ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১০ লাখ মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে দিন-রাত কাজ সেনাবাহিনী ও পাউবোর


১০ লাখ মানুষকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত করতে দিন-রাত কাজ সেনাবাহিনী ও পাউবোর

 

বর্ষাকাল শুরুর ৩ সপ্তাহ আগে ভবদহ সংলগ্ন কেশবপুর-মনিরাপুর এবং সাতক্ষীরার তালা, খুলনার ডুমুরিয়ার ১০ লাখ মানুষের পানিবদ্ধতার অভিশাপ থেকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড রাতদিন কাজ করে চলেছেন।

আকর্ষিক বৃষ্টি শুরুতে কেশবপুর পৌর এলাকায় একাধিক স্থানে সদ্য খননকৃত নদীর মাটি পাশসহ নদীর মধ্যে ধসে পড়ার ফলে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের বসতঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং পানি উন্নয়ন বোর্ড একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে

মঙ্গলবার দুপুরে ঘটনাস্থলে সারা জীবনের পরিদর্শন কালে দেখা যায় হরিহর নদীর কেশবপুর পৌর এলাকা বালিয়াডাঙ্গা অংশে পার ধসে পড়া এলাকার বাড়িঘর রক্ষায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৬ মিটার বল্লী বসিয়ে সঙ্গে ডাউন সিট স্থাপন করা হচ্ছে বাড়িঘর রক্ষা করার কাজের জন্য।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জি ইনকিলাবকে জানান, কেশবপুর পৌরশহরে মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হরিহর নদীর বালিয়ডাঙ্গা এলাকায় ১শ ৩০ মিটার জায়গায় মাটির মান খারাপ থাকায় খনন পরবর্তী ধ্বসে যাওয়াই তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর সহায়তায় বলি পুতে পাড় রক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজ শেষের মেয়াদ আগামী জুন-২৭। বৃষ্টি কাল শুরুর কারণে এখনো বাকি ৩৭ শতাংশ কাজ আগামী বছর শুষ্ক মৌসুমে শেষ করা হবে।

খনন কাজ কেশবপুর পৌর শহর অংশে এসে শহর অংশের দুই পাড়ের জমির মালিকদের অভিযোগ আপত্তির কারণে এলাকায় নদী খননে কিছু বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন খনন কাজ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা। অনেকেই জমির কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়ে বলছেন, নদীর মধ্যে মালিকানা সম্পত্তি রয়েছে আবার অনেকেই খুটি পুতে দিয়েছেন। সে বিষয়টি দেখে সচেতন মহল প্রশ্ন করছে কিভাবে সম্ভব। অনেকের কথাবার্তা শুনে মনে হচ্ছে এখানে নদীই ছিলোনা।

এ বিষয়ে নদ পাড়ের বাসিন্দা শহরের বিশিষ্ট আইনজীবী এ্যাড, মফিজুর রহমান বলেন, শহর এলাকায় নদ খননে নকশা পরিবর্তন করা হলে বর্ষা মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হবে এবং পানিবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে। খননের পরেও যদি নদী তার স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরে না পায় তবে তীরে বসবাসকারী অসংখ্য মানুষের বাড়িঘর ভাঙন বা ধসের আশংকা রয়েছে বলে সচেতন মহল মনে করছে। প্রভাবশালী দখলদাররা জায়গা বাঁচাতে নদীর মূল নকশা পরিবর্তন করা সহ নানা অপচেষ্টা করছে অনেকে। কেশবপুরের মানবাধিকার কর্মী শামিম আক্তার মুকুল বলেছেন, ১৮/১৯ অর্থ বছরের হরিহর নদের প্রশস্ততা বজায় রেখে খনন কাজ না করার ফলে বর্ষা মৌসুমে কেশবপুর-মনিরাপুরের পানিবদ্ধতা মারাত্মক আকার ধারণ করেছিল। তাই নদীর নাব্যতা ফেরানোর জন্য এবার সেনাবাহিনী খনন কাজের মান পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দৃশ্যমান প্রত্যাশা করেন।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় ৩ লাখ টাকার ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, গ্রেপ্তার ২

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ ব্যানার্জী বলেন, আগামী ২০জুলাই - ২৬জুলাই বর্ষা কাল শুরু। সেই হিসাবে আগামী ১০ জুলাই এর মধ্যে ভবদহ এলাকার প্রকল্পভিত্তিক ৬ নদীর সাথে যুক্ত সকল খালের মুখ উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। খালের মধ্যে যত বাদ রইছে সেগুলো অপসারণ করে দেওয়া হবে। যাতে নদীগুলি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।

মোটামুটি হরিহর নদের বেশিরভাগ অংশ খনন কাজ সম্পন্ন করায় এবছর কেশবপুর-মনিরামপুর ও তালা উপজেলার সিংহভাগ মানুষের পানিবদ্ধতার অভিশাপ থেকে রেহাই পাবেন। নদী খননে, সি এস পড়চা এবং নদের বাস্তবতা বিবেচনা করে খাল খনন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী খননের সময় সরকারি স্থাপনার ক্ষতি সাধন না করে, জনসাধারণের সম্পদের ক্ষতি কমিয়ে এবং নদীর ডিজাইন অক্ষুণ্ণ রেখে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৪০ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ৬টি নদীর ৮১.৫০০ কিলোমিটার নদী পুনঃখনন কাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক চলমান রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় হরিহর নদীর খনন কাজ চলমান রয়েছে।

আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী জব্দ, দুইজন গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ইন্দোনেশিয়া-ভারত চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১০ পি.এম


দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহে ইন্দোনেশিয়া-ভারত চুক্তি

প্রতিরক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে একমত হওয়ার পাশাপাশি ভারত ইন্দোনেশিয়াকে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করবে। মঙ্গলবার দুই দেশের নেতাদের বৈঠকের পর ভারতের একজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়ে দেন।

জাকার্তা থেকে এএফপি জানানো হয়েছে, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে জাকার্তায় অবস্থানরত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আতিথ্য প্রদান করছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তো। সফরের আলোচ্যসূচির শীর্ষে ভারতের তৈরি ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা নিয়ে চুক্তি ছিল।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, সফরকালে ‘ব্রহ্মোস সিস্টেমে সহযোগিতা’ বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দুই দেশ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র (এয়ার-টু-এয়ার মিসাইল) সহযোগিতা বিষয়েও একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে, যা ‘প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে’।

তবে এসব চুক্তির বিস্তারিত কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধেরও জবাব দেয়নি ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রবোওর সঙ্গে বৈঠকের পর মোদি বলেন, জাকার্তা ও নয়াদিল্লির মধ্যে ‘ক্রমবর্ধমান পারস্পরিক আস্থা’ প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বিষয়ক সহযোগিতার ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আজ আমরা প্রতিরক্ষা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং শিল্প খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে একমত হয়েছি।’

মোদি জানান, ভারত মহাসাগরে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরতে দুই দেশের কোস্টগার্ড একযোগে কাজ করবে।

এশিয়ার দুই বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ওপর যৌথভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে, যার বিপুল মজুত রয়েছে ইন্দোনেশিয়ায় এবং ইস্পাত শিল্পেও।

মোদি বলেন, ‘স্টেইনলেস স্টিল ও বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ) চুম্বক উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমাদের দুই দেশের কোম্পানিগুলোর মধ্যে নতুন অংশীদারিত্বের সূচনা হচ্ছে।’

প্রবোও জানান, ইন্দোনেশিয়া ও ভারত তাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে বিবেচনা করে।

তিনি আরও জানান, দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (প্রেফারেনশিয়াল ট্রেড এগ্রিমেন্ট) নিয়ে আলোচনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

এ ছাড়া, তারা উভয়েই মধ্য জাভার যোগ্যাকার্তায় অবস্থিত ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী প্রাম্বানান মন্দিরের সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতিকে স্বাগত জানান। বুধবার তারা একসঙ্গে মন্দিরটিও পরিদর্শন করবেন।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইন্দোনেশিয়া সফর শেষ করে মোদি অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে যাবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে অপহরণের গল্প সাজালেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১২ পি.এম


ঋণের বোঝা থেকে বাঁচতে অপহরণের গল্প সাজালেন

 

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিখোঁজ ডায়েরির পর পুলিশ রাঙ্গুনিয়া থেকে মো. রাশেদুল আলম (৩৮) নামের এক যুবককে উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

এর আগে একই দিন ভোর সাড়ে ৫টার দিকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার দক্ষিণ রাজানগর এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তি হলেন মো. রাশেদুল আলম (৩৮)। তিনি হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের মনিয়া পুকুরপাড় এলাকার আবুল কালামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, রাশেদুল আলম বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ঋণগ্রস্ত হয়ে কয়েকদিন আগে আত্মগোপনে চলে যান এবং অপহরণের নাটক সাজানোর চেষ্টা করেন। পরে গত ১ জুলাই তাঁর স্ত্রী রীনা আক্তার স্বামী নিখোঁজ ও অপহৃত হয়েছেন দাবি করে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে, মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ রাজানগর এলাকা থেকে রাশেদুল আলমকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশেদুল আলম স্বীকার করেছেন, ঋণের চাপ থেকে বাঁচতেই তিনি আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন।

হাটহাজারী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান জানিয়েছেন, নিখোঁজ ডায়েরির তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঋণের কারণে আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক সাজানোর কথা জানিয়েছেন।, এই ঘটনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৪ পি.এম


বাংলাদেশের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

বাংলাদেশের জন্য গতকাল সোমবার (৬ জুলাই) থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউজে এই তথ্য জানান।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরও বলেন, খুব দ্রুতই মধ্যপ্রাচ্য, জাপান এবং মরিশাসের শ্রমবাজার সম্পর্কিত সুখবর আসবে।

এর আগে, দেশের ২৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেনের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন তিনি। সিলেটের ঐতিহাসিক আলী আমজাদের ঘড়ির সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এরপর প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী শ্রমবাজার ও বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

"ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, তোরা কেউ আজ বাইরে বেরোস না"

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৭ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৬:১৬ পি.এম


"ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, তোরা কেউ আজ বাইরে বেরোস না"

 

"ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, তোরা কেউ আজ বাইরে বেরোস না"— সন্তাদের এই কথাটুকু বলে মাত্র ১০ মিনিটের জন্য বাজারের উদ্দেশ্যে পা বাড়িয়েছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মঈনুদ্দিন ওয়াজিদ আলী শাহ। তিনি জানতেন, পাশের চার তলা অবৈধ ভবনটি বিপজ্জনকভাবে হেলে পড়েছে। তাই স্ত্রীকে বলেছিলেন, "আজকের রাতটা কোনোমতে কেটে যাক, কাল সকালে আমরা এই ঘর ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাব।"

কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাস, মঈনুদ্দিনের পরিবার আর সেই আগামীকালের সকালটি দেখার সুযোগ পায়নি। তিনি ঘর থেকে বের হওয়ার ঠিক ১০ মিনিটের মাথায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে পাশের বহুতল ভবনটি। মুহূর্তের মধ্যে মঈনুদ্দিনের টিনের চালের ঘরটি পিষে দিয়ে কেড়ে নেয় তাঁর স্ত্রী, চার সন্তান এবং খেলতে আসা প্রতিবেশীর এক নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ।

মুম্বাইয়ের মানখুর্দের জনতা নগর এলাকায় গত দু-বছর ধরে সপরিবারে ভাড়ায় থাকতেন উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলার বাসিন্দা মঈনুদ্দিন। পেশায় দিনমজুর মঈনুদ্দিনই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। মুম্বাইয়ের সাম্প্রতিক প্রবল বর্ষণে যখন চারপাশের পরিস্থিতি বিপর্যস্ত, তখন সন্তানের সুরক্ষার কথা ভেবেই তিনি ঘর ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে যখন একে একে লাশগুলো বের করা হচ্ছিল, তখন নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকা ছাড়া মঈনুদ্দিনের আর কিছু করার ছিল না। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় তিনি হারিয়েছেন স্ত্রী আখতার জাহান (৩৮), বড় মেয়ে কায়সার জাহা (১৪), বড় ছেলে জালালুদ্দিন (৯), মেজো ছেলে সিরাজুদ্দিন (৬) এবং মেজো মেয়ে ও পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য আনাবিয়া (৩)। বড় মেয়ে শিবাজি নগর মিউনিসিপ্যাল স্কুলের মেধাবী ছাত্রী ছিল।

‘‘আমি বাচ্চাদের ঘরে থাকতে বলেছিলাম। স্ত্রীকে বললাম ওদের জন্য কিছু রান্না করতে, আর আমি ঘরের কিছু জিনিসপত্র কিনতে বাইরে গেলাম। ১০ মিনিটও হয়নি আমি গিয়েছি, তার মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল।’’ হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে এইটুকুই বলতে পারলেন শোকে পাথর হয়ে যাওয়া এই বাবা।

এই দুর্ঘটনায় কেবল মঈনুদ্দিনের পরিবারই ধ্বংস হয়নি, পার্শ্ববর্তী আরেক পরিবারের স্বপ্নও ভাঙচুর হয়ে গেছে। মঈনুদ্দিনের সন্তানদের সাথে খেলতে এসেছিল প্রতিবেশীর ৬ বছর বয়সী কন্যাসন্তান আলিয়া আল্লাউদ্দিন শেখ।

মাত্র এক মাস আগে ভালো ভবিষ্যৎ এবং সন্তানদের পড়াশোনার আশায় উত্তরপ্রদেশের জৌনপুর থেকে মুম্বাইয়ে দাদুর বাড়িতে এসেছিল আলিয়ার পরিবার। আলিয়ার দাদু আফতার শেখ কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, "আমার জামাই গ্রামে চাষবাস করত। এখানে এসে একটা ট্রান্সপোর্ট কোম্পানিতে সুপারভাইজারের কাজ পায়। আলিয়াকে মাত্র কয়েকদিন আগেই স্কুলে ভরতি করেছিলাম। একই সময়ে আলিয়ার দেড় বছরের ছোট ভাই ইনফেকশনের কারণে ওয়াডিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমার মেয়ে সেখানে একা ছেলেকে সামলাচ্ছে, আর এখানে তার কোল খালি হয়ে গেল। আমি নিজেকে কীভাবে সামলাব, ওদের কী সান্ত্বনা দেব বুঝতে পারছি না।"

মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে এই ভবনটিকে "সম্পূর্ণ অবৈধ" বলে ঘোষণা করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রবিবার সকাল থেকেই ভবনটি একদিকে হেলে পড়ছিল এবং এর দেয়ালের টাইলস খসে পড়ছিল। ভবনের বাসিন্দারা বিপদ টের পেয়ে আগেই সেটি খালি করে দিলেও, পাশের নিচু টিনের ঘরে থাকা মঈনুদ্দিনের পরিবারকে সতর্ক করার বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কোনো সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

মুম্বাইয়ে গত দুই সপ্তাহের টানা বৃষ্টিতে যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে এই একটি ঘটনাতেই প্রাণ হারিয়েছেন ৬ জন।

সোমবার বিকেলে রাজাওয়াড়ি হাসপাতালের মর্গের সামনে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। মঈনুদ্দিনের আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা এসে পৌঁছালেও মঈনুদ্দিন তখন সোজা হয়ে দাঁড়ানোর ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছেন। দুই পাশ থেকে স্বজনরা তাঁকে ধরে রেখেছিলেন।

স্ত্রীর কাফনে মোড়ানো লাশ আর চার সন্তানের নিথর দেহ যখন একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে উত্তরপ্রদেশের পৈতৃক ভিটের উদ্দেশ্যে রওনা করা হচ্ছিল, তখন মঈনুদ্দিনের শূন্য দৃষ্টি যেন এক নির্মম সত্যকে বারবার চিৎকার করে বলছিল— একটি অবৈধ দেয়াল আর মাত্র ১০ মিনিটের ব্যবধান কীভাবে একটি মানুষের গোটা পৃথিবীটাকেই চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%