বৃহস্পতিবার, ১৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৯:২২ এম
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জন্য দায় চাপানোর অভিযোগে এবং মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার কারণে দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন দেশটির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতের সাবেক প্রধান।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সাধারণ নির্বাচন। নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখার জন্য এই লড়াইয়ের ঠিক মুখেই বুধবার দায়ের হওয়া মামলাটি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নাটকীয়তা সৃষ্টি করেছে।
১৩৪ পৃষ্ঠার নথিসহ আদালতে দায়ের করা মামলায় শিন বেতের সাবেক পরিচালক রোনেন বার অভিযোগ করেছেন, নেতানিয়াহু ‘নিজের দায় লুকাতে মিথ্যার আশ্রয় নিচ্ছেন’। হামলার বিষয়ে ‘অপরাধমূলক ব্যর্থতার’ দায় তার ওপর চাপিয়ে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে মানহানি করেছেন।
রোনেন বার উল্লেখ করেছেন, সম্ভাব্য হামলার ইঙ্গিত পাওয়া মাত্রই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিবকে টেলিফোন করেছিলেন। কারণ সরাসরি নেতানিয়াহুর কাছে ফোন করার মতো কোনো নম্বর তার কাছে ছিল না।
তবে নেতানিয়াহুর দাবি, ওই ভোরে হামলার বিষয়ে রোনেন বার তাকে আগে থেকে কিছুই জানাননি। যদি শিন বেতের তৎকালীন পরিচালক কিংবা সামরিক প্রধানরা ফোন করে ভোরে তাকে ঘুম থেকে তুলে বিষয়টি জানাতেন, তবে তিনি এই হামলা ঠেকাতে সক্ষম হতেন।
বারের দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ‘সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এমন কিছু মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন, যেন ৭ অক্টোবরের ঘটনার নিজের দায় থেকে জনদৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া যায়।’
মামলার নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত কয়েক বছর ধরে নেতানিয়াহু যে নীতি গ্রহণ করেছিলেন, তার কারণেই প্রকৃতপক্ষে ‘গাজায় সশস্ত্র সংগঠনগুলোর হুমকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।’
বুধবার শিন বেতের সাবেক প্রধানের এসব অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ‘রোনেন, আপনি কি রসিকতা করছেন?’
দলটির পক্ষ থেকে প্রশ্ন তুলে নেতানিয়াহু বলেন, ‘রেড লাইনে তো আমার নম্বর আপনার কাছেই ছিল। অন্যান্য সব নিরাপত্তা প্রধানদের মতো আপনিও তো সঙ্গে সঙ্গে আমাকে কল করতে পারতেন। সময়মতো একটি ফোন করলে আর কতগুলো প্রাণ আমরা বাঁচাতে পারতাম, ভাবুন তো!’
ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ এ ঘটনার পর পরস্পরকে দোষারোপের আবহে ২০২৫ সালের জুনে শিন বেতের প্রধানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন রোনেন বার। তবে শুরু থেকেই তার দাবি ছিল, হামলার হুমকির বিষয়টি তিনি আগেই নেতানিয়াহুকে অবহিত করেছিলেন।
সতর্কবার্তা, মিথ্যা ও নথিপত্র জালিয়াতি
নেতানিয়াহুর সাবেক সামরিক সচিব অবি গিল ইসরাইলের চ্যানেল ১২-কে দেওয়া সাক্ষাতকারে জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ‘৭ অক্টোবরের ঘটনাবলীর রেকর্ড বা নথিপত্র জালিয়াতি করা হয়েছে।’ এমনকি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের সময়ও বদলে দেওয়া হয়েছে। অবি গিলের এই বিস্ফোরক তথ্যের কয়েক দিনের মাথায় রোনেন বারের মামলার খবর প্রকাশিত হয়।
২০২১ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের মে মাস পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সামরিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবি গিল জানান, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক স্টেনোগ্রাফার তার কাছে আসেন। তিনি জানান, নেতানিয়াহুর চিফ অব স্টাফের নির্দেশ রয়েছে—স্থানীয় সময় ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের চার মিনিটের একটি ফোনালাপের নথি বদলে ভোর ৬টা ২৯ মিনিট বানিয়ে দিতে হবে।
অবি গিল বলেন, ‘ওই নারী স্টেনোগ্রাফার আমাকে এসে বলেছিলেন, ‘আমি এটা পরিবর্তন করতে পারব না’। নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের প্রধানের বিরুদ্ধে টেলিফোন রেকর্ড কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এগুলো শতভাগ সত্যি ঘটনা, এতে বিতর্কের কোনো সুযোগ নেই।’
অন্যদিকে, গত মাসে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিশরীয় গোয়েন্দা প্রধান আব্বাস কামেলও ওই হামলার বিষয়ে আগে থেকেই নেতানিয়াহুকে সতর্ক করেছিলেন।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সাবেক কর্মকর্তা, সরকারি আমলা এবং বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। জরিপগুলো দেখাচ্ছে, রক্তপাত ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখতে তাকে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
ইসরাইলের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্ত বেড়া ভেঙে ভেতরে প্রবেশের ঘটনায় অন্তত ১,২২১ জন ইসরাইলি নিহত হন।
একই সঙ্গে ২৫১ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যাওয়া হয়, যার মধ্যে ওই দিন নিহত ৪৪ জন ইসরাইলির লাশও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এর পর থেকে বিগত তিন বছরে গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় ৭৪,৩০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
এ ছাড়া গত বছর আমেরিকার মধ্যস্থতায় ঘোষিত ভঙ্গুর ‘যুদ্ধবিরতি’ সত্ত্বেও ইসরাইলি হামলায় গাজায় এ পর্যন্ত ১,৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় অভিনেতা ও তৃণমূল কংগ্রেসের সাবেক বিধায়ক সোহম চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে আইনি জটিলতায় পড়েছেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্ট তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে মামলাটির প্রেক্ষিতে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাকের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি শেষে জামিন আবেদনটি সরাসরি খারিজ করা হয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে সোহমের গ্রেফতার এড়ানোর পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর আগে, গত জুন মাসে বালুরঘাট জেলা আদালতও এই একই মামলায় তার আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করেছিলেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, কলকাতা হাইকোর্ট থেকে কোনো ধরনের অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষা না পাওয়ায় সোহম চক্রবর্তীর আইনি লড়াই এখন আরও কঠিন হয়ে উঠেছে এবং অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় একটি অভিযান পরিচালনা করে ৬৪০ গ্রাম হেরোইনসহ মনিরুল ইসলাম (২৮) নামের এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নিতপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় কাপালির মোড়ে এই অভিযানটি পরিচালিত হয়। বিজিবি সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম, পিএসসি-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় ভারপ্রাপ্ত অ্যাডজুট্যান্ট সহকারী পরিচালক মো. দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে বিজিবির একটি বিশেষ টহলদল ওই এলাকায় অবস্থান নেয়।
এ সময় ঢাকাগামী ‘সোনারতরী’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৬৪০ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়। একই সাথে মাদক বহনের অভিযোগে মনিরুল ইসলামকে আটক করা হয়। আটক মনিরুল ইসলাম নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মৃত আফসার আলীর ছেলে।
১৬ বিজিবি জানায়, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পোরশা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। উদ্ধার করা হেরোইনসহ তাঁকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ বিষয়ে নওগাঁ ব্যাটালিয়ন (১৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম, পিএসসি জানান, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অবৈধ সীমান্ত পারাপার, গরু ও মাদক পাচার এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির সর্বাত্মক অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিক্ষকতা, নাট্যচর্চা, মুকাভিনয়, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও সমাজসেবায় বহুমাত্রিক অবদান রেখে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন অধ্যক্ষ মো. শহীদুল্লাহ খান, যিনি শহীদ খান নামে পরিচিত। মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এই ব্যক্তিত্ব সুসং দুর্গাপুর তথা বৃহত্তর ময়মনসিংহের সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের এক পরিচিত নাম।
দীর্ঘ কর্মজীবনে শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে পথ দেখানোর পাশাপাশি শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছেন তিনি। সংগঠন গড়ে তোলা, নাটক রচনা ও নির্দেশনা, মুকাভিনয়, সামাজিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মতো নানা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান রয়েছে। তাঁর জীবন ও কর্ম নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ঝাঞ্জাইল গ্রামের সন্তান শহীদ খানের বাবা আব্দুস সাত্তার খান কাকৈরগড়া ইউনিয়ন পরিষদের দুবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর মা জোবেদা আক্তার খাতুন খোর্শেদা। স্ত্রী রওশন আরা বেগম একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। তাঁদের তিন সন্তান—কন্যা লাইলা আঞ্জুমান খান স্বর্ণা, কন্যা আসমা আঞ্জুমান খান তুলি এবং ছেলে অমিত খান অমিত। ছেলে অমিত খান ৪৫তম বিসিএসে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সঙ্গে যুক্ত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, শিক্ষকতায় দীর্ঘ পথচলা
শহীদ খান ১৯৭২ সালে এন জারিয়া ঝাঞ্জাইল হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ১৯৭৬ সালে গৌরীপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮০ সালে সমাজকল্যাণ বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) এবং একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
১৯৮৩ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া কলেজে সমাজকল্যাণ বিষয়ে অধ্যাপনা করেন তিনি। এরপর ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পূর্বধলা কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি শিক্ষা, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন নিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। শিক্ষা ও সমাজসেবাবিষয়ক বিভিন্ন সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামেও অংশ নিয়েছেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনে উপস্থাপনা, অভিনয় ও মুকাভিনয়
শহীদ খানের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সূচনা ছাত্রজীবনেই। ১৯৭৮ সাল থেকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা, অভিনয় ও গ্রন্থনার সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। ‘নবকল্লোল’, ‘জন পরিক্রমা’ ও ‘ইউনিভার্সিটি ম্যাগাজিন পরিচয়’সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তাঁর সম্পৃক্ততার কথা জানা যায়। ১৯৮৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘প্রকৃতি ও প্রত্যয়’ অনুষ্ঠানের গ্রন্থনা ও উপস্থাপনাতেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
মুকাভিনয় শিল্পী হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে শুরু করে ময়মনসিংহ টাউন হল, গৌরীপুর পাবলিক হল, শম্ভুগঞ্জ হাইস্কুল মাঠ, জারিয়া টি অ্যান্ড টি মাঠ এবং ঝাঞ্জাইল ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে একক মুকাভিনয় পরিবেশন করেছেন তিনি। ১৯৭৯ সালে ময়মনসিংহ টাউন হলে যাত্রিক নাট্যগোষ্ঠীর প্রযোজনায় মুকাভিনয় পরিবেশন তাঁর সাংস্কৃতিক জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায়।
নাট্যনির্দেশনা, মঞ্চসজ্জা, আলোকসম্পাদনা, আবৃত্তি ও অভিনয়েও তাঁর দক্ষতার পরিচয় পাওয়া যায়। জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি প্রযোজিত ‘যদি আর বাঁশি না বাজে’ গীতিনাট্যে নেপথ্য কণ্ঠ দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, গীতিনাট্য ও বিজ্ঞাপনে নেপথ্য কণ্ঠদান করেছেন তিনি।
‘কোন এক কুদ্দুস’ নাটকে বিশেষ পরিচিতি
নাটক রচনা ও মঞ্চায়নে শহীদ খানের রয়েছে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তাঁর রচিত নাটকের মধ্যে রয়েছে ‘ন্যায় ন্যায্য’, ‘চেয়ারম্যান সাবের আপ্যায়ন’, ‘ডাকু মনসুর’, ‘ন্যায়ের পরিণাম’, ‘নিঃস্ব যারা’, ‘অপারেশন কাকনপুর’, ‘ফুলবাড়িয়ার বাসযাত্রী’, ‘ফুলবাড়িয়ার ফুলবানু’, ‘খাদ্যবিতরণের ক্যারিকেচার’ ও ‘কোন এক কুদ্দুস’।
১৯৯৫ সালে রচিত ‘কোন এক কুদ্দুস’ নাটকটি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুসকে কেন্দ্র করে নির্মিত প্যাকেজ নাটক হিসেবে উল্লেখযোগ্য। বৃহত্তর ময়মনসিংহের নাট্যচর্চার ইতিহাসে নাটকটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
এ ছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সমাপ্তি’ ও ‘মুসলমানীর গল্প’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘জিনের বাদশা’ অবলম্বনে নাট্যরূপ ও মঞ্চায়নের কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। সত্তর, আশি ও নব্বইয়ের দশকে বিভিন্ন নাট্যসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে নির্দেশনা, মঞ্চসজ্জা ও আলোকসম্পাদনায় অবদান রাখেন।
সংগঠন গঠন ও সমাজসেবায় ভূমিকা
শহীদ খানের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের শুরু ১৯৭২ সালে ঝাঞ্জাইলের মালঞ্চ সংসদের মাধ্যমে। ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত এই সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এলাকার তরুণ ও কিশোরদের দেশপ্রেম, খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগ নেন তিনি। পাশাপাশি হাটবাজার পরিচ্ছন্ন রাখা, চুরি-রাহাজানি প্রতিরোধ এবং সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন।
নাট্যসংগঠন সন্ধ্যানী, মালঞ্চ, বহুরূপী নাট্য সংস্থা, গৌরীপুর কলেজ নাট্য সংসদ, বহুবচন, নাট্যচক্র, যাত্রিক নাট্যগোষ্ঠী ও অক্ষর নাট্য সংস্থাসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ছিল। এসব সংগঠনের মাধ্যমে নাট্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক বিকাশে ভূমিকা রাখেন তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নৈতিকতা, শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব নিয়েও কাজ করেছেন। ময়মনসিংহের সানকিপাড়ায় রিকশাচালকদের সংগঠিত ও উদ্বুদ্ধ করার উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় অবদান
নিজ এলাকার শিক্ষা বিস্তারে শহীদ খানের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তাঁর একক প্রচেষ্টায় ঝাঞ্জাইল টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয় বলে উল্লেখ রয়েছে। ঝাঞ্জাইল হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায়ও তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের জন্য জমিদান ও প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবাকে একসূত্রে গেঁথে কাজ করার মধ্য দিয়ে শহীদ খান নিজের কর্মপরিধিকে বিস্তৃত করেছেন। তাঁর জীবন ও কর্মের নানা দিক নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা গেলে স্থানীয় ইতিহাস, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সমাজ গঠনে নিবেদিত মানুষের অবদান সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি হবে।
মুক্তচিন্তা, সৃজনশীলতা, অধ্যবসায় ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে ধারণ করে চলা এই ব্যক্তিত্বের কর্মজীবন তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বর্তমানে আরও শক্তিশালী এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল তৈরির কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চীন থেকে আমদানি করা বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে এমন মিসাইল তৈরির চেষ্টা চলছে, যা সরাসরি সৌদি আরব ও ইসরাইলে হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে।
যুদ্ধক্ষেত্রের অস্ত্রশস্ত্র এবং সরবরাহ চেইন নিয়ে কাজ করা গবেষণা সংস্থা ‘কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ’ (সিএআর)-এর একটি অনুসন্ধানে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রগুলো মূলত ইরানের তৈরি ‘খাইবার শেকান’ মিসাইলের আদলে তৈরি হচ্ছে। এটি একটি অত্যন্ত নিখুঁত নিশানাভেদী ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং সহজেই দিক পরিবর্তন করতে পারে।
এই ইরানি ডিজাইনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি মিসাইলগুলো প্রায় ১ হাজার ২০০ মাইল পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে সক্ষম। এর ফলে পুরো সৌদি আরব এবং ইসরাইল এই মিসাইলের আওতার মধ্যে চলে আসবে।
এই প্রযুক্তির বিস্তার ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সৌদি আরবের ওপর হুথিদের হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। পাশাপাশি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের লাগাতার হামলা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল ট্রুথ প্ল্যাটফর্মে হুথিদের আচরণকে ‘খুবই বাজে’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছেন।
চীনা যন্ত্রাংশ যেভাবে হুথিদের শক্তি বাড়াচ্ছে
গত বছর দুটি চালান আটকের পর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের জুলাই মাসে সিএআর-এর কাছে কিছু তথ্য প্রদান করে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। ওই সময় অন্যান্য পণ্যের আড়ালে সুকৌশলে মিসাইল তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাচার করা হচ্ছিল।
আটককৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল মিসাইলের মোটর এবং এয়ারফ্রেমের জন্য বিশেষভাবে তৈরি ধাতব যন্ত্রাংশ এবং ফ্লাইট চলাকালীন মিসাইলকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করা লেজ বা ফিন। গবেষকরা ‘খাইবার শেকান’ মিসাইল সিরিজের সলিড-প্রপেল্লান্ট রকেট মোটরের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন যন্ত্রাংশও শনাক্ত করেছেন।
সিএআর-কে প্রদর্শিত শিপিং নথিপত্র অনুযায়ী, এই যন্ত্রাংশগুলো সরবরাহ করেছে চীনের একটি নির্ভুল ধাতু প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, যারা নিজেদের কাস্টম অ্যারোস্পেস যন্ত্রাংশ তৈরির বিশেষজ্ঞ হিসেবে দাবি করে। তবে প্রতিবেদনে সেই কোম্পানির নাম উল্লেখ করা হয়নি।
আমদানিকৃত যন্ত্রাংশগুলোর কিছু অংশ সাধারণ বেসামরিক কাজে ব্যবহৃত হতে পারে। তবে বেশ কিছু যন্ত্রাংশ বিশেষভাবে কেবল মিসাইলের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এতে প্রশ্ন উঠেছে যে, এই সরঞ্জামগুলো কীভাবে এবং কোন উৎস থেকে সরবরাহ করা হলো।
‘খাইবার শেকান’ কেন এত বিপজ্জনক অস্ত্র?
২০২২ সালে তেহরানে প্রথম প্রকাশ্যে আসা খাইবার শেকান একটি তুলনামূলকভাবে কম খরচে তৈরি অস্ত্র। এর চলার পথ বদলানোর অদ্ভুত ক্ষমতার কারণে প্রচলিত ব্যালিস্টিক মিসাইলের তুলনায় একে আটকে দেওয়া এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমগুলোর জন্য বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
জাতিসংঘের ইয়েমেন নিষেধাজ্ঞা প্যানেলের সাবেক বিশেষজ্ঞ হেনরি থম্পসন জানান, প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে যে, হুথিরা অন্তত গত দুই বছর ধরে চীন থেকে সলিড-ফ্যুল ব্যালিস্টিক মিসাইলের যন্ত্রাংশ আমদানি করে আসছে।
তিনি আরও বলেন, মাঝারি পাল্লার এই ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলোর মাধ্যমে ক্রুজ মিসাইল বা ড্রোনের চেয়ে অনেক বড় পে-লোড বা বিস্ফোরক নিয়ে হুথিরা সৌদি আরবের গভীরে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। ফলে তারা এক আরও বড় ও মারাত্মক হুমকিতে পরিণত হতে চলেছে।
হুথিদের অস্ত্র সরবরাহে চীনের ভূমিকা
হুথিদের অস্ত্র কর্মসূচিকে টিকিয়ে রাখতে বিদেশি সরবরাহকারীদের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক কাজ করে যাচ্ছে। জাতিসংঘের প্রতিবেদন এবং অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্রোহী এই গোষ্ঠীর কাছে যাওয়া আটককৃত পণ্যের সবচেয়ে বড় উৎস হয়ে উঠেছে চীনা কোম্পানিগুলো। তথ্যে আরও দেখা যায়, হুথিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়া ড্রোন যন্ত্রাংশের বেশিরভাগ সরবরাহকারীই চীনের মাটিতে অবস্থিত।
হুথিরা গত কয়েক বছরে চীন এবং অন্যান্য সরবরাহকারীদের সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করেছে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্র লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা চালাতে সাহায্য করার অভিযোগে একটি চীনা কোম্পানির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এনেছিল।
অন্যদিকে বেইজিং সবসময়ই দাবি করে আসছে যে, ইয়েমেনি এই গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা তারা পুরোপুরি মেনে চলে। তবে বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারের মধ্যে সীমারেখাটি বেশ সূক্ষ্ম, কারণ হুথিদের আমদানি করা কিছু পণ্য উভয় কাজেই ব্যবহার করা যেতে পারে, আবার কিছু পণ্য সরাসরি কেবল অস্ত্র সিস্টেমে ব্যবহারের জন্য তৈরি।
হুথিরা যে বিদেশ থেকে বিশেষায়িত মিসাইল যন্ত্রাংশ সংগ্রহ করে আসছে, সাম্প্রতিক এই আটক কেবল তারই প্রথম ইঙ্গিত নয়।
২০২৪ সালের শেষের দিকে সিএআর-এর বিশেষজ্ঞরা তুলনামূলক কম পাল্লার ‘সদর’ মিসাইলের সঙ্গে সম্পর্কিত একই ধরনের কাস্টম-মেশিনযুক্ত যন্ত্রাংশের আমদানি নথিপত্রও নথিভুক্ত করেছিলেন। যদিও সেই যন্ত্রাংশগুলোর সরবরাহকারী কে ছিল, তা আজও অজানা রয়ে গেছে।
তবে নতুন এই আবিষ্কারগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই গোষ্ঠীর অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টা এখন আরও উন্নত মিসাইল সিস্টেমের সরঞ্জাম সংগ্রহের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ