ তলা আবাসিক ভবনসহ একাধিক বহুতল ভবন সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
গাজার সিভিল ডিফেন্স অপারেশনস ডিরেক্টর আব্দুল আল-মাজদালাউই জানিয়েছেন, হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে পৌঁছানো ছিল একেবারেই অসম্ভব। তিনি বলেন, "উদ্ধার কাজে ব্যবহৃত বুলডোজার, এক্সকাভেটর এবং ভারী যন্ত্রপাতিগুলোকে ইসরায়েলি বাহিনী সরাসরি ও পরিকল্পিতভাবে নিশানা করেছিল, যার ফলে লাশগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।"
হারিয়ে গেছে পুরো পরিবার
পরবর্তীতে মিসরীয় কমিটির সহযোগিতায় এবং দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর এই মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর আল জাজিরার প্রতিনিধির বরাতে জানা যায়, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর লাশ উদ্ধারের দিক থেকে এটি পঞ্চম বৃহত্তম অভিযান।
এই ভয়াবহ হামলায় নিজের পরিবারের ৩৭ জন সদস্যকে হারিয়েছেন ওসামা শরাফ। ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, "যুদ্ধের শুরুর দিকে আমরা কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছিলাম। আর আজ আমার বাবা, মা, ভাইবোন ও ভাগ্নেসহ আরও ১৬ জনের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়েছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি পাখিভ্যানে বাসের ধাক্কায় চালকসহ দুজনের মৃত্যু ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কের সদরপুর ইউনিয়নের আমতলা মাদরাসার সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন মিরপুর উপজেলার নওদা আজমপুর গ্রামের আব্দুল সাত্তারের ছেলে ভ্যানচালক কামরুল ইসলাম এবং কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ভাদালিয়া স্বস্তিপুর গ্রামের ৫৫ বছর বয়সী হাসেম আলীর স্ত্রী ভানুমতি। এ ঘটনায় ভানুমতির মেয়ে হাসিনা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভানুমতি সম্প্রতি নওদা আজমপুরে তার মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে পাখিভ্যানটি কয়েকজন যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ ভ্যানটির এক্সেল ভেঙে সেটি সড়কের ওপর উল্টে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে পেছন থেকে আসা মেহেরপুরগামী শ্যামলী পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভ্যানটিকে সজোরে চাপা দেয়। বাসের ধাক্কায় ভ্যানটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই যাত্রী ভানুমতির মৃত্যু ঘটে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা ছুটে আসেন। খবর পেয়ে আমলা পুলিশ ক্যাম্প ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করেন এবং গুরুতর আহত চালক কামরুল ও যাত্রী হাসিনাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানে তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন জানান, গুরুতর আহত ভ্যানচালক কামরুল ইসলামকে হাসপাতালে আনার পর আইসিইউতে নেওয়া হয়েছিল, তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যু ঘটে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম সড়ক দুর্ঘটনায় দুজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, পুলিশ এ ঘটনার তদন্ত করছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘাতক বাসটি জব্দ করা হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভিকি জাহেদের ‘বিষ পাখি’ নাটকে অভিনয় করার মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেতা মীর রাব্বি। তিনি জানিয়েছেন, নায়ক হওয়ার চেয়ে ভালো ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্রে কাজ করার প্রতি তাঁর আগ্রহ বেশি। তাঁর মতে, যদি একটি চরিত্র দর্শকের কাছে আলাদা করে ধরা দিতে পারে, তবে সেটি একজন অভিনেতার জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।
অভিনয়ের প্রস্তুতি নিয়ে মীর রাব্বি আরও কথা বলেছেন। তিনি জানান, শুটিংয়ের বাইরে থাকলেও বিভিন্ন ধরনের সিনেমা ও দৃশ্যশ্রাব্য কাজ দেখেন, পড়াশোনা করেন এবং পুরোনো পছন্দের সিনেমাগুলো নিয়মিত দেখেন। একই সিনেমা ভিন্ন বয়সে দেখলে নতুন নতুন উপলব্ধি করা যায়, এমনটাই মনে করেন তিনি।
কোন চরিত্রগুলোতে অভিনয়ের ইচ্ছা রয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে মীর রাব্বি জানান, শার্লক হোমসের চরিত্রে অভিনয়ের ইচ্ছা তাঁর দীর্ঘদিনের। তিনি সত্যজিৎ রায়ের ফেলুদা এবং হুমায়ূন আহমেদের হিমু ও বাকের ভাই চরিত্রেও অভিনয় করতে চান। অভিনয়ে আসার আগে থেকেই এসব চরিত্রের প্রতি তাঁর আলাদা আকর্ষণ রয়েছে।
সম্প্রতি অসুস্থতার কারণে প্রায় দুই মাস শুটিং থেকে দূরে ছিলেন এই অভিনেতা। তিনি জানান, জন্ডিস ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে ওই সময় কাজ থেকে দূরে থাকায় কিছুটা অনীহা তৈরি হয়েছিল। তবে পরে আবার তরুণ নির্মাতাদের সঙ্গে স্বাধীন ধারার সিনেমা, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ও নাটকে কাজ শুরু করেছেন।
বর্তমানে মীর রাব্বির হাতে বেশ কয়েকটি সিনেমা রয়েছে। ‘বকুলের বুকে রক্তকরবী’, ‘কূরকাব’ ও ‘দুঃসাহস’-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কিছু সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, আবার কিছু আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার প্রস্তুতিতে রয়েছে। পাশাপাশি তিনি সাজিন আহমেদের ‘পছন্দ হয়নি কিন্তু ভালোবাসি’ নাটকেও কাজ করছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ