০৬:০৯ পি.এম
বর্ষাকাল শুরুর ৩ সপ্তাহ আগে ভবদহ সংলগ্ন কেশবপুর-মনিরাপুর এবং সাতক্ষীরার তালা, খুলনার ডুমুরিয়ার ১০ লাখ মানুষের পানিবদ্ধতার অভিশাপ থেকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড রাতদিন কাজ করে চলেছেন।
আকর্ষিক বৃষ্টি শুরুতে কেশবপুর পৌর এলাকায় একাধিক স্থানে সদ্য খননকৃত নদীর মাটি পাশসহ নদীর মধ্যে ধসে পড়ার ফলে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে সারা জীবনের পরিদর্শন কালে দেখা যায় হরিহর নদীর কেশবপুর পৌর এলাকা বালিয়াডাঙ্গা অংশে পার ধসে পড়া এলাকার বাড়িঘর রক্ষায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৬ মিটার বল্লী বসিয়ে সঙ্গে ডাউন সিট স্থাপন করা হচ্ছে বাড়িঘর রক্ষা করার কাজের জন্য।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি ইনকিলাবকে জানান, কেশবপুর পৌরশহরে মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদীর বালিয়ডাঙ্গা এলাকায় ১শ ৩০ মিটার জায়গায় মাটির মান খারাপ থাকায় খনন পরবর্তী ধ্বসে যাওয়াই তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর সহায়তায় বলি পুতে পাড় রক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষের মেয়াদ আগামী জুন-২৭। বৃষ্টি কাল শুরুর কারণে এখনো বাকি ৩৭ শতাংশ কাজ আগামী বছর শুষ্ক মৌসুমে শেষ করা হবে।
খনন কাজ কেশবপুর পৌর শহর অংশে এসে শহর অংশের দুই পাড়ের জমির মালিকদের অভিযোগ আপত্তির কারণে এলাকায় নদী খননে কিছু বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন খনন কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই জমির কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে বলছেন, নদীর মধ্যে মালিকানা সম্পত্তি রয়েছে আবার অনেকেই খুটি পুতে দিয়েছেন। সে বিষয়টি দেখে সচেতন মহল প্রশ্ন করছে কিভাবে সম্ভব। অনেকের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে এখানে নদীই ছিলোনা।
এ বিষয়ে নদ পাড়ের বাসিন্দা শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাড, মফিজুর রহমান বলেন, শহর এলাকায় নদ খননে নকশা পরিবর্তন করা হলে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হবে এবং পানিবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। খননের পরেও যদি নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে না পায় তবে তীরে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর ভাঙন বা ধসের আশংকা রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছে। প্রভাবশালী দখলদাররা জায়গা বাঁচাতে নদীর মূল নকশা পরিবর্তন করা সহ নানা অপচেষ্টা করছে অনেকে। কেশবপুরের মানবাধিকার কর্মী শামিম আক্তার মুকুল বলেছেন, ১৮/১৯ অর্থ বছরের হরিহর নদের প্রশস্ততা বজায় রেখে খনন কাজ না করার ফলে বর্ষা মৌসুমে কেশবপুর-মনিরাপুরের পানিবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। তাই নদীর নাব্যতা ফেরানোর জন্য এবার সেনাবাহিনী খনন কাজের মান পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দৃশ্যমান প্রত্যাশা করেন।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ৩ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, গ্রেপ্তার ২
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, আগামী ২০জুলাই - ২৬জুলাই বর্ষা কাল শুরু। সেই হিসাবে আগামী ১০ জুলাই এর মধ্যে ভবদহ এলাকার প্রকল্পভিত্তিক ৬ নদীর সাথে যুক্ত সকল খালের মুখ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। খালের মধ্যে যত বাদ রইছে সেগুলো অপসারণ করে দেওয়া হবে। যাতে নদীগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
মোটামুটি হরিহর নদের বেশিরভাগ অংশ খনন কাজ সম্পন্ন করায় এবছর কেশবপুর-মনিরামপুর ও তালা উপজেলার সিংহভাগ মানুষের পানিবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রেহাই পাবেন। নদী খননে, সি এস পড়চা এবং নদের বাস্তবতা বিবেচনা করে খাল খনন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী খননের সময় সরকারি স্থাপনার ক্ষতি সাধন না করে, জনসাধারণের সম্পদের ক্ষতি কমিয়ে এবং নদীর ডিজাইন অক্ষুণ্ণ রেখে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৪০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৬টি নদীর ৮১.৫০০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় হরিহর নদীর খনন কাজ চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন